বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:৫১ পি.এম
কম্বোডিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একটি নারীকে পাচারের অভিযোগে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা মো. রুবেলকে (২৯) গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাঁকে পাওয়া গেছে এই অভিযোগের কারণে যে তিনি ভুক্তভোগী ওই নারীর অর্থ ও পাসপোর্ট আত্মসাৎ করেছেন এবং তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আবু তালেব জানান, সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) গত ২১ জুলাই ফরিদপুরের চরভদ্রাসন এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করেছে। উল্লেখ্য যে, রুবেল রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার খাগজানা গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, যে আর্থিক সংকটে থাকা এক নারীর সঙ্গে একটি স্থানীয় এনজিওতে কর্মরত অবস্থায় রুবেলের পরিচয় হয়। পরে তিনি কম্বোডিয়ায় কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দেন। এ জন্য প্রথমে এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিতে তিনি উৎসাহিত করেন এবং সেই টাকা ও ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট নিজের কাছে রেখে দেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে আরও অর্থ আদায় করে মোট চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্টে ওই নারীকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর চক্রের সদস্যরা তার পাসপোর্ট ও সঙ্গে থাকা সব অর্থ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে তাঁকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করানো হয় এবং উপার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। তাঁকে অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং অন্য দালালের কাছে বিক্রি করে দেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীকালে স্থানীয়ভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে গত ১ জুলাই ওই নারী দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব জানান, ভুক্তভোগীর তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের আদেশে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া, এই চক্রের অন্য অভিযুক্ত, তাদের মানবপাচার নেটওয়ার্ক, আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশে অবস্থানরত সম্ভাব্য অন্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রে উচ্চ বেতনের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকার অনুমোদিত বৈধ উপায়ে বিদেশে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। সেই সঙ্গে মানবপাচার কিংবা বিদেশে পাঠানোর নামে কোনো প্রতারণার তথ্য থাকলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সিআইডিকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে ভারত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই আমন্ত্রণ সংক্রান্ত চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পৌঁছেছে, যা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্বারা পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ সময় তিনি ভারতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের বিষয়েও কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভারত একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক দেশ। তিনি আশা করেন, আলোচনার মাধ্যমে ভারত তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো সমাধান করবে, যা ঢাকা প্রত্যাশা করছে।
রাষ্ট্রপতির বিষয়ে তিনি বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ফোনকালের সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিকট এ মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে, যদি কোনো তথ্য আসে, তাহলে বাংলাদেশ সরকার অবশ্যই বিষয়টি তদন্ত করবে।
এ ছাড়া দক্ষিণ এবং মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরের বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে দুটি দেশের সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হবে বলেও শামা ওবায়েদ আশা প্রকাশ করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
‘কেন যাব মোরা দূরের পথে, সঠিক বিচার পেতে চলে যাই গ্রাম আদালতে’ অথবা ‘অল্প সময়ে স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে।’ এ স্লোগানে রাজশাহী জেলার ৭২টি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতগুলো আগে ছিল বেশ সক্রিয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে অধিকাংশ চেয়ারম্যান এবং মেম্বাররা পালিয়ে যাওয়ায় এখন গ্রাম আদালতগুলো অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।
আগে মাত্র ১০ টাকা দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া ফরমে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে সুষ্ঠু বিচার পেতে পারলেও এখন সেই গ্রাম আদালতগুলোর কক্ষ সার্বক্ষণিক অবস্থায় তালাবদ্ধ রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ বেড়ে গেছে। ফলে ভুক্তভোগী ও বিচারপ্রার্থীদের ন্যায্য বিচার পেতে আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এতে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর সার্বিক উন্নয়ন এবং সেবামূলক কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে। ফলে রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলার ৭২টি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমও স্থবির হয়ে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাম আদালতের বিচার কাজ যেই রুমে চলে, সেই রুমে ধুলার স্তুপ জমেছে। চেয়ারগুলো বছরব্যাপী সাজিয়ে রাখা হয়েছে, একটার ওপর একটা। বেশিরভাগ কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ছোটখাটো দেওয়ানি, ফৌজদারি ও সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তির আইনি সুযোগ গ্রামবাসী পেতেন, তা এখন নিষ্ক্রিয়। ফলে বাধ্য হয়ে বিচারপ্রার্থীদের আদালতগামী হতে হচ্ছে, এতে মামলার জটও বাড়ছে। পরিলা ইউনিয়ন পরিষদের বাসিন্দা আকবর আলী জানান, প্রতিবেশীর সঙ্গে ছয় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে ইউনিয়ন পরিষদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন কিন্তু বিচার কাজ এখনও শুরু হয়নি। তিনি বলেন, “করবে শুরু হবে তা নিশ্চিত করে বলেন পারছে না।” আর দু'মাসের মধ্যে সমাধান না হলে দেওয়ানি আদালতে মামলাও করবেন।
এদিকে প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে মেম্বারদের মধ্যে থেকে একজন প্যানেল চেয়ারম্যান অথবা একজন সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে পরিষদের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। চেয়ারম্যান এবং প্যানেল চেয়ারম্যানদের ভাষ্যমতে, সপ্তাহে একদিন বা দুইদিন গ্রাম আদালতে জমা পড়া অভিযোগের বিচার কাজ করা হচ্ছে। রাজশাহীর পবা উপজেলার ৯ নম্বর পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সাঈদ আলী জানান, “আমাদের ইউনিয়নে প্রতি বৃহস্পতিবার গ্রাম আদালতের বিচার কাজ চলে। মাসে অভিযোগ পড়ে ২০ থেকে ২৫ টি।”
বাগমারা উপজেলার ১০ নম্বর মারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুল ইসলাম জানান, বিচারে একপক্ষ উপস্থিত হচ্ছে, অন্যপক্ষ আসছে না, এতে বিচার কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ৫ নম্বর মারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মেজর বিশ্বাস উল্লেখ করেন, “আমার এখানে বিচার কাজ করার জন্য কোন এজলাস নেই। তাই চেয়ারম্যানের রুমে বিচার কাজ করা হয়।”
এদিকে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আহমেদ জানান, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম যাতে সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, সেজন্য প্যানেল চেয়ারম্যানদের নিয়ে সভা এবং সেমিনারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন তারা।
অন্যদিকে রাজশাহীর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা বলেন, “কোন কোন অভিযোগের বিচার কাজ গ্রাম আদালতে করার বিষয় সম্পর্কে প্যানেল চেয়ারম্যানদের অবহিত করা হচ্ছে।” পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জেলায় মোট ৭২ জন ইউপি চেয়ারম্যান এবং সাধারণ মেম্বার ৬৩৯ জন, সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার ২১৩ জন। গ্রাম আদালতের আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন লক্ষ টাকা জরিমানা হওয়ার বিধান রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের।
এদিকে, এক মাসে ৭২ টি ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ জমা পড়েছে প্রায় ১ হাজার ২'শ টি। এর মধ্যে বিচার কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৩'শ ৪৫টির।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আফতাব মজুমদার জয় নামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একজন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২২ জুলাই) রাতের দিকে নগরীর হালিশহর থানার বিডিআর মাঠ এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার আফতাব মজুমদার এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সংগঠক এবং বন্দর থানা যুবশক্তির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অনুসন্ধান থেকে আরও জানা যায়, গত ১৪ মে তার দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেনের সই করা এক সাংগঠনিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, চান্দগাঁও থানায় দায়ের হওয়া একটি ধর্ষণ মামলায় আফতাব মজুমদার জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
মামলার নথিসূত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের এক দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আফতাবের পরিচয় হয়। এক সময় তাদের মধ্যে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হলে আফতাব ওই শিক্ষার্থীকে বিয়ের আশ্বাস দেন।
আগামী ১৪ জুলাই রাতে চান্দগাঁও এলাকার সুইট প্যালেস নামক একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন আফতাব। পরবর্তীতে যখন ওই শিক্ষার্থী বিয়ের তাগিদ দেন, তখন আফতাব তা অস্বীকার করে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, অভিযুক্ত আফতাব এর আগেই বিবাহিত এবং তার একটি সন্তান রয়েছে।
ঘটনার পর গত ১৯ জুলাই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী চান্দগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপি’র ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয় বলেন, আফতাব এনসিপিরও একজন সদস্য এবং তিনি বিবাহিত। তার বিরুদ্ধে আনা নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হবে।
অভিযুক্তের ঘটনার সাথে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় জড়িত নয়। আইন অনুযায়ী তার বিচার চলবে বলেও তিনি জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ডা. জুবাইদা রহমান, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট, দেশের স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিশেষভাবে সংকটে থাকা সাধারণ ও গ্রামীণ মানুষের চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের ‘বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃতিত্বের সম্মাননা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে দেশ। যদি আপনারা মেধা, শ্রম, অধ্যবসায় ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে গ্রাম পর্যায়ে সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন, তবেই দেশের সব স্তরের মানুষের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’
তিনি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশে চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ডে ১ হাজার রোগীর জন্য ২.২ জন ডাক্তার থাকার কথা। আর প্রতি ১ হাজার জনের বিপরীতে ১.৪৮ নার্স। অথচ বাংলাদেশে একজন ডাক্তারকে দেখতে হয় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ রোগীকে। নার্সদের অনুপাত ১ হাজার রোগীর বিপরীতে শূন্য দশমিক ৫৪৯। সরকারি চিকিৎসকদের অনুপাত ৬ হাজার ৫০০ রোগীর বিপরীতে মাত্র ১ জন। গ্রামাঞ্চলে এই পরিস্থিতি আরও ভিন্নতর। ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ চিকিৎসক শহরাঞ্চলে অবস্থান করলেও দেশের প্রায় ৭৮ শতাংশ মানুষ বাস করেন গ্রামে। এর ফলস্বরূপ চিকিৎসায় দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ডা. জুবাইদা রহমান আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটা আগামীর বাংলাদেশ দেখতে চাই যেখানে কোনো গ্রামবাসী চিকিৎসার অভাবে যেন প্রাণ না হারায়, কোনো অন্তঃসত্ত্বা মা যেন প্রাণ না হারায়, কোনো নবজাতক যেন মায়ের কোল খালি করে চলে না যায়-এমন একটা চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় যা পৃথিবীর বুকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। কারণ সবার স্বাস্থ্যই গুরুত্বপূর্ণ।’
হাসপাতালটির অতীত ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘এক সময় হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের মান এতটাই উঁচুতে ছিল, যা অনেক সরকারি হাসপাতালেও ছিল না। আমাদের চিকিৎসকদের দায়িত্ব এই হারিয়ে যাওয়া গুণগত মান পুনরুদ্ধার করা। ইস্কাটন গার্ডেন ঢাকা শহরের কেন্দ্রবিন্দু—আমরা যদি এখানে বিশ্বমানের সার্ভিস দিতে পারি, তবে মানুষকে অন্য কোথাও যেতে হবে না। হাসপাতালের সেবার মানে কোনো আপস করা যাবে না।’
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম হাসপাতালটির সার্বিক বিষয়ে ডা. জুবাইদা রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাত নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সব সময় মানুষের কল্যাণের বিষয় ভাবা হয়। আমাদের বিনীত দাবি, ডা. জুবাইদা রহমান যেন এই ঐতিহাসিক হলি ফ্যামিলি হাসপাতালটিকে নিজের মনে করে দেখভাল ও এর মানোন্নয়নে দিকনির্দেশনা দেন।’
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম প্রধান অতিথিকে ধন্যবাদ জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ডা. জুবাইদা রহমান সবসময় কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন বাস্তবায়নে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের ৮ লাখ স্বেচ্ছাসেবক, হাসপাতাল, মেডিকেল ও নার্সিং কলেজকে যুক্ত করে প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ার ও নার্সদের মাধ্যমে সহযোগিতা করা হবে।
এছাড়া, হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের হারানো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সুনাম পুনরুদ্ধারে প্রধান অতিথি ডা. জুবাইদা রহমানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও দিকনির্দেশনা দেয়ার বিনীত অনুরোধ জানান।
অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে বিজয়ী এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জনকারী মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়। এর আগে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট প্রাঙ্গণে পরিবেশ সুরক্ষা ও বার্তা হিসেবে একটি নিম গাছের চারা রোপণ করেন প্রধান অতিথি ডা. জুবাইদা রহমান।
অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. কে. এম. মজিবুল হক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল কবির, ট্রেজারার ডা. আবু মো. মোফাখখারুল ইসলামসহ (রানা) বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ব্যবস্থাপনা পর্ষদ ও কলেজ গভর্নিং বডির সদস্যরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ