শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪৫ পি.এম
শহরের বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ক্লিন চাঁদপুর’। সংগঠনটি ‘বর্জ্য জমা দিন, খাদ্য ও গাছ নিন’ এই স্লোগানের আওতায় শহরের বিভিন্ন জায়গায় বর্জ্য সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে খাবার ও গাছ বিতরণ করছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চাঁদপুর শহরের পুরান বাজার বৌ-বাজার সড়কে পৌরসভার ডাস্টবিন সংলগ্ন এলাকায় এই কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়। এ সময় সংগঠনের সদস্যরা স্থানীয়দের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ করেন। এর বিনিময়ে খাবার ও গাছ বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ‘ক্লিন চাঁদপুর’-এর প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশসহ অন্যান্য সদস্যরা।
অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশ জানান, চাঁদপুর শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়ন করা তাদের সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তারা বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও বাস্তবমুখী কর্মসূচি পরিচালনা করে চলেছেন।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ বিপর্যয়ের এই সময়ে জলাশয় রক্ষা এবং বিভিন্ন রোগবালাই থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন ড্রেনে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য জমছে। বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্য ড্রেনে পড়ে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য পরিবেশগত সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
সংগঠনটির সূত্রে জানা গেছে, ‘ক্লিন চাঁদপুর’ শুধুমাত্র শহরকেন্দ্রিক নয়, বরং জেলার বিভিন্ন এলাকায় সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। সড়ক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, সড়ক সংস্কারে স্বেচ্ছাশ্রম দেওয়া এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে সংগঠনের সদস্যরা যুক্ত রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন উৎসব ও দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হারিকেন হেলেনের তাণ্ডবের সময় গ্যারেজে রাখা বৈদ্যুতিক গাড়ির টেসলার ব্যাটারি সিস্টেম লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে এসে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি ট্যাম্পার ফেডারেল আদালতে দায়ের করা এক মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট আগুনে মুহূর্তের মধ্যে একটি পরিবারের কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিলাসবহুল বাড়ি সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়।
অটো ডিলার মাইকেল মারফির গ্যারেজে রাখা ২০২১ মডেলের 'টেসলা মডেল এস প্লেইড' গাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় মাইকেল শহরের বাইরে অবস্থান করছিলেন, কিন্তু তার স্ত্রী সিলভানা, দুই শিশুকন্যা এবং শ্বশুর-শাশুড়ি বাড়ির ভেতর আটকা পড়েছিলেন। পরবর্তীতে একটি বেসরকারি উদ্ধারকারী দল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হলেও, তাদের ৫ হাজার ৪০০ বর্গফুটের বিশাল বাড়িটি চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যায়।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল যে উদ্ধারকারীরা পরিবারের প্রিয় কুকুরটিকে বাঁচাতে পারেননি। গত ২৪ সেপ্টেম্বর দায়ের করা এই অভিযোগে মারফি পরিবার দাবি করেছে, পানিতে ভিজলে টেসলার ব্যাটারি থেকে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আগে থেকেই সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও তারা ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি বিক্রি অব্যাহত রেখেছে।
হারিকেন হেলেনের প্রভাবে ট্যাম্পা বে এলাকায় গত ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস দেখা দিলে মারফি পরিবারের গ্যারেজে লবণাক্ত পানি প্রবাহিত হয়। পানি গাড়ির নিচের অংশে পৌঁছাতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বন্যার পানি এবং আগুনের কারণে জরুরি সেবাকর্মীরা সেখানে পৌঁছাতে পারছিলেন না। পরবর্তীতে মাইকেল মারফির অনুরোধে 'গ্রে বুল রেসকিউ' নামের একটি বেসরকারি উদ্ধারকারী দলের সাহসিকতায় নৌকার সাহায্যে পরিবারের সদস্যদের ওই জ্বলন্ত বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।
মারফি পরিবারের দাবি, এই বিস্ফোরণের মূল কারণ টেসলার ত্রুটিপূর্ণ ব্যাটারি প্যাক এবং এর ডিজাইন। ইলন মাস্কের মালিকানাধীন টেসলা ২০১০ সাল থেকেই লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির এই 'থার্মাল রানঅ্যাওয়ে' বা অনিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার সমস্যার বিষয়ে অবগত ছিল। তারা এমনকি আগুন প্রতিরোধক উপাদানের পেটেন্টও করেছিল, কিন্তু নিজেদের গাড়িতে তা সঠিকভাবে ব্যবহার করেনি।
ফ্লোরিডায় এর আগেও হারিকেন হেলেনের সময় পানিতে ডুবে একাধিক টেসলা গাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল, যা নেভাতে দমকলকর্মীদের চরম বেগ পেতে হয়েছিল। সব জেনেও দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে ত্রুটি সংশোধনে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে মারফি পরিবার এখন টেসলার কাছে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আইনি লড়াই শুরু করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় একটি দ্রুতগামী ট্রাকের ধাক্কায় এক পুলিশ সদস্যের মা ও স্ত্রী প্রাণ হারিয়েছেন।
এই দুর্ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে আফরোজা আকতার (২৮) এবং তার শাশুড়ি কদমতলী থানার শ্রীধারা এলাকার বাসিন্দা। আফরোজার স্বামী মেহেদী হাসান একজন পুলিশ সদস্য।
মেহেদী হাসান জানান, শুক্রবার রাতে পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় তার মা ও স্ত্রী আফরোজা রাস্তা পার হচ্ছিলেন।
এসময় একটি বেপরোয়া গতিতে আসা ট্রাক তাদের সজোরে ধাক্কা দেয়, ফলে দুজনই সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আফরোজার মাকে মৃত ঘোষণা করেন। আফরোজা আকতারকে গুরুতর অবস্থায় কুর্মিটোলা থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আফরোজা আকতারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট খিলক্ষেত/রূপগঞ্জ থানাকে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা যাওয়া নিহত শাশুড়ির মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ ঘাতক ট্রাক ও চালককে শনাক্তের জন্য কাজ করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ৪৫ বছর বয়সী একটি প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ শফিকুল ইসলাম নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে।
এই ঘটনা ঘটে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) তারিখে। অভিযুক্ত যুবক শফিকুল ইসলাম ওই এলাকার সবদর আলীর পুত্র।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে শফিকুল ইসলাম ভুক্তভোগী পরিবারের বসতঘরে প্রবেশ করে। এক পর্যায়ে সুযোগ পেয়ে ঘরে থাকা প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ সময় বাড়িতে উপস্থিত অন্যান্য স্বজনরা বিষয়টি লক্ষ্য করে শফিকুলকে আটক করে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন।
পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে বিকেলে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শফিকুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, আটক শফিকুল ইসলামও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।
নালিতাবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) দেবাশীষ দত্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই ঘটনায় শফিকুল ইসলাম নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা গ্রহণ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আধুনিকতার প্রভাব পড়ার আগে বরেন্দ্রভূমির মেঠোপথের অবস্থা কেমন ছিল? সন্ধ্যা নামলে চারপাশের নিস্তব্ধতা, বন্যপ্রাণীর ভীতি এবং ডাকাতের উপদ্রব— এমন এক অনিশ্চিত সময়ের মধ্যে ক্লান্ত পথিকদের জন্য আশ্রয় ও খাবারের এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ হয়ে দাঁড়িয়েছিল একটি প্রতিষ্ঠান। প্রায় ১২ যুগ বা ১১৮ বছর ধরে নওগাঁর পোরশার ঐতিহাসিক ‘মুসাফিরখানা’ মানবতার ঐতিহ্যকে সযত্নে রক্ষা করে আসছে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবারের এই দৃষ্টান্ত আধুনিক সমাজেও বিরল মানবসেবার বার্তা প্রদান করে।
শতাব্দী আগে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা বা দ্রুতগতির যানবাহনের অস্তিত্ব ছিল না। মেঠোপথ ধরে হেঁটে অথবা গরুর গাড়িতে চড়ে মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য ও তীর্থযাত্রায় বের হতো। সেই সময় বণিক খাদেম মোহাম্মদ শাহ্ ব্যবসার প্রয়োজনে দূরদূরান্তে ঘুরে বেড়াতেন। কলকাতায় প্রথম মুসাফিরখানা দেখে তিনি নিজের জন্মভূমিতে এমন একটি সেবা প্রতিষ্ঠান গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন।
১৯০৮ সালে নওগাঁর পোরশার সদর এলাকার মিনা বাজারে নিজের বাসভবনের পাশে মাটির দেওয়াল ও টিনের চালে চার কক্ষের একটি ছোট মুসাফিরখানা গড়ে তোলেন। এই নিঃস্বার্থ সেবা চিরকাল ধরে রাখতে তিনি তার ৮০ বিঘা জমি দান করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে সেই সম্পত্তির আয় থেকে আধুনিক দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। সময়ের পরিবর্তনে অনেক কিছু বদলে গেলেও এই প্রতিষ্ঠানের অতিথিপরায়ণতার চিত্র অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।
পোরশা উপজেলা সদর বা আশপাশে কোনো বাণিজ্যিক আবাসিক হোটেল না থাকায় দূরদূরান্ত থেকে আসা পথচারী ও ব্যবসায়ীদের জন্য এই মুসাফিরখানা একমাত্র আস্থার স্থান। বর্তমানের দ্বিতল ভবনটিতে মোট ১৬টি কক্ষ ও একটি বড় হলরুম রয়েছে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ৬০ জন অতিথির থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে অবস্থান করার ক্ষেত্রে কোনো সামাজিক বা ধর্মীয় ভেদাভেদ নেই। যেকোনো ধর্ম ও বর্ণের যে কেউ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সর্বোচ্চ তিন দিন পর্যন্ত এখানে থাকতে পারেন। অতিথিদের সার্বিক দেখভালের জন্য একজন ম্যানেজার ও দুজন কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিয়মিত তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও সময়ের সাথে কিছু পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে প্রতি বুধবার দুপুরে বিনামূল্যে বিশেষ খাবার সরবরাহ করা হয়। এছাড়া প্রতিদিন যারা এখানে রাত যাপন করেন, তাদের খাবার গ্রহণের একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। মুসাফিরখানায় অবস্থানরতরা দুপুরে খেতে চাইলে সকাল ৯টার মধ্যে এবং রাতে খেতে চাইলে বিকেল ৪টার মধ্যে ম্যানেজারকে জানাতে হয়। তবে অতিথিদের নিজেদের বিছানা নিজেদেরই প্রস্তুত করতে হয় এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলোও তাদের নিজ দায়িত্বে দেখাশোনা করতে হয়।
দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে এখানে আগতদের সেবা দিয়ে আসছেন খাদেম মোসলেম উদ্দিন। প্রতিদিন ছায়া খুঁজে পাওয়া ৬-৭ জন পথিকের থাকার পাশাপাশি দুপুর ও রাতের খাবারের নিয়মও বেশ সুনির্দিষ্ট।
তিনি জানান, যারা এখানে থাকেন, তাদের নিজেদের বিছানা প্রস্তুত করতে হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলোও তাদেরই দেখভাল করতে হয়। প্রতিদিনই ছয়-সাতজন বিনা খরচে এখানে রাত যাপন করেন। দুপুরে খেতে চাইলে সকাল নয়টা আর রাতে খেতে চাইলে বিকেল চারটার মধ্যে জানাতে হয়।
মুসাফিরখানার প্রতিষ্ঠাতার বংশধর ষাটোর্ধ্ব ফারুকুজ্জামান শাহ বলেন, "খাদেম মোহাম্মদ শাহ্ আমার দাদার আপন বাবা। এই মুসাফিরখানায় যে কেউ থাকতে পারে, যেকোনো ধর্মের, যেকোনো বর্ণের। এখানে তিন দিন থাকা ফ্রি। আগে প্রতিদিন তিন বেলা খাবার দেওয়া হতো, এখন প্রতি বুধবার দুপুরে বিনামূল্যে খাবার খাওয়ানো হয়। এই মুসাফিরখানার সম্পত্তি থেকে যে আয় আসে, সেটা দিয়েই এটি পরিচালিত হয়। অতিথিদের সার্বিক দেখভালের জন্য একজন ম্যানেজার ও দুজন কর্মচারী আছেন।"
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, তারা ছোটবেলা থেকেই এই মুসাফিরখানা দেখে আসছেন এবং মুরব্বিদের মুখে এর ইতিহাস শুনেছেন। অতীতে বরেন্দ্রভূমির মেঠোপথে গরুর গাড়িতে যাতায়াতের সময় বিপদের হাত থেকে বাঁচতে মানুষ এখানেই আশ্রয় নিত। দূরদূরান্ত থেকে আসা অতিথিরা জানান, এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভাড়ায় থাকার মতো কোনো আবাসিক হোটেল না থাকায় বিনা খরচে এমন থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা সত্যিই কল্পনাতীত। এখানকার মানুষের আন্তরিকতা ও সেবার মান অতিথিদের মুগ্ধ করে।
প্রতিষ্ঠাতা খাদেম মোহাম্মদ শাহ্ আজ আর বেঁচে নেই, তবে তার দূরদর্শী চিন্তায় রোপিত মানবতার বীজটি আজও বরেন্দ্রভূমির বুকে ছায়া দিয়ে চলেছে শত শত ক্লান্ত পথিককে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ