ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মেলোনির সঙ্গে পুরনো বিতর্ক উসকে দিলেন ট্রাম্প, ন্যাটো সম্মেলনের আগে নতুন উত্তেজনা


মেলোনির সঙ্গে পুরনো বিতর্ক উসকে দিলেন ট্রাম্প, ন্যাটো সম্মেলনের আগে নতুন উত্তেজনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে পুরোনো বিবাদ উস্কে দিয়েছেন। রবিবার তিনি ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি সম্পাদিত ছবি পোস্ট করেছেন। ছবিতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, মেলোনি তার প্রতি অত্যাধিক আগ্রহী। ট্রাম্প লিখেছেন: ‘নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।’

এই পোস্টটি তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে করা হয়েছে। যেখানে ট্রাম্প ও মেলোনির দেখা হওয়ার কথা রয়েছে।

 

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

গত সপ্তাহে ট্রাম্প একটি দাবিতে বলেছিলেন, এর ফলে ট্রাম্প-মেলোনির বিরোধ আবার সামনে এসেছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের সময় মেলোনি নাকি বারবার ট্রাম্পের সাথে একটি ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্পের এই দাবি মেলোনি সম্পূর্ণ বানোয়াট হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং বলেন, ‘ইতালি এবং আমি কখনো ভিক্ষা করি না।’

মেলোনি বলেন, ‘আমি আজ আমেরিকা-বিরোধী নই; আমি গতকাল হাঁটু গেড়েও বসিনি। আমি এমন একজন ব্যক্তি যিনি বিশ্বাস করেন যে পশ্চিমারা ঐক্যবদ্ধ হলে আরও শক্তিশালী হয়, যিনি বিশ্বাস করেন যে ঐক্যবদ্ধ পশ্চিমা বিশ্বে ইতালি আরও শক্তিশালী, আমি এর জন্যই কাজ করেছি ও করে চলেছি।’

ইতালীয় সংবাদ সংস্থা অ্যাডনক্রোনোসের তথ্যমতে, মেলোনি ইতালির রেতে ৪ টেলিভিশনকে বলেন, ‘তবে, ভালো সম্পর্ক মিশুক ও সহজ আচরণের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, এবং আমি একজন মিশুক মানুষ।’

এই বিতর্কের কারণে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ওয়াশিংটনে তার পরিকল্পিত সফর বাতিল করেছেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প ও মেলোনির মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে, যা ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতে ইতালির অনীহা একটি কারণ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বামী বাঁচতে আকুতি জানালেও আমি কিছু করতে পারিনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ পি.এম


স্বামী বাঁচতে আকুতি জানালেও আমি কিছু করতে পারিনি

টানা ভারী বর্ষণের কারণে কক্সবাজারের উখিয়া ও জেলা সদরে একরাতেই ঘটেছে পৃথক পাহাড় ধস, যার ফলে ৮ রোহিঙ্গা নারী-শিশুসহ ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে কক্সবাজার শহরের সাত্তারঘোনা এলাকায় সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য তৈরি হয়েছে, যেখানে মাটির নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু ঘটেছে আলী আকবর (৫০) নামে এক ব্যক্তির। অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছে তার স্ত্রী জোৎস্না বেগম, যার আকুতি এখন সদর হাসপাতালে বাতাস ভারি করে তুলছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের স্ত্রী জোৎস্না। তিনি বলেন, 'রাতে আমরা স্বামী, ছেলে ও আমি একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে খাটে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ গভীর রাতে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে ঘরের ওপর পড়ে, মুহূর্তে আমরা মাটির নিচে চাপা পড়ে যাই।'

তিনি আরও জানান, 'ভাগ্যক্রমে আমি ও আমার ছেলে কোনোমতে বের হয়ে আসতে পারলেও আমার স্বামী মাটির নিচে আটকা পড়ে যান। তিনি বাঁচার জন্য বারবার আকুতি জানাচ্ছিলেন। পরে স্থানীয় লোকজন মাটি খুঁড়ে তাকে উদ্ধার করলেও ততক্ষণে তিনি মারা গিয়েছিলেন।'

এই শহরের ট্র্যাজেডির পাশাপাশি উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতেও নেমে এসেছে একই রকম অন্ধকার। উখিয়ার ক্যাম্প ১১, সি-১১ ব্লকে রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন আমান উল্লাহর পরিবারের ৭ সদস্য। ভারী বৃষ্টিপাতের এক পর্যায়ে পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে ৫ জন। তাদের মধ্যে ৪ জন মারা যান।

সফলভাবে বেঁচে ফেরা আমান উল্লাহ তার পুরো পরিবারের হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানান। তিনি বলেন, 'রাতে আমাদের পরিবারের সাতজন সদস্য রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ রাত ১টার দিকে পাহাড়ধসে পুরো ঘর মাটিচাপা পড়ে যায়। আমি ও আমার আরেক ভাই কোনোমতে প্রাণে বেঁচে যাই, কিন্তু পরিবারের বাকি পাঁচজন মাটির নিচে চাপা পড়েন। আমাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। মাটি খুঁড়ে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি চারজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।'

এদিকে, উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ ডলার ত্রিপুরা জানান, রাত ২টার দিকে ক্যাম্প ১৫ জামতলীতে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের ৫ সদস্য। ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় মাটি খুঁড়ে তাঁদের উদ্ধার করা হলেও বাঁচানো যায়নি স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানকে। অপর ২ জনকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাত দুইটার দিকে কুতুপালং আশ্রয়শিবিরের ক্যাম্প-৭-এ পাহাড়ধসে মো. একরাম (৭) নামে আরও এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ ডলার ত্রিপুরা বলেন, 'আমরা খবর পাওয়া মাত্রই উদ্ধার অভিযানে নেমেছি। বিভাগীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও মাইকিং আগে থেকেই চলমান ছিল এবং এখনও তা অব্যাহত রয়েছে।'

উখিয়াস্থ ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জানান, অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে মাইকিংসহ নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস। তবে স্বেচ্ছাসেবকদের অভিযোগ, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে চাচ্ছেন না।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৬৭ মিলিমিটার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিনও এই ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পাহাড় ধসের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মনে রাখা হচ্ছে, ২০১৭ সালে বনাঞ্চল উজাড় করে তৈরি করা ৩৩টি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের প্রায় ১২ লাখ বাসিন্দার মধ্যে অন্তত ১ লাখ রোহিঙ্গা বর্তমানে তীব্র ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিংবদন্তির গল্প শেষ হয় না নেইমারকে বিদায় জানালেন পলাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ পি.এম


কিংবদন্তির গল্প শেষ হয় না নেইমারকে বিদায় জানালেন পলাশ

ব্রাজিলের জন্য নরওয়ের বিপক্ষে জয়টি অধরা থেকে গেল। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নেইমার এবং ভিনিসিউসদের নিয়ে মাঠে নামা দলের সদস্যরা ২-১ গোলে পরাজিত হয়ে এবারের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেন। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এই হতাশা বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনেও প্রভাব ফেলেছে। জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশ তাঁর প্রিয় দলের বিদায়ে আবেগ লুকাতে পারেননি।

ব্রাজিলের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি একটি হৃদয়স্পর্শী পোস্ট করেন।

পলাশ তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি পরা নেইমারের একটি প্রতীকী ছবি শেয়ার করেন। ছবিটিতে দেখা যায়, অশ্রুসিক্ত চোখ নিয়ে মাঠের মাটিতে পড়ে থাকা একটি রাজমুকুট পেছনে ফেলে নেইমার হেঁটে যাচ্ছেন। ছবির নিচের লেখাটি ছিল, ‘থ্যাংক ইউ’।

ছবির ক্যাপশনে পলাশ উল্লেখ করেছেন, এটি একটা যুগের সমাপ্তি, কিন্তু কিংবদন্তির গল্প কখনোই শেষ হয় না। বিদায়, নেইমার জুনিয়র!

এই পোস্টটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। অনেকেই মন্তব্যে নেইমারের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের স্মৃতি তুলে ধরেন এবং ব্রাজিলিয়ান তারকার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ব্রাজিল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এই অপ্রত্যাশিত বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ হতাশা প্রকাশ করছেন, আবার কেউ প্রতিপক্ষের সাফল্য উদযাপন করছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ, খাদ্যবাজারে স্বস্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ, খাদ্যবাজারে স্বস্তি

গত জুন মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। একইসঙ্গে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিতে অস্বস্তি কমেছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবিএসের সবশেষ তথ্য জানাচ্ছে, জুন মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ হয়েছে, গত মে মাসে এটি ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।

খাদ্য মূল্যস্ফীতিতেও অস্বস্তি কমেছে। জুন মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশে। মে মাসে এটি ছিল ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ।

এদিকে, মে মাসে সার্বিক খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ থাকলেও জুন মাসে সেটি কমে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই কমায় হয়েছে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ।

এছাড়া জুন মাসে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

জুন মাসে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০১ শতাংশে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে অবস্থান করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশুদের নিরাপত্তার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ গঠনের মাধ্যম দিবা পরিচর্যাকেন্দ্র: ডা. জুবাইদা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৮ পি.এম


শিশুদের নিরাপত্তার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ গঠনের মাধ্যম দিবা পরিচর্যাকেন্দ্র: ডা. জুবাইদা

দিবা পরিচর্যা কেন্দ্র শুধু শিশুদের নিরাপদে থাকার স্থান নয় দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার সহায়ক বলে মন্তব্য করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

সোমবার (০৬ জুলাই) সকালে পানি ভবনে আয়োজিত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে 'শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ' শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

দিবা পরিচর্যা কেন্দ্র শুধু শিশুদের নিরাপদে থাকার স্থান নয় দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার সহায়ক এ কথা জানিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, কেয়ারগিভার আপনারা একই সঙ্গে দুটি কাজ করছেন আর তা হলো বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করতে সহায়তা করছেন।  

 

তিনি আরও বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রেক্ষাপট ও বর্তমান বাস্তবতায় মোট জনসংখ্যার ৫০.৫৮ শতাংশ নারী (প্রায় ৯০.৪২ মিলিয়ন) এবং মোট জনসংখ্যার ২৮.৩৬ শতাংশের বয়স শূন্য থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। বর্তমানে ১২৩টি চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে ৭,৩৬০টি শিশু পরিচর্যা পাবে, যা মোট শিশু জনসংখ্যার মাত্র ০.০৩৪ শতাংশ। এমন প্রেক্ষাপটে দিবা পরিচর্যা কেন্দ্রবিহীন স্থানগুলোতে চাকরিরত মায়েরা তাদের সন্তানদের বাসায় একা রেখে কাজে যেতে বাধ্য হন, যা অত্যন্ত অমানবিক এক বাস্তবতা বলে তুলে ধরেন তিনি।

 

 

মানসম্মত দিবা পরিচর্যা কেন্দ্রের অভাবে মায়েরা যেমন নিশ্চিন্তে কাজে মনোযোগ দিতে পারেন না, তেমনি শিশুরাও আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এবং সমবয়সীদের সাথে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে শিশুরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতে পারে এবং তাদের সুস্বাস্থ্য বিঘ্নিত হয়। মানসম্মত সার্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ এবং শিশুর জ্ঞানভিত্তিক ও সামাজিক বিকাশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে এটি একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলা সম্ভব দিবা পরিচর্যা কেন্দ্রের মাধ্যমে।

 

ভবিষ্যৎ নির্মাণে দিবা পরিচর্যা কেন্দ্র ও কেয়ারগিভারদের ভূমিকা অপরিসীম এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দিবা পরিচর্যা কেন্দ্রগুলো শুধু শিশুদের নিরাপদে থাকার স্থান নয় বরং দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার সহায়ক। কেয়ারগিভাররা শিশুদের পরম স্নেহ-যত্নে বড় করার মাধ্যমে একই সাথে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন।

 

তারা মায়েদের স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিশ্চিন্তে চাকরি ক্ষেত্রে যোগদানের সুযোগ করে দিচ্ছেন, যা বিরাট নারী জনসংখ্যাকে বেকারত্বের বোঝা থেকে পরিত্রাণ দিচ্ছে।

 

অপরদিকে তারা আবার শিশুদের মাঝে সততা, নিষ্ঠা, শান্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানবিকতা, সহনশীলতা, নিয়মানুবর্তিতা, কৌতুহল, অধ্যবসায়, পারস্পরিক সম্মান এবং দেশপ্রেমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন। পরিশেষে, শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশের জন্য এ ধরণের সেবা যত্ন কেন্দ্র সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া প্রয়োজন বলে জুবাইদা রহমান উল্লেখ করেন।

 

 

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদুর রহমান বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুধু রক্তের উত্তরাধিকার নয়, আদর্শের উত্তরাধিকারও বহন করছেন। সাবেক প্রায়ত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আর বর্তমানে তার সুযোগ সন্তান তারেক রহমানের হাত ধরে সেটার আরও সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়ন এর পথ সৃষ্টি হচ্ছে।

 

কর্মশালায় ‘শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ’ শীর্ষক ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শিশু সমন্বয়) শবনম মোস্তারী। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পানিসম্পদবিষয়ক মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন।

 

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%