ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শিশুদের নিরাপত্তার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ গঠনের মাধ্যম দিবা পরিচর্যাকেন্দ্র: ডা. জুবাইদা


শিশুদের নিরাপত্তার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ গঠনের মাধ্যম দিবা পরিচর্যাকেন্দ্র: ডা. জুবাইদা

দিবা পরিচর্যা কেন্দ্র শুধু শিশুদের নিরাপদে থাকার স্থান নয় দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার সহায়ক বলে মন্তব্য করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

সোমবার (০৬ জুলাই) সকালে পানি ভবনে আয়োজিত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে 'শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ' শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

দিবা পরিচর্যা কেন্দ্র শুধু শিশুদের নিরাপদে থাকার স্থান নয় দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার সহায়ক এ কথা জানিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, কেয়ারগিভার আপনারা একই সঙ্গে দুটি কাজ করছেন আর তা হলো বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করতে সহায়তা করছেন।  

 

তিনি আরও বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রেক্ষাপট ও বর্তমান বাস্তবতায় মোট জনসংখ্যার ৫০.৫৮ শতাংশ নারী (প্রায় ৯০.৪২ মিলিয়ন) এবং মোট জনসংখ্যার ২৮.৩৬ শতাংশের বয়স শূন্য থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। বর্তমানে ১২৩টি চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে ৭,৩৬০টি শিশু পরিচর্যা পাবে, যা মোট শিশু জনসংখ্যার মাত্র ০.০৩৪ শতাংশ। এমন প্রেক্ষাপটে দিবা পরিচর্যা কেন্দ্রবিহীন স্থানগুলোতে চাকরিরত মায়েরা তাদের সন্তানদের বাসায় একা রেখে কাজে যেতে বাধ্য হন, যা অত্যন্ত অমানবিক এক বাস্তবতা বলে তুলে ধরেন তিনি।

 

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

 

মানসম্মত দিবা পরিচর্যা কেন্দ্রের অভাবে মায়েরা যেমন নিশ্চিন্তে কাজে মনোযোগ দিতে পারেন না, তেমনি শিশুরাও আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এবং সমবয়সীদের সাথে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে শিশুরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতে পারে এবং তাদের সুস্বাস্থ্য বিঘ্নিত হয়। মানসম্মত সার্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ এবং শিশুর জ্ঞানভিত্তিক ও সামাজিক বিকাশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে এটি একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলা সম্ভব দিবা পরিচর্যা কেন্দ্রের মাধ্যমে।

 

ভবিষ্যৎ নির্মাণে দিবা পরিচর্যা কেন্দ্র ও কেয়ারগিভারদের ভূমিকা অপরিসীম এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দিবা পরিচর্যা কেন্দ্রগুলো শুধু শিশুদের নিরাপদে থাকার স্থান নয় বরং দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার সহায়ক। কেয়ারগিভাররা শিশুদের পরম স্নেহ-যত্নে বড় করার মাধ্যমে একই সাথে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

 

তারা মায়েদের স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিশ্চিন্তে চাকরি ক্ষেত্রে যোগদানের সুযোগ করে দিচ্ছেন, যা বিরাট নারী জনসংখ্যাকে বেকারত্বের বোঝা থেকে পরিত্রাণ দিচ্ছে।

 

অপরদিকে তারা আবার শিশুদের মাঝে সততা, নিষ্ঠা, শান্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানবিকতা, সহনশীলতা, নিয়মানুবর্তিতা, কৌতুহল, অধ্যবসায়, পারস্পরিক সম্মান এবং দেশপ্রেমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন। পরিশেষে, শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশের জন্য এ ধরণের সেবা যত্ন কেন্দ্র সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া প্রয়োজন বলে জুবাইদা রহমান উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

 

 

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদুর রহমান বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুধু রক্তের উত্তরাধিকার নয়, আদর্শের উত্তরাধিকারও বহন করছেন। সাবেক প্রায়ত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আর বর্তমানে তার সুযোগ সন্তান তারেক রহমানের হাত ধরে সেটার আরও সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়ন এর পথ সৃষ্টি হচ্ছে।

 

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

কর্মশালায় ‘শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ’ শীর্ষক ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শিশু সমন্বয়) শবনম মোস্তারী। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পানিসম্পদবিষয়ক মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন।

 

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গৃহবধূকে ধর্ষণের মামলায় ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০১ পি.এম


গৃহবধূকে ধর্ষণের মামলায় ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

জামালপুরে এক গৃহবধূ (২৬) কে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বাকি এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ৩ টা ০০ মিনিটে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল- ১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই রায় প্রদান করেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ফজলুল হক জানান, ২০২৫ সালের ২৫ মে গভীর রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলাখিয়া ইউনিয়নের মাঞ্জালিয়া গ্রামের ওই গৃহবধূকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে গিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি মিলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ পরের দিন বকশীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর মামলার আসামি নিলাখিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশরাফুল ইসলাম, রাশেদুর রহমান পাপ্পু, বিজু মিয়া, বাদশা মিয়া, মনিরুজ্জামান জুয়েল, আছমত আলী ও জসিম উদ্দিনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ইদ্রিস আলী নামে একজন আসামিকে খালাস দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নাহিদের ইতিহাস গড়া সাফল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৪ পি.এম


জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নাহিদের ইতিহাস গড়া সাফল্য

নাহিদ রানা ওয়ানডেতে ফাইফারের দেখা সময়ের মধ্যেই আগেও পেয়েছেন। আগের দুবারের ফাইফারের পারফরম্যান্সকে এবার শুধু ছাড়িয়ে গেছেন তিনি, বরং নতুন ইতিহাস গড়ে ফেলেছেন। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিং ফিগারটি এখন তার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

সোমবার হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে, নাহিদ রানা ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন। এর আগে এই রেকর্ডটি যৌথভাবে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ও রুবেল হোসেনের হাতে ছিল, যাঁরা দুজনই ২৬ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন।

নাহিদের কৃতিত্বে জিম্বাবুয়ে অলআউট হয়েছে ১৪১ রানে। যদিও একশর আগেই তাঁদের গুড়িয়ে পড়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছিল। শুরুর দিকে ইনোসেট কাইয়ার প্রতিরোধের পর শেষদিকে নিউম্যান নিয়ামহুরি এবং রিচার্ড এনগারাভা তাঁদের ভেতরে আসার সেই শঙ্কা এড়াতে সক্ষম হন। ৯ নম্বরে নামা নিয়ামহুরি ৩৩ রান, এনগারাভা ২৭ রান এবং কাইয়া ২৬ রান করেন।

বাংলাদেশ প্রথম উইকেটটি পায় রানআউটের মাধ্যমে। তাসকিন আহমেদের ব্যক্তিগত চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলটি নো হয়েছিল। দৌড়ে রান নিতে চেয়েছিলেন বেন কুরান। রান নেবেন কি নেবেন না, এই দ্বিধায় পড়া ওপেনারকে রানআউট করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কুরান ১৯ বল খেলে ১৮ রান করে রানআউট হন। তাসকিন ওই ওভারের শেষ বলে আরেক ওপেনারের উইকেটও সংগ্রহ করেন।

বেনেত মাঠ ছাড়েন ২৪ বলে ১৭ রান করে। দলীয় অষ্টম ওভারের প্রথম বলে তাসকিন ফেরান ক্রেগ এরভিনকেও। এরপর নাহিদ রানার পালা শুরু হয়। সিকান্দার রাজা তার ওভারে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন নুরুল হাসানকে। নাহিদের দ্বিতীয় শিকার হয়ে যান ওয়েসলে মেধেভেরে। জিম্বাবুইয়ান ব্যাটার দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তকে ক্যাচ দেন।

নাহিদের বলে ক্লাইভ মাদানদে হন মোসাদ্দেকের ক্যাচ। উইকেটের মিছিল চলাকালীন হাল ধরে রেখেছিলেন ইনোসেন কাইয়া। তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৬ রান সংগ্রহ করতে পারেন তিনি। তাকে এজ করে সোহানের ক্যাচ বানান নাহিদ। ভেতরে ঢোকা বলে ব্রাড ইভান্সকে এলবিডব্লিউ করে নাহিদ পান দ্বিতীয় ফাইফারের দেখা।

এরপর নিয়ামহুরি ও এনগারাভা স্কোর শুধু একশর পারই করাননি, বোধহয় জিম্বাবুয়েকে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয় রসদও এনে দিয়েছেন। তাঁদের ৬৩ রানের জুটির পর, নাহিদের ষষ্ঠ শিকার হয়ে বিদায় নেন ২৭ রান করা এনগারাভা। মিরাজের বলে তানজিদ হাসানকে ক্যাচ দেন নিয়ামহুরি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মঙ্গলবার ১৬ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে দুই জেলায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১০ পি.এম


মঙ্গলবার ১৬ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে দুই জেলায়

গ্যাস পাইপলাইনের টাই-ইন কাজের কারণে গাজীপুর ও টাঙ্গাইলের কয়েকটি এলাকায় শিল্প, ক্যাপটিভ এবং সিএনজি গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ ১৬ ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকবে মঙ্গলবার (৭ জুলাই)।

সোমবার (৬ জুলাই) এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। 

বার্তায় বলা হয়, ৭ জুলাই সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী পর্যন্ত ১০ ও ২০ ইঞ্চি ব্যাসের ১৪০ পিএসআইজি গ্যাস পাইপলাইনে টাই-ইন কাজ পরিচালিত হবে। এ কারণে ওই সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে।

এর ফলে, গাজীপুর ডিভিশনের আওতাধীন জয়দেবপুর, নাওজোর, ইটাহাটা, কড্ডা, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, মৌচাক, শফিপুর, চন্দ্রা (পল্লী বিদ্যুৎ), কালিয়াকৈর ও মির্জাপুর এলাকার ১০ ও ২০ ইঞ্চি, ১৪০ পিএসআইজি লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত সব শিল্প, ক্যাপটিভ ও সিএনজি গ্রাহকরা গ্যাস সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবেন। এছাড়া, তৎসংলগ্ন এলাকাগুলোতে গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে। 

গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ‍্যাস কর্তৃপক্ষ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্ট্রেলিয়া সৈকতে রহস্যজনক ৬টি গোলাকার বস্তু ভেসে এসেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৩ পি.এম


অস্ট্রেলিয়া সৈকতে রহস্যজনক ৬টি গোলাকার বস্তু ভেসে এসেছে

অস্ট্রেলিয়ার উত্তর কুইন্সল্যান্ডের সৈকতে রহস্যজনকভাবে ভেসে এসেছে ৬টি বড় আকৃতির গোলাকার বস্তু। বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে এগুলোকে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ বা ‘স্পেস বল’ বলে ধারণা করছেন।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কার বিষয় হলো, এগুলো রকেটের জ্বালানি ব্যবস্থার অংশ হতে পারে এবং এর ভেতরে অত্যন্ত বিষাক্ত রকেট জ্বালানি অবশিষ্টাংশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ নিয়ে স্থানীয় জনগণের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি স্থানীয় সময় রবিবার (৫ জুলাই) জানিয়েছে, রহস্যময় এসব বস্তু কোথা থেকে এসেছে তা শনাক্তে তারা কাজ করছে। এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, বস্তুগুলোতে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, টাউনসভিলের ফরেস্ট বিচ এলাকায় সৈকতে ভেসে আসা বস্তুগুলো বড় আকৃতির ধাতব গোলকের মতো দেখাচ্ছে।

রবিবার কুইন্সল্যান্ড ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, সৈকত থেকে মোট ৬টি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি নিরাপদে ড্রামের মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আর ষষ্ঠ বস্তুটিকে নিরাপদে রাখার কাজ চলছে।

অন্যদিকে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলেরও কমতি নেই। ‘ফরেস্ট বিচ টেকঅ্যাওয়ে’ নামে একটি স্থানীয় খাবারের দোকান ‘স্পেস জাঙ্ক স্ন্যাক বক্স’ নামে নতুন একটি খাবার বিক্রি শুরু করেছে। দোকানের সামনে থাকা একটি বোর্ডে মজার ছলে লেখা হয়েছে, ‘এই খাবার সৈকতে ভেসে আসা রহস্যময় বস্তু না, তাই নিশ্চিন্তে চিনে খেতে পারবেন।’

এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, সৈকতে রহস্যময় এসব বস্তু নিয়ে স্থানীয় জনগণের জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই। এ বিষয়ে পুলিশও কোনো তদন্ত করছে না।

ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে উত্তর কুইন্সল্যান্ডে এমন আরও ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসতে পারে। তবে এতে সেখানের জনসাধারণের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই। তারপরও স্থানীয়দের অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির পরামর্শ ও তথ্য অনুসরণ করা উচিত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলোর প্রকৃতি ও উৎস এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ এবং ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে কাজ করা অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বস্তুগুলোকে প্রাথমিকভাবে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ বলেই মনে করা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংস্থাটি উত্তর কুইন্সল্যান্ডের ফরেস্ট বিচে পাওয়া সন্দেহভাজন মহাকাশের ধ্বংসাবশেষের বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে তারা এসব বস্তুর প্রকৃতি ও উৎস শনাক্তে কাজ করছে।

এ বিষয়ে ফ্লিন্ডার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাকাশ প্রত্নতত্ত্ববিদ এবং মহাকাশের আবর্জনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক অ্যালিস গোরম্যান সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও পর্যালোচনা করে বলেন, ‘বস্তুগুলোতে আগুনে পোড়া বা দগ্ধ হওয়ার কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘এতে ধারণা করা যায়, এগুলো কোনো রকেট উৎক্ষেপণের প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপের অংশ হতে পারে, যা পৃথিবীতে ফিরে এসেছে। রকেটের বাকি অংশ পেলোড বহন করে মহাকাশে চলে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বস্তুগুলো রকেটের জ্বালানি ব্যবস্থার অংশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। এগুলো টাইটানিয়াম সংকর ধাতু দিয়ে তৈরি চাপযুক্ত জ্বালানি সংরক্ষণ পাত্র, যার গলনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের বস্তুকে আসলে ‘স্পেস বল’ বলা হয় এবং উৎক্ষেপণের বহু বছর পরও এগুলো খুঁজে পাওয়া যায়। সম্ভবত এর আগে এ ধরনের বস্তু সমুদ্রপৃষ্ঠে পড়ে থাকার দৃশ্য কেউ দেখেনি।’

তবে গোরম্যান সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘বস্তুগুলো মহাকাশ শিল্পের অংশ নাও হতে পারে। এগুলো সামুদ্রিক কোনো উৎস থেকেও আসতে পারে।’

তবে তিনি জানান, ‘যদি এগুলো সত্যিই ‘স্পেস বল’ হয়, তাহলে এর ভেতরে অত্যন্ত বিষাক্ত রকেট জ্বালানি হাইড্রাজিনের কিছু অবশিষ্টাংশ থাকতে পারে।

তিনি ধারণা করে বলেন, ‘এগুলো রাশিয়ার ফ্রেগাট রকেটের অংশও হতে পারে। কারণ ওইসব রকেটের জ্বালানিতেও একই ধরনের চাপযুক্ত জ্বালানি পাত্র ব্যবহার করা হয়।’

গোরম্যান বলেন, ‘১৯৮০ এর দশকের মার্কিন বিজ্ঞানভিত্তিক কৌতুক চলচ্চিত্র ‘স্পেসবলস’এর সঙ্গে এই বস্তুগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। ‘স্পেস বল’ হলো মহাকাশে রকেট নিক্ষেপের পর সবচেয়ে বেশি পাওয়া ধ্বংসাবশেষগুলোর একটি। এর আগেও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এগুলো পাওয়া গেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে সচল উপগ্রহ, অচল যন্ত্রাংশ ও রকেট উৎক্ষেপণের পরিত্যক্ত র ৩০ হাজারেরও বেশি মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘মহাকাশের আবর্জনা বেশিরভাগ সময় সমুদ্রের ওপর দিয়েই পৃথিবীতে ফিরে আসে। তবে অস্ট্রেলিয়া বিশাল স্থলভাগ হওয়ায় এখানে প্রায়ই মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাকাশে উৎক্ষেপণের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় উপজাত হিসেবে মহাকাশের আবর্জনার সমস্যাও বাড়ছে।

তিনি বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে মহাকাশে যে পরিমাণ উৎক্ষেপণ হয়েছে, তা মানব ইতিহাসের আগের সব উৎক্ষেপণের মোট সংখ্যার চেয়েও বেশি। ফলে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%