০১:২৭ পি.এম
আদালতের জব্দের নির্দেশের এক বছর পেরিয়ে গেলেও সড়কে কোনো বিঘ্ন ছাড়াই চলছে খন্দকার এনায়েত উল্লাহর মালিকানাধীন ‘এনা পরিবহন’। গত বছরের আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ১৭৯টি বাস জব্দ করার কথা থাকলেও, পুলিশ এখন পর্যন্ত জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে মাত্র ৫টি বাস। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় গতি আনার জন্য তারা আবারও আদালতের শরণাপন্ন হবেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা এবং বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করে।
এরপর গত বছরের মে মাসে আদালত এনা পরিবহনের ১৭৯টি বাস জব্দের নির্দেশ দেন। আদেশে উল্লেখ করা হয়, পুলিশ বাসগুলো জব্দ করে বিআরটিসির কাছে হস্তান্তর করবে এবং বিআরটিসি সেগুলো পরিচালনা করবে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
তবে এক বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও অধিকাংশ বাস এখনো জব্দ হয়নি। বরং এ বাসগুলোর মাধ্যমেই পরিবহনটি ব্যবসা করে চলেছে। এতে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। এনা পরিবহনের ডিপোতে গিয়ে দেখা গেছে, জব্দের তালিকায় থাকা বাসগুলো এখনও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে নিয়মিত চলাচল করছে। যদিও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে, তবে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও কক্সবাজার রুটে এসব বাস নিয়মিতভাবে চলছে।
চালক ও শ্রমিকরা বলছেন, জব্দের আদেশের পর থেকে তারা নানা প্রশাসনিক জটিলতায় ভুগছেন। একজন শ্রমিক জানান, এখন খুব অল্প টিকিট বিক্রি হচ্ছে, ফলে কোম্পানির বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে। একটি বাস পরিচালনার জন্য চালক, স্টাফ ও সুপারভাইজারসহ একাধিক খরচ হয়। গাড়ির মালিকদের হয়তো খুব বেশি সমস্যা হচ্ছে না, কিন্তু শ্রমিকদের জীবিকা সবচেয়ে বেশি দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে, এনা পরিবহনের কর্মকর্তাদের দাবি, পরিবহন ব্যবসার সাথে মালিক সমিতির অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই। বিআরটিসির কাছে বাস হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে রিটও করেছেন। এনা ট্রান্সপোর্টের এজিএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এসব বাস ব্যাংক ঋণ নিয়ে কেনা হয়েছে। যদি ধারাবাহিকভাবে বাসগুলো আটক করা হয়, তাহলে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা কোম্পানির জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পুলিশের হলেও, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ বলছে, তালিকাভুক্ত অধিকাংশ বাসের অবস্থান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ বেশিরভাগ বাসই এখন ঢাকার বাইরে চলাচল করছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান বলেন, বাসগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাজধানীতে থাকে না, দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলাচল করে। চলন্ত অবস্থায় প্রতিটি বাসের ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর যাচাই করা তাৎক্ষণিকভাবে সবসময় সম্ভব নয়। তবে এখন পর্যন্ত পাঁচটি বাস জব্দ করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
দুদকের আইনজীবী বলেছেন, বাসগুলো জব্দে গতি আনতে তারা আবারও আদালতের দ্বারস্ত হবেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর খাদেমুল হক জানান, অনেক সময় পেরিয়ে গেছে। তাই কমিশনের পক্ষ থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করা হবে, যাতে আদালত পুলিশকে আবারও নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য স্মরণ করিয়ে দেন।
এদিকে, খন্দকার এনায়েত উল্লাহকে অনৈতিক সুবিধা দিতে বাস জব্দে গাফিলতির অভিযোগ তুলে গত নভেম্বরে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পক্ষ থেকে দুদকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন