ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গোপালগঞ্জে বাবাকে গলা কেটে হত্যায় ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


গোপালগঞ্জে বাবাকে গলা কেটে হত্যায় ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

গোপালগঞ্জে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে জন্মদাতা পিতাকে ধারালো বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যার দায়ে আদালত ঘাতক ছেলে আলীম কাজীকে (২৫) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, এছাড়াও অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে গোপালগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মাদ সামছুল হক জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আলীম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চর মানিকদাহ গ্রামের কাজীর বাজার এলাকার মৃত ইসমাইল কাজীর ছেলে।

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, সাজাপ্রাপ্ত আলীম দীর্ঘ দিন আগে থেকেই মাদকাসক্ত ছিলেন। ২০২৩ সালের ১২ মে সন্ধ্যায় তিনি মাদক সেবন করে বাড়িতে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং ভাঙচুর শুরু করেন। তার বাবা ইসমাইল তাতে বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে আলীম তার বাবাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

এর পরদিন ১৩ মে সকালে ইসমাইল কাজী বাড়ির পাশে আখের রস বিক্রির উদ্দেশ্যে আখ পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় আলীম একটি ধারালো বটি নিয়ে এসে আকস্মিকভাবে তার বাবার গলায় সজোরে কোপ দেন। এতে ইসমাইল কাজীর শ্বাসনালী কেটে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের বড় ছেলে সেলিম কাজী বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের শেষে আদালত আজ আসামি আলীম কাজীকে পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে বাসা ভাড়া, নারী শ্রমিকের মরদেহ ফেলে সন্তানসহ উধাও যুবক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪০ পি.এম


স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে বাসা ভাড়া, নারী শ্রমিকের মরদেহ ফেলে সন্তানসহ উধাও যুবক

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সাদিয়া আক্তার (২৩) নামে এক নারী পোশাক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় সাদিয়া আক্তারের কথিত স্বামী এবং ছয় বছর বয়সের শিশু কন্যা নিখোঁজ হয়ে গেছে।

এই ঘটনা ঘটে সোমবার (১৩ জুলাই) দিবাগত রাতে, উপজেলা মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকার একটি বাসায়। পুলিশ জানায়, মরদেহের মুখের বাম পাশে জখমের চিহ্ন রয়েছে।

নিহত সাদিয়া আক্তার পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার উত্তর শিয়ালকাঠি গ্রামে মো. ইউসুফ মোল্লার মেয়ে। তিনি আদমজী ইপিজেডের একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করতেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বাড়ির মালিক নিহতের পরিচয় শনাক্ত করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র দিলেও স্বামীর কোনো তথ্য বা জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানে ব্যর্থ হয়েছেন। এ মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সাদিয়া আক্তারের সঙ্গে থাকা ব্যক্তি তার স্বামী নয়। ধারণা করা হচ্ছে, তারা দীর্ঘ দিন ধরে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করে আসছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই সাদিয়া আক্তার এক ব্যক্তিকে স্বামী পরিচয় দিয়ে নিয়ে এসে ওই বাসা ভাড়া নেন। সেই সময় তাদের সঙ্গে ৬ বছর বয়সী একটি মেয়ে সন্তান পরিচয়ে ছিল। বাসা ভাড়া নেয়ার সময় সাদিয়া তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিলেও স্বামী পরিচয়ের ওই ব্যক্তি পরে পরিচয়পত্র দেবেন বলে আর দেননি।

সোমবার রাতের ঘটনার পর বাড়ির মালিক সাদিয়ার ঘর থেকে খাটের ওপর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, এটি রহস্যজনক মৃত্যু। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

অবশ্য এই ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে ওসি এমদাদুল হক বলেছেন, ‘নিখোঁজদের নাম পরিচয় শনাক্ত ও তাদের সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত সম্পন্ন হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে পাহাড় ধস ও বন্যায় ৩১ জনের মৃত্যু, মৎস্য খাতে ৪৬ কোটি টাকার ক্ষতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৩ পি.এম


কক্সবাজারে পাহাড় ধস ও বন্যায় ৩১ জনের মৃত্যু, মৎস্য খাতে ৪৬ কোটি টাকার ক্ষতি

কক্সবাজারে টানা নয় দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি এখন উন্নতি হতে শুরু করছে। তবে এর মাধ্যমে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গেই ধ্বংসের চিহ্নগুলো দৃশ্যমান হচ্ছে। বিধ্বস্ত বাড়িঘর, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, বেড়িবাঁধ, বিপন্ন কৃষি এবং বিপর্যস্ত মৎস্য খাত সমর্থনে অতে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগের পানি নেমে গেলেও এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং বন্যার রেখে যাওয়া ক্ষত সারানো বিষয়টি।

এদিকে, সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে কক্সবাজারে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মতবিনিময় সভা শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, ত্রাণের পাশাপাশি বর্তমানে পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

বৃষ্টি থামলেও কাটেনি দুর্ভোগ। কক্সবাজারের রামু উপজেলার কালাখন্দকার পাড়ার রিকশাচালক মাহমুদুল হকের ঘর এখনো বন্যার পানিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কোমরসমান পানি পেরিয়ে তিনি দেখছেন ভেঙে পড়া বসতির ঘেরা-বেড়া এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া সংসারের সবশেষ সম্বল। মাহমুদুল হক আক্ষেপ করে বলেন, 'বন্যায় আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। অথচ এখনো কোনো সাহায্য কপালে জোটেনি।'

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানিয়েছেন, গত ৪ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা নয় দিনে রেকর্ড ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭০টি এবং ৫টি পৌরসভার মধ্যে ৪টি প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে জেলার অন্তত ৪৯ শতাংশ এলাকা পানির নিচে চলে যায় এবং প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।

উপজেলাভিত্তিক প্লাবিত এলাকার চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে পেকুয়া উপজেলার ৯৫ শতাংশ এলাকা। তার পরবর্তী এলাকায় মাতামুহুরী ৮৫ শতাংশ, চকরিয়া ৮০ শতাংশ, কুতুবদিয়া ৬৫ শতাংশ এবং মহেশখালী ৫০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অন্যদিকে রামু উপজেলার ৩৫ শতাংশ, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় ২৫ শতাংশ করে এবং ঈদগাঁও উপজেলার ৫ শতাংশ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

টানা বৃষ্টির ফলে পাহাড় ধসসহ বন্যাজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ মোট ৩১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে উখিয়া উপজেলায়। সেখানে পাহাড় ধসে ১৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিকসহ মোট ১৪ জন মারা গেছেন। এছাড়া, চকরিয়ায় ৬ জন নিহত ও ১ জন নিখোঁজ হন। কক্সবাজার সদরে ৩ জন, পেকুয়া ও রামুতে ২ জন করে এবং মাতামুহুরী, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় ১ জন করে মারা গেছেন।

জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় জেলায় মোট ১ হাজার ৬১৩টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিধ্বস্ত হয়েছে পেকুয়া উপজেলায়, যেখানে ৪৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যান্য উপজেলার মধ্যে চকরিয়ায় ৩০০টি, কুতুবদিয়ায় ২৫০টি, মহেশখালীতে ২০০টি, মাতামুহুরীতে ১৯টি, টেকনাফে ১০০টি, উখিয়ায় ৫০টি, ঈদগাঁওয়ে ৩০টি, রামুতে ২৫টি এবং কক্সবাজার সদর উপজেলায় ১৮টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যার পানিতে ভেসে গেছে পুকুর ও চিংড়িঘেরের মাছ। কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানিয়েছেন, জেলার ১০টি উপজেলার ৬১টি ইউনিয়নের মোট ৩ হাজার ৯১৮টি পুকুর ও ৪৫৩টি চিংড়িঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মোট আয়তন প্রায় ২ হাজার ৪৪০ হেক্টর।

এসব জলাশয় থেকে ১ হাজার ৯৭ মেট্রিক টন মাছ, ৩৮৫ মেট্রিক টন চিংড়ি, ৩ কোটি ৫৬ লাখ মাছের পোনা এবং ২ কোটি ২১ লাখ চিংড়ির পোনা ভেসে গেছে। এছাড়া ৭৬৮টি পুকুর, ঘের ও খামারের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে মৎস্য খাতে প্রাথমিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বন্যায় আউশ ধান, আমনের বীজতলা, পানবরজ ও শাকসবজিসহ ৪ হাজার ২িল্ল হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে জেলার ৯টি উপজেলার মোট ৪৩ হাজার ২১০ জন কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামানিক জানান, 'এটি প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব। বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে মাঠপদক্ষেপে যাচাই শেষে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।'

ক্ষতিগ্রস্ত জমি ও কৃষকের খতিয়ান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, চকরিয়ায় ১ হাজার ৬৬১ হেক্টর জমিতে ১৩ হাজার ৮৫২ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কুতুবদিয়ায় ১ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে ৬ হাজার ৪১৫ জন, পেকুয়ায় ৫০০ হেক্টর জমিতে ৭ হাজার ২০ জন, রামুতে ৩৪০ হেক্টর জমিতে ৪ হাজার ৮৭৫ জন এবং মহেশখালীতে ২৩৭ হেক্টর জমিতে ৪ হাজার ৩২০ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এছাড়া টেকনাফে ১৪০ হেক্টর জমিতে ৩ হাজার ১২০ জন, ঈদগাঁওয়ে ৭৫ হেক্টর জমিতে ১ হাজার ৩০৪ জন, কক্সবাজার সদরে ৮৮ হেক্টর জমিতে ১ হাজার ১৬৬ জন এবং উখিয়ায় ৫০ হেক্টর ফসলি জমিতে ১ হাজার ১৩৮ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান, পাউবো-১-এর আওতাধীন ৩৮০.২৯৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় মোট ৪৪টি স্থানে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চকরিয়ার কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী পূর্বপাড়া এলাকায় ২৫ মিটার বেড়িবাঁধ ও একটি সেতুর অংশ ভেঙে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত মেরামত কাজ শুরু করা হবে।

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের হিসাব মতে, বন্যায় ২ হাজার ৪৮ কিলোমিটার সড়ক এবং ৭৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়ায়। চকরিয়ায় ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক ও ২০টি সেতু-কালভার্ট, মাতামুহুরীতে ১৯০ কিলোমিটার সড়ক ও ২০টি সেতু-কালভার্ট এবং পেকুয়ায় ২৩০ কিলোমিটার সড়ক ও ২টি সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া রামুতে ৫০ কিলোমিটার, কক্সবাজার সদরে ২০ কিলোমিটার, কুতুবদিয়ায় ৯ কিলোমিটার এবং উখিয়া, টেকনাফ ও ঈদগাঁওয়ে ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার করে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেতু ও কালভার্টের মধ্যে টেকনাফে ১৫টি, উখিয়ায় ১২টি, রামুতে ৫টি, কক্সবাজার সদরে ৪টি এবং পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় ২টি করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভারী বর্ষণ ও বন্যায় কক্সবাজারের মোট ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তালিকায় দেখা গেছে, পেকুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলায় ১৫টি করে মোট ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য কোনো উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতির তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, ৯ দিনের দুর্যোগে জেলার ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ১,৫৮০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। প্লাবিত এলাকার দুর্গতদের মাঝে এ পর্যন্ত ৭,৭৯০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ২৯৮ মেট্রিক টন চাল ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। জরুরিভিত্তিতে আরও ত্রাণের চাহিদা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত, কৃষকের ফসল ও মৎস্য খাতের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন যে, স্লুইস গেটগুলো সঠিকভাবে পরিচালিত না হওয়ায় বন্যার তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি বেড়ে গেছে। এ বিষয়টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী জনগণকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

ত্রাণ বিতরণে বৈষম্যের অভিযোগ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকা এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছালেও দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছাতে সময় লাগছে। সাতকানিয়াসহ কিছু এলাকায় সড়ক বিচ্ছিন্ন থাকায় সেনাবাহিনীর স্পিডবোট ব্যবহার করেও বেগ পেতে হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সীমিত নৌযানের কারণে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশের লজিস্টিকস সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা পাঠানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো ক্ষুধার্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যেন সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে ৫ আগস্টের মধ্যেই: তথ্য উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৫ পি.এম


জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে ৫ আগস্টের মধ্যেই: তথ্য উপদেষ্টা

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনকে সংরক্ষণ ও রূপান্তরের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, আগামী ৫ আগস্টের মধ্যেই উল্লেখিত জাদুঘরটি উদ্বোধন করা হবে।

এটি সম্পর্কে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, আগামী ৫ আগস্টের মধ্যেই জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনটির একাংশে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বক্তব্য দেন এবং তিনি বলেন, অতি দ্রুত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, 'তবে উদ্বোধনের সুনির্দিষ্ট দিন তারিখ বলে দেওয়া সম্ভব নয়। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদ সরকার গঠন করেছে। শিগগিরই পরিচালনা পর্ষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে জাদুঘর পরিচালনার জন্য জনবল নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।'

মন্ত্রী এই বিষয়েও উল্লেখ করেছেন যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণে যদি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তা তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া, তিনি আরও বলেন যে, এই জাদুঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। পরে আমরা এসে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। তিনি উল্লেখ করেছেন, 'অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও যদি কোনো অনিয়ম ঘটে, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেব না।'

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে গাঁজা-ইয়াবাসহ তিনজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ পি.এম


সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে গাঁজা-ইয়াবাসহ তিনজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার

রাজধানীতে পৃথক অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ তিনজন মাদক কারবারিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে পৃথকভাবে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের নাম হলো মো. শুভ (২৬), মো. ইব্রাহিম (৩৬) এবং মো. সেলিম (৩০)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী গণমাধ্যমকে জানান, সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সায়েদাবাদ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের বরিশাল কাউন্টারের সামনে অভিযান পরিচালনা করে শুভকে গ্রেপ্তার করে। এই সময় তার কাছ থেকে ১ কেজি ৮০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, এর আগে রাত ১০টার দিকে একই স্থানে পৃথক আরেকটি অভিযানে ইব্রাহিম এবং সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির ২ হাজার ৬২০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

নিয়াজ মেহেদী বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%