বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৩:৩৯ পি.এম
মাগুরার কৃতী শিক্ষার্থী হুমাইরা ইয়াসমিন দেশের জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’-এ উপস্থিত বক্তৃতা (বালিকা) বিভাগে দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হুমাইরার গলায় স্বর্ণপদক পরিয়ে দেন এবং তার হাতে প্রশংসাপত্র তুলে দেন।
হুমাইরা মাগুরা সদর উপজেলার শেখপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে দেশের ২ কোটি ১৮ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। ক্রীড়া, সংস্কৃতি, কুইজ, বিতর্কসহ ৮টি প্রধান বিভাগে ৪৪টি ক্যাটাগরিতে মেধা যাচাই করা হয়। এই আয়োজনে সারা দেশের ১২৩৮৪ জন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি এবং ৬৫৫৪৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে নির্বাচিতদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
হুমাইরার এই অসাধারণ অর্জনে গর্বিত পুরো মাগুরা। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত এবং উচ্ছ্বসিত। এই সাফল্য প্রমাণ করে— সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে তৃণমূলের শিক্ষার্থীরাও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় ভোরে একটি ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি ঘোষণা করা হয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা জেলা শাখার নেতাকর্মীদের দ্বারা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৬টার পর হাজারীবাগ এলাকায় এ মিছিলে যোগদান করেন শতাধিক নেতাকর্মী।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কেরানীগঞ্জ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এবং সাবেক কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদের দিকনির্দেশনায় এই মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া, এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভোরের দিকে শতাধিক নেতাকর্মী মিছিল করতে করতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তবে তারা মাত্র কিছু সময়ের জন্য এ মিছিলটি করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী দ্রুততায় সরে যায়।
এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের এই মিছিলের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার ঘটনায় ৪৫ বছর পর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তার এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। প্রায় সাড়ে চার দশক পলাতক থাকার পর অবশেষে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
ডিবি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তাকে গ্রেপ্তার করে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেনাবাহিনী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। ঘটনার আগের দিন, অর্থাৎ ১৯৮১ সালের ২৯ মে দুই দিনের সফরে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল নিজের প্রতিষ্ঠা করা রাজনৈতিক দল-বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যকার বিরোধ নিরসন করা।
চট্টগ্রামে পৌঁছে সফরের প্রথম দিনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক শেষে মধ্যরাতে ঘুমাতে যান জিয়াউর রহমান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেনাবাহিনীর একটি দল তার ওপর গুলি চালায় এবং ঘটনাস্থলেই সাবেক এই রাষ্ট্রপতি নিহত হন। পরবর্তীতে ৩০ মে সকালে রেডিওতে প্রথমবারের মতো জিয়াউর রহমানকে হত্যার খবর প্রচারিত হয়।
এই হত্যাযজ্ঞে সরাসরি অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন ছিলেন অন্যতম। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও মামলাসংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর তিনিই চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে জানান, ‘The President has been killed.’
হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। এছাড়া, ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে, তখন মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেজর মোজাফফর হোসেন দীর্ঘসময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন। অবশেষে ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের একটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অধ্যায়ে নতুন অগ্রগতি এলো। সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখন তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীর মাধবদীতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা নিঃসন্দেহে চাঞ্চল্যকর। যেখানে ঘুমন্ত তিন মাস বয়সী এক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, ঘটনাটি একটি মোবাইল ফোনের গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। ভিডিওটি যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, তখন এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদি গ্রামে। শিশুটির মা সায়েবা বেগম জানান, জন্মের পর থেকেই তার সন্তানের শারীরিক অবস্থা অসুস্থ হওয়ায় তাকে বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। কিন্তু বারবার শিশুর অস্বাভাবিক কান্নার কারণ জানার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে গোপনে একটি মোবাইল ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। পরে সেই ফুটেজে উঠে এসেছে, শিশুর চাচি লতা বেগম ঘুমন্ত শিশুটির পা মুচড়ে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন, এমনটাই পরিবারের দাবি।
শিশুর মা আরও জানান, এর আগে শিশুর দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ ছিল, এবং তাদের ধারণা, সেই বিরোধের ফলস্বরূপ এই ঘটনা ঘটে গেছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পরে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করার কারণে নরসিংদী সমাজসেবা অধিদফতর নিজ উদ্যোগে মামলা দায়ের করেছে। মামলায় লতা বেগমসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
নরসিংদী সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা রিজা আক্তার জানান, সৌভাগ্যক্রমে শিশুটির বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে একই পরিবারের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা এই ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, মামলাটি হওয়ার পর অভিযুক্ত লতা বেগমের বাবা আলমাস মিয়া এবং শিশুটির চাচা কাউসার আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে প্রধান অভিযুক্ত লতা বেগম এখনও পলাতক, এবং তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের নিষ্ঠুর ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এদিকে, নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফরিদা গুলশানার কবির বলেছেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুটির পায়ের বড় ধরনের আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মেডিকেল বোর্ডের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
এটি উল্লেখ্য যে, গত ১১ জুলাইয়ের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং এলাকার মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্ট করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইসরায়েলের হেফাজতে থাকার সময়ে ভয়াবহ যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন গাজাগামী মানবিক সহায়তাবাহী নৌবহরের (ফ্লোটিলা) কর্মী ও ফিলিস্তিনপন্থি জার্মান অধিকারকর্মী অ্যানা লিডকে।
তার বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও ইসরায়েলে করা একটি ফৌজদারি অভিযোগ থেকে যার একটি ভয়াবহ কাহিনী জানা গেছে, বন্দিশালায় তৃতীয়বারের মতো বেআইনিভাবে শরীর তল্লাশির সময় কারারক্ষীরা তাকে জোর করে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করেন। এসময় চিৎকার বন্ধ করতে তারা লিডকের মুখ চেপে ধরেন এবং তাকে ধর্ষণ করেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। লিডকে বলেন, নির্যাতনের সময় তিনি পুরুষ রক্ষীদের হাসির শব্দ শুনেছিলেন। তার ধারণা, পুরুষ রক্ষীরা তার ওপর চলা এ নির্যাতন দেখছিলেন এবং সম্ভবত ভিডিও ধারণ করছিলেন। কারাগারের বারান্দা থেকে আংশিক টানা একটি পর্দা দিয়ে জায়গাটি আলাদা করা ছিল। পর্দাটি খোলাই রেখেছিলেন ইসরায়েলের কারারক্ষীরা।
২৫ বছর বয়সী লিডকে গত শরতে ইউরোপ থেকে গাজাগামী মানবিক সহায়তাবাহী নৌবহরে (ফ্লোটিলা) যোগ দেন। ইসরায়েলের বাহিনী ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে তাদের নৌকাটি আটক করে। এরপর তাকে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে পাঁচদিন আটক রাখা হয়।
লিডকে বলেন, ইসরায়েলের কারাগারে ফ্লোটিলার কর্মীদের ওপর ধর্ষণের পাশাপাশি যে নির্যাতন ও সহিংসতা চালানো হয়েছে, তার উদ্দেশ্য ছিল তাদের ভয় দেখানো। গার্ডিয়ানকে তিনি বলেন, ‘এটি স্পষ্ট যে তারা আমাদের মনোবল ভেঙে দিতে চায় এবং আমাদের চুপ করাতে চায়। তারা আমাদের এমন এক ট্রমার মধ্যে ফেলতে চায়, যাতে আমরা আর কখনো ফিলিস্তিন নিয়ে কথা না বলি।’
তবে দমে না গিয়ে লিডকে কয়েক দিনের মধ্যে তার বন্ধু ও চিকিৎসকদের বিষয়টি জানান। গত ডিসেম্বরে তিনি প্রথম ফ্লোটিলা কর্মী হিসেবে ইসরায়েলি হেফাজতে ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলেন। আরও এক ডজনের বেশি কর্মী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন, যাদের বেশিরভাগই নাম প্রকাশ করেননি।
ইসরায়েলে লিডটকের আইনজীবীরা তার অভিযোগগুলো তদন্ত করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, সম্মতি ছাড়া যেকোনো ধরনের যৌন নিপীড়নকে ধর্ষণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
আইনি লড়াই শুরু করার পর দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে লিডকে বলেন, ‘আমার লজ্জা পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা চুপ থাকলে তারা অন্য কারও সঙ্গেও একই কাজ করবে।’
অভিযোগপত্রটি ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল, ইসরায়েল কারা কর্তৃপক্ষের আইনি উপদেষ্টা, কারারক্ষী তদন্ত বিভাগ (ইয়াহাস) এবং গিভন কারাগারের কমান্ডারের কাছে পাঠানো হয়েছে। লিডকের আইনজীবী মুনা হাদ্দাদ বলেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো ইসরায়েলে বন্দি নির্যাতনের ক্ষেত্রে যে ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতির’ সৃষ্টি হয়েছে, সেটাকে চ্যালেঞ্জ করা।
ইসরায়েলে কর্মরত ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থা ‘আদালাহ’-এর আইনজীবী হাদ্দাদ বলেন, ‘অ্যানা ন্যায়বিচার চান। অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে তিনি সব পথ ব্যবহার করতে চান। আমরা জনসচেতনতা বাড়াতে এবং তদন্তের দাবিতে ইসরায়েলের ব্যবস্থা কীভাবে সাড়া দেয় তা পর্যবেক্ষণ করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় তিন বছর ধরে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর ক্রমাগতভাবে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ চালানো হচ্ছে। এখন আমরা এর মাত্রা আরও বাড়তে দেখছি। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানানো বিদেশি নাগরিকদের ওপরও একই আচরণ করছে ইসরায়েল।’
লিডকে বলেন, ‘আমি মনে করি না, মুখ খুললেই কারাগারে ধর্ষণ বন্ধ হয়ে যাবে। তবে একজন রাজনৈতিক সচেতন নারী হিসেবে আমি এ বিষয়ে কথা বলা দায়িত্ব মনে করি। আমি এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাই। আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, ফিলিস্তিনি বন্দিরা যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, আমার ওপর হওয়া নির্যাতন তার চেয়ে অনেক কম।’
গেল বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ ইতালি থেকে প্রায় ১০০ কর্মীর সঙ্গে একটি বড় ফেরিতে করে রওনা হওয়ার আগে লিডকে আগের ফ্লোটিলা সদস্যদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছিলেন। তিনি ইসরায়েলের হেফাজতে যৌন নিপীড়নসহ সম্ভাব্য সহিংসতার মুখোমুখি হওয়ার জন্য নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে পরে তিনি বুঝতে পারেন, এমন পরিস্থিতির জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া প্রায় অসম্ভব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ