প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নরসিংদীর মাধবদীতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা নিঃসন্দেহে চাঞ্চল্যকর। যেখানে ঘুমন্ত তিন মাস বয়সী এক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, ঘটনাটি একটি মোবাইল ফোনের গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। ভিডিওটি যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, তখন এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদি গ্রামে। শিশুটির মা সায়েবা বেগম জানান, জন্মের পর থেকেই তার সন্তানের শারীরিক অবস্থা অসুস্থ হওয়ায় তাকে বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। কিন্তু বারবার শিশুর অস্বাভাবিক কান্নার কারণ জানার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে গোপনে একটি মোবাইল ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। পরে সেই ফুটেজে উঠে এসেছে, শিশুর চাচি লতা বেগম ঘুমন্ত শিশুটির পা মুচড়ে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন, এমনটাই পরিবারের দাবি।
শিশুর মা আরও জানান, এর আগে শিশুর দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ ছিল, এবং তাদের ধারণা, সেই বিরোধের ফলস্বরূপ এই ঘটনা ঘটে গেছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পরে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করার কারণে নরসিংদী সমাজসেবা অধিদফতর নিজ উদ্যোগে মামলা দায়ের করেছে। মামলায় লতা বেগমসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
নরসিংদী সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা রিজা আক্তার জানান, সৌভাগ্যক্রমে শিশুটির বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে একই পরিবারের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা এই ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, মামলাটি হওয়ার পর অভিযুক্ত লতা বেগমের বাবা আলমাস মিয়া এবং শিশুটির চাচা কাউসার আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে প্রধান অভিযুক্ত লতা বেগম এখনও পলাতক, এবং তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের নিষ্ঠুর ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এদিকে, নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফরিদা গুলশানার কবির বলেছেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুটির পায়ের বড় ধরনের আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মেডিকেল বোর্ডের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
এটি উল্লেখ্য যে, গত ১১ জুলাইয়ের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং এলাকার মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্ট করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন