বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৫৩ পি.এম
মঞ্চে ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য রাখার পর মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ব্রিটিশ গায়ক এড শিরান তীব্র বিতর্কের সম্মুখীন হয়েছেন।
এড শিরান এ বিষয়ে মন্তব্য করে জানিয়েছেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার পক্ষে ছিল না; বরং এই সিদ্ধান্তটি সফরের আয়োজক এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলের মালিকদের দ্বারা নেওয়া হয়েছে। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিরানের অনুসারীর সংখ্যা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২ লাখের বেশি কমেছে বলে জানা গেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে ৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। এড শিরানের সফরের অংশ হিসেবে মঞ্চে ওঠেন ম্যাকলমোর। সেখানে তিনি গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের মানুষের কথা উল্লেখ করে বলেন, "তাদের কথা ভুলে যাওয়া হয়নি।" এরপর তিনি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে স্লোগান দেন এবং তার প্রতিবাদী গান ‘হিন্দস হল’ পরিবেশন করেন।
পরদিনও মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাকলমোর ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য দেন। তিনি ইসরায়েলের সমালোচনা বা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থনকে ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানান। তার বক্তব্যের পর একটি ইসরায়েলপন্থী মার্কিন সংগঠন তাকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে আবেদন শুরু করে।
এরপর সফরের পরবর্তী অনুষ্ঠানস্থলগুলোর কয়েকটির মালিক কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা ম্যাকলমোরকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠান করতে রাজি নয়। সফরের আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানায়, ম্যাকলমোরকে রাখা হলে কিছু অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ার আশঙ্কা ছিল। পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে সফরের বাকি আয়োজনগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়।
ম্যাকলমোর দাবি করেন, এ সিদ্ধান্তের পেছনে অনুষ্ঠানস্থলের মালিকদের চাপ ছিল। নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটের নামও তিনি উল্লেখ করেন। তবে ক্রাফট বলেন, ম্যাকলমোরের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং তার আগের কিছু বক্তব্য ও প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি আঘাতের আশঙ্কা থেকেই তিনি আপত্তি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি শান্তি ও সব মানুষের কষ্টের অবসানের পক্ষে থাকার কথা বলেন।
বিতর্কের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ বিবৃতিতে শিরান বলেন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সংঘাতে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত। তার ভাষ্য, "দুই পক্ষের মানুষের কষ্ট বা দুর্ভোগই মানবিক বিপর্যয়।"
শিরান জানান, ম্যাকলমোর গত বছর তার সফরে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং তিনি তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। অন্য সহযোগী শিল্পীদের মতো ম্যাকলমোরকেও নিজের পছন্দের পরিবেশনা করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল।
তবে শিরানের দাবি, ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আয়োজক ও অনুষ্ঠানস্থলের মালিকদের। তিনি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান বের করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি।
শিরান আরও বলেন, তিনি নিজের জনপ্রিয়তা ও মঞ্চকে বিভিন্ন পটভূমি ও সংস্কৃতির মানুষকে একত্র করার জায়গা হিসেবে রাখতে চান। ব্যক্তিগতভাবে এই সংঘাত নিয়ে তাঁর মতামত থাকলেও তিনি প্রকাশ্যে রাজনৈতিক অবস্থান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর বিষয়টি আরও বড় আকার নেয়। তার প্রতি সংহতি জানিয়ে এড শিরানের সফরের একাধিক সহযোগী শিল্পী পরবর্তী আয়োজনগুলো থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন।
ফিনিয়াস, লুকাস গ্রাহাম, অ্যারন রো এবং আইরিশ দল বেওগা সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। ফলে ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখন শিরানের পুরো সফরকেই বিতর্কের মধ্যে ফেলেছে।
এদিকে ম্যাকলমোরও তার অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তিনি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও গাজাবাসীর অধিকারের পক্ষে কথা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। পরে তিনি সফর থেকে পাওয়া প্রায় ১০ লাখ ডলারের আয় ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তায় দেওয়ার ঘোষণা দেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান , দ্য রয়া নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নাম, ঠিকানা ও জন্মতারিখ ভিন্ন থাকলেও ৯৩টি জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) একই ব্যক্তির ছবি ব্যবহৃত হয়েছে। নেত্রকোনায় রবিউল ইসলাম ওরফে রনি (২১) নামে এক তরুণকে জাল এনআইডি তৈরির অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে শহরের মোক্তারপাড়ার দত্ত মার্কেটের সিদ্দিক কর্নার ভ্যারাইটিজ স্টোরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে সাতটি জাল এনআইডি, ছয়টি এনআইডির পেছনের অংশ এবং মুঠোফোনে থাকা ৮০টি জাল এনআইডির সফট কপি উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি জানায়, উদ্ধারকৃত এনআইডিগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন নাম, বাবার নাম, জন্মতারিখ, পরিচয় নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করা হলেও ছবিটি একই। ছবির শার্টের রং ছাড়া অন্য কোনো পার্থক্য নেই। সফট কপিগুলোতেও ভিন্ন পরিচয় ও ঠিকানা রয়েছে।
রবিউলের বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুরে। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। নেত্রকোনায় স্ত্রীর কাছে গিয়ে তিনি জাল এনআইডি প্রিন্ট করার জন্য দোকানে গিয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনে করা মামলায় বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন জেলা ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) হায়দার আলী রানা।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন মন্তব্য করেন, একজনের একাধিক এনআইডি করার সুযোগ নেই। এ ধরনের জালিয়াতি নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে শনাক্ত হয়। মামলার ধারায় অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের আস্থা অর্জন এবং নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তৃণমূলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণ তৈরি হতে যাচ্ছে।
সরকার গঠন করার পর বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত, গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে যাতে উন্নয়নের সুফল তৃণমূলের মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে এবং স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করা যায়।
সরকারের ধারণা, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দলীয় পর্যায়ে যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতৃত্ব বাছাইয়ের পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমবে, জনসম্পৃক্ততা বাড়বে এবং এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিক সমস্যার প্রতি দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মন্তব্য করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল নেতাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে এবং তাদের মধ্যে দায়বোধ সৃষ্টি হয়েছে। তারা নিজ উদ্যোগে ভোটারদের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখছেন। ফলে ভোটারদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনপ্রিয়তা অর্জন এবং ভোটারদের আস্থা ধরে রাখতে নেতারা এলাকায় সময় দিচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন বিরোধ ও সমস্যা সমাধানে তারা এগিয়ে আসছেন। ফলে নির্বাচনের পূর্বে জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরাসরি যোগাযোগ ও দায়বদ্ধতার সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এবার কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না। এই কারণে ভোটাররা প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা এবং এলাকার মানুষের জন্য তার ভূমিকা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। স্থানীয় নেতাদের জনগণের কাছে যেতে হচ্ছে নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়াতে ও ভোটারদের আস্থা অর্জনের জন্য।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয়ভাবে বিএনপি-সমর্থিত নির্দিষ্ট প্রার্থী থাকতে পারে। তবে এককভাবে কোনো প্রার্থীকে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ নেই। স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীকে সামনে আনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সরকার নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। দলীয় প্রতীক না থাকলেও কোনো প্রার্থী কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত, তা স্থানীয়ভাবে মানুষের কাছে পরিচিত হতে পারে। তবে এ কারণে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতায় কোনো প্রভাব পড়বে না।
স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি অর্থবছরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের সর্বস্তরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে সঙ্গে নিয়ে বেশ কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে ভালো ফল করার জন্য যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ও স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতাকে প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সরকার নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে। স্থানীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রশাসকদের দায়িত্ব শেষ না হলে পরে সমালোচনা সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধি দায়িত্ব গ্রহণ করলে জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কারণে এলাকার মানুষের সমস্যা, উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভোটারদের সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হবে।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে নির্বাচন কমিশন প্রাথমিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপে আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপে ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপে ২৭ মে ভোট গ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
দেশে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা সরাসরি জনগণের গোপন ভোটে নির্বাচিত হন। নির্ধারিত এলাকার ভোটাররা সরাসরি তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেন।
অন্যদিকে জেলা পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যানরা সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভোটে পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন।
স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন আইনে এসব নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২০ ধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত বিধি অনুসারে ইসি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচন আয়োজন, পরিচালনা ও সম্পাদন করবে। ভোট গ্রহণের তারিখ, সময়, স্থান এবং নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে বিধান করার ক্ষমতাও নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। উপজেলা পরিষদ আইনেও একই ধরনের বিধান রয়েছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ৭ দশমিক ২৫ ডলার থেকে ২৫ ডলারে উন্নীত করার একটি বড় প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। এই প্রস্তাবিত বিলের নাম ‘সবার জন্য জীবিকার উপযোগী মজুরি আইন’, যা ২০২৬ সালের ১৪ জুলাই সিনেটে উপস্থাপন করা হয়। পরে এটি সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে, এই বিলটি এখনও আইনে পরিণত হয়নি।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ৭ দশমিক ২৫ ডলার রয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে একবারে এই মজুরি ২৫ ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেই। বরং, ধাপে ধাপে মজুরি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিল অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১২ ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে তা ২৫ ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে বড় ও ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা সময়সীমা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। বড় নিয়োগদাতাদের ২০৩২ সালের মধ্যে কর্মীদের ঘণ্টায় ২৫ ডলার মজুরি দেওয়ার লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। অন্যদিকে, ছোট ব্যবসাগুলোকে এই পরিবর্তনের জন্য আরও বেশি সময় দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে, যার সময়সীমা ২০৩৯ সাল পর্যন্ত হতে পারে।
বিলটিতে ভবিষ্যতে ন্যূনতম মজুরি সমন্বয়ের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২৫ ডলারে পৌঁছানোর পর, জাতীয় মধ্যম মজুরির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি নিয়মিত সমন্বয় করার প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় ও দেশের সামগ্রিক মজুরি কাঠামোর পরিবর্তনের সঙ্গে ন্যূনতম মজুরি সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রস্তাবটির সমর্থকেরা মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি অপরিবর্তিত থাকার কারণে কর্মীদের আয় জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামগ্রিক মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি। তাদের মতে, ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো হলে কম আয়ের কর্মীদের উপার্জন বৃদ্ধি পেতে পারে।
তবে, সমালোচকেরা বড় ধরনের মজুরি বৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তাদের আশঙ্কা, এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শ্রম ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে পণ্যের দাম, নতুন নিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসাগুলোর ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
তবে, প্রস্তাবিত বিলটি এখনও আইন হয়নি। ১৪ জুলাই সিনেটে উত্থাপনের পর এটি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম ও পেনশনবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ, বিলটি এখনও আইন প্রণয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটি কার্যকর হতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরসহ আরও কয়েকটি ধাপ পেরোতে হবে।
ফলে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ৭ দশমিক ২৫ ডলারই রয়েছে। ঘণ্টায় ২৫ ডলারের মজুরি এখনো কেবল প্রস্তাবিত বিলের অংশ, কার্যকর কোনো আইন নয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরে কলার চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার ১৩টি উপজেলায় কমবেশি কলা উৎপাদন হলেও বীরগঞ্জ ও কাহারোলে মেহের সাগর কলার আবাদ সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। অল্প পুঁজি এবং ভালো লাভের কারণে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাহারোল উপজেলার দশমাইল মোড়ে জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম কলার হাট বসে। এই হাটে প্রতিদিন কোটি টাকার কলা বিক্রি হয়ে থাকে।
বিক্রি শুরু হয় ভোর ৫টা থেকে এবং সকাল ১০টার মধ্যে তা শেষ হয়ে যায়। প্রতিদিন গড়ে ১৬ থেকে ২০টি ট্রাকে কলা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।
হাটের ইজারাদার মো. মিজান জানান, বড় ট্রাকে প্রায় ৭০০ এবং ছোট ট্রাকে ৪৫০ কাঁদি কলা ধারণ করা হয়। মৌসুমে লোড-আনলোডের কাজে অন্তত ১০০ শ্রমিক নিয়োজিত থাকেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বীরগঞ্জে ৩১৫ হেক্টর, কাহারোলে ৩২৫ হেক্টর এবং পুরো জেলায় মোট প্রায় ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে কলার চাষ হয়েছে।
কাহারোলের কৃষক সুমন আলী জানান, এক বিঘা জমিতে কলা চাষে তার খরচ হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা। কলা বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। ফলে তার লাভ হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।
ঢাকার ব্যবসায়ী আকবর আলী জানান, গত বছর ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় কেনা এক কাঁদি কলা এবার ৬০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় কলা চাষে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে হিমাগারের অভাবের কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কলা নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও কৃষকদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ