প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মঞ্চে ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য রাখার পর মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ব্রিটিশ গায়ক এড শিরান তীব্র বিতর্কের সম্মুখীন হয়েছেন।
এড শিরান এ বিষয়ে মন্তব্য করে জানিয়েছেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার পক্ষে ছিল না; বরং এই সিদ্ধান্তটি সফরের আয়োজক এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলের মালিকদের দ্বারা নেওয়া হয়েছে। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিরানের অনুসারীর সংখ্যা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২ লাখের বেশি কমেছে বলে জানা গেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে ৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। এড শিরানের সফরের অংশ হিসেবে মঞ্চে ওঠেন ম্যাকলমোর। সেখানে তিনি গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের মানুষের কথা উল্লেখ করে বলেন, "তাদের কথা ভুলে যাওয়া হয়নি।" এরপর তিনি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে স্লোগান দেন এবং তার প্রতিবাদী গান ‘হিন্দস হল’ পরিবেশন করেন।
পরদিনও মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাকলমোর ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য দেন। তিনি ইসরায়েলের সমালোচনা বা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থনকে ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানান। তার বক্তব্যের পর একটি ইসরায়েলপন্থী মার্কিন সংগঠন তাকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে আবেদন শুরু করে।
এরপর সফরের পরবর্তী অনুষ্ঠানস্থলগুলোর কয়েকটির মালিক কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা ম্যাকলমোরকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠান করতে রাজি নয়। সফরের আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানায়, ম্যাকলমোরকে রাখা হলে কিছু অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ার আশঙ্কা ছিল। পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে সফরের বাকি আয়োজনগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়।
ম্যাকলমোর দাবি করেন, এ সিদ্ধান্তের পেছনে অনুষ্ঠানস্থলের মালিকদের চাপ ছিল। নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটের নামও তিনি উল্লেখ করেন। তবে ক্রাফট বলেন, ম্যাকলমোরের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং তার আগের কিছু বক্তব্য ও প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি আঘাতের আশঙ্কা থেকেই তিনি আপত্তি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি শান্তি ও সব মানুষের কষ্টের অবসানের পক্ষে থাকার কথা বলেন।
বিতর্কের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ বিবৃতিতে শিরান বলেন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সংঘাতে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত। তার ভাষ্য, "দুই পক্ষের মানুষের কষ্ট বা দুর্ভোগই মানবিক বিপর্যয়।"
শিরান জানান, ম্যাকলমোর গত বছর তার সফরে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং তিনি তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। অন্য সহযোগী শিল্পীদের মতো ম্যাকলমোরকেও নিজের পছন্দের পরিবেশনা করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল।
তবে শিরানের দাবি, ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আয়োজক ও অনুষ্ঠানস্থলের মালিকদের। তিনি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান বের করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি।
শিরান আরও বলেন, তিনি নিজের জনপ্রিয়তা ও মঞ্চকে বিভিন্ন পটভূমি ও সংস্কৃতির মানুষকে একত্র করার জায়গা হিসেবে রাখতে চান। ব্যক্তিগতভাবে এই সংঘাত নিয়ে তাঁর মতামত থাকলেও তিনি প্রকাশ্যে রাজনৈতিক অবস্থান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর বিষয়টি আরও বড় আকার নেয়। তার প্রতি সংহতি জানিয়ে এড শিরানের সফরের একাধিক সহযোগী শিল্পী পরবর্তী আয়োজনগুলো থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন।
ফিনিয়াস, লুকাস গ্রাহাম, অ্যারন রো এবং আইরিশ দল বেওগা সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। ফলে ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখন শিরানের পুরো সফরকেই বিতর্কের মধ্যে ফেলেছে।
এদিকে ম্যাকলমোরও তার অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তিনি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও গাজাবাসীর অধিকারের পক্ষে কথা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। পরে তিনি সফর থেকে পাওয়া প্রায় ১০ লাখ ডলারের আয় ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তায় দেওয়ার ঘোষণা দেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান , দ্য রয়া নিউজ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন