ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শেফ দিবস, শেফদের অবদানকে সম্মান জানানো হচ্ছে


আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শেফ দিবস, শেফদের অবদানকে সম্মান জানানো হচ্ছে

রান্নার কৌশল বদলেছে বিশ্বজুড়ে রন্ধনশিল্পীদের হাত ধরে, এবং বিভিন্ন দেশের খাবার জনপ্রিয় হয়েছে। নতুন স্বাদের ধারণা তৈরি হয়েছে। তাদের সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও অবদানকে সম্মান জানাতে প্রতি বছর এই দিবসটি পালিত হয়। নতুন প্রজন্মকে রন্ধনশিল্পে আগ্রহী করে তোলা, পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রতি বছর ২০ অক্টোবর পালিত হয় আন্তর্জাতিক শেফ দিবস, যা ২০০৪ সালে ওয়ার্ল্ডশেফসের উদ্যোগে চালু হয়। নতুন প্রজন্মকে রান্নার প্রতি আগ্রহী করে তোলা, স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং খাবারের উৎস ও পরিবেশের সঙ্গে এর সম্পর্ক তুলে ধরা দিবসটির উদ্দেশ্য।

বিশ্বের পরিচিত কিছু শেফ তাদের কাজের মাধ্যমে রান্নার জগতে আলাদা ছাপ রেখেছেন। তাদের অবদানেই রান্না অনেকের কাছে নিছক প্রয়োজনের কাজ না হয়ে সৃজনশীলতা, সংস্কৃতি ও শেখার একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: ক্ষীর সন্দেশ তৈরির সহজ রেসিপি: উপকরণ ও প্রক্রিয়া বিস্তারিত

মার্কিন শেফ, লেখক ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব জুলিয়া চাইল্ড ফরাসি রান্নাকে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার লেখা Mastering the Art of French Cooking বইটি ফরাসি রান্নার নানা কৌশল ও পদ্ধতি সহজভাবে তুলে ধরে। ১৯৬৩ সালে তার টেলিভিশন অনুষ্ঠান The French Chef প্রচার শুরু হলে দর্শকেরা ঘরে বসেই ফরাসি খাবার তৈরির কৌশল শেখার সুযোগ পান।

রান্নার সময় ভুল হওয়াকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া এবং চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তার সহজ-স্বাভাবিক উপস্থাপনা অনেককে রান্না শিখতে উৎসাহিত করেছে। জটিল মনে হওয়া রান্নাও ধাপে ধাপে শেখা যায়—এই ধারণা জনপ্রিয় করতে তার অবদান উল্লেখযোগ্য।

ব্রিটিশ শেফ জেমি অলিভার পরিচিত সহজ উপকরণে সুস্বাদু খাবার তৈরির ধারণার জন্য। টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও রান্নার বইয়ের মাধ্যমে তিনি ঘরে রান্না করা, তাজা উপকরণ ব্যবহার এবং খাবার সম্পর্কে জানার প্রতি আগ্রহ তৈরি করেছেন। তার কাজের একটি বড় দিক হলো রান্নাকে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সহজভাবে যুক্ত করা, যাতে রান্নার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়া জরুরি না মনে হয়।

রান্নার পাশাপাশি শিশুদের খাদ্যাভ্যাস ও স্কুলের খাবার নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন তিনি। তার বিভিন্ন উদ্যোগে পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং রান্না শেখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুন: শীত পড়ার আগেই ঠোঁট ফাটছে? জেনে নিন কারণ ও প্রতিকার

ব্রিটিশ শেফ গর্ডন রামসে রেস্তোরাঁ পরিচালনা, পেশাদার রান্না এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়েছেন। রান্নার মান, উপকরণের সঠিক ব্যবহার, সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা এবং খাবার পরিবেশনের নিখুঁততা তার পেশাগত কাজের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

রান্নাবিষয়ক বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানে নতুন ও অভিজ্ঞ রাঁধুনিদের দক্ষতা যাচাই এবং তাদের ভুল শুধরে দেওয়ার মাধ্যমে পেশাদার রান্নার নানা দিক দর্শকের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি। তার কাজের মধ্য দিয়ে রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে দলগত কাজ, প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলার গুরুত্বও আলোচনায় এসেছে।

ভারতীয় শেফ সঞ্জীব কাপুর টেলিভিশন অনুষ্ঠান, রান্নার বই ও বিভিন্ন খাদ্যবিষয়ক উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতীয় খাবারকে জনপ্রিয় করতে ভূমিকা রেখেছেন। তার কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো পরিচিত ভারতীয় উপকরণ দিয়ে বিভিন্ন পদ তৈরির পদ্ধতি সাধারণ মানুষের কাছে সহজভাবে তুলে ধরা।

ভারতীয় রান্নার বৈচিত্র্য—আঞ্চলিক মশলা, রান্নার ধরন ও উপকরণের ব্যবহার—নিয়ে তার উপস্থাপনা অনেক দর্শককে নতুন পদ সম্পর্কে জানতে এবং ঘরে রান্না করতে উৎসাহিত করেছে। পেশাদার রান্নার জ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে টেলিভিশন ও প্রকাশনার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার কাজ তার একটি উদাহরণ।

আরও পড়ুন: ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশি ভেপিং করছে, বলছে গবেষণা

ইতালীয় শেফ মাসিমো বোতুরা রান্নায় নতুনত্ব আনার পাশাপাশি খাবারের অপচয় কমানোর উদ্যোগের জন্যও পরিচিত। তার প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক সংস্থা ফুড ফর সোলের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে কমিউনিটি প্রকল্প পরিচালিত হয়, যেখানে ফেলে দেওয়ার উপযোগী নয়—এমন উদ্বৃত্ত খাবারের উপকরণ কাজে লাগিয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য পুষ্টিকর খাবার তৈরি করা হয়।

বোতুরার উদ্যোগ দেখিয়েছে, রান্নার দক্ষতা শুধু দামি উপকরণ বা বিলাসবহুল রেস্তোরাঁর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিকল্পিতভাবে উপকরণ ব্যবহার, খাবারের অপচয় কমানো এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও শেফরা ভূমিকা রাখতে পারেন।

শেফদের অবদান শুধু স্বাদে নয়

একেকজন শেফের কাজের ক্ষেত্র আলাদা হলেও তাদের অবদানের একটি জায়গায় মিল রয়েছে—খাবারকে ঘিরে মানুষের অভিজ্ঞতা বদলে দেওয়া। কেউ নতুন রান্নার কৌশল শিখিয়েছেন, কেউ পরিচিত খাবারকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন, আবার কেউ পুষ্টি ও পরিবেশের মতো বিষয়কে রান্নার আলোচনায় এনেছেন।

আরও পড়ুন: পূজার ছুটিতে প্রকৃতির অপরূপ দ্বীপ চর হেয়ার ঘুরে আসুন

আন্তর্জাতিক শেফ দিবস তাই শুধু পেশাদার রাঁধুনিদের সম্মান জানানোর দিন নয়; খাবারের পেছনে থাকা শ্রম, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে স্বীকৃতি দেওয়ারও উপলক্ষ। একই সঙ্গে খাবারের উৎস জানা, স্থানীয় ও মৌসুমি উপকরণ ব্যবহার এবং অপচয় কমানোর মতো অভ্যাস গড়ে তোলার গুরুত্বও মনে করিয়ে দেয় দিনটি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০১ পি.এম


মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উদযাপন

মিশরের রাজধানী কায়রোয় বাংলাদেশ দূতাবাসে বাংলার মরমি সাধক, মানবতাবাদী দার্শনিক ও কালজয়ী বাউল সংগীতসাধক ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লালনের জীবন, দর্শন ও সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে মানবতা, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রীতির চিরন্তন বার্তা তুলে ধরা হয়।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দূতাবাসের হলরুমে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিশরে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জি এম মেহেদী হাসান, যেখানে বক্তব্য রাখেন রেজাউল করিম, মাসুদ করিম চৌধুরী, নোমান করিম আজহারী এবং দূতাবাসের শ্রম সচিব মো. জাকির হোসেন।

বক্তারা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে লালন সাঁইয়ের অবিস্মরণীয় অবদান তুলে ধরেন। বক্তাদের মতে, লালনের গান ও দর্শন জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের বিভেদ অতিক্রম করে মানবতা, সাম্য, ভালোবাসা ও সামাজিক সম্প্রীতির শিক্ষা প্রদান করে। তার কালজয়ী সৃষ্টি আজও মানুষকে উদারতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে।

সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানান এবং বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক ও মানবতাবাদী চিন্তাবিদ লালন সাঁইয়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ফকির লালন সাঁইয়ের গান ও দর্শন জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাম্য, মৈত্রী, প্রেম, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির চিরন্তন বাণী বহন করে। ধর্মীয় সংকীর্ণতা ও সামাজিক বৈষম্যের বিপরীতে মানবতার জয়গান গাওয়া তাঁর দর্শন আজও বিশ্বজুড়ে শান্তিকামী মানুষ, মানবতাবাদী চিন্তাবিদ ও মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসীদের অনুপ্রাণিত করে।

গৌতম কুমার দে লালন সাঁইয়ের কালজয়ী দর্শনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, তার সৃষ্টি বাঙালির সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ভৌগোলিক ও ধর্মীয় সীমানা অতিক্রম করে লালনের গান প্রচলিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গোঁড়ামিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে এবং মানবধর্মের চেতনাকে সমুন্নত করেছে। ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের বিভেদ পেরিয়ে অভিন্ন মানবসত্তাকে উপলব্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহিষ্ণু, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে লালনের শিক্ষা আজও গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা জোগায়।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত বাউল সম্প্রদায়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাউল সংস্কৃতি বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার মতে, সহনশীলতা, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ক্ষেত্রে লালন সাঁইয়ের দর্শন বর্তমানের অনিশ্চিত ও জটিল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। লালনের সৃষ্টি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকজ ঐতিহ্য এবং অসাম্প্রদায়িক, উদার ও মানবতাবাদী পরিচয়ের উজ্জ্বল প্রতিফলন।

নতুন প্রজন্মের মধ্যে লালন সাঁইয়ের মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক দর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণ ও চর্চার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে লালনের জীবনদর্শন পৌঁছে দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি শিল্পীরা লালনগীতি ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। শিশুদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনও উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে। এসব সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে অতিথিরা বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক স্বতন্ত্র ধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।

এছাড়া অনুষ্ঠানে লালন সাঁইয়ের জীবন, দর্শন এবং বাঙালি সমাজ, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে তার অবদান নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মিশরে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, দেশটির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শারদীয় দুর্গাপূজায় রাঙামাটিতে শতাধিক প্রতিমায় ফুটেছে পাহাড়ি সংস্কৃতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০১ পি.এম


শারদীয় দুর্গাপূজায় রাঙামাটিতে শতাধিক প্রতিমায় ফুটেছে পাহাড়ি সংস্কৃতি

শারদীয় দুর্গাপূজা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি একটি বিশাল সমারোহ যা সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মেলবন্ধনকে তুলে ধরে। এই উপলক্ষে রাঙামাটির শ্রীশ্রী গীতাশ্রম মন্দিরে নেওয়া হয়েছে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, যার মাধ্যমে শতাধিক প্রতিমার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ধর্ম, জীবনধারা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

শ্রীশ্রী গীতাশ্রম মন্দিরের পূজামণ্ডপে প্রবেশ করলে দেখা যায় উৎসবের আনন্দময় পরিবেশ। এখানে সারি সারি প্রতিমায় পাহাড়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, উৎসব এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। এবারের এই আয়োজন অন্যান্য পূজামণ্ডপের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। সমতলের সনাতনী সংস্কৃতির পাশাপাশি পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর সাংস্কৃতিক পরিচয় একই স্থানে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ প্রতিদিন এই ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী দেখতে মণ্ডপে ভিড় করছেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্বতবেষ্টিত এই অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে নতুনভাবে সবার সামনে তুলে ধরাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য।

শ্রীশ্রী গীতাশ্রম মন্দির পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি শংকর হোড় মন্তব্য করেন, এবারের আয়োজন স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও ভালোবাসা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি পাহাড়ি সংস্কৃতির এই রূপ তুলে ধরার চেষ্টা আমাদের অন্যতম আকর্ষণ ছিল। এই মণ্ডপটি মূলত বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির সেতু হিসেবে কাজ করছে।

দর্শনার্থীদের মতে, দুর্গাপূজার আনন্দের সঙ্গে পাহাড়ের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য দেখার এই সুযোগ সত্যিই অনন্য। এটি রাঙামাটির অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিক রূপকে ফুটিয়ে তুলেছে।

এ বছর রাঙামাটি জেলাজুড়ে সম্প্রীতির আবহ ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে মোট ৪৭টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিজ দলের কর্মী ছাড়া জামায়াত অন্য কাউকে ভিক্ষাও দেয় না: এমপি খোকন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০২ পি.এম


নিজ দলের কর্মী ছাড়া জামায়াত অন্য কাউকে ভিক্ষাও দেয় না: এমপি খোকন

মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াত ১৮ কোটি মানুষের জন্য কাজ করে না। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত ধারণা হলো, জামায়াতের কর্মী ছাড়া জামায়াত অন্য কাউকে ভিক্ষাও দেয় না। জামায়াত আসলে কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি সমিতি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াতের কর্মকাণ্ড মূলত তাদের নিজস্ব কর্মী ও সমর্থকদের কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। সাধারণ মানুষের জন্য তাদের কার্যক্রমের পরিধি নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।

পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে সংসদ সদস্য বলেন, স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত সুন্দরভাবে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। কালকিনি উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে গিয়ে তারা খোঁজখবর নিচ্ছেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের পাশে পেয়ে আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন- কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিশোর কুমার দাস, কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বেপারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন মুন্সি, মাদারীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গাউছ উর রহমানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে ভাড়া বাসা থেকে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০২ পি.এম


নোয়াখালীতে ভাড়া বাসা থেকে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে একটি ভাড়া বাসা থেকে রোকন কর্মকার (৩২) নামের এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৩টার সময় বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল গেট এলাকায় অবস্থিত ফাইজা কটেজ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত রোকন কর্মকার বেগমগঞ্জ উপজেলার রফিকপুর গ্রামের শংকর কর্মকারের পুত্র। তিনি বসুরহাট পৌরসভার হাসপাতাল গেট এলাকায় একটি স্টেইনলেস স্টিলের (এসএস) দোকান পরিচালনা করতেন।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোকন কর্মকার তার স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতাল গেট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ঘটনার দিন তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে ছিলেন, ফলে তিনি একা ছিলেন বাসায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুপুরের দিকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। স্থানীয়রা তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দেনার চাপ অথবা আর্থিক সংকটজনিত হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন। তবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%