মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:০২ পি.এম
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে একটি ভাড়া বাসা থেকে রোকন কর্মকার (৩২) নামের এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৩টার সময় বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল গেট এলাকায় অবস্থিত ফাইজা কটেজ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রোকন কর্মকার বেগমগঞ্জ উপজেলার রফিকপুর গ্রামের শংকর কর্মকারের পুত্র। তিনি বসুরহাট পৌরসভার হাসপাতাল গেট এলাকায় একটি স্টেইনলেস স্টিলের (এসএস) দোকান পরিচালনা করতেন।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোকন কর্মকার তার স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতাল গেট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ঘটনার দিন তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে ছিলেন, ফলে তিনি একা ছিলেন বাসায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুপুরের দিকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। স্থানীয়রা তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দেনার চাপ অথবা আর্থিক সংকটজনিত হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন। তবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুনভাবে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৬৬ জন রোগী।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
এখন পর্যন্ত চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৩৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ৬১৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪১৫ জন ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে)। এছাড়া, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১৩ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
একই সময়ে বরিশাল বিভাগে ১৯১ জন, খুলনা বিভাগে ১৪১ জন, রাজশাহী বিভাগে ১২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮০ জন এবং রংপুর বিভাগে ৭২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সিলেট বিভাগে নতুন করে ১১ জন ডেঙ্গু রোগীও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ভাতিজার বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে মোকসেদ আলী ওরফে বাচ্চু মিয়া (৬০) নামের এক ব্যক্তির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যার কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয়দের মতে, তার নাতি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত এবং সে পালিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের কিশামত মধুপুর খামার গ্রামের পণ্ডিতপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত বাচ্চু মিয়া রংপুর মহানগরের মাহিগঞ্জ থানার নব্ধিগঞ্জ কলাবাড়ী এলাকার মৃত সজর উদ্দিন সরকারের ছেলে।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, বাচ্চু মিয়া রংপুর মহানগর থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি তার ভাতিজা মিঠু মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে জাতীয় জরুরি সেবায় ফোন করে হত্যাকাণ্ডের খবর জানানো হয়। খবর পেয়ে উলিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের বড় বোন মাজেদা বেগম মরদেহটি শনাক্ত করেন।
পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহ কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী জানান, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মামলা দায়ের ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২১৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে তিনজন সন্দেহভাজন হাম রোগে মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে নিশ্চিত হাম রোগে এ সময়ের মধ্যে কারও মৃত্যু হয়নি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৪২ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ২০ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর মোট সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজার ৭৬৮ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৯৯৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৭৬ জন। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৬১ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৮ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র লাভ করেছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন হাম রোগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিত হাম রোগে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ১৫ মার্চ থেকে ২০ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগে মোট ১ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, নিশ্চিত হাম রোগে এ পর্যন্ত ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ১৯ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ২০ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাবনায় একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আলোর মুখ দেখার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেলো। পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড.শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় জেলায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে (ইউজিসি) নির্দেশ দিয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে পাবনা জেলার আটঘরিয়া কৃষি মহাবিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক সম্ভাব্যতা যাচাই করে সুনির্দিষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাবনা-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস নির্বাচনে পাবনায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ ও দাপ্তরিক চিঠি চালাচালি অব্যাহত রাখেন। তারই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন প্রাতিষ্ঠানিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে।
পাবনা একটি কৃষি প্রধান জেলা। জেলাটিতে পেঁয়াজ, চাল, গম, সবজি, ডাল ও দুগ্ধজাত পণ্যের ব্যাপক উৎপাদন হয়। ফলে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে, উত্তরাঞ্চলের কৃষি গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার এবং দক্ষ কৃষিবিদ তৈরিতে তা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, "পাবনার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি আধুনিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন দেখে আসছে। নির্বাচনের সময় আমি সাধারণ মানুষকে কথা দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনা পাবনাবাসীর স্বপ্নের প্রথম বড় জয়।"
"এটি দ্রুত বাস্তবায়নে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব।"
এ ব্যাপারে দোতলা কৃষি ব্যবস্থাপনার আবিষ্কারক কৃষিবিদ জাফর সাদেক বলেন, "১৯৮০ সাল থেকে পাবনায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। পরে এটির অগ্রগতি দেখা যায়নি। সাম্প্রতিক অগ্রগতির খবরটি পাবনার মত কৃষিভিত্তিক জেলার জন্য সুখবর।" তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়টি হলে কেবল শিক্ষা নয়, সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ অঞ্চলে জমি ও অবকাঠামোগত সুযোগ তৈরি করা সহজ হবে।"
ইউজিসি’র সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন দ্রুত শেষ করে জমি অধিগ্রহণ ও আইন প্রণয়নের কাজ ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ