প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রান্নার কৌশল বদলেছে বিশ্বজুড়ে রন্ধনশিল্পীদের হাত ধরে, এবং বিভিন্ন দেশের খাবার জনপ্রিয় হয়েছে। নতুন স্বাদের ধারণা তৈরি হয়েছে। তাদের সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও অবদানকে সম্মান জানাতে প্রতি বছর এই দিবসটি পালিত হয়। নতুন প্রজন্মকে রন্ধনশিল্পে আগ্রহী করে তোলা, পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রতি বছর ২০ অক্টোবর পালিত হয় আন্তর্জাতিক শেফ দিবস, যা ২০০৪ সালে ওয়ার্ল্ডশেফসের উদ্যোগে চালু হয়। নতুন প্রজন্মকে রান্নার প্রতি আগ্রহী করে তোলা, স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং খাবারের উৎস ও পরিবেশের সঙ্গে এর সম্পর্ক তুলে ধরা দিবসটির উদ্দেশ্য।
বিশ্বের পরিচিত কিছু শেফ তাদের কাজের মাধ্যমে রান্নার জগতে আলাদা ছাপ রেখেছেন। তাদের অবদানেই রান্না অনেকের কাছে নিছক প্রয়োজনের কাজ না হয়ে সৃজনশীলতা, সংস্কৃতি ও শেখার একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
মার্কিন শেফ, লেখক ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব জুলিয়া চাইল্ড ফরাসি রান্নাকে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার লেখা Mastering the Art of French Cooking বইটি ফরাসি রান্নার নানা কৌশল ও পদ্ধতি সহজভাবে তুলে ধরে। ১৯৬৩ সালে তার টেলিভিশন অনুষ্ঠান The French Chef প্রচার শুরু হলে দর্শকেরা ঘরে বসেই ফরাসি খাবার তৈরির কৌশল শেখার সুযোগ পান।
রান্নার সময় ভুল হওয়াকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া এবং চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তার সহজ-স্বাভাবিক উপস্থাপনা অনেককে রান্না শিখতে উৎসাহিত করেছে। জটিল মনে হওয়া রান্নাও ধাপে ধাপে শেখা যায়—এই ধারণা জনপ্রিয় করতে তার অবদান উল্লেখযোগ্য।
ব্রিটিশ শেফ জেমি অলিভার পরিচিত সহজ উপকরণে সুস্বাদু খাবার তৈরির ধারণার জন্য। টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও রান্নার বইয়ের মাধ্যমে তিনি ঘরে রান্না করা, তাজা উপকরণ ব্যবহার এবং খাবার সম্পর্কে জানার প্রতি আগ্রহ তৈরি করেছেন। তার কাজের একটি বড় দিক হলো রান্নাকে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সহজভাবে যুক্ত করা, যাতে রান্নার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়া জরুরি না মনে হয়।
রান্নার পাশাপাশি শিশুদের খাদ্যাভ্যাস ও স্কুলের খাবার নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন তিনি। তার বিভিন্ন উদ্যোগে পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং রান্না শেখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
ব্রিটিশ শেফ গর্ডন রামসে রেস্তোরাঁ পরিচালনা, পেশাদার রান্না এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়েছেন। রান্নার মান, উপকরণের সঠিক ব্যবহার, সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা এবং খাবার পরিবেশনের নিখুঁততা তার পেশাগত কাজের গুরুত্বপূর্ণ দিক।
রান্নাবিষয়ক বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানে নতুন ও অভিজ্ঞ রাঁধুনিদের দক্ষতা যাচাই এবং তাদের ভুল শুধরে দেওয়ার মাধ্যমে পেশাদার রান্নার নানা দিক দর্শকের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি। তার কাজের মধ্য দিয়ে রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে দলগত কাজ, প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলার গুরুত্বও আলোচনায় এসেছে।
ভারতীয় শেফ সঞ্জীব কাপুর টেলিভিশন অনুষ্ঠান, রান্নার বই ও বিভিন্ন খাদ্যবিষয়ক উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতীয় খাবারকে জনপ্রিয় করতে ভূমিকা রেখেছেন। তার কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো পরিচিত ভারতীয় উপকরণ দিয়ে বিভিন্ন পদ তৈরির পদ্ধতি সাধারণ মানুষের কাছে সহজভাবে তুলে ধরা।
ভারতীয় রান্নার বৈচিত্র্য—আঞ্চলিক মশলা, রান্নার ধরন ও উপকরণের ব্যবহার—নিয়ে তার উপস্থাপনা অনেক দর্শককে নতুন পদ সম্পর্কে জানতে এবং ঘরে রান্না করতে উৎসাহিত করেছে। পেশাদার রান্নার জ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে টেলিভিশন ও প্রকাশনার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার কাজ তার একটি উদাহরণ।
ইতালীয় শেফ মাসিমো বোতুরা রান্নায় নতুনত্ব আনার পাশাপাশি খাবারের অপচয় কমানোর উদ্যোগের জন্যও পরিচিত। তার প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক সংস্থা ফুড ফর সোলের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে কমিউনিটি প্রকল্প পরিচালিত হয়, যেখানে ফেলে দেওয়ার উপযোগী নয়—এমন উদ্বৃত্ত খাবারের উপকরণ কাজে লাগিয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য পুষ্টিকর খাবার তৈরি করা হয়।
বোতুরার উদ্যোগ দেখিয়েছে, রান্নার দক্ষতা শুধু দামি উপকরণ বা বিলাসবহুল রেস্তোরাঁর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিকল্পিতভাবে উপকরণ ব্যবহার, খাবারের অপচয় কমানো এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও শেফরা ভূমিকা রাখতে পারেন।
শেফদের অবদান শুধু স্বাদে নয়
একেকজন শেফের কাজের ক্ষেত্র আলাদা হলেও তাদের অবদানের একটি জায়গায় মিল রয়েছে—খাবারকে ঘিরে মানুষের অভিজ্ঞতা বদলে দেওয়া। কেউ নতুন রান্নার কৌশল শিখিয়েছেন, কেউ পরিচিত খাবারকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন, আবার কেউ পুষ্টি ও পরিবেশের মতো বিষয়কে রান্নার আলোচনায় এনেছেন।
আন্তর্জাতিক শেফ দিবস তাই শুধু পেশাদার রাঁধুনিদের সম্মান জানানোর দিন নয়; খাবারের পেছনে থাকা শ্রম, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে স্বীকৃতি দেওয়ারও উপলক্ষ। একই সঙ্গে খাবারের উৎস জানা, স্থানীয় ও মৌসুমি উপকরণ ব্যবহার এবং অপচয় কমানোর মতো অভ্যাস গড়ে তোলার গুরুত্বও মনে করিয়ে দেয় দিনটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন