০৩:৪৪ পি.এম
স্বামীর জানাজার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। উঠানে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কবর খোঁড়া থেকে শুরু করে শেষ বিদায়ের সব আয়োজন শেষ হয়ে গিয়েছিল। আর মাত্র পাঁচ মিনিট পরে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে পরিবারের সদস্যদের সামনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে স্ত্রীর মৃত্যু ঘটে। এরপর স্বামী ও স্ত্রীর জানাজা একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় এবং পাশাপাশি দাফন করা হয়।
হৃদয়স্পর্শী এই ঘটনা কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রাণীচড়া গ্রামে ঘটেছে।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলার রাণীচড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার (৬১) এবং তাঁর স্ত্রী সালেহা বেগম (৫৬)।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে হৃদরোগে আক্রান্ত হন আব্দুস সাত্তার। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিন রাতেই তিনি মারা যান।
পরবর্তীকালে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাদ জোহর তাঁর জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। সকালে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হলে স্বজন ও এলাকাবাসী কফিন প্রস্তুত, কবর খোঁড়াসহ দাফনের সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন করেন।
জানাজার সময় ঘনিয়ে আসলে স্বজনেরা শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়ে স্বামীর মৃত্যুর কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া সালেহা বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করলেও স্বামীর জানাজার মাত্র পাঁচ মিনিট আগে তিনিও মৃত্যুবরণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা মোশারফ হোসেন বলেন, আব্দুস সাত্তার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে নৈশপ্রহরী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, সালেহা বেগম প্রায় এক বছর আগে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ ছিলেন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
তিনি আরো বলেন, ‘স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই সালেহা বেগম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। জানাজার কয়েক মিনিট আগে পরিবারে সকলের সামনে তিনি মারা যান। তবে তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানানো সম্ভব হয়নি।’
মৃত্যুর সময় আব্দুস সাত্তার ও সালেহা বেগম দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন এবং শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে গ্রামের মসজিদ প্রাঙ্গণে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে তাঁদের পাশাপাশি দাফন করা হয় পারিবারিক কবরস্থানে।
দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের সুখ এবং দুঃখ ভাগ করে নেওয়া এই দম্পতির শেষ বিদায়ও হলো একই দিনে, একই সময়ে। যে স্ত্রী স্বামীকে শেষ বিদায় জানাতে প্রস্তুত ছিলেন, শেষ পর্যন্ত তিনিও একই জানাজায় অংশ নিয়ে স্বামীর পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। তাঁদের এই করুণ বিদায় পুরো রাণীচড়া গ্রামে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন