ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।


ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালির ওপর 'সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে' রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে পরিস্থিতি 'ভালোভাবেই চলছে'। অপরদিকে, ইরান জানিয়ে দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এবং অবরোধ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খুলবে না।

বুধবার (১২ আগস্ট) যৌথ ঘাঁটি অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনী এখন 'টোটাল কন্ট্রোলে' রয়েছে।” এর পাশাপাশি তিনি ইরানের সঙ্গে চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেন।

এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক তৎপরতা নিয়ে আবারো নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন বাহিনী পানামার পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজকে থামাতে দুইটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যা ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

মার্কিন বাহিনীর দাবী অনুযায়ী, জাহাজটি একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইরানের বন্দরের দিকে এগোতে থাকায় এরপর ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেটি অচল হয়ে পড়ে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরান। তেহরান দাবি করেছে, এই প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ এবং অবরোধ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটকে থাকা কিংবা হিমায়িত ইরানি সম্পদ মুক্তি দেয়ার দাবিও জানিয়েছে তেহরান। ইরান যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার শর্তও দিয়েছে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। এসব শর্তগুলোর মধ্যে সামরিক সংঘাত বন্ধ করা, ইরানের হিমায়িত সম্পদ মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই তিনটি বিষয়কে প্রণালি পুনরায় খোলার নীতির সাথে সরাসরি যুক্ত করেছে ইরান।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ, যে পথ দিয়ে পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। এই প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পাকিস্তান। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি বুধবার তেহরানে পৌঁছে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

মোহসিন নাকভির সফরের মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল এবং ইরানের মাঝে চলমান যুদ্ধের অবসানে সমঝোতার পথ খুঁজে বের করা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি করা।

পাকিস্তান অতীতে একাধিকবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে ইসলামাবাদ তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে ইরানের শর্তগুলো বোঝার এবং সম্ভাব্য সমঝোতার ভিত্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবিতে কড়া। এর বিপরীতে, ইরান তাদের শর্ত থেকে সরে আসছে না। ইরানের বন্দরের দিকে যাওয়া একটি কার্গো জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলার ঘটনা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

মার্কিন বাহিনীর দাবি, জাহাজটি অবরোধ ভেঙে ইরানের বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তবে ইরানের অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এবং অবরোধ চলমান থাকলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল সম্ভব নয়। ফলে, হরমুজ প্রণালি এখন সামরিক সংঘাতের কেন্দ্র এবং কূটনৈতিক দর-কষাকষির অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

তেহরানে মোহসিন নাকভির বৈঠককে তাই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তান যদি ইরানের শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরে এবং যুদ্ধবিরতি ও অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে তবে হরমুজ সংকট নিরসনের পথ খুলতে পারে।

তবে আপাতত ইরান তাদের অবস্থান কঠোর রেখেছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, শুধুমাত্র জাহাজ চলাচল নিয়ে কোনো সাময়িক সমঝোতা নয়, বরং যুদ্ধ, অবরোধ, হিমায়িত সম্পদ এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির মতো বৃহত্তর বিষয়গুলোর সমাধান ছাড়া হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলবে না। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন প্রণালির ওপর মার্কিন সামরিক নিয়ন্ত্রণের দাবি করায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানের ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা উদ্যোগ এবং পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনা হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ও ক্লাস শুরু সম্পর্কে যা জানা গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০২ পি.এম


একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ও ক্লাস শুরু সম্পর্কে যা জানা গেছে

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে সম্পন্ন করবে।

আমাদের জানা আছে যে, ভর্তি প্রক্রিয়া আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে, একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে ১২ নভেম্বর।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮৭ জন। গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ৬ লাখ ৭ হাজার ৯৩৯ জন এবং ছাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৮ জন। বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ছাত্রীদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ, অপরদিকে ছাত্রদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

এবার পরীক্ষা দিতে গিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। তাদের মধ্যে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে ফল খারাপ করার প্রবণতা বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফল তুলনামূলকভাবে দুর্বল অবস্থানে দেখা গেছে। এই বিভাগের প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫১ জন অকৃতকার্য হয়েছে।

অন্যদিকে, এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন ছাত্রী এবং ৫২ হাজার ৭৮০ জন ছাত্র।

ফলাফলের পাসের হার ও জিপিএ-৫ সহপ্রায় সব সূচকেই এবার ছাত্রীদের সাফল্য বেশি ছিল। এখন উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য অপেক্ষা একাদশ শ্রেণির অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম শুরুর।

ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরে আগামী ১২ নভেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রিজের রেলিং ভেঙে তেলবাহী ট্রাক খাদে, চালক নি/হ/ত হয়েছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


ব্রিজের রেলিং ভেঙে তেলবাহী ট্রাক খাদে, চালক নি/হ/ত হয়েছেন

মৌলভীবাজার জেলার রাজনগরে ধামাইপার ব্রিজের রেলিং ভেঙে একটি তেলবাহী ট্রাক খাদে পড়ে গেছে, যার ফলে চালক নিহত হয়েছেন এবং হেলপার গুরুতর আহত হয়েছেন।

এই দুর্ঘটনাটি বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে উপজেলার ধামাইপার ব্রিজ এলাকায় ঘটে।

সূত্র থেকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে তেল নিয়ে একটি ট্রাক সিলেটের দিকে যাচ্ছিল। ভোরের দিকে ধামাইপার ব্রিজে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান, ফলে ট্রাকটি ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে চালক রোমান মিয়া নিহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহত হেলপার নয়নকে উদ্ধার করে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেন।

খবর পেয়ে রাজনগর ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার আলী হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল উদ্ধার কাজ শুরু করে। এরপর মৌলভীবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের সদস্যরাও উদ্ধারের অভিযানে যোগদান করেন।

ট্রাকটি অনেক নিচে পড়ে যাওয়ায়, রেকার ভ্যান ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সহায়তায় যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৌলভীবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাকারিয়া জানান, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় চালকের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ট্রাকটিতে চালক এবং হেলপার দুজনই ছিলেন।

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ট্রাকে চালক এবং হেলপার ছিলেন। চালক নিহত হয়েছেন এবং স্থানীয়রা হেলপারকে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন বিমানবাহী রণতরীতে নাবিকদের সংঘর্ষে নিহত ৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


মার্কিন বিমানবাহী রণতরীতে নাবিকদের সংঘর্ষে নিহত ৭

মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে নিজেদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের একটি ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় সাত জন নৌসেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক ইরানি গণমাধ্যমে।

চলমান যুদ্ধে ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সাগরে মোতায়েন রয়েছে বিমানবাহী রণতরীটি। এই পরিস্থিতিতে, রণতরিতে থাকা নাবিক ও মেরিনদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং জীবনযাপনের পরিস্থিতি নিয়ে তাদের পরিবার প্রশ্ন তুলেছেন। প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিনকে বহনকারী এই রণতরির দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কর্মকর্তাদের কাছে তারা জবাব চেয়েছেন।

ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের মোতায়েনকে কেন্দ্র করে নাবিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ে এবং এর ফলে রণতরীতে ভয়াবহ সংঘাতের ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপারের এক উপদেষ্টা যখন নাবিকদের অভিযোগ শুনতে রণতরীটিতে উপস্থিত হন, তখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। জাহাজটির দীর্ঘদিনের মোতায়েনের কারণে নাবিকদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং এই বিষয়টি নিয়ে বিক্ষোভও হয়।

নাবিকদের এক সমাবেশে ওই উপদেষ্টা বক্তব্য দেওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে দুয়োধ্বনি দেওয়া হয় এবং পানির বোতল ছোড়া হয়। এরপরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে পড়ে এবং জাহাজের নাবিকদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষের একপর্যায়ে ছুরি সহ অন্যান্য ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। ফলে সাত জন নৌসদস্য নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও কয়েকজন আহত হন। ঘটনাটি ঘটার পরও জাহাজটির ভেতরের পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ ও অস্থির রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন টানা ২৬৩ দিন ধরে মোতায়েন রয়েছে এবং বর্তমানে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে। দীর্ঘ এই মোতায়েনের কারণে নাবিকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তবে সাত জন নিহত হওয়ার এই দাবির কোনো নির্ভরযোগ্য নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। মার্কিন নৌবাহিনী বা অন্য কোনো প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকেও এই ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তাই হতাহতের তথ্যটি আপাতত প্রতিবেদনে করা দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূল থেকে জাপানের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:১৫ পি.এম


উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূল থেকে জাপানের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে

উত্তর কোরিয়া তাদের পূর্ব উপকূল থেকে জাপানের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ফেলেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আজ বুধবার (১২ আগস্ট) ভোরে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির খবর অনুযায়ী, আগামী সোমবার থেকে ১১ দিনব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে নিয়মিতভাবে এই মহড়া আয়োজন করা হয়। মহড়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পিয়ংইয়ং ক্ষেপণাস্ত্রটি ছুড়েছে।

উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই মহড়াকে তাদের দেশে হামলার প্রস্তুতি হিসেবে মনে করে। অতীতে তারা এ ধরনের যৌথ মহড়ার আগে ও পরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। সিউলের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, আজ ভোর প্রায় ৬টার দিকে উত্তর কোরিয়ার উনসান এলাকা থেকে পূর্ব সাগরের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে।

সিউল জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র এর সক্ষমতা ও কারিগরি দিকগুলো বিশ্লেষণ করছে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এটিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে শনাক্ত করেছে এবং জানায়, এটি ইতোমধ্যে সাগরে পড়েছে।

ক্যুংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর কোরিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ লিম ইউল-চুল এএফপিকে বলেন, ‘এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার মাধ্যমে পিয়ংইয়ং এই বার্তাই দিচ্ছে যে তারা আসন্ন সামরিক মহড়াটির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে।’

জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বুধবারের এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার বিষয়টিকে ‘ওই অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, টোকিও বেইজিংয়ে অবস্থিত কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার কাছে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। উল্লেখ্য, জাপান একসময় এই অঞ্চলে ঔপনিবেশিক শাসন চালাতো। পিয়ংইয়ংয়ের অভিযোগ, জাপান আবারো তাদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে। এই ইস্যুতেই সম্প্রতি টোকিওর বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করছে উত্তর কোরিয়া।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%