প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালির ওপর 'সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে' রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে পরিস্থিতি 'ভালোভাবেই চলছে'। অপরদিকে, ইরান জানিয়ে দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এবং অবরোধ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খুলবে না।
বুধবার (১২ আগস্ট) যৌথ ঘাঁটি অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনী এখন 'টোটাল কন্ট্রোলে' রয়েছে।” এর পাশাপাশি তিনি ইরানের সঙ্গে চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেন।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক তৎপরতা নিয়ে আবারো নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন বাহিনী পানামার পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজকে থামাতে দুইটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যা ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
মার্কিন বাহিনীর দাবী অনুযায়ী, জাহাজটি একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইরানের বন্দরের দিকে এগোতে থাকায় এরপর ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেটি অচল হয়ে পড়ে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরান। তেহরান দাবি করেছে, এই প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ এবং অবরোধ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটকে থাকা কিংবা হিমায়িত ইরানি সম্পদ মুক্তি দেয়ার দাবিও জানিয়েছে তেহরান। ইরান যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার শর্তও দিয়েছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। এসব শর্তগুলোর মধ্যে সামরিক সংঘাত বন্ধ করা, ইরানের হিমায়িত সম্পদ মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই তিনটি বিষয়কে প্রণালি পুনরায় খোলার নীতির সাথে সরাসরি যুক্ত করেছে ইরান।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ, যে পথ দিয়ে পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। এই প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পাকিস্তান। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি বুধবার তেহরানে পৌঁছে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
মোহসিন নাকভির সফরের মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল এবং ইরানের মাঝে চলমান যুদ্ধের অবসানে সমঝোতার পথ খুঁজে বের করা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি করা।
পাকিস্তান অতীতে একাধিকবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে ইসলামাবাদ তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে ইরানের শর্তগুলো বোঝার এবং সম্ভাব্য সমঝোতার ভিত্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবিতে কড়া। এর বিপরীতে, ইরান তাদের শর্ত থেকে সরে আসছে না। ইরানের বন্দরের দিকে যাওয়া একটি কার্গো জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলার ঘটনা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, জাহাজটি অবরোধ ভেঙে ইরানের বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তবে ইরানের অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এবং অবরোধ চলমান থাকলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল সম্ভব নয়। ফলে, হরমুজ প্রণালি এখন সামরিক সংঘাতের কেন্দ্র এবং কূটনৈতিক দর-কষাকষির অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
তেহরানে মোহসিন নাকভির বৈঠককে তাই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তান যদি ইরানের শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরে এবং যুদ্ধবিরতি ও অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে তবে হরমুজ সংকট নিরসনের পথ খুলতে পারে।
তবে আপাতত ইরান তাদের অবস্থান কঠোর রেখেছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, শুধুমাত্র জাহাজ চলাচল নিয়ে কোনো সাময়িক সমঝোতা নয়, বরং যুদ্ধ, অবরোধ, হিমায়িত সম্পদ এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির মতো বৃহত্তর বিষয়গুলোর সমাধান ছাড়া হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলবে না। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন প্রণালির ওপর মার্কিন সামরিক নিয়ন্ত্রণের দাবি করায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানের ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা উদ্যোগ এবং পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনা হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন