বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩৪ পি.এম
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা আরও বাড়ানো হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে আসলে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি এ সময় রোহিঙ্গা সংকটে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, "সংকট সমাধান ও টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের উদ্যোগ সহায়ক হবে।" তিনি তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন খাতে আরও সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরসহ বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক যোগাযোগের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, "বাংলাদেশ চীন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে প্রস্তুত।"
এ সময় তিনি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে আলোচনা আরো এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা করেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফর এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাঁর নিজের এবং বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের চীন সফরের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "এ সকল সফর ও বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করেছে।"
তিনি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, "এই সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরো শক্তিশালী ও সুসংহত হবে।"
এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নের জন্য রাষ্ট্রপতি চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জনগণের জন্য উন্মুক্ত জটিল ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসায় চীনা দক্ষতা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা চান। রাষ্ট্রদূত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
রাষ্ট্রপতি চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করে বলেন, "বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর অবদান বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।"
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে পুলিশ ১৮২ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করেছে। এই অভিযানটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলেছে।
রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত জেলার ছয়টি থানার এলাকায় একযোগে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সদর থানায় ৬০ জন, চন্দ্রগঞ্জ থানায় ২১ জন, রায়পুর থানায় ২৪ জন, রামগঞ্জ থানায় ২৪ জন, রামগতি থানায় ১৩ জন এবং কমলনগর থানায় ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতদের অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, "উঠতি বয়সী কিশোররা যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিশোর অপরাধ রোধে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, চীন ও পাকিস্তান বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও ফেলোশিপের সুযোগ দিতে তাদের দুয়ার খুলে দিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, চীন বাংলাদেশি চিকিৎসকদের ফেলোশিপে নেওয়ার পাশাপাশি দেশটির হাসপাতালগুলোতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশে এসে চিকিৎসকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে চীনে নিয়ে গিয়েও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটের ১৩৫ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চীনের হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি চীনা চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে এসে চিকিৎসকদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশি চিকিৎসকদের চীনে নিয়ে গিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
পাকিস্তানের সহযোগিতার বিষয়ে তিনি জানান, পাকিস্তান বাংলাদেশ থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে গিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে পাকিস্তানি চিকিৎসকরাও বাংলাদেশে এসে চিকিৎসকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেবেন। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের এ ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশের চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সুযোগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।
থ্যালাসেমিয়া ও এইচআইভি সহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে চিকিৎসকদের জনসচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রোগীর চিকিৎসা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; রোগ প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন করাও চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে গিয়ে সাধারণ মানুষকে রোগের কারণ, প্রতিরোধ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পর্কে জানাতে হবে।
বিয়ের আগে বর-কনের থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, স্বামী ও স্ত্রী দুজনই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বিয়ের আগে ছেলে ও মেয়ের রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত। তিনি বলেন, "আপনারা দয়া করে এখন বিয়ের আগে মেয়ে ও ছেলের ব্লাড টেস্ট করাবেন থ্যালাসেমিয়ার জন্য। এটা রক্তের মধ্যে পাওয়া যায়।"
চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু চিকিৎসার মাধ্যমে সব রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সন্তানদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করার পাশাপাশি চিকিৎসকেরা যেখানে যাবেন, সেখানেই মানুষকে থ্যালাসেমিয়া, এইচআইভি ও ছোঁয়াচে রোগ সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। হাত ধোয়া ও পরিচ্ছন্নতার মতো বিষয়েও জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায়, স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার কারণে ক্ষোভে জীবন (২০) নামে এক যুবক নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনার বিষয়টি মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে নয়টায় নিশ্চিত করেছেন সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম।
জানা যায়, সন্ধ্যা সাতটায় উপজেলার আঙ্গারিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। জীবন, যিনি আঙ্গারিয়া এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে, পালিয়ে বিয়ে করে স্ত্রী মিম (১৬) এর সঙ্গে সেখানে অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি জানার পর মিমের পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
জীবন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি ব্যর্থ হন। পরে স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন নিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভে জীবন নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসার জন্য পাঠান।
এ বিষয়ে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, "কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা খোঁজখবর রাখছি।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কার্লো আনচেলত্তি ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দল গঠন শুরু করেছেন নেইমারের অবসরের পর। এই প্রেক্ষাপটে ম্যাচে পেনাল্টি নেওয়ার গুরুদায়িত্ব পান রানিফিয়া। বার্সেলোনার এই তারকা অনুপস্থিত থাকলে ব্রুনো গিমারায়েসের পেনাল্টি নেওয়ার কথা ছিল। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে সবকিছু বদলে যায়।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রাফিনিয়া প্রথম পেনাল্টি নেওয়ার পর ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়েন। ৮০ মিনিটে দ্বিতীয় পেনাল্টি গিমারায়েসের নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শট নিতে আসেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ম্যাচ শেষে এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।
বিশ্বকাপের পর থেকে ভিনিসিয়ুস নিজেকে খুঁজে পাচ্ছেন না। তাই তাকে ফর্মে ফেরাতে গিমারায়েস ভিনির হাতে বল তুলে দেন। এ জন্য সতীর্থকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
ভিনিসিয়ুস বলেন, "রাফিনিয়া যখন মাঠে থাকবে না, তখন আমাদের পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব ব্রুনো গিমারায়েসের। আমি ভেবেছিলাম সে নিতে চাইবে, তবে সে জানে যে বর্তমানে আমার কিছুটা আত্মবিশ্বাস দরকার। বিশ্বকাপে হেরে যাওয়া অনেক বড় ধাক্কা এবং সেটা মেনে নেওয়া কঠিন, আর ঘুরে দাঁড়ানোও সহজ নয়।"
পরে গিমারায়েসও তার পেনাল্টি না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন। আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার বলেন, "দলের সবার মধ্যে একতাই সবচেয়ে বড় বিষয়। এটাই কারণ ছিল (পেনাল্টিটা ভিনিকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে)। পেনাল্টির ঘটনার পর, অনেক কিছুই সামনে আসে। কিন্তু এখানে জাতীয় দলে, আমাদের মধ্যে কেউ ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে ভাবে না।"
আনচেলত্তি ভিনিকে পেনাল্টি নেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। গিমারায়েস বলেন, "বিশ্বকাপে আনচেলত্তি আমাকে পেনাল্টি নিতে বলেছিলেন। আর আজ তিনি ভিনিকে নিতে বলেন। ভিনির একটা গোল করা খুব দরকার ছিল। সে খুব ভালোভাবেই সেটা করেছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের কারও মধ্যে ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে ভাবনা নেই। ব্রাজিলের জন্য কোনটা সেরা, সেটাই আমরা চাই। তার জন্য আমরা খুশি এবং এভাবে কাজ করে যাওয়াটাই আসল।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ