ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আওয়ামী লীগ নেত্রী পালিয়ে থেকেও ৬ মাসের বেতন পেলেন


আওয়ামী লীগ নেত্রী পালিয়ে থেকেও ৬ মাসের বেতন পেলেন

দীর্ঘদিন মাদরাসায় অনুপস্থিত থেকে একজন সহকারী অধ্যাপকের সহযোগিতার মাধ্যমে ছয় মাসের বেতন পেয়েছেন রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী যুব মহিলা লীগের নেত্রী শাহনাজ বিউটি।

অভিযুক্ত শাহনাজ বিউটি উপজেলার ভাংনী আদমদিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুব মহিলা লীগের রংপুর মহানগর কমিটির সভানেত্রী।

জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করা, নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, শিক্ষাগত সনদে অসংগতির অভিযোগ এবং অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটিতে বেশ কিছু দিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করার জন্য ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তর, আদালত এবং সংশ্লিষ্ট মাদরাসার বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব নথিতে শাহনাজ বিউটির নিয়োগ, চাকরির অবস্থান, বেতন-ভাতা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সম্পর্কে একাধিক নানা তথ্য উঠে এসেছে।

নথি অনুযায়ী, শাহনাজ বিউটি ২০০৩ সালের ১ মার্চ ভাংনী আহমদিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসায় ইংরেজি প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তার নিয়োগের আগে ২০০২ সালের আগস্টে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনার্সসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং নির্ধারিত ফলাফলের শর্ত উল্লেখ ছিল। কিন্তু তার স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ফল তৃতীয় বিভাগ হওয়ায় তিনি তৎকালীন যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেছিলেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

এছাড়া জানা গেছে, ২০০৮ সালের পর শাহনাজ বিউটি সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে যুব মহিলা লীগের রংপুর মহানগর কমিটির নেতৃত্বে আসেন। অভিযোগ করা হচ্ছে, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের পর থেকেই তিনি নিয়মিত মাদরাসায় ক্লাস নিতেন না। বরং বেতন উত্তোলনের সময় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তার কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে আসতেন। এই কারণে ইংরেজি বিভাগের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছিল এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। তবে সে সময়ে তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে ২০২৩ সালে নতুন অধ্যক্ষ দায়িত্ব গ্রহণ করার পর। ওই বছর শিক্ষার্থীরা লিখিতভাবে অভিযোগ করেন যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস না নেওয়ায় তাদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে গভর্নিং বডি প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে দুটি পৃথক কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও শাহনাজ বিউটির পক্ষ থেকে কোনও জবাব পাওয়া যায়নি বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এরপর বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

তদন্ত কমিটি নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়ম, শিক্ষাগত সনদে অসংগতি, দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডসহ আটটি বিষয় উল্লেখ করে তাকে সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ করে। ওই সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গভর্নিং বডি তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়। তার পরের দিন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে তিনি কর্মস্থলে ফিরে আসেননি বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে, জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় শাহনাজ বিউটির বিরুদ্ধে দুটি মামলার তথ্যও নথিতে দেখা যায়। একটি মামলায় তাকে হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এবং অন্যটিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় আসামি করা হয়েছে। তবে এসব মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে শাহনাজ বিউটি এক দিনের জন্য মাদরাসায় যান এবং সেদিন হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করেই চলে যান। তখন অধ্যক্ষ এবং কয়েকজন শিক্ষক তাকে নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তিনি অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন এবং মামলায় সাবেক অধ্যক্ষসহ কয়েকজনকে সাক্ষী করা হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রও দাখিল করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর এবং দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি শাহনাজ বিউটির নামে ছয় মাসের বেতন উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হয় সহকারী অধ্যাপক আকরামুল ইসলামের দ্বারা।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

অনুসন্ধানে দেখা যায়, জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো কমিটি না থাকায় শিক্ষকদের বেতন ছয় মাস বন্ধ ছিল। এর মধ্যে, বেতনের জন্য সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আকরামুল ইসলাম হাইকোর্টে রিট করলে, জরুরি ভিত্তিতে বেতন-ভাতা প্রদানের আদেশ প্রদান করে আদালত। এ সময় সহকারী অধ্যাপক আকরামুল ইসলাম শাহনাজ বিউটির সাময়িক বরখাস্ত এবং দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির তথ্য গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে বেতন শিটে নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে নাম দাখিল করে তার ছয় মাসের বেতন উত্তোলনের ব্যবস্থা করে দেন।

এদিকে, একদিকে দ্বৈত বেতন শিটের মাধ্যমে জালিয়াতি করে ছয় মাসের বেতন উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হয়, অপরদিকে সেই সময়টি তাকে বিনা বেতনের ছুটিতে দেখানো হয়। তবে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির শর্তাবলি অনুযায়ী রোগ বা শিক্ষাসংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট ক্ষেত্র ব্যতীত দীর্ঘমেয়াদি ‘বিনাবেতনের ছুটি’ অনুমোদনের বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিতে শাহনাজ বিউটির ক্ষেত্রে সেই বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বর্তমান অধ্যক্ষ আবু ছালেহ মোহাম্মদ জাকারিয়া গণমাধ্যমকে জানান, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শাহনাজ বিউটিকে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তা না করেই উল্টো তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন অনুপস্থিতের পর প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে বেতন ও বিভিন্ন সুবিধা নেওয়া হয়েছে, যার ফলস্বরূপ প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা ও প্রশাসনিক— উভয় ক্ষেত্রেই সংকটে পড়েছে। তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অন্যদিকে সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আকরামুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শাহনাজ বিউটির ছয় মাসের বেতন এবং পরবর্তী ছুটির বিষয়গুলো জেলা প্রশাসন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের জ্ঞাতসারে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসাসহ অন্যান্য কারণে তাকে ছুটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান

রংপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনায়েন হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ওই মাদরাসার সভাপতি রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) শরিফুল ইসলাম। মাদ্রাসার বেতন-ভাতাসহ সার্বিক বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠানের সভাপতি দেখভাল করেন। এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এডিসি (শিক্ষা) স্যারকে অভিযোগ করলে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। অভিযোগ পেলে আমি নিজে পরিদর্শনে যাব।

এ বিষয়ে বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) শরিফুল ইসলাম জানান, শাহনাজ বিউটিকে ছয় মাসের বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার দায়িত্বকালীন সময়ে হয়নি। কিন্তু শাহনাজ বিউটির দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি তার জানা রয়েছে। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে পরবর্তী সময় পর্যন্ত কীভাবে তাকে ধারাবাহিকভাবে ‘বিনা বেতনের ছুটিতে’ দেখানো হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের পর চিকিৎসাজনিত আবেদনের ভিত্তিতে সীমিত সময়ের জন্য ছুটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল; এর আগের সময়ের সম্পর্কে তিনি অবহিত নন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লার ৩০০ বছরের পুরোনো মসজিদ সংরক্ষণের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৭ পি.এম


কুমিল্লার ৩০০ বছরের পুরোনো মসজিদ সংরক্ষণের দাবি

কুমিল্লার গোমতী নদীর উত্তর তীরে প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো নুরজাহান মসজিদ সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইতিহাস, জনশ্রুতি এবং অবহেলায় জীর্ণ এই স্থাপনাটি বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। বিশাল বটগাছের শেকড় যেন মসজিদটির অস্তিত্বকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই মসজিদে কোনো দিন আজান দেওয়া হয়নি। এমনকি জামাতের সঙ্গে নামাজও আদায় হয়নি। কারণ, এর নির্মাতা ছিলেন ত্রিপুরা মহারাজা দ্বিতীয় ধর্ম-মানিক্যের রাজদরবারের একজন নর্তকী।

অবহেলায় ক্ষয়ে যাওয়া এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে রক্ষায় স্থানীয়দের সাথে সক্রিয় হয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। ভূমির তফশিল নির্ধারণের উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করেছে সংস্থাটি। একই দাবিতে আবেদন করেছেন শিক্ষানুরাগী মোশাররফ খান চৌধুরী।

জনশ্রুতি অনুযায়ী, গোমতীর উত্তরপাড়ের মাঝিগাছা গ্রামে তিন বোন— নুরজাহান, মোগরজান ও ফুলজান বাস করতেন। শৈশবে সাপে কাটা নুরজাহানকে ভেলায় তুলে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার পর ত্রিপুরা রাজদরবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে রাজপ্রাসাদে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার পর রাজদরবারের মেনেকার তত্ত্বাবধানে তিনি নাচ-গান শেখেন এবং সময়ের অন্যতম খ্যাতিমান নর্তকীতে পরিণত হন।

দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর রাজদরবারে কাটানোর পর তিনি মধ্যবয়সে নিজ গ্রাম মাঝিগাছায় ফিরে আসেন। একজন জমিদারের বিধবা স্ত্রী পরিচয়ে জীবনের পদযাত্রা শুরু করেন। বিদায়ের সময় ত্রিপুরার মহারাজা তাকে কিছু একর জমি, বিপুল অর্থ ও স্বর্ণালংকার উপহার দেন। সেই সম্পদ কাজে লাগিয়ে তিনি গ্রামের মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসেন। অতীত জীবনের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে ১৭১৪ থেকে ১৭৩৪ সালের মধ্যে তিনি নির্মাণ করেন একটি মসজিদ।

মসজিদ নির্মাণ শেষের পর নামাজ শুরুর দিন নির্ধারণে গ্রামবাসীকে নিয়ে বৈঠক করার উদ্যোগ নেন নুরজাহান। কিন্তু তার পূর্বে তার অতীত জীবন নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়ে যায়। পরে গ্রামের প্রভাবশালীরা সিদ্ধান্ত নেন, তার অর্থে নির্মিত মসজিদে কেউ নামাজ আদায় করবে না। সেই সিদ্ধান্তই আজও জনশ্রুতির অংশ হয়ে রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এরপর থেকে এই মসজিদে আর কখনো আজান দেওয়া হয়নি এবং নামাজও অনুষ্ঠিত হয়নি।

এই ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন নুরজাহান। কয়েক বছর নিভৃতে জীবন কাটানোর পর তিনি এলাকাটি ছেড়ে চলে যান বলে একটি প্রচলিত মত রয়েছে। আবার অন্য একটি জনশ্রুতি বলছে, সামাজিক অপবাদ সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেন। পরে মসজিদের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুমিল্লা নগরীর চাঁনপুর গোমতী সেতু পার হয়ে মাঝিগাছা-নন্দীর বাজার সড়কের বাম পাশে ঐতিহাসিক মসজিদটি দাঁড়িয়ে আছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা এটি দেখতে এলেও চারপাশে গড়ে ওঠা স'মিল ও দোকানপাটের কারণে স্থাপনাটি অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে।

মসজিদের গম্বুজের একাংশ ইতোমধ্যে ধসে পড়েছে এবং দেয়ালজুড়ে বড় বড় ফাটল দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। কিছু জায়গায় বটগাছের শেকড় ইটের গাঁথুনিকে ভেদ করে নেমে এসেছে। ভেতরে জমে থাকা পানি এবং অযত্নে পুরো স্থাপনাটি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। মসজিদের উত্তর পাশে রয়েছে একটি কবরস্থান।

শিক্ষানুরাগী মোশাররফ খান চৌধুরী বলেন, প্রতিদিন এই পথে যাতায়াতের সময় মসজিদটির করুণ অবস্থা চোখে পড়ে। দ্রুত সংরক্ষণ না করলে এটি একসময় হারিয়ে যাবে। আশপাশের দখল বন্ধ করতে হবে। যদি যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কুমিল্লা কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার সজিব মিয়া বলেন, গোমতী নদীর তীরের এই ঐতিহাসিক মসজিদ প্রত্ন-পর্যটনের সম্ভাবনাময় একটি স্থাপনা। ভূমির তফসিল নির্ধারণের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংরক্ষণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবিএম মশিউজ্জামান জানান, মসজিদের ভূমি নির্ধারণ ও সংরক্ষণসংক্রান্ত আবেদন পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আদর্শ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর মতামত চাওয়া হয়েছে। মতামত পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুকুরে ডুবে মৃত্যু হল ২ বছরের শিশুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৯ পি.এম


পুকুরে ডুবে মৃত্যু হল ২ বছরের শিশুর

লালমনিরহাটে পুকুরের জল ডুবিয়ে দুই বছর বয়সী একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নামুড়ী চন্দ্রপুর গ্রামে এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে।

নিহত রুকাইয়া খাতুন ওই গ্রামের মো. রতন মিয়া ও রেহেনা বেগমের কন্যা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে যে, রুকাইয়া খাতুন বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে খেলছিল। একপর্যায়ে সবার অজান্তে সে পুকুরের জলে পড়ে যায়। পরবর্তী সময়ে যখন স্থানীয়রা ওই ঘটনাটি দেখতে পেয়ে চিৎকার করে, তখন পরিবারের সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে।

এ ঘটনার পর শিশুটির নানা মজিদুল হক সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অপমৃত্যু সংক্রান্ত লিখিত আবেদন জমা দিয়ে জানান, মৃত্যুর ঘটনায় তাদের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই এবং তারা মরদেহ বিনা ময়নাতদন্তে দাফনের জন্য অনুমতি চান।

এ বিষয়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব গণমাধ্যমকে বলেন যে, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্যমন্ত্রী: বিগত সরকারের অনিয়মে স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়েছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪০ পি.এম


স্বাস্থ্যমন্ত্রী: বিগত সরকারের অনিয়মে স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়েছিল

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বিগত সরকারের সময়ে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ লুটপাটের কারণেযার ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকার চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, আমরা জনগণের দ্বারপ্রান্তে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে ৫০ শয্যা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করেছি। কিছুদিনের মধ্যেই মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির ১০১ শয্যার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কার্যক্রম শুরু হবে।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। এ সময় হাসপাতালে লক্ষাধিক টাকার মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধসহ বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এছাড়াও, এ সময় তিনি পার্শ্ববর্তী একটি বেসরকারি ক্লিনিকও পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মো. নাসের রিকাবদার, মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি, মোড়লগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ সহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফায়ার সার্ভিসের গাড়িচালক ৩০ ফুট উঁচু মই থেকে পড়ে গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ পি.এম


ফায়ার সার্ভিসের গাড়িচালক ৩০ ফুট উঁচু মই থেকে পড়ে গেছে

রাজশাহীতে প্রশিক্ষণের সময় তিনি গুরুতর আহত হয়ে পড়েন, হযরত আলী সরদার (৩৫) নামের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এই গাড়িচালক প্রায় ৩০ ফুট উঁচু মই থেকে পড়ে।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা পৌনে ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনে।

ঘটনার পর, হযরত আলীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করার পর, তাকে সিটি স্ক্যানের জন্য রেডিওলজি বিভাগে পাঠানো হয়।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, হযরত আলী প্রায় ৩০ ফুট উঁচু মই থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে হাঁটতে পারছেন না। সিটি স্ক্যানের জন্য তাকে রেডিওলজি বিভাগে পাঠানো হয়েছে, তবে এখনই তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার এনায়েতুল হক এ বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

তবে বিশিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক দিন পর ঢাকায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের একটি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে, এবং সেই প্রতিযোগিতার জন্য কর্মীদের যাচাই-বাছাই চলছে। এর অংশ হিসেবে রাজশাহীতে দ্রুত সময়ে মইয়ে ওঠার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল। যদিও হযরত আলী গাড়িচালক, কর্মকর্তারা তাকে মইয়ে ওঠার জন্য নির্দেশ দেন।

দ্রুত ওপরে ওঠার সময় তিনি প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতা থেকে হঠাৎ নিচে পড়ে যান।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, রাজশাহীর উপপরিচালক মনজিল হক বলেন, তিনি বাইরে থাকায় ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন এবং সহকারী পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

পরে সহকারী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্র্যাকটিসের সময় হযরত পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। গাড়িচালক হওয়ার পরও তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, চাকরি করলে সবই করতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%