ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনেজুয়েলাকে ১৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা দেবে চীন


ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনেজুয়েলাকে ১৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা দেবে চীন

ঢাকা, ২৯ জুন, ২০২৬ : শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের কারণে ভেনেজুয়েলায় ১ হাজার ৪৫০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে, চীন দেশটির জন্য ১০০ মিলিয়ন ইউয়ান (১৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) মূল্যের দুর্যোগ ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সোমবার, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সহায়তার বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, যে সকল মানুষ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সহায়তা করা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠন কার্যক্রমে সমর্থন পরিবেশন করতে, চীন সরকার ভেনেজুয়েলাকে 'জরুরি ভিত্তিতে বিনামূল্যে ত্রাণসামগ্রী' প্রদান করবে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

বার্তা সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে, বেইজিং থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

জিয়াকুন আরও জানান, এসব ত্রাণসামগ্রী 'যত দ্রুত সম্ভব' পাঠানো হবে। তা ছাড়াও, দুর্ঘটনাস্থলের উদ্ধার তৎপরতা সাহায্যের জন্য স্যাটেলাইট চিত্র চীন থেকে কারাকাস সরকারকে সরবরাহ করা হবে।

গুও জানিয়েছেন, 'পরিস্থিতির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী ভেনেজুয়েলাকে আরও সহায়তা দিতে চীন প্রস্তুত রয়েছে।'

এদিকে, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং শুক্রবার ভেনেজুয়েলায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজের কাছে একটি শোকবার্তা পাঠিয়ে জানিয়ে দেন, দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে চীন সহায়তার জন্য প্রস্তুত।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

সোমবার, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ভূমিকম্পের ফলে এখন পর্যন্ত আট জন চীনা নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে এবং একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভেনেজুয়েলায় জীবিত উদ্ধার করার আশা ক্ষীণ, তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫৪ এম


ভেনেজুয়েলায় জীবিত উদ্ধার করার আশা ক্ষীণ, তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে

ঢাকা, ২৯ জুন, ২০২৬: ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে যা চার দিনেরও বেশি সময় পরে উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশাটি ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। এই দুর্যোগের মধ্যে অন্তত এক হাজার ৪৫০ জনের প্রাণহানির ঘটনায় বাসিন্দাদের মধ্যে সরকার সম্পর্কে অসন্তোষ বাড়ছে।

এএফপি’র সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, রোববার কারাবালেদা শহরে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা এক ব্যক্তি এবং তার কিশোর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করেন। উল্লেখ্য, এই শহরটি রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।

লা গুয়াইরা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ সংবাদটি নিশ্চিত করেছে। এই উদ্ধার অভিযানটি কিছুটা আশার সূচনা করলেও, দেশটি এখনো গভীর মানবিক সংকটের শিকার।

অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত ভেনেজুয়েলায় এই ভূমিকম্পটি নতুন এক বিপর্যয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আটকা পড়াদের উদ্ধারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা ইতিমধ্যেই অতিক্রম করলেও, এখনো বহু মানুষের সন্ধান মেলেনি। এছাড়া, আরও কয়েক মিলিয়ন মানুষ মৌলিক সেবার বাইরে রয়েছে, বিশেষ করে স্যানিটেশন সমস্যা। এটি ল্যাটিন আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্পে পরিণত হয়েছে।

জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রড্রিগেজ রোববার জানান, বুধবার সন্ধ্যায় ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি ভূমিকম্পে ৭৭৪টি ভবন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৯টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।

উপকূলীয় শহর তুকাকাসে ধসে পড়া একটি ভবনের স্তূপের নিচে আটকে পড়াদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা খোঁড়াখুঁড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া ২৭ বছর বয়সী লুইস সালাস এএফপিকে বলেছেন, ‘সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত ছিল, যখন আমরা সুড়ঙ্গের ভেতরে আশার আলো দেখেছি। হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়েছি, ধ্বংসস্তূপ সরিয়েছি, সর্বশক্তি ও বিশ্বাস নিয়ে কাজ করেছি। কিন্তু নির্ধারিত স্থান পৌঁছে তাদের মৃত অবস্থায় পেয়েছি।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাই জীবিতদের উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর পর সাধারণত উদ্ধার অভিযান মৃতদেহ উদ্ধারে রূপ নেয়।

রাজধানী কারাকাসের সান বার্নারদিনো এলাকায় স্বেচ্ছাসেবীরা ধসে পড়া একটি ভবনের ওপর উঠে ড্রিল মেশিন দিয়ে কংক্রিট ভাঙছেন। এ সময় তারা সারিবদ্ধভাবে হাতে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন।

কারাকাসের আরেক এলাকায় চাকাওয়ে সাধারণত বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহৃত একটি ভবনের বড় বড় ইলেকট্রনিক পর্দায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শন করা হচ্ছে।

রোববার হোর্হে রড্রিগেজ জানিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা বেড়ে এখন এক হাজার ৪৫০ জনে পৌঁছেছে। এবং এটি আরও বাড়তে পারে। সেইসাথে অন্তত তিন হাজার ১৫০ জন আহত হয়েছেন।

-‘একা পারছি না’-

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা লা গুয়িরার উপকূলীয় শহরে একটি পরিবারের চার সদস্যকে খুঁজতে এসেছেন হেক্টর আগুইলার। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবারের সদস্যদের বের করে আনার মতো কোনো সহায়তা পাচ্ছি না। একা এটা সম্ভব নয়। তারা ওখানেই চাপা পড়ে আছেন। আমরা জানি যে তারা মারা গেছেন। তবুও আমরা এখানে আছি।’

উদ্ধার অভিযান চলমান থাকলেও কিছু এলাকায় জনঅসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তুকাকাসের স্বেচ্ছাসেবক এডুয়ার্ডো কার্ডোজো মন্তব্য করেন, যদি সময়মতো তল্লাশি পরিচালনা করা হতো, তাহলে কিছু মানুষ বাঁচানো যেত।

লা গুয়িরা অঙ্গরাজ্যের তানাগুয়ারেনা এলাকায় একজন ব্যক্তি সেনাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘দেশের আপনাদের দরকার। অস্ত্র নামিয়ে কোদাল-শাবল হাতে নিন।’

লা গুয়িরা শহরে লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। শহরের বড় অংশ এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, ফার্মেসি এবং সুপারমার্কেট সহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট হয়েছে।

অনেকে অভিযোগ করেছেন, ভূমিকম্প-পরবর্তী সরকারি সহায়তা অত্যন্ত ধীরগতিতে এবং অপ্রতুল।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ রোববার জানান, যাদের বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে, তাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়শিবির নির্মাণ করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ‘একই সাথে এমন প্রকল্পের পরিকল্পনা শুরু হয়েছে, যার মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যে নতুন বাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব হবে।’

-অর্থনৈতিক প্রভাব-

রড্রিগেজ রোববার উদ্ধারকর্মীদের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমরা এখনো জীবিত মানুষ উদ্ধার করছি। সুতরাং এই প্রচেষ্টা বন্ধ করা হবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা সবসময় আশা আঁকড়ে ধরে থাকি।’

স্বেচ্ছাসেবক কার্ডোজোও আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও অপেক্ষা করছি। দেখা যাক, আর কাউকে উদ্ধার করা যায় কি না।’

রদ্রিগেজ জানান, ২৪টি দেশ থেকে ৫২১ টন ত্রাণসামগ্রী এসেছে। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষ শনাক্তের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরসহ ৮৬টি ইউনিট ও দুই হাজার ৭০০ জনেরও বেশি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকর্মী পাঠানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড জানায়, মার্কিন হেলিকপ্টার দ্বারা ত্রাণসামগ্রী আনা হয়েছে। বিমানবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে আরও ২৩০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য সহায়তায় আসছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে কারাকাসে সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে দেশে ২৫০ সদস্যের একটি দুর্যোগ মোকাবিলা দল পাঠিয়েছে।

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানায়, জনসংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাদের আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা এবং জরুরি ত্রাণসামের প্রয়োজন হবে।

এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে ভয়াবহ এই ভূমিকম্পটি এমন সময়ে আঘাত হেনেছে, যখন তেলসমৃদ্ধ দেশটি এক দশকের বেশি সময় ধরে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে রয়েছে।

দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশটির হাসপাতাল ও জনসেবামূলক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ কারণে কয়েক লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এ ভূমিকম্পে ভৌত অবকাঠামোর ক্ষতির পরিমাণ ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ভেনেজুয়েলার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ছয় শতাংশের সমান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে ৮ জনকে কারাদণ্ড ও ৪ জনকে অর্থদণ্ড দিয়েছে র‌্যাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ এম


রাজধানীতে ৮ জনকে কারাদণ্ড ও ৪ জনকে অর্থদণ্ড দিয়েছে র‌্যাব

ঢাকা, ২৯ জুন, ২০২৬ : রাজধানীর শেরে বাংলা নগর এলাকায় বিভিন্ন হাসপাতালের দালাল চক্রের আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও চারজনকে অর্থদণ্ড প্রদান করেছে র‌্যাব-২ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আজ শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট এবং পঙ্গু হাসপাতালে দালাল বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দালাল চক্রের ১২ জনকে আটক করা হয়েছে র‌্যাব-২ এর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে।

র‌্যাব সদরদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তথ্যটি জানানো হয়েছে। র‌্যাব জানায়, দালাল চক্র চিকিৎসা সেবা গ্রহীতা রোগী ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের দ্রুত ও ভালো সেবা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করে আসছিল। দালাল চক্রটি ডাক্তারি সেবা অল্প সময়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতো।

র‌্যাব-২ এর একটি আভিযানিক দল র‌্যাবের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদের (উপসচিব) নেতৃত্বে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর এলাকায় অবস্থিত শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং পঙ্গু হাসপাতালে দালাল বিরোধী বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহে ১৩৩ জন শিশু শ্রম থেকে প্রত্যাহার হয়েছে : আহমাদ মাসুদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫৮ এম


ময়মনসিংহে ১৩৩ জন শিশু শ্রম থেকে প্রত্যাহার হয়েছে : আহমাদ মাসুদ

ময়মনসিংহ, ২৯ জুন, ২০২৬, : বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার বিভিন্ন সেক্টরের কারখানা ও প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৯০ জন শিশুকে শ্রম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এর মধ্যে বিশেষ করে ময়মনসিংহ জেলার কারখানা ও প্রতিষ্ঠান থেকে ১৩৩ জন শিশুকে শ্রম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, এমন তথ্য তুলে ধরেছেন ময়মনসিংহ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক আহমাদ মাসুদ।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, মাঠপর্যায়ে শিশুর তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখা যায় যে, এসব শিশুর মধ্যে অনেকেই দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছে।

আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বিগত বছরের শিশুশ্রম নিরসনে দাপ্তরিক কার্যক্রম উপস্থাপন করে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি-এ প্রতিপাদ্য নিয়ে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের আইসিটি ল্যাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে শিশু শ্রমিকদের জন্য মানবিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে আহমাদ মাসুদ আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন সুবিধার আওতায় এসব শিশুর পরিবারকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে হবে এবং কর্পোরেট সোস্যাল রেসপনসিবিলিটির আওতায় এসব শিশু ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে।

অন্যথায়, তারা পুনরায় কোন না কোনভাবে শ্রমে নিযুক্ত হবে। এ সময় তিনি শিশু শ্রমিকের পরিবারকে আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত করে, শিশুকে পড়াশোনায় ফিরিয়ে এনে শিক্ষার মাধ্যমে পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

এর আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়কে দিবসটি উপলক্ষে র‌্যালির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান। এ সময় র‌্যালিটি নগরীর প্রধান সড়ক প্রদিক্ষণ করে শেষ হয়। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান শাকিল, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি মেডিকেল অফিসার ডা. দেবজানি সান্নাল, ময়মনসিংহ মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম দুলাল, মটর মেকানিক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বাবুল, ওয়ার্ল্ড ভিশনের সিনিয়র ম্যানেজার অরবিন্দ সিলভেস্টার গোমেজ, মুক্তাগাছা প্রগতি যুব উন্নয়ন সংঘের সভাপতি জনাব রেজুয়ান আল কাফি প্রমুখ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৈষম্যহীন ও দক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য: ড. মাহদী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০১ এম


বৈষম্যহীন ও দক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য: ড. মাহদী আমিন

আজ রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। ছবি: বাসস

ঢাকা, ২৯ জুন, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেছেন, দেশের তৃণমূল ও প্রান্তিক পর্যায়ের সকল শিক্ষার্থীকে সমান সুযোগ দিয়ে একটি বৈষম্যহীন, দক্ষ ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের সঠিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে খুদে বিজ্ঞানীদের মাঝ থেকেই বেরিয়ে আসবে আগামী দিনের বিশ্বজয়ী বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক।’

আজ রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং জাতীয় পর্যায়ের ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ এর প্রদর্শনী ও চূড়ান্ত বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার সেরা খুদে বিজ্ঞানীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং ইনোভেশন স্টলসমূহ পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।

শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ভাবনার কথা তুলে ধরে ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চান যেখানে শুধু মুখস্থ বিদ্যা নয়, বরং দক্ষতা, যোগ্যতা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং মানবিক মূল্যবোধের সুসমন্বয় থাকবে। প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন তার মেধা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা পায় এবং তারা কেবল চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।’

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বিগত বছরগুলোর সৃজনশীল কাজের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘অতীতে যখন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগের অভাব ছিল, তখন এই ফাউন্ডেশন বছরের পর বছর ধরে তরুণদের মেধা বিকাশে ভার্চুয়াল সায়েন্স প্রজেক্টসহ নানা ধরনের কার্যক্রম চালিয়েছে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যদি যুগের পর যুগ এমন সৃজনশীল কাজ করতে পারে, তবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থেকে আমাদের আরও বড় পরিসরে কাজ করা উচিত। আর সেই চেতনা থেকেই আজ সরকারিভাবে এই জাতীয় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।’

নির্বাচনী ইশতেহার ও বৈষম্যহীন শিক্ষার প্রতিফলন উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ইশতেহারের ১০টি বিষয়কে শিক্ষায় কাভার করার চেষ্টা করছি। দেশের ৬৪ জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রতিনিধিত্ব এখানে নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো ভৌগোলিক, ধর্মীয় বা রাজনৈতিক বৈষম্য না রেখে প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের একত্র করা হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো, যা প্রমাণ করে বাংলাদেশ নারী শিক্ষায় কতটা এগিয়ে যাচ্ছে।’

চূড়ান্ত পর্বে উন্নীত প্রজেক্টগুলোর প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আজকের ফাইনালে আসা প্রজেক্টের প্রতিটি উদ্ভাবনী নিয়মিত নার্সিং করব, প্রয়োজনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেব এবং প্রতি মাসে এ বিষয়ে আপডেট নেওয়া হবে, যাতে এগুলো সফল স্টার্টআপ হিসেবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে পারে।’

শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সুসম্পর্ক ও পরিবেশ রক্ষায় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ভালোবাসার সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্যেই প্রতিটি টিমে ৩ জন শিক্ষার্থীর সাথে ২ জন শিক্ষককে রাখা হয়েছে। আজ শিক্ষকদেরও ‘সু-শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে দেশের ২৯ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবেশ সচেতনতার প্রমাণ দিয়েছে।’

তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও ভালোবাসা নিয়ে সবসময় পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মাইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষক ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশে গত ১২ জুন সারা দেশে শুরু হয় ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’।

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচি উপজেলা-থানা, জেলা এবং জাতীয়- এই তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। আজ অনুষ্ঠানে প্রতিটি ধাপের বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।

বিজয়ী শিক্ষার্থীদের প্রত্যেক দলকে ২০ হাজার টাকার চেক, পদক ও সনদপত্র এবং বিজয়ী শিক্ষকদের ৩০ হাজার টাকার চেক ও সনদপত্র প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%