০৮:০৪ পি.এম
টানা ভারী বৃষ্টির কারণে কুমিল্লা নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা নৌকায় চড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে বাধ্য হন। সোমবার কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থীরা এই দুর্ভোগে পড়েন।
রাতভর ভারী বৃষ্টির ফলে কুমিল্লা নগরী কার্যত অচল হয়ে পড়ে। মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি এবং আবাসিক এলাকা তলিয়ে যায়। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমরসমান পানি জমে যায় এবং জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় নগরবাসী চরম দুর্ভোগে পড়ে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন পরীক্ষার্থীরা, নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর এবং কর্মজীবীরা।
সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণের ফলে সকালেই নগরীর অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে চলে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং কর্মস্থলে যেতে কর্মজীবীদের সীমাহীন দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হয়। কাকভেজা অবস্থায় শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে দেখা যায়। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অনেক অভিভাবক।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
নগরীর লাকসাম রোড, জিলা স্কুল সড়ক, পুলিশ লাইনস, রেসকোর্স, চর্থা, ঠাকুরপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, গোবিন্দপুর, মুরাদপুর এবং শহরতলীর ছায়াবিতান এলাকায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিভিন্ন বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং নিচু স্থাপনায় পানি ঢুকে পড়ে। কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেরও পানি প্রবেশ করে। ড্রেন উপচে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ার ফলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়ে। জলাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে অনেক রিকশা এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক কয়েক গুণ ভাড়া বাড়িয়ে দেন। ১০ টাকার ভাড়া আদায় করা হয় ৫০ টাকা পর্যন্ত।
এইচএসসি পরীক্ষার্থী উম্মে কুলসুম বলেন, 'বাসা থেকে এক ঘণ্টা আগে বের হলেও কলেজে পৌঁছানোর আগেই তার জামাকাপড় ভিজে যায়।' কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হয়েছে নৌকায় চড়ে।
পরীক্ষার্থীদের সমস্যা বিবেচনায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার সময় ৩০ মিনিট বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, এ কেন্দ্রে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো আর অনুষ্ঠিত হবে না।
গত ঘটনাপ্রবাহের পরিস্থিতি মোকাবিলার লক্ষ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন। এ সময় তারা নৌকা ঠেলে এবং ভ্যান টেনে পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে পৌঁছাতে সহায়তা করেন। পাশাপাশি লাকসাম রোডের খালসহ বিভিন্ন খাল ও ড্রেনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কাজী আপন তিবরানী জানান, জলাবদ্ধতার কারণে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের নিচতলায় যেসব পরীক্ষার্থীদের আসন ছিল, তাদের চারতলায় স্থানান্তর করা হয়েছে, যাতে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা নেওয়া যায়। তিনি আরও জানান, এ কেন্দ্রে পরবর্তী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, 'প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের নিয়ন্ত্রণে নয়। তবে খাল দখল এবং জলপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা অবৈধ স্থাপনার কারণেই জলাবদ্ধতা বেড়েছে।' তিনি আরও জানান, এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন