০৪:৪৮ পি.এম
কুমিল্লার লালমাটিয়ায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যার ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। তারা নিশ্চিত করেছে যে, অটোরিকশাচালক সুমন তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি জানান, ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর (উত্তর পাড়া) গ্রামে ধানক্ষেতের আইলের পাশে একটি মেয়ের মরদেহ পড়ে থাকার খবর জাতীয় জরুরী সেবা (৯৯৯) এ আসে। লালমাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভিকটিমকে শনাক্তকরণসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করে। পরে, ভিকটিমের পিতা মরদেহটি শনাক্ত করেন এবং জানা যায়, ভিকটিমের নাম জান্নাতুল তাজমিন (১৫)। তার স্থায়ী ঠিকানা যশোর জেলা।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া আরও উল্লেখ করেন, ভিকটিম তার পিতার চাকরির কারণে পরিবারসহ কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন। জান্নাতুল তাজমিন (১৫) কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে লালমাই থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। মামলা রুজু হওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে আটক করা হয়।
আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভিকটিম ৮ অক্টোবর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে তার বাসা রেসকোর্সে যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করতে যায়। অটোরিকশা চালক সুমন মিয়াকে (৩৫) ৩০০ টাকা ভাড়ায় ঠিক করে তাজমিন। আসামি সুমন মিয়া তাকে শর্টকাট রাস্তা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নুরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন করে চাঁদপুরগামী রোড দিয়ে বিজরা বাজার হয়ে ঘটনাস্থলের দিকে চলে যায়।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুমন মিয়া তার সিএনজি বন্ধ করে দেয়। স্থানটি অন্ধকার ও নির্জন হওয়ায় ভিকটিম ভয় পায় এবং সুমন মিয়াকে জিজ্ঞাসা করে, "এটা কোন জায়গা?" তখন সুমন মিয়া বলে, "এটা রেসকোর্স না, এটা অন্য জায়গা।" এতে ভিকটিম ভয় পেয়ে সিএনজি থেকে নেমে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পালানোর সময় সিএনজিচালক সুমন মিয়া ভিকটিমকে আটকানোর চেষ্টা করলে ভিকটিম চিৎকার শুরু করে। তখন সুমন মিয়া তার গামছা ভিকটিমের গলায় পেঁচিয়ে ধরে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ভিকটিম দুর্বল হয়ে পড়ে।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামি সুমন জানায়, সে ভিকটিমকে ধর্ষণ করেছে। পরবর্তীতে, সুমন মিয়া ভিকটিমকে ধানক্ষেতে নিয়ে মাটিতে উপুড় করে রেখে তার মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে, ভিকটিমের ব্যবহৃত হ্যান্ডব্যাগ থেকে আইফোনটি নিয়ে নেয় এবং ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেয়।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
পরবর্তীতে সুমন মিয়া ঘটনাস্থলে তার সিএনজিটি রেখে কাছাকাছি মসজিদের সামনে গিয়ে পুকুরে গোসল করে এবং একটি ভাড়ায়চালিত সিএনজিতে করে ঝালমুড়ি বাজার যায়। ঝালমুড়ি বাজার এলাকায় একটি পুকুরের পাশে জঙ্গলে ভিকটিমের নিকট থেকে নেওয়া আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রাম চলে যায়। পরদিন অর্থাৎ গত ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে আসামি সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে ঝালমুড়ি এলাকার পুকুরের পাশের জঙ্গল থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন