প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট উপসর্গের অভাব থাকায় রোগটি শনাক্ত করতে দেরি হয়ে যায়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোর ফলে শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি সম্পর্কে অবগত হতে পারেন না। এর ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি সাধন করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন
১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া
ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমা হতে পারে। এছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলে শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া
পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমা হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা বা হৃদ্রোগের কারণে পা ফুলতে পারে।
৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি
কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা
কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন
প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন?
কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত।
তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্যান্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিডনির অবস্থা জানার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে।
মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
সূত্র: আনন্দবাজার
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন