ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস, সচেতনতার আহ্বান


আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস, সচেতনতার আহ্বান

বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন প্রায় তিন কোটি মানুষ। আক্রান্তদের একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে রয়েছেন। পারিবারিক সংকট, আর্থিক চাপ, সামাজিক বৈষম্য, মাদকাসক্তি এবং প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণে মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। দক্ষ চিকিৎসক ও সেবাকেন্দ্রের সংকট, সামাজিক কুসংস্কার এবং চিকিৎসা নিতে অনীহা এই সমস্যাগুলোকে আরও জটিল করে তুলছে।

আজ ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’। যারা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্য দিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন, তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নীতিনির্ধারণ ও চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থায় তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

জাতিসংঘ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা শোনা এবং তাদের মতামতের ভিত্তিতে কার্যকর নীতি ও সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় মানুষকে বাদ না দিয়ে তাদের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে। আবাসন, শিক্ষা, কাজ ও সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করে মানুষের নিজস্ব পরিবেশে সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ বাড়াতে হবে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ সালের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্কদের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ১২ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছেন। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে আক্রান্তদের ৯২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাননি। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দেশে এ হিসাব অনুযায়ী, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি।

উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০১৯ সালের পর থেকে দেশে নতুন কোনো জাতীয় পর্যায়ের মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ হয়নি। ফলে গত সাত বছরে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি কতটা বদলেছে, সে বিষয়ে হালনাগাদ ও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই। এ সময়ে করোনা মহামারি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আর্থিক চাপ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও নানা সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে দেশের মানুষ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব পরিস্থিতির প্রভাব মানসিক স্বাস্থ্যে পড়তে পারে। তবে নতুন জরিপ ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতির সুনির্দিষ্ট চিত্র জানা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের প্রায় অর্ধেকের মধ্যে অন্তত একটি মানসিক রোগ রয়েছে। ৩৪২ জন রোগীর ওপর পরিচালিত এ গবেষণায় ৪৮ দশমিক ৫৪ শতাংশের মধ্যে মানসিক রোগ শনাক্ত হয়। ক্যানসার বিভাগে ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে এ হার ৮৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। মেডিসিন বিভাগে ৫১ দশমিক ৬৪ শতাংশ, সার্জারি বিভাগে ৩৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং স্নায়ুরোগ বিভাগে ৩১ দশমিক ২৫ শতাংশ রোগীর মধ্যে মানসিক রোগ পাওয়া যায়। অথচ মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়েছিল মাত্র ৭ শতাংশ রোগীকে।

গবেষণাটি অধ্যাপক ডা. এমএমএ সালাউদ্দিন কাউসার বিপ্লবের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘হেলথ সায়েন্স রিপোর্টস’-এ এটি প্রকাশিত হয়।

আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

অধ্যাপক সালাউদ্দিন কাউসার বিপ্লব বলেন, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বিষণ্ণতা বা অন্য মানসিক সমস্যা দেখা দিলেও অনেক সময় মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয় না। বরং ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়, যা মানসিক রোগের মূল চিকিৎসা নয়। মনোরোগবিদ্যা বিভাগ থাকা হাসপাতালেও অন্য বিভাগের চিকিৎসকদের মধ্যে মানসিক সমস্যাকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। প্রয়োজনীয় সেবার ব্যবস্থাও অনেক হাসপাতালে নেই। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলা জরুরি।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বিষণ্ণতা ও উদ্বেগজনিত রোগের পাশাপাশি শুচিবায়ু, স্মৃতিভ্রংশ, দ্বিমেরু মেজাজজনিত রোগ, সিজোফ্রেনিয়া ও মাদকাসক্তির মতো সমস্যাও রয়েছে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যা, উদ্বেগ ও আচরণগত সমস্যাও দেখা যায়। ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সিদের মধ্যে মাদক গ্রহণের হার দেড় শতাংশ এবং ৭ থেকে ১১ বছর বয়সিদের ক্ষেত্রে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বড় বাধা হলো চিকিৎসক ও দক্ষ জনবলের ঘাটতি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন প্রায় ৩৮০ জন, মনোবিজ্ঞানী ৬০০ জন এবং মনোরোগ বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সমাজকর্মী মাত্র ১০ জন। প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা শূন্য দশমিক ১৯ জন এবং মনোবিজ্ঞানীর সংখ্যা শূন্য দশমিক ৩০ জন।

দেশে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাধারণ চিকিৎসক রয়েছেন ২১ হাজার ২৬৭ জন, স্বাস্থ্যকর্মী ৯ হাজার ৪০০ জন এবং নার্স ২৮ হাজার ১৬৫ জন। তবে প্রশিক্ষিত জনবল থাকলেও তাঁদের যথাযথভাবে কাজে লাগানো, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং মানুষের নাগালের মধ্যে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: ক্যানসার হাসপাতালগুলোতে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বড় অংশ এখনো বিশেষায়িত হাসপাতাল ও বড় শহরকেন্দ্রিক। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ৪০০ শয্যা, পাবনা মানসিক হাসপাতালে ৫০০ শয্যা এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগে ৪০ শয্যা রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগে শয্যা রয়েছে প্রায় ১৫০টি। জনসংখ্যার তুলনায় এ ব্যবস্থাপনা সীমিত।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. তৈয়বুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি কমাতে সেবার বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। বর্তমানে মূলত রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলোতে এ সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি সেবা সম্প্রসারণ, সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজে মনোরোগবিদ্যা বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের পদ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি বলেন, অন্তত পাঁচ বছর পরপর জাতীয় জরিপ হওয়া উচিত। ২০১৯ সালের পর নতুন জরিপ না হওয়ায় দেশের মানুষের বর্তমান মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সুনির্দিষ্টভাবে জানা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টসের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. নিজাম উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, সচেতনতার অভাব, ভুল ধারণা, দক্ষ জনবলের সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা ও অপর্যাপ্ত বাজেট মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বড় বাধা। এসব কারণে অনেক রোগী অপচিকিৎসার শিকার হন। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ, মেডিকেল কলেজে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং বিশেষজ্ঞদের পদ সৃষ্টির বাধা দূর করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্য বলতে শুধু মানসিক রোগকে বোঝায় না। মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সম্পর্ক, কাজ, পড়াশোনা ও সামাজিক যোগাযোগের সঙ্গেও এটি গভীরভাবে জড়িত। পারিবারিক দ্বন্দ্ব, সম্পর্কের টানাপোড়েন, বেকারত্ব, আর্থিক সংকট, প্রিয়জনের মৃত্যু, বৈষম্য ও মাদকাসক্তি মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। ইন্টারনেট ও মুঠোফোনে অতিরিক্ত সময় কাটানো, অনলাইন জুয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যখাতের বাজেটের বড় অংশ ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যয় হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মানসিক কষ্টকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা, চিকিৎসা নেওয়াকে লজ্জার বিষয় মনে করা কিংবা সময়ের সঙ্গে সমস্যা নিজে থেকেই সেরে যাবে বলে ধরে নেওয়ার প্রবণতায় অনেকেই সহায়তা চান না। অথচ বিষণ্ণতা, উদ্বেগ ও অন্যান্য মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির যথাসময়ে চিকিৎসা ও পারিবারিক সহযোগিতা পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক সংকট আত্মহত্যার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সহজলভ্য চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক গুরুতর পরিস্থিতি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

এবারের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে তাই শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিদের কথা শোনার আহ্বানই জানানো হচ্ছে না; তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাস্তব পরিবর্তন আনার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষকে শুধু নিজেদের অভিজ্ঞতা বলার সুযোগ দিলেই হবে না। নীতি প্রণয়ন, চিকিৎসাসেবা পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নেও তাঁদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশেও মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে হাসপাতালের গণ্ডি থেকে বের করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি সামাজিক কুসংস্কার দূর করা, দক্ষ জনবল বাড়ানো, পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ এবং নিয়মিত জাতীয় জরিপের মাধ্যমে পরিস্থিতি মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার ভাষ্য, শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি, সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনমানের উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক অসুস্থতাকে ঘিরে ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপজেলা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে সেবার পরিধি বাড়ানো, দক্ষ জনবল তৈরি, কার্যকর রোগী পাঠানোর ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরামর্শসেবা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিনামূল্যে অনলাইন কোর্সে আবেদন করার পদ্ধতি

বিশ্বজুড়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ১৯৯২ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের আয়োজনের মূল বার্তা—মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান করা এবং সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চিকিৎসা ও সহায়তাব্যবস্থায় কার্যকর পরিবর্তন আনা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ পি.এম


লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হোন

লিভারের অসুখ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে প্রকাশ পায় না। প্রাথমিক অবস্থায় অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। এর ফলে রোগের জটিলতা অজান্তেই বাড়তে পারে। জন্ডিস, পেট ফুলে যাওয়া কিংবা হজমের সমস্যা লিভারের অসুখের পরিচিত লক্ষণ হিসেবে ধরা হলেও হাত-পায়ের কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তনও লিভারের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।

লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ অথবা সিরোসিসের মতো জটিলতায় ত্বক, নখ ও রক্তনালিতে বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যে লিভারের রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

হাত-পায়ের যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন

১. হাতের তালু লাল হয়ে যাওয়া

হাতের তালু স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি লাল হয়ে যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘পালমার এরিথেমা’ বলা হয়। লিভারের দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। সাধারণত দুই হাতের তালুতেই লালচে ভাব দেখা দেয়। কখনো তালু গরমও অনুভূত হতে পারে।

তবে হরমোনের পরিবর্তনসহ অন্যান্য কারণে হাতের তালু লাল হতে পারে। তাই শুধুমাত্র এ লক্ষণ দেখে লিভারের রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়।

২. নখের রং ও গঠনে পরিবর্তন

নখের রং ফ্যাকাশে বা সাদাটে হয়ে যাওয়া এবং গঠনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিছু ক্ষেত্রে লিভারের দীর্ঘস্থায়ী রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বিশেষ করে নখের বড় অংশ সাদা দেখানো এবং প্রান্তে তুলনামূলক গাঢ় রং দেখা দেওয়ার মতো পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।

তবে রক্তস্বল্পতা, পুষ্টির ঘাটতি ও ছত্রাকের সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণে নখের রং ও গঠন বদলে যেতে পারে। দীর্ঘদিন এমন পরিবর্তন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৩. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া

লিভারের গুরুতর রোগে শরীরে তরল জমে পা ও গোড়ালি ফুলে যেতে পারে। লিভারের কার্যক্ষমতা কমে গেলে রক্তে অ্যালবুমিন নামের প্রোটিনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে পেটেও তরল জমে পেট ফুলে যেতে পারে।

তবে পা ফোলার পেছনে হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি কিংবা শিরার সমস্যাও থাকতে পারে। বিশেষ করে হঠাৎ এক পা ফুলে গেলে এবং ব্যথা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

৪. ত্বকে জালের মতো লাল রক্তনালি দেখা দেওয়া

ত্বকের ওপর ছোট লাল বিন্দু থেকে মাকড়সার জালের মতো সূক্ষ্ম রক্তনালি ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেলে তাকে ‘স্পাইডার অ্যাঞ্জিওমা’ বলা হয়। লিভারের দীর্ঘস্থায়ী রোগ, বিশেষ করে সিরোসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এ ধরনের লক্ষণ দেখা যেতে পারে।

হরমোনের পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে ত্বকের ওপরের রক্তনালিগুলো এভাবে দৃশ্যমান হয়। তবে ত্বকে দৃশ্যমান সব শিরা বা রক্তনালিই লিভারের রোগের লক্ষণ নয়।

৫. হাত-পায়ে ঝিনঝিনি, অসাড়তা বা ব্যথা

হাত-পায়ে বারবার ঝিনঝিনি অনুভব করা, অসাড় হয়ে যাওয়া কিংবা জ্বালাপোড়া ও ব্যথা স্নায়ুর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। কিছু লিভার রোগের সঙ্গে স্নায়ুর ক্ষতির সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণের কারণে লিভারের পাশাপাশি স্নায়ুও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হেপাটাইটিস সি-র মতো কিছু সংক্রমণের সঙ্গেও স্নায়ুজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তবে ডায়াবেটিস, ভিটামিনের ঘাটতি কিংবা স্নায়ুতে চাপ পড়ার কারণেও এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই সমস্যার প্রকৃত কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

লিভারের রোগ সন্দেহ হলে কী করবেন?

হাত-পায়ের এসব পরিবর্তন দেখা দিলেই লিভারের রোগ হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। তবে এসব লক্ষণের পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব, চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া কিংবা পেট ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক লিভার ফাংশন টেস্ট, অন্যান্য রক্ত পরীক্ষা কিংবা আলট্রাসনোগ্রামের পরামর্শ দিতে পারেন। পরীক্ষার ফলাফল ও রোগের ধরন বিবেচনায় চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।

লিভারের রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা কমানো সম্ভব। তাই শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তন অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫১ পি.এম


মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতা ও সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে পরিবার ও সমাজের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষে বাংলাদেশে দিবসটি পালনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

রাষ্ট্রপতি বাণীতে উল্লেখ করেন, দেশের সকল নাগরিকের সার্বিক মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে, যা সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি হতে হবে।

এ বছরের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’ বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং নীতিনির্ধারণ ও সেবা পরিকল্পনায় তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি এ প্রতিপাদ্যের মূল বার্তা।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য মানুষের সার্বিক সুস্থতা, কর্মক্ষমতা ও জীবনমানের একটি অপরিহার্য অংশ। পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতি, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সামাজিক অস্থিরতা, একাকিত্ব, মাদকাসক্তি, পারিবারিক ও কর্মক্ষেত্রের চাপ এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রতিকূলতা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। তাই শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘মানসিক সুস্থতাসম্পন্ন ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে- এ প্রত্যাশা করি।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সমন্বিত করার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা শনাক্ত করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ সেবা পৌঁছে দিতে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

এছাড়া ঝাড়ফুঁক বা অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতির পরিবর্তে যথাযথ চিকিৎসাসেবা গ্রহণের বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এআইয়ের যুগে নতুনভাবে ঘরে বসে আয়ের সুযোগ সৃষ্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫১ পি.এম


এআইয়ের যুগে নতুনভাবে ঘরে বসে আয়ের সুযোগ সৃষ্টি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ঘরে বসে আয়ের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে। লেখালেখি, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও সম্পাদনা, প্রোগ্রামিং এবং গবেষণার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআইয়ের সহায়তায় কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু শুধুমাত্র এআই টুল ব্যবহার করলেই আয় নিশ্চিত হয় না; প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা, নিয়মিত অনুশীলন এবং মানসম্মত কাজের অভিজ্ঞতা।

একসময় অনলাইনে কাজ শিখতে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ এবং কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হতো। বর্তমানে এআই বিভিন্ন কাজের প্রাথমিক ধাপগুলোকে সহজ করে দিয়েছে। এর ফলে নতুনদের জন্য ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

লেখালেখি ও ডিজিটাল মার্কেটিং

এআই ব্যবহার করে ব্লগ, ওয়েবসাইটের কনটেন্ট, পণ্যের বিবরণ, বিজ্ঞাপনের লেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং ই-মেইলের খসড়া তৈরি করা সম্ভব। এতে কাজের সময় কমানোর পাশাপাশি একসঙ্গে একাধিক প্রকল্প পরিচালনা করা সহজ হয়ে যায়।

তবে এআই দ্বারা তৈরি লেখা যাচাই ও সম্পাদনা না করে সরাসরি ব্যবহার করা উচিত নয়। তথ্যের নির্ভুলতা, ভাষার স্বাভাবিকতা, মৌলিকত্ব এবং পাঠকের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করতে পারলে এ খাতে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

গ্রাফিক ডিজাইনে নতুন সুযোগ

গ্রাফিক ডিজাইনের ক্ষেত্রেও এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন এআইভিত্তিক ডিজাইন টুলের মাধ্যমে পোস্টার, প্রেজেন্টেশন, বিজ্ঞাপনের ভিজ্যুয়াল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রাফিক এবং ডিজিটাল টেমপ্লেট তৈরি করা সম্ভব।

ডিজাইনের মৌলিক ধারণা, রং ও ফন্টের ব্যবহার এবং গ্রাহকের চাহিদা বুঝে কাজ করার দক্ষতা থাকলে এসব সেবা দিয়ে আয় করা সম্ভব। বিশেষ করে ছোট ব্যবসা এবং অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র।

ভিডিও কনটেন্ট তৈরিতে আয়

ইউটিউব, ফেসবুক এবং শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্মে কনটেন্টের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভিডিও সম্পাদনা ও নির্মাণের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। এআই টুল ব্যবহার করে ভিডিওর স্ক্রিপ্ট তৈরি, সাবটাইটেল যোগ, ভয়েসওভার এবং ভিডিও সম্পাদনার কিছু ধাপ সহজ করা যায়।

ব্যবসায়িক বিজ্ঞাপন, প্রচারণামূলক ভিডিও কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট তৈরি করে কাজ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে ভালো ভিডিও তৈরির জন্য গল্প বলার কৌশল, সম্পাদনা, উপস্থাপনা এবং দর্শকের চাহিদা বোঝার দক্ষতা প্রয়োজন।

প্রোগ্রামিং ও সফটওয়্যার তৈরিতে সহায়তা

এআইভিত্তিক কোডিং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামিং শেখা এবং সফটওয়্যার তৈরির কাজে সহায়ক হয়ে উঠেছে। কোডের খসড়া তৈরি, ত্রুটি শনাক্ত, প্রোগ্রামিংয়ের ধারণা ব্যাখ্যা এবং নতুন ফিচার তৈরির সম্ভাব্য উপায় খুঁজতে এসব টুল ব্যবহার করা যায়।

এতে নতুন ডেভেলপারদের শেখার প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। তবে এআইয়ের দেওয়া কোড যাচাই না করে ব্যবহার করলে ত্রুটি ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রোগ্রামিংয়ের মৌলিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি কোড পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের দক্ষতাও অপরিহার্য।

গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণেও সুযোগ

দীর্ঘ নথি বা গবেষণাপত্রের সারাংশ তৈরি, তথ্য শ্রেণিবদ্ধ করা, গবেষণার প্রশ্ন নির্ধারণ এবং প্রাথমিক নোট তৈরিতে এআই সময় বাঁচাতে পারে। এসব দক্ষতা কাজে লাগিয়ে গবেষণা সহায়তা ও তথ্য বিশ্লেষণসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পে কাজের সুযোগ খোঁজা যেতে পারে।

তবে এআইয়ের দেওয়া তথ্য, সূত্র ও রেফারেন্সের নির্ভুলতা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এআই কখনো ভুল তথ্য বা অস্তিত্বহীন সূত্রও উপস্থাপন করতে পারে।

কীভাবে শুরু করবেন?

এআই ব্যবহার করে অনলাইনে আয় করতে চাইলে শুরুতেই একাধিক ক্ষেত্র শেখার চেষ্টা না করে নিজের আগ্রহ ও দক্ষতা অনুযায়ী একটি বিষয় বেছে নেওয়া ভালো। এরপর সংশ্লিষ্ট কাজের মৌলিক জ্ঞান অর্জন, প্রয়োজনীয় এআই টুলের ব্যবহার শেখা এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নমুনা কাজ তৈরি করতে হবে।

নিজের কাজের মান তুলে ধরতে একটি ভালো পোর্টফোলিও তৈরি করা যেতে পারে। পরে স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পরিচিত গ্রাহক কিংবা আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কাজ খোঁজা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়াও সাধারণভাবে বলা যায়, এআইকে সহজে অর্থ আয়ের কোনো নিশ্চিত মাধ্যম হিসেবে না দেখে কাজের দক্ষতা বাড়ানোর সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করাই যুক্তিযুক্ত। কারণ, এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে সঠিক তথ্য যাচাই, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধান এবং মানসম্মত কাজ দেওয়ার সক্ষমতা।

সব মিলিয়ে, এআই ঘরে বসে আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও সফলতার জন্য প্রয়োজন দক্ষতা, ধারাবাহিক অনুশীলন এবং গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করার সক্ষমতা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্রের বিধিনিষেধ শিথিল, প্রয়োগ বন্ধের ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫২ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্রের বিধিনিষেধ শিথিল, প্রয়োগ বন্ধের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বিশেষ ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে ১৯৩৪ সালে প্রণীত আইনের কিছু বিধান কার্যকর করার প্রক্রিয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আদালত ওই আইনের একটি বড় অংশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার পর এই ঘোষণা আসে। এর ফলে ছোট নলের রাইফেল, ছোট নলের বন্দুক এবং শব্দনিরোধক যন্ত্রসহ নির্দিষ্ট কিছু আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি, রাখা ও হস্তান্তরের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্ব অনুমোদনের প্রয়োজন আর থাকছে না।

মদ, তামাক, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকবিষয়ক ব্যুরো (এটিএফ), যা যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অধীনে একটি কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করে জানায় যে, এই সিদ্ধান্ত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। গত মাসে বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে না।

তবে নতুন নির্দেশনা অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের আইন বাতিল করছে না। এসব আগ্নেয়াস্ত্রের বিক্রি সীমিত করার পাশাপাশি অনেক অঙ্গরাজ্যে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতাও বিদ্যমান রয়েছে। সুতরাং স্বেচ্ছায় জমা দেওয়া নিবন্ধনের আবেদনগুলো আগের মতোই প্রক্রিয়াকরণ করবে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।

গত মাসে সিবিএস নিউজের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিচার বিভাগকে আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। টেক্সাসের একটি আদালতের রায়ে একসময় দুষ্কৃতকারীদের অস্ত্র হিসেবে পরিচিত কিছু আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়।

১৯৩৪ সালের জাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র আইন অনুযায়ী, আইনের আওতাভুক্ত অস্ত্র বা যন্ত্র তৈরি, রাখা কিংবা বিক্রি করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মদ, তামাক, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকবিষয়ক কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে বিস্তারিত লিখিত আবেদন জমা দিতে হতো। এছাড়া আরও কিছু নিয়ম মেনে চলতে হতো। আইনটি নিষিদ্ধ মদ বিক্রির সময়কালে অপরাধী চক্রের সদস্যদের ব্যবহৃত বিপজ্জনক ও সহজে লুকিয়ে বহনযোগ্য অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছিল।

তবে গত আগস্টে টেক্সাসের উত্তরাঞ্চলীয় জেলার কেন্দ্রীয় বিচারক জেমস ওয়েসলি হেনড্রিকস আইনটির বেশির ভাগ বিধিনিষেধকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। গত বছর কংগ্রেস এসব অস্ত্রের ওপর আরোপিত ২০০ ডলারের কর তুলে নেওয়ার পর এ রায় আসে। বিচারকের যুক্তি ছিল, কর থেকে রাজস্ব আয় না হলে কর আরোপের ক্ষমতার ভিত্তিতে আইনটির নিয়ন্ত্রণমূলক বিধান বহাল রাখা যায় না।

১৫টি অঙ্গরাজ্য এবং আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকার নিয়ে কাজ করা কয়েকটি সংগঠন ও ব্যক্তি সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তাদের মধ্যে ছিল গান ওনার্স অব আমেরিকা ও গান ওনার্স ফাউন্ডেশন। দুটি মামলা একত্র করে শুনানির পর আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন।

বিচার বিভাগের অনেক আইনজীবী রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুপারিশ করেছিলেন। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত চলমান ফৌজদারি মামলাগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং কংগ্রেসের পাস করা আইন রক্ষায় সরকারের দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আদালতের রায় সরাসরি শুধু মামলার পক্ষগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও বিচারকের নির্দেশনায় মামলাকারী অস্ত্র অধিকার সংগঠনগুলোর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সদস্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ফলে আইনটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের আইনজীবী ও সরকারি কৌঁসুলিরা জটিলতার মুখে পড়েন। গান ওনার্স অব আমেরিকার সাধারণ সদস্যপদের মূল্য মাত্র ২৫ ডলার হওয়ায় সংগঠনটির সদস্য হওয়ার মাধ্যমে রায়ের সুবিধা পাওয়ার সুযোগও তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় সংস্থাটি জানায়, জাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র আইনের মামলাসংশ্লিষ্ট বিধানগুলো আর প্রয়োগ করা হবে না। বিশেষ করে ছোট নলের রাইফেল, ছোট নলের বন্দুক, শব্দনিরোধক যন্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অস্ত্র বা যন্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে তৈরি, রাখা ও হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%