১০:২৪ পি.এম
নড়াইলে সংঘটিত একটি ডাকাতির ঘটনায় তিন দিনের বিশেষ অভিযানের মধ্যে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্য এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণ কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই সময় ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত গলিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ডাকাতরা নড়াইল এবং খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি করে আসছিল বলে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়া সার্কেল) রবিন হালদার গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন জাকির মোল্লা ওরফে জেকের আলী (৪৮), জাকির হোসেন তালুকদার ওরফে কাটাপ্পা (৫৪), পারভেজ মৃধা ওরফে দারোগা (৩৬), মফিজ খাঁ (৩৮), দীন ইসলাম মোল্লা (৪২) এবং খুলনার রূপসা উপজেলার স্বর্ণকার সরজিৎ কর (৪৫)। তাদের মধ্যে প্রথম পাঁচজন ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য এবং সরজিৎ কর ডাকাতির লুণ্ঠিত স্বর্ণ কেনার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
পুলিশ জানায়, গত ৮ জুন দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে নড়াইলের নড়াগাতী থানার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের পাখিমারা (মধ্যপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা সালাহ উদ্দীন খানের বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল হানা দেয়। ডাকাতরা দেশীয় ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সালাহ উদ্দীন খানের দুই হাত পিছনে বেঁধে ফেলে এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে আলমারির চাবি ছিনিয়ে নেয়। পরে আলমারি খুলে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে। যাওয়ার সময় তারা সালাহ উদ্দীন খান এবং তার ছোট ছেলে আশিকুর রহমানকে হাত বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
একটি ডাকাতির ঘটনায় ভুক্তভোগী সালাহ উদ্দীন খান পরের দিন (৯ জুন) নড়াগাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সিসিআইসি ও নড়াগাতী থানার একাধিক টিম যৌথ অভিযান শুরু করে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে নড়াগাতীর পাখিমারা গ্রামের ওই ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তারা বিভিন্ন সময় নড়াইল এবং খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার কথাও জানিয়েছেন। ডাকাতির সময় তারা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে বিভিন্ন ছদ্মনাম যেমন- কাটাপ্পা, দারোগা ব্যবহার করতেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক ডাকাতি ও চুরির মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জাকির মোল্লা ওরফে জেকের আলীর বিরুদ্ধে খুলনা, বাগেরহাট এবং গোপালগঞ্জ জেলায় দুটি ডাকাতি এবং তিনটি চুরির মামলা রয়েছে। এছাড়া, পারভেজ মৃধা ওরফে দারোগার বিরুদ্ধে খুলনা এবং গোপালগঞ্জে তিনটি ডাকাতি ও একটি চুরির মামলা রয়েছে। জাকির হোসেন তালুকদার ওরফে কাটাপ্পার বিরুদ্ধে নড়াইল, গোপালগঞ্জ এবং খুলনায় তিনটি ডাকাতি এবং একটি চুরির মামলা রয়েছে। মফিজ খাঁর বিরুদ্ধে নড়াইল ও গোপালগঞ্জে দুটি ডাকাতি এবং একটি চুরির মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়া সার্কেল) রবিন হালদার জানিয়েছেন, গত ২ জুলাই থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত নড়াইল, খুলনা এবং গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গলিত অবস্থায় থাকা লুণ্ঠিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন