বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৩ পি.এম
দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, "আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ নেই।"
এই দাবি তিনি বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ সচেতনামূলক লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠানে করেছেন।
রিজভী মন্তব্য করেন, "আওয়ামী লীগ ছিল এক অপপ্রচারকারী দল। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গুপ্ত দল। গুপ্তদের সঙ্গে অপপ্রচারে কেউ পারছে না।"
তিনি আরও বলেন, "জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কের প্রমাণ রয়েছে। তারা আওয়ামী লীগকে প্রথম ক্ষমা করেছিল।"
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী দাবি করেন, গুপ্তদের আচরণ সবসময় একই থাকে এবং "বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার কোন প্রমাণ নেই।"
তিনি উল্লেখ করেন, "নির্বাচনী ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলা হয়েছিল। সেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কারণে ৫ শতাংশ দারিদ্র্য কমে আসবে।"
দুর্গোৎসব প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, "সরকারের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার কারণে সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিদেশিরাও অংশ নিয়েছেন।"
এছাড়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানান, রাজধানীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউট (এএফআই) আজীবন সম্মাননা প্রদান করতে যাচ্ছে হলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা টম ক্রুজকে। ৫২তম এএফআই লাইফ অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডের জন্য তাকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
আগামী বছরের ২৪ এপ্রিল, হলিউডের ডলবি থিয়েটারে অনুষ্ঠিত একটি জমকালো অনুষ্ঠানে টম ক্রুজের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
এএফআইয়ের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারপারসন ক্যাথলিন কেনেডি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন,
"টম ক্রুজ বিশ্বজুড়ে পরিচিত একজন আইকন। তিনি অভিনেতা এবং প্রযোজক হিসেবে নিজের প্রতিটি কাজের প্রতি অসাধারণ নিষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন। তার যে বিষয়টি আমার সবচেয়ে ভালো লাগে তা হলো সিনেমা এবং এর মাধ্যমে মানুষকে একত্র করার শক্তিতে প্রবল বিশ্বাস।"
তিনি আরও বলেন,
সিনেমার প্রতি তার এই গভীর ভালোবাসা তাকে বিশ্বজুড়ে মার্কিন চলচ্চিত্রের একজন অসাধারণ দূত করে তুলেছে। ৫২তম এএফআই লাইফ অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড তার হাতে তুলে দিতে পারা আমাদের জন্য একটি সম্মানের বিষয়।
হলিউডের এই অভিনেতা টম ক্রুজ ১৯৮১ সালে অভিনয়জীবন শুরু করেন। ৬৪ বছর বয়সী এই তারকা চার দশকের বেশি সময় ধরে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও কাজ করছেন। তার অভিনীত সিনেমাগুলোর বিশ্বব্যাপী আয় ১৩.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। তিনি 'টপ গান', 'মিশন: ইমপসিবল', 'জেরি ম্যাগুয়ার' ও 'মাইনরিটি রিপোর্ট'-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। তবে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার জন্য আরও কিছুটা সময় লাগবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পাবেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে যাতে দ্রুত নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আনা যায়। তবে কিছুটা দেরি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মাউশির মহাপরিচালক আরও বলেন, "আমরা চাই, শিক্ষক-কর্মচারীরা যেন দ্রুত নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পান।" অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে। যদিও কিছুটা দেরি হতে পারে, তবে শিক্ষকদের নতুন পে-স্কেলে বেতন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গত ১ জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করার পরিপত্র অর্থ মন্ত্রণালয় জারি করেছে। সরকারি চাকরিজীবীরা চলতি অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে তিন মাসের বকেয়া বেতন পেতে পারেন। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের আওতায় আনতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে আদেশ জারি করা হবে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো দিন-তারিখ এখনও জানানো হয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে ছয় লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে মাউশির অধীন প্রায় চার লাখ, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে তারা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা পাচ্ছেন। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ঠিক কবে থেকে নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পাবেন, তা জানতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী আদেশের অপেক্ষায় থাকতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিশেষ রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরের প্রেক্ষাপটে ফেসবুকে ‘স্নাইপার’ সম্পর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় আসা যুবক আবু বকরকে আটক করেছে।
রাজশাহী এসআরবি-৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফয়সাল ইশতিয়াক জানিয়েছেন, বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে পবা থানা এলাকা থেকে আবু বকরকে আটক করা হয়। পরে তাকে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শারদীয় দুর্গোৎসবের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করতে রাজশাহী যান। শাহ মখদুম বিমানবন্দরে নামার পর সরকারপ্রধান রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে করে নগরীতে প্রবেশ করেন। এই সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও বাস থেকে হাত নেড়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন।
‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত বাস নিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে লেখা হয়, ‘সবই বুঝলাম, রাজশাহীতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লাল-সবুজ বুলেটপ্রুফ বাসটা কই? রুয়েটের বাসে কেন? আপনারা কী জানেন রাজশাহীবাসী?’
পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘ইস! একটা বড় সুযোগ ছিল। শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’।
মন্তব্যটির উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে কোনো বাস্তব হুমকির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।
এদিকে, ফেসবুকে মন্তব্যটি ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হয়ে ওঠে। আবু বকরকে শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, আটক আবু বকরকে ডিএমপির ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পুরাতন বাণিজ্যমেলা মাঠের মালিকানা নিয়ে গণপূর্ত এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অবস্থান পাল্টাপাল্টি। উভয় পক্ষই নিজেদের মালিকানা দাবি করে আসছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানাচ্ছে, প্রয়োজন হলে তারা আইনি লড়াইয়ে যেতে প্রস্তুত। গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারি মালিকানাধীন খালি মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্থপতি ইকবাল হাবিব পরিবেশগত দিক বিবেচনা করে শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রশাসনিক কাঠামো নির্মাণ না করে বিকল্প স্থান খোঁজার পরামর্শ দেন।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সচিবালয়। গত পাঁচ দশকে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা এবং কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন ও পুরাতন মিলে গাদাগাদি করে সাড়ে ১৭ একর জমিতে ১৩টি ভবনের ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুট জায়গায় সংকুলান হচ্ছে না। এর আগে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
শেরেবাংলা নগরের পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে সাড়ে ৩১ একর জমিতে পার্কিং, লেক এবং সবুজায়নের নকশায় ৩৩ লাখ বর্গফুটের ১২ তলা বিশিষ্ট ১৪টি ভবন নির্মাণ করে সচিবালয় স্থানান্তরের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সরকারের সিদ্ধান্তের পর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন প্রফেসর ড. এম সালাহউদ্দিন বিরোধিতা করে মাঠটি উন্মুক্ত স্থান, খেলার মাঠ বা কৃষি গবেষণায় কাজে লাগানোর প্রস্তাব দেন। তিনি দাবি করেন, জায়গাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি।
তিনি বলেন, "আইনগতভাবে, দলিল-দস্তাবেজে এটি শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি। সরকারকে এটি নিতে হলে ক্রোক করে নিতে হবে। সরকার দাবি করছে এটি সরকারের জায়গা, আর আমি দাবি করছি এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা। এই বিষয়টি আদালত সমাধান করবেন। সরকারের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। আমরা শুধুমাত্র সরকারকে বলতে চাই, আপনারা বিকল্প খুঁজে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বা পরিবেশের জন্য খালি রাখেন।"
গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর জানান, জমিটি সরকারি সম্পত্তি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হচ্ছে। স্থানান্তরের পর বর্তমান সচিবালয়ের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, "১৬ ডিসেম্বর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এটি সরকারের জায়গা। খালি জায়গা পেয়ে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতো। এই জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়নি। অবশ্যই এটি ব্যবহার করা হবে।"
তবে পরিবেশগত দিক চিন্তা করে, সরকারি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব।
তিনি বলেন, "সকলের একটা পরামর্শভিত্তিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে প্রত্যাশিত। আমরা পরিবেশবাদীরা সে কারণে আবার পুনর্বিবেচনা করার কথা বলছি। বাধা দিচ্ছি না। আমরা ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করছি বর্তমানের না।"
লুই আই কানের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৯ সালে নতুন স্থানে অফিস শুরু হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ