প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পুরাতন বাণিজ্যমেলা মাঠের মালিকানা নিয়ে গণপূর্ত এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অবস্থান পাল্টাপাল্টি। উভয় পক্ষই নিজেদের মালিকানা দাবি করে আসছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানাচ্ছে, প্রয়োজন হলে তারা আইনি লড়াইয়ে যেতে প্রস্তুত। গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারি মালিকানাধীন খালি মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্থপতি ইকবাল হাবিব পরিবেশগত দিক বিবেচনা করে শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রশাসনিক কাঠামো নির্মাণ না করে বিকল্প স্থান খোঁজার পরামর্শ দেন।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সচিবালয়। গত পাঁচ দশকে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা এবং কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন ও পুরাতন মিলে গাদাগাদি করে সাড়ে ১৭ একর জমিতে ১৩টি ভবনের ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুট জায়গায় সংকুলান হচ্ছে না। এর আগে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
শেরেবাংলা নগরের পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে সাড়ে ৩১ একর জমিতে পার্কিং, লেক এবং সবুজায়নের নকশায় ৩৩ লাখ বর্গফুটের ১২ তলা বিশিষ্ট ১৪টি ভবন নির্মাণ করে সচিবালয় স্থানান্তরের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সরকারের সিদ্ধান্তের পর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন প্রফেসর ড. এম সালাহউদ্দিন বিরোধিতা করে মাঠটি উন্মুক্ত স্থান, খেলার মাঠ বা কৃষি গবেষণায় কাজে লাগানোর প্রস্তাব দেন। তিনি দাবি করেন, জায়গাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি।
তিনি বলেন, "আইনগতভাবে, দলিল-দস্তাবেজে এটি শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি। সরকারকে এটি নিতে হলে ক্রোক করে নিতে হবে। সরকার দাবি করছে এটি সরকারের জায়গা, আর আমি দাবি করছি এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা। এই বিষয়টি আদালত সমাধান করবেন। সরকারের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। আমরা শুধুমাত্র সরকারকে বলতে চাই, আপনারা বিকল্প খুঁজে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বা পরিবেশের জন্য খালি রাখেন।"
গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর জানান, জমিটি সরকারি সম্পত্তি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হচ্ছে। স্থানান্তরের পর বর্তমান সচিবালয়ের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, "১৬ ডিসেম্বর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এটি সরকারের জায়গা। খালি জায়গা পেয়ে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতো। এই জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়নি। অবশ্যই এটি ব্যবহার করা হবে।"
তবে পরিবেশগত দিক চিন্তা করে, সরকারি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব।
তিনি বলেন, "সকলের একটা পরামর্শভিত্তিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে প্রত্যাশিত। আমরা পরিবেশবাদীরা সে কারণে আবার পুনর্বিবেচনা করার কথা বলছি। বাধা দিচ্ছি না। আমরা ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করছি বর্তমানের না।"
লুই আই কানের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৯ সালে নতুন স্থানে অফিস শুরু হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন