ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাত জেলায় বন্যায় লাখো পরিবার পানিবন্দী, মৃ তের সংখ্যা বেড়ে ৫১


সাত জেলায় বন্যায় লাখো পরিবার পানিবন্দী, মৃ তের সংখ্যা বেড়ে ৫১

দেশের সাতটি জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে বহু এলাকায় ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়ে গেছে, কোথাও আবার পাহাড়ধসে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ তথ্যে এ দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবিক সংকটে রয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১০ লাখ অতিক্রম করেছে।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে বাড়ি শেলী আক্তারের মাটির ঘরের মেঝে এখনো পানির নিচে রয়েছে। তিনি পাঁচ দিন ধরে কোনো ঘুম পাননি। ছয় সন্তান নিয়ে প্লাস্টিকের ঝুড়ি ও কাঠের তক্তা বিছিয়ে কোনোমতে মাচা বানিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

এ সময় চট্টগ্রামের স্থানীয় ভাষায় শেলী আক্তার বলেন, ‘চোখত ঘুম নাই, পেডত ভাত নাই। বইন্যার পানি হত্তে নামিব, ন জানি। এরহম দুর্দশাত ক্যানে পইড়লাম। আরেক্কান ঘর তুলিবার টিঁয়াও নাই।’

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

শেলী আক্তারের মতো অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির লাখো মানুষ। চট্টগ্রাম বিভাগের এই পাঁচ জেলা ছাড়াও সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জও এখন বন্যার কবলে পড়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ১২ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বন্যাপ্লাবিত হয়েছে এসব জেলার ৫৯টি উপজেলা। বন্যায় পানিবন্দী পরিবার ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বন্যাপ্লাবিত হয়েছে এসব জেলার ৫৯টি উপজেলা। বন্যায় পানিবন্দী পরিবার ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন।

মন্ত্রণালয়ের হিসাবে বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১। শনিবার মৃতের সংখ্যা ছিল ৪৪। এ দুর্যোগে সর্বোচ্চ ২৮ জন মারা গেছেন কক্সবাজারে। এর বাইরে চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬, রাঙামাটিতে ৩ ও মৌলভীবাজারে ১ জন মারা গেছেন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৫ জুলাই থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। ৫ জুলাই সকাল ৬টা থেকে রোববার বেলা তিনটা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৫৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় অহংকারে বৃষ্টি হয়েছে ১৫১ দশমিক ৭ মিলিমিটার। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই-তিন দিনেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

চট্টগ্রামের পর সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও প্রাথমিক বন্যা শুরু হয়।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া রোববার রাতে বলেন, দেশের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ চট্টগ্রাম অঞ্চলে এক দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে সিলেট বিভাগের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে কি না, তা নির্ভর করছে বৃষ্টি কতটা হয় তার ওপর।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, দেশের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ চট্টগ্রাম অঞ্চলে এক দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। এ ছাড়া সিলেট বিভাগের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে কি না, তা নির্ভর করছে বৃষ্টি কতটা হয় তার ওপর।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

চট্টগ্রাম অঞ্চলে একের পর এক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে; ভেঙেছে সড়ক, বিচ্ছিন্ন হয়েছে যোগাযোগ। কোথাও পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। কোথাও নতুন করে বাড়ছে। কোনো এলাকায় মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করলেও নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই। কোথাও ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে, কোথাও দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছায়নি সহায়তা।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ জনপদ এখনো কার্যত অবরুদ্ধ। বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশের বহু গ্রামে কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরপানি নিয়ে মানুষ দিন কাটাচ্ছেন। বিশুদ্ধ পানির উৎস ডুবে থাকার কারণে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। অনেক এলাকায় রান্না করা যাচ্ছে না। ভেঙে পড়া কাঁচা ঘর, নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসল এবং গবাদিপশুর ক্ষতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন মানুষ।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর অনেক এলাকায় এখনো ঘরের ভেতরে পানি রয়েছে। কোথাও কোথাও পানি কমলেও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ হয়নি। কাঁচা ঘরের দেয়াল ধসে পড়েছে, খাদ্যশস্য নষ্ট হয়ে গেছে। অধিকাংশ নলকূপ এখনো পানির নিচে থাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।

কক্সবাজারে বন্যার পানি কিছু এলাকায় কমলেও দুর্ভোগ কাটেনি। চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, রামু ও সদরের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি রয়েছে। কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। মানুষ নৌকায় চলাচল করছেন।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

তিন পার্বত্য জেলায় পানির স্তর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। পানি কমার সঙ্গে দুর্যোগের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কোথাও ভেঙেছে গ্রামীণ সড়ক, কোথাও ধসে পড়েছে সেতু। ডুবে গেছে আমন ও আউশের বীজতলা, জুমখেত এবং সবজিক্ষেত। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করলেও অনেক পরিবার এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি।

ত három জেলার মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা বান্দরবানের। শনিবার বিকেল থেকে বৃষ্টি কমায় সাঙ্গু নদীর পানি নামতে শুরু করে। তবে জেলা শহরের অধিকাংশ এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। বান্দরবান-চট্টগ্রাম এবং বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের বিভিন্ন অংশ এখনো পানির নিচে।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকলসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল থেকে পানি কমতে শুরু করায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে অনেক মানুষ ঘরে ফিরছেন। বাঘাইছড়ির রূপকারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ধনেশ্বর চাকমা বলেন, কিছু মানুষ বাড়ি ফিরলেও অধিকাংশ এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-লংগদু সড়কের হেডকোয়ার্টার এলাকা থেকে পানি নেমে যাওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। বন্যার পানি কমায় বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরছেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

হবিগঞ্জে বন্যায় প্রায় সাড়ে ছয় হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। উঁচু এলাকার পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও নিম্নাঞ্চলে এখনো দুই থেকে আড়াই ফুট পানি রয়েছে। রোববার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বনগাঁও গ্রামের সিরাজ মিয়া (৬৫) বলেন, ঘরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। গরু-ছাগল নিরাপদ জায়গায় রাখতে হয়েছে। কৃষিজমির সমস্ত ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই পানি না নামলে আরও বড় ক্ষতি হবে।

মৌলভীবাজারের সাত উপজেলার মধ্যে পাঁচটিতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৭ হাজারের বেশি পরিবার। বন্যায় সেখানে একজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

সুনামগঞ্জে পাঁচ দিনের টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে নদ-নদী এবং হাওরে পানি বেড়ে গেছে। গত মঙ্গলবার জেলায় মৌসুমের সর্বোচ্চ ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এর সঙ্গে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রমা নদীর পানি বেড়েছে। ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় স্বল্প মেয়াদে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

গত কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যম, ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার সব নদ-নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে করে উপজেলার বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে।

টানা ভারী বৃষ্টির কারণে পানি বেড়ে কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন নদীতে ভাঙন বেড়ে গেছে। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা এবং দুধকুমার নদের তীব্র ভাঙনে বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে নদীতীরের মানুষের।

টানা ভারী বৃষ্টির ফলে যশোরের কেশবপুর পৌর এলাকার দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বসতবাড়িতে পানি উঠায় মানুষ অসীম দুর্ভোগে পড়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে কুমিল্লা, জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জনজীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৬ এম


টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে কুমিল্লা, জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জনজীবন

কুমিল্লা নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা টানা ভারী বর্ষণের ফলে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মাত্র তিন ঘণ্টার প্রবল বর্ষণে প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকাগুলোতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও পানি হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান জমে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। নিম্ন আয়ের পরিবার, দিনমজুর ও কর্মজীবী মানুষের সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালবেলা নগরীর অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার কারণে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অফিসগামী মানুষদের কর্মস্থলে যেতে দীর্ঘ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ এবং কুমিল্লা সরকারি কলেজে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। অনেক পরীক্ষার্থীকে পানি মাড়িয়ে, আবার অনেককে নৌকায় করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে। অভিভাবকরাও সন্তানদের নিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

নগরীর জিলা স্কুল সড়ক, পুলিশ লাইনস, রেসকোর্স, চর্থা, ঠাকুরপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, গোবিন্দপুর, মুরাদপুর এবং শহরতলীর ছায়াবিতান এলাকায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নিচু এলাকায় পানি ঢুকে যাওয়ার ফলে অনেকের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক স্থানে ড্রেন উপচে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে।

কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় রেকর্ড হয়ে গেছে ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, দিনভর আরও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা বিদ্যমান। ফলে জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পেরুতে হলান্ডের নামে শিশুদের নাম রাখার প্রবণতা বেড়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৩ এম


পেরুতে হলান্ডের নামে শিশুদের নাম রাখার প্রবণতা বেড়েছে

ইউরোপের ফুটবল খোঁজ-খবর রাখার সমর্থকদের মধ্যে আরলিং হলান্ড একটি সুপরিচিত নাম। এমনকি যারা ফুটবল তেমন দেখেন না, তারাও ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিনকে সহজে চেনেন। তবে হলান্ড এই বিশ্বকাপের মাধ্যমে ভিন্নমাত্রার জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

যখন হলান্ড বড় বড় পা ফেলে দৌড়ান, তখন তার লম্বা সোনালী চুল বাতাসে উড়ে যায়। কখনও কখনও সেগুলোকে বাঁধা থাকে ব্যান্ড দিয়ে। নরওয়েজিয়ান তারকার এমন দৃশ্যের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়ই ঘুরপাক খায়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিশ্বকাপে তার ৭ গোল (যার মধ্যে ২টি গোল ব্রাজিলের বিপক্ষে) ও এক অ্যাসিস্টের দারুণ ফর্ম, ফলে সাধারণ মানুষের মনে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন।

হলান্ডের এই জনপ্রিয়তা পেরুতেও পৌঁছে গেছে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে তার নামে শিশুদের নামকরণের এক হিড়িক সৃষ্টি হয়েছে। পেরুভিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘পেরু ২১’ সংবাদ সংস্থা অ্যান্দিনার বরাত দিয়ে এই খবরটি জানিয়েছে।

দেশটির জাতীয় পরিচয় ও নাগরিক নিবন্ধন সংস্থা রেনিয়েকের তথ্যানুসারে, ‘হলান্ড’ নামে ৪৬৮ জন নবজাতকের নাম নিবন্ধিত হয়েছে আর ৯১ জন শিশুর পুরো নাম রাখা হয়েছে ‘আরলিং হলান্ড’। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এসব নিবন্ধনের অধিকাংশই ঘটেছে। নরওয়ে যখন ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল, তখন এই সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।

রেনিয়েকের মুখপাত্র ইভান তোরেস অ্যান্দিনাকে বলেন, ‘বিশ্বের বড় ফুটবল তারকারা পেরুর মানুষকে অনুপ্রাণিত করেন, যাতে তারা নিজেদের সন্তানদের আকর্ষণীয় ও বিখ্যাত নাম দিতে পারেন। মানুষকে এই ধরনের নাম ব্যবহার করতে আমরা নিষেধ করি না।’

ফুটবল তারকাদের নামে নামকরণের ঘটনা পেরুতে নতুন নয়। রেনিয়েকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৩ হাজার ৪০২ জনের নাম ‘মেসি’, যার মধ্যে ২৯২ জনের পুরো নাম ‘লিওনেল মেসি’। এক হাজার ১৮৫ জনের নাম ‘ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো’, এক হাজার ২৪১ জনের নাম ‘ইয়ামাল’, ২৩৮ জনের নাম ‘এমবাপ্পে’ এবং ৩৩ হাজার ৮০৯ জনের নাম ‘নেইমার’ রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমুদ্রের তলদেশে যাত্রা শুরু মানুষের প্রথম আধুনিক বাসস্থানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৮ এম


সমুদ্রের তলদেশে যাত্রা শুরু মানুষের প্রথম আধুনিক বাসস্থানের

মহাকাশে মানুষের বসবাসের জন্য স্পেস স্টেশনের কথা বহু মানুষের জানা। তবে এবার পৃথিবীর সমুদ্রের গভীরতাতেও শুরু হলো একটি নতুন অধ্যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে সমুদ্রের তলায় চালু হয়েছে মানুষের তৈরি আধুনিক সাবসি হ্যাবিট্যাট ‘ভ্যানগার্ড’। এখানে বিজ্ঞানীরা টানা কয়েক সপ্তাহ এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত অবস্থান করে গবেষণা চালাতে পারবেন।

সমুদ্র প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান ডিপ নির্মিত এই পানির নিচের বাসস্থানটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা কিজ ন্যাশনাল মেরিন স্যাঙ্কচুয়ারির টেনেসি রিফে পানির প্রায় ১৭ মিটার গভীরে স্থাপন করা হয়েছে। এই স্থায়ী প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্মিত ভ্যানগার্ডে একসাথে চারজন ক্রু সদস্য থাকতে পারবেন।

ভ্যানগার্ডের অন্যতম প্রথম ক্রু সদস্য এবং নাসার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অ্যাকুয়ানট ডন কার্নাগিস বলেন, সমুদ্রের তলদেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পারায় বিজ্ঞানীরা আগের তুলনায় আরও নির্ভুল ও বাস্তবসম্মত গবেষণা পরিচালনা করতে পারবেন।

গভীর সমুদ্র থেকে নমুনা ওপরে তোলার সময় সাধারণত চাপের পরিবর্তনের কারণে তার আণবিক ও কোষীয় গঠনে পরিবর্তন ঘটে। ফলে প্রকৃত অবস্থা বিশ্লেষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু ভ্যানগার্ডে সমুদ্রের তলদেশের সমান চাপ বজায় রেখে রিয়েল-টাইমেই নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।

ভ্যানগার্ড মূলত একটি বড় ডিকম্প্রেশন চেম্বারের মতো কাজ করে। এখানে অবস্থানকারী গবেষকরা স্যাচুরেশন ডাইভার হিসেবে কাজ করবেন। ফলে তারা প্রচলিত স্কুবা ডাইভিংয়ের ৬০ মিনিটের সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে টানা কয়েক সপ্তাহ বা মাসজুড়ে পানির নিচে কাজ করতে পারবেন। বিশেষ আম্বিলিক্যাল পাইপের মাধ্যমে তারা সরাসরি বাতাস নিয়ে হ্যাবিট্যাট থেকে বের হয়ে সমুদ্রের তলদেশে দীর্ঘ সময় গবেষণা পরিচালনা করতে পারবেন।

স্টেশনটির অন্যতম আকর্ষণ ‘মুন পুল’। এটি একটি নিচের দিকে খোলা প্রবেশপথ, যেখানে ভেতরের ও বাইরের চাপ সমান থাকলে দরজা খোলা থাকলেও ভেতরে পানি প্রবেশ করে না। ফলে গবেষকরা হ্যাবিট্যাটের ভেতর থেকেই সরাসরি সমুদ্রে প্রবেশ করতে পারেন।

ভ্যানগার্ডের সঙ্গে ভূপৃষ্ঠের সংযোগ রক্ষা করতে একটি ভাসমান বয়ার মাধ্যমে বাতাস, বিদ্যুৎ এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংরক্ষণ ও নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও।

বর্তমানে এই সাবসি হ্যাবিট্যাট মূলত বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রতিরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিপ জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে তারা ‘সেন্টিনেল’ নামে আরও উন্নত সাবসি হ্যাবিট্যাট চালু করতে চায়। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন মহীসোপানে স্বল্পমেয়াদি কিংবা স্থায়ীভাবে মানববসতি স্থাপনের পথ আরও সহজ হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আশা, ভবিষ্যতে শুধু বিজ্ঞানী নন, শিল্পী, শিক্ষার্থী, ইতিহাসবিদ, শিক্ষাবিদ এমনকি নীতিনির্ধারকরা সমুদ্রের তলদেশে অবস্থান করে সামুদ্রিক পরিবেশকে কাছ থেকে জানার সুযোগ পাবেন।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুনের শেষ ৮ দিনে ইউরোপে প্রা ণ হারিয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৭ এম


জুনের শেষ ৮ দিনে ইউরোপে প্রা ণ হারিয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ

গত জুনের শেষের দিকে ইউরোপ জুড়ে টানা আট দিনের তাপপ্রবাহের ফলে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। ইউরোপ ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউরোমোমো রোববার (১২ জুলাই) তাদের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইউরোমোমো হল ইউরোপের ২৭টি দেশের জোট, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং জাতিসংঘের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিষয়ক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) দ্বারা পরিচালিত একটি জরিপ সংস্থা।

প্রতিবেদনে সংস্থাটির পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২০ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত আট দিনের ধারাবাহিক যে তাপপ্রবাহ চলেছিল, তার জন্যই ইইউভুক্ত ২৭টি দেশে এই ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার জনের বয়স ৬৫ বছর বা তার কিছু ভেতরে রয়েছে।

মৃতদের মধ্যে অনেকেই ‘হিট-স্ট্রোক’ বা গরমজনিত কারণে হৃদযন্ত্র ও শ্বাসতন্ত্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

ডেনমার্কের স্ট্যাটেন্স সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান চিকিৎসক লাসে ভেস্টারগার্ড ইউরোমোমোর একজন কর্মকর্তার উদ্দেশ্যে রয়টার্সকে বলেন, "তাদের মৃত্যু হয়েছে তাপপ্রবাহের ফলে সৃষ্ট প্রচণ্ড গরমের কারণে। এর পিছনে আর কোনো ব্যাখ্যা নেই। মৃতের এই সংখ্যা সত্যিই অনেক বেশি, এবং বছরের এই সময়ে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত সংখ্যক মৃত্যু মোটেও স্বাভাবিক নয়।"

ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কোন দেশে কতজনের মৃত্যু হয়েছে সে সম্পর্কে ইউরোমোমোর প্রতিবেদনে নির্দিষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি, তবে এই মৃতদের একটি বড় অংশ ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামে রয়েছে বলে জানা গেছে।

সরকারি তথ্য জানাচ্ছে, গরম এবং তাপপ্রবাহের কারণে ইইউভুক্ত কয়েকটি দেশের সম্মিলিতভাবে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৫০০ জনের মৃত্যু ঘটছে। গত আট সপ্তাহ ধরে এই পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বিষয়ক অঙ্গসংস্থা ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোলের (ইসিডিপিসি) রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে, ইউরোপে এক সপ্তাহে সর্বাধিক মৃত্যুর রেকর্ডটি করোনা মহামারীর সময় সংঘটিত হয়েছিল। ২০২০ সালের মে-জুন মাসে মহামারীর চূড়ান্ত সময়ে এক সপ্তাহে ১ হাজার ৬৫০ জনের অধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল ইউরোপে।

ইউরোপের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জুনের এই তাপপ্রবাহের জন্য মানবসৃষ্ট জলবায়ুর পরিবর্তন দায়ী, এবং সামনের বছরের মধ্যে এমন তাপপ্রবাহগুলি আবার ফিরতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%