০৬:৩৫ পি.এম
কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (১২ জুলাই) কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে লেখা এক চিঠিতে তিনি এই শোক প্রকাশ করেন।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে এবং আমার নিজের পক্ষ থেকে আপনার (বর্তমান আমির) রাজপরিবার, সরকার এবং কাতারের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
তিনি লেখেন, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যার নেতৃত্ব কাতারকে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধশালী এবং বিশ্বব্যাপী সম্মানিত জাতিতে রূপান্তরিত করেছে। আঞ্চলিক শান্তি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে তার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। বাংলাদেশ কাতারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অত্যন্ত মূল্যায়ন করে, যেটি পারস্পরিক বিশ্বাস, ভাগ করা মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে স্থায়ী সম্পর্কের মাধ্যমে কয়েক দশক ধরে লালিত হয়ে আসছে।
তিনি আরও লেখেন, গভীর শোকের এই মুহূর্তে আমার চিন্তাভাবনা এবং প্রার্থনা আপনার, রাজপরিবার এবং কাতারের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের সঙ্গে রয়েছে। আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে মরহুমের আত্মাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করার জন্য এবং আপনাসহ রাজপরিবারের শোকাহত সদস্যদের ধৈর্য, শক্তি এবং সান্ত্বনা দান করার জন্য প্রার্থনা করছি।
রোববার সকালে দেশটির সর্বোচ্চ সরকারি দপ্তর আমিরি দিওয়ান এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ বছর কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার আমলেই কাতার একটি আঞ্চলিক শক্তি থেকে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
আরও পড়ুন: ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করলেন
২০১৩ সালে তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে একটি অনন্য নজির স্থাপন করেন। তিনি তার চতুর্থ ছেলে এবং বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে একটি বিরল ও ব্যাপকভাবে আলোচিত ঘটনা।
শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির গতিশীল নেতৃত্বে কাতার জ্বালানি খাত, অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অবিশ্বাস্য অগ্রগতি অর্জন করে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিতে কাতারকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর কাতারে নিয়ে আসার পেছনে তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। এছাড়া গণমাধ্যমের জগতে বিপ্লব ঘটানো সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিষ্ঠাও হয়েছিল তার হাত ধরেই। তার মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন