প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
আট বছরের দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতা এবং ধীরগতির ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া অবশেষে থমকে থাকা চাঁদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি শুরু করেছে। প্রকল্প এলাকার সাইনবোর্ড স্থাপন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের প্রথম ধাপ উদ্বোধন করার মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে কাজটি চলমান থাকবে। এরপর শুরু হবে বহু প্রত্যাশিত হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থাপনার নির্মাণ।
চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক আজ সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের ইসলামপুর গাছতলা এলাকায় প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন।
তিনি বক্তব্যে জানান, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই প্রকল্পটির অবকাঠামোগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনাও করা হয়েছে প্রকল্পটির গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য। প্রকল্পটি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার সরকারি নীতির অংশ হিসেবে দ্রুত অনুমোদন পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক জমি অধিগ্রহণ প্রসঙ্গে বলেন, প্রকল্পের জন্য যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হবে, তারা আইন অনুযায়ী শতভাগ ক্ষতিপূরণ পাবেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন নেই। যদি ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত কোনো জটিলতা দেখা দেয়, তাহলে তিনি সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, চাঁদপুরে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ বাস্তবায়িত হলে শুধুমাত্র জেলার মানুষ নয়, আশপাশের একাধিক জেলার জনগণেরও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ হবে। এতে রাজধানীমুখী রোগীর চাপও অনেকাংশে কমবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্প পরিচালক এবং চাঁদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ। তিনি জানান, ইসলামপুর গাছতলা মৌজায় প্রায় ৩০ দশমিক ২ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়েছে এবং বর্তমানে জমির মালিকদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী তিন মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণ শুরু করা সম্ভব হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ এবং নার্সিং কলেজের ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হবে।
ড্যাব চাঁদপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. সৈয়দ আহমেদ কাজলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম সলিম উল্যা সেলিম, মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সাহেলা নাজনীন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দ্বীন, ড্যাব জেলা সভাপতি ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম আহমেদ টিটো, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমা এবং চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন