০৬:২৫ পি.এম
নেপালে কৃষকদের জন্য বড় সংকটে পরিণত হয়েছে বানরের উৎপাত।
ফসল রক্ষায়, কৃষকরা প্রতিদিন ভোর থেকে স্লিংশট, লাঠি, কুকুর ও ঘরোয়া শব্দকামান নিয়ে মাঠে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসীরা।
তবে নানা চেষ্টা করেও বানরের আক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না। এর ফলে কৃষকদের ফসলের পাশাপাশি জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রাম থেকে তরুণরা শহর ও বিদেশে চলে যাওয়ার কারণে কৃষিকাজ এবং ফসল পাহারার জন্য পর্যাপ্ত মানুষ নেই। এই সুযোগে বানরের দল আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
গত মাসে, পূর্ব নেপালের একটি গ্রামীণ পৌরসভা বানর তাড়াতে তিন দিনের জন্য স্কুল ও সরকারি কার্যালয় বন্ধ রেখে শত শত বাসিন্দাকে নিয়ে অভিযান চালায়। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই বানরগুলো আবার ফিরে আসে।
পূর্ব নেপালের আইনপ্রণেতা ধুর্বা রাইয়ের দাবি, প্রায় এক দশক আগে গ্রামবাসীদের আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করার পর থেকে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তার মতে, আগে এসব অস্ত্র ব্যবহার করে কৃষকরা ফসল ও গবাদিপশু রক্ষা করতেন, কিন্তু এখন সেই প্রতিরোধ না থাকায় বানরগুলো আরও সাহসী হয়ে উঠেছে।
এদিকে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও কৃষকদের জীবন-জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, তা নিয়ে নেপালের পার্লামেন্টেও আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
দোলাখা জেলার ধর্মঘর গ্রামের ৭১ বছর বয়সী কৃষক দেবাকা কার্কি জানান, মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সুযোগে বানরের একটি দল তার কয়েক মাসের পরিশ্রমে ফলানো ফসল নষ্ট করে দেয়।
কাজের সন্ধানে ছেলেরা কাঠমান্ডুতে চলে যাওয়ায় তিনি ও তার স্বামী একাই কৃষিকাজ সামলাচ্ছেন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ধর্মঘর গ্রামের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৮০০। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫০ জনে।
কমিউনিটি ফরেস্টের প্রধান গণেশ কার্কি বলেন, অধিকাংশ পরিবার শহর বা বিদেশে চলে যাওয়ায় পরিত্যক্ত বাড়িঘর ও জমি বানরের বিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
এদিকে ৭৩ বছর বয়সী কৃষক কৃষ্ণ বাহাদুর খাডকা গত বছর বানরের হামলায় গুরুতর আহত হন। তিনি জানান, একদল বানর তাকে মাটিতে ফেলে পিঠে কামড় দেয়। এতে তিনি প্রায় চার মাস শয্যাশায়ী ছিলেন।
তার ভাষায়, আশপাশের মানুষ এসে বানরগুলোকে তাড়িয়ে না দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।
ক্রমবর্ধমান এই সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দাবি জানিয়েছেন নেপালের কৃষকরা।
সূত্র: এপি
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন