ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘মেয়েটাকে হ/ত্যা করা হয়েছে, বিচারের জন্য আমরা ঘুরছি’—ফিমার মায়ের কান্না


‘মেয়েটাকে হ/ত্যা করা হয়েছে, বিচারের জন্য আমরা ঘুরছি’—ফিমার মায়ের কান্না

ঢাকার আজিমপুরে চাঞ্চল্যকর তাহিয়া তাসনিম ফিমা (১৯) হত্যা মামলার আসামি কাজী সাগরসহ দায়ীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য মানববন্ধন করেছে ফিমার পরিবার এবং স্বজনরা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য রাখেন ফিমার বাবা মো. তাজুল ইসলাম। এই সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

হত্যাকাণ্ডের শিকার ফিমার বাবা তাজুল ইসলাম বলেন, “বিয়ের পর আমার মেয়েটি কখনও ভালো ছিল না। ওর স্বামী আগেও গায়ে হাত তুলেছে, নির্যাতন করেছে। ফিমা ওর মায়ের কাছে সেই নির্যাতনের কথাও জানিয়েছিল। আমরা অপেক্ষা করেছিলাম, নতুন পরিবেশ, নতুন জীবন, কিছু দিনের মধ্যেই হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার মেয়েটিকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হলো।”

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তিনি বলেন, “একটা কথা বলা জরুরি, আমার মেয়েটাকে হত্যা করা হয়েছে; কিন্তু আমি শুধু ফিমার জন্য আজ এখানে দাঁড়াইনি। দাঁড়িয়েছি অন্য ফিমাদের জন্যও, যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে এবং যাদের পরিবার সেই হত্যার ন্যায় বিচার পাননি। আমি সেই সকল পিতামাতার জন্য দাঁড়িয়ে আছি, যারা তাদের সন্তানদের হারিয়েছেন কারণ কোনো না কোনোভাবে আমাদের পুলিশ এবং বিচার ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে।”

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, “আমি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ, পুলিশ, বিচার ব্যবস্থা এবং সর্বোপরি সরকারের কাছে অনুরোধ করছি ফিমা হত্যকাণ্ডের বিচার যেন দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়। আসামির যখন দোষী সাব্যস্ত হয়, তখন যেন সর্বোচ্চ দণ্ড দেওয়া হয়। আমি চাই যে কাজী সাগর এমন দণ্ড পাক, যা একটি বার্তা দেয় যে বাংলাদেশে নারী হত্যার কোনো সহনশীলতা নেই।”

তিনি যোগ করেন, “আমাদের বিচার প্রক্রিয়া গতিশীল করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতার মামলাগুলো পুলিশকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে, আদালতকে বিচার ত্বরান্বিত করতে হবে। রাষ্ট্রকে এখন নিশ্চিত করতে হবে যেন নারীদের জীবন এবং নিরাপত্তা অগ্রাধিকার পায়।”

মানববন্ধনে ফিমার মা রিনা ইয়াসমিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়েটিকে হত্যা করা হলো, তারপর থেকে আমরা থানার বারান্দায় ঘুরছি। কিন্তু চার্জশিট দিতে গড়িমসি করেছে পুলিশ। এটা এমন একটা হত্যাকাণ্ড যার সমস্ত আলামত রয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজেও সব স্পষ্ট, ময়নাতদন্তেও হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারপরও কেন এত দেরি হলো? আসলে মামলাটিকে প্রভাবিত করার সব চেষ্টাই করছে আসামিপক্ষ। এখন আদালতের কাছে আমি দ্রুত এই ঘটনার বিচার চাই।”

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

তিনি বলেন, “আমার সন্তান হত্যার বিচার যেন আটকে না থাকে এবং আমাদের মতো কেউ যেন স্বজনহারা না হয়, তাই আমরা মানববন্ধন করে দ্রুত এই হত্যাকারীর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”

এদিকে, জেলা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. সয়দুজ্জামান জানিয়েছেন, গত ২৬ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে ভুক্তভোগী ফিমাকে নির্যাতন ও গলাটিপে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। আসামি সাগরের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এখন বাকিটা আদালতের বিষয়।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২০ মার্চ রাতে ঢাকার আজিমপুরের বিসি দাস স্ট্রিটের একটি বাসা থেকে তাহিয়া তাসনিম ওরফে ফিমার (১৯) ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকেই ফিমার স্বামী কাজী সাগর আত্মগোপন করে। বাড়ির নিরাপত্তা প্রহরীর সাক্ষ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ও ফিমার পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাগরের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হয়। এ ঘটনায় বাদী হয়ে ফিমার বাবা তাজুল ইসলাম কাজী সাগরকে একমাত্র আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। কাজী সাগরের বাবা কাজী মনিরুল হক ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার বানা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এবং আলফাডাঙ্গা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান।

পরবর্তীতে ২৭ মার্চ ভারতের নদীয়া জেলার গাঙনাপুর থানার এলাকায় কাজী সাগর, তার বাবা কাজী মনিরুল হক এবং সাগরের মামা জাফর মিয়াকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ দিন কারাগারে থাকার পর তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ফিমার পরিবারের অভিযোগ, দেশে ফেরার পর কাজী সাগর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে গোপনে বসবাস করছেন এবং এখন পর্যন্ত তাকে কারাগারে যেতে হয়নি।

এ অবস্থায় ফিমার পরিবার দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালু করতে চুক্তি, বিনিয়োগ হবে ৬১৯ কোটি টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১৬ পি.এম


২ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালু করতে চুক্তি, বিনিয়োগ হবে ৬১৯ কোটি টাকা

ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ : দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল পুনরায় চালুর লক্ষ্যে, দুইটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দিয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) সঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। তিনি আরও জানান, চুক্তি অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড লিজ নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। অপরদিকে, প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড লিজ নিয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।

চুক্তিতে বিজেএমসির পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার স্বাক্ষর করেন। অন্যদিকে, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষে কোম্পানি সচিব আমিনুর রহমান এবং হ্যামকো গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

উপ-প্রেস সচিব জানান, চুক্তির আওতায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা তিনটি মিল, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হবে। মিল তিনটি চালু হলে, কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান হবে। এতে প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার হবে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সিরাজগঞ্জের রায়পুরে জাতীয় জুট মিলে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান হবে। এর বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে।

খুলনার দিঘলিয়ায় স্টার জুট মিলে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান হবে। বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা টার্নওভারের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

অন্যদিকে, খুলনার খালিশপুরে প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে, কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান হবে। প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিজেএমসি’র উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি ইজারার ভিত্তিতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৪টি মিলের লিজ সম্পন্ন করে লিজগ্রহীতাদের কাছে দখল হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ৯টি মিলে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীসহ বিজJennচার্মন্ধি ও লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গু/লি করি, ম/রে একটা, একটাই যায়’ মন্তব্যের জেরে পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২২ পি.এম


গু/লি করি, ম/রে একটা, একটাই যায়’ মন্তব্যের জেরে পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না’ বলার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসাইনকে সরকার চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এই বক্তব্য দেওয়ার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপ-কমিশনার ইকবাল হোসাইনকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে এ বরখাস্তের শাস্তি দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে।

বর্তমানে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে ইকবাল হোসাইন ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের পর ইকবাল হোসাইনের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।

গণমাধ্যমের হাতে আসা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা যায়, অভিযোগের বিষয়ে তার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও ইকবাল হোসাইন কোনো জবাব দেননি। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা নির্ধারণ করে অভিযোগের তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড আরোপের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত দ্বিতীয় দফার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পরও তিনি জবাব দিতে ব্যর্থ হন। এরপর তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগের গুরুত্ব এবং অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত পুনরায় করায়।

গুরুদণ্ড আরোপের বিষয়ে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শও নেওয়া হয়। কমিশন জানায়, ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করা যেতে পারে। এরপর বিষয়টি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে যে, ইকবাল হোসাইনসহ আরও পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরু দণ্ডের প্রক্রিয়া চলছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানান একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ইকবাল হোসাইনের পাশাপাশি অন্যান্য চার পুলিশ কর্মকর্তা হলেন- ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত), মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই), সুদীপ কুমার চক্রবর্তী (সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত) এবং রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক রয়েছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ইকবাল হোসাইনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে তিনি তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর বিষয়ে কথা বলছিলেন। ভিডিওটির দৈর্ঘ্য ৪৩ সেকেন্ড। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বলছেন, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না। এইটা হলো স্যার সবচেয়ে বড় আতঙ্কের এবং দুশ্চিন্তার বিষয়।’

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘিরে পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলম দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তারা দুজনের সামনে ইকবাল হোসাইন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুঠোফোনে একটি ভিডিও দেখাচ্ছেন। এ সময়ই তিনি ওই মন্তব্য করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবল স্রোতে কয়েক সেকেন্ডে ভেসে গেল সেতু! ভারতের উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৬ পি.এম


প্রবল স্রোতে কয়েক সেকেন্ডে ভেসে গেল সেতু! ভারতের উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলা

কয়েক সেকেন্ড আগে সেতুটি ছিল পুরোপুরি স্থির ও ঠিকঠাক অবস্থায়। পাশের সড়ক দিয়ে বিভিন্ন ট্রাক ও বুলডোজার চলছিল। কিন্ত হঠাৎ, পাহাড় থেকে এমন ভয়াবহ কাদা ও পানির ঢল নেমে এলো, যে এই বিশাল লোহার সেতুর সামনে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। চোখের পলকে গোড়া থেকে উপড়ে গিয়ে প্রবল স্রোতে পুরো সেতুটি ভেসে গেছে। ঠিক শেষ মুহূর্তে সরে গিয়ে রক্ষা পেল না গাড়িগুলো। এখনও একজন চালক নিখোঁজ রয়েছেন।

ভয়াবহ এই ঘটনাটি ভারতের উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার নীতি উপত্যকায় ঘটেছে। এএনআই-এর প্রতিবেদনে জানা যায় যে, টানা ভারী বৃষ্টির পর পাহাড়ি নদী ও ঝর্নার পানি হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। এরপর বিপুল পরিমাণ কাদা ও পানির প্রবল স্রোত আছড়ে পড়ে বেইলি ব্রিজের ওপর। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেতুটি উপড়ে গিয়ে ভেসে যায়।

চামোলির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিবেক প্রকাশ এ বিষয়ে জানিয়েছেন, সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে স্থানীয় তামাক নালায় ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় সেতুর কাছেই অবস্থান করছিল সীমান্ত সড়ক সংস্থা (বিআরও)-এর কর্মকর্তা ও কর্মীরা। ঘটনার পর থেকে বিআরও-এর একটি গাড়ি ও সেটির চালকের খোঁজ এখনো মেলেনি। চালকের সন্ধানে অভিযান চলমান। ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এসডিআরএফ-এর একটি দল।

সেতুটি ভেসে যাওয়ার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য অনেক বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। কারণ সেতুর অপর পাশে রয়েছে প্রায় ১৫ থেকে ১৬টি গ্রাম। সেখানে মূল এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রশাসন ও বিআরও দ্রুত যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছে।

এক্ষেত্রে সেই অঞ্চলে কতজন পর্যটক আটকা পড়েছেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই জন্য ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বা আইটিবিপি-এর সঙ্গে সমন্বয় করছে স্থানীয় প্রশাসন।

এছাড়া, বৃষ্টির অব্যাহত থাকার কারণে বিপদ এখনও কাটেনি। নদী ও পাহাড়ি জলধারের পানি আরও বাড়তে পারে। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের নদীর তীর থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

(এসডিজি) এই ৬ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সামর্থ্যের অভাব এখনও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩৬ পি.এম


(এসডিজি) এই ৬ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সামর্থ্যের অভাব এখনও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে

দারিদ্র্য-ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গঠনের জন্য শিক্ষা, শিল্প, কর্মসংস্থান এবং বৈষম্য নিরসন প্রয়োজন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এই ৬ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সামর্থ্যের অভাব এখনও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় সরকার প্রাথমিক স্তর থেকে শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। সময়োপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, আমাদের অধীনে যে পুরানো শিক্ষা ব্যবস্থা বিদ্যমান, সেটি শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা যেকোনোভাবেই হোক করিকুলাম পরিবর্তন করব। তবে এই বছরে এটি বাস্তবায়িত হবে না। পরিবর্তে আমরা কিছু পরিমার্জনা করেছি এবং নতুন চারটি বই প্রকাশ করেছি। তিনি ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর জন্য অপেক্ষা করার কথা জানান। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজির জাতীয় সম্মেলনের একটি অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন। দারিদ্র্য, ক্ষুধা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, শিল্প এবং বৈষম্য হ্রাসের চ্যালেঞ্জগুলো বাংলাদেশকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই চ্যালেঞ্জে সফলতার বিকল্প নেই। বক্তারা সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার উপরও আলোচনা করেন। এসডিজি বাস্তবায়নে পাঁচ বছরের কৌশলগত কাঠামোয় জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ছয়টি বিষয় তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। পরে একটি প্যানেল আলোচনা পরিচালনা করার মাধ্যমে বাস্তবায়নের সামর্থ্যহীনতার বিষয়টি উঠে আসে। এসডিজি অর্জনের নির্দিষ্ট লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ করার পাশাপাশি প্রাথমিক স্তর থেকেই কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব এবং দক্ষতা উন্নয়নের উপর জোর দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি। তিনি তরুণদের স্টার্ট-আপ ও ঋণ সহায়তার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাস্তবায়নের জন্য সময়সীমা নিশ্চিত করতে হবে, বাজেট নির্ধারণ করতে হবে এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে তিনি জানান, আমরা আমাদের পরিকল্পনা সম্পন্ন করে রেখেছি এবং সরকারের ১৮০ দিনের মধ্যে এটি সম্পন্ন করার আশা করি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%