রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২১ পি.এম
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের ওদেসায় টেনিস তারকা দাইয়ানা ইয়াস্ত্রেমস্কার ফ্ল্যাট সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়েছে। ভয়াবহ এই ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে একমাত্র রোলাঁ গারোঁর একটি তোয়ালে অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বহুতল ভবনের ছবি প্রকাশ করেন ২৬ বছর বয়সী ইয়াস্ত্রেমস্কা।
ক্যাপশনে তিনি উল্লেখ করেন, “এটাই রুশ বিশ্বের চেহারা। কালিবার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে।”
এরপর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ঝুলতে থাকা প্যারিসের গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্ট রোলাঁ গারোঁর বিখ্যাত কমলা রঙের তোয়ালের একটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। ক্যাপশনে লেখেন, “একমাত্র যে জিনিসটি টিকে গেছে, সেটি হলো একটি রোলাঁ গারোঁ তোয়ালে।”
শুক্রবার রাতে ওদেসা এবং আশপাশের চোরনোমর্স্কে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওদেসা অঞ্চলের প্রধান ওলেহ কিপার। আহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। এ ঘটনায় দুজন নিখোঁজ রয়েছেন।
ইয়াস্ত্রেমস্কা ইনস্টাগ্রামে আরও লিখেছেন, “একটি রাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্র ওদেসায় আমাদের অ্যাপার্টমেন্ট ধ্বংস করেছে...। রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের পরও বিশ্ব টেনিসের একটি অংশ টিকে গেছে। আমাদের বাড়িটি টেকেনি।”
বিশ্ব টেনিসের দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডাব্লিউটিএ ও আইটিএফকে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেছেন, “এই ছবিগুলো আমাদের চোখ দিয়ে দেখুন।”
২০২৪ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সেমিফাইনালে উঠেছিলেন ইয়াস্ত্রেমস্কা। বর্তমানে তিনি নারী এককের বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১১৩ নম্বরে অবস্থান করছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সফরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন এবং ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। এই সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভিশন ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন।
তিনি জানান, নিউইয়র্ক সফরের সময় বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাইডলাইন মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের ভিশন তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
নিউইয়র্ক সফরের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাক্ষাৎ হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সেখানে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়া। সাইডলাইনে কিছু বৈঠক হবে। এগুলোর বিষয়ে প্রায়ই শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, "আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই।" তিনি যখন যাবেন, তখন যাদের সঙ্গে দেখা বা বৈঠক হবে, তা আপনাদের জানানো হবে। এটি কোনো গোপন বিষয় নয়, তাই আপনাদেরকে জানানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশেষ সাইডলাইন মিটিং আয়োজনের বিষয়টি তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুটি বড় গুরুত্ব পাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
‘জেন জি আলোড়ন’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন যে, আবাসিক হোটেল থেকে দেহ ব্যবসার অভিযোগে ছয় জনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এই ঘটনা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নে ঘটেছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে হাটিকুমরুল এলাকার ‘নিরিবিলি আবাসিক হোটেল’ থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে সংগঠনের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে জানায়।
আটকদের মধ্যে দুজন নারী রয়েছেন, যাদের বাসস্থান বগুড়ার মোকামতলা উপজেলা। বাকি চার পুরুষ উল্লাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা। সংগঠনের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন হোটেলের ম্যানেজার।
সংগঠনের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই হোটেলে বিভিন্ন স্থান থেকে নারী ও পুরুষ এনে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছিল। সেখানে নারীদের রেখে যৌন ব্যবসা পরিচালনা করা হতো। এলাকাবাসী একাধিকবার হোটেল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করলেও তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি।
জানা গেছে, হাটিকমরুল ও আশেপাশের এলাকার তরুণদের নিয়ে ‘জেন জি আলোড়ন’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কয়েক মাস আগে গড়ে তোলা হয়।
সংগঠনের সদস্য রাজিবুল, নাসিম ও আশরাফুল জানিয়েছেন, রোববার দুপুরে তারা হোটেলটিতে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে—এমন খবর পেয়ে সেখানে যান। পরে হোটেলের ভেতর থেকে ছয় জনকে আটক করা হয়। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি পুলিশও জানে না বলে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেছেন, "বিষয়টি আমার জানা নেই। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি আসলে বিষয়টি কী। কেন তাদের আটক করা হয়েছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মিরপুরে সাদা বস্তায় করে একজন ব্যক্তিকে টেনে নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর অপহরণের অভিযোগ নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে, পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় সেই ব্যক্তিকে জোর করে তুলে নেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সাদা বস্তায় করে একজনকে নিয়ে যাওয়ার যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে; সেটি নিয়ে আমরা অনুসন্ধান করেছি। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে অপহরণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম (৫০)। তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর থানার মো. শুকুর আলীর ছেলে। বর্তমানে পল্লবী ১১ নম্বর এলাকায় দি স্যালভেশন আর্মির যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ ক্লিনিকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে ওই প্রতিষ্ঠানে নাইট গার্ডের দায়িত্ব পালন করছেন। তার মাসিক বেতন ১৭ হাজার টাকা।
পুলিশের অনুসন্ধান এবং নজরুলের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরুল ইসলামকে প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে দাবি করা হলেও তিনি প্রকল্প ব্যবস্থাপক নন। তিনি আসলে প্রতিষ্ঠানটির একজন নিরাপত্তাকর্মী। তিনি রাতে গেটের পাশে থাকা ছোট একটি টেবিলে বসে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানেই ঘুমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে নাইট গার্ডের দায়িত্বে যোগদান করেন তিনি। পরদিন সকাল ৬টার দিকে বদলি গার্ড দানিয়েল সরকার এসে তাকে না পেয়ে বিষয়টি প্রকল্প ব্যবস্থাপক বোস এলভিন অথিকে জানান। পরে প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ১১ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটের দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় করে নজরুলকে প্রতিষ্ঠানের গেটের সামনে এনে রাখেন। পরে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে নজরুল নিজেই বস্তা থেকে বের হয়ে আসেন। কিছুক্ষণ পর তাকে গেটের সামনে বসে থাকতে দেখা যায়। পরে ওই অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে রিকশায় করে সেখান থেকে চলে যান তিনি।
এদিকে প্রাথমিক অনুসন্ধানে নজরুলের ছেলে মো. মেরাজ (২৬) পুলিশকে জানান, কিছুদিন আগে তার বাবা ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। তার দুই স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে বসবাস করেন। পারিবারিক কোনো কারণে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নজরুল আত্মগোপন করে থাকতে পারেন বলেও পুলিশকে জানানো হয়েছে।
তবে কী কারণে নজরুলকে বস্তায় করে ক্লিনিকের সামনে আনা হয়েছিল এবং পরে তিনি কোথায় গেছেন- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। এদিকে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
ডিসি মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে তাকে বস্তা থেকে বের হয়ে আসতে দেখা গেছে। এরপর তিনি গেটের সামনে বসেন এবং পরে রিকশায় করে চলে যান।’
এসময় ফুটেজে কোনো ধরনের জোরজবরদস্তির বিষয় দেখা যায়নি বলেও উল্লেখ করেছেন ডিসি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ঘটনার সূত্রপাত ঘটে, যখন মাদকের টাকা চেয়ে মাকে মারধর শুরু করেন ছেলে। এ দৃশ্য দেখে বড় ভাই বাধা দিতে এগিয়ে আসেন। এরপর দুই ভাইয়ের মধ্যে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক ও ধস্তাধস্তি। এক পর্যায়ে বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বড় ভাই হৃদয় মিয়াকে পুলিশ আটক করেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের চরদেবকান্দি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত গেন্দু মিয়া (৩০) ওই গ্রামের কালাচান মিয়ার ছেলে এবং পেশায় ট্রাক্টরচালক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গেন্দু মিয়া দীর্ঘদিন ধরেই মাদকাসক্ত ছিলেন। শনিবার রাতে তিনি মাদকের টাকা চেয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। টাকা না পেয়ে তিনি মাকে মারধর শুরু করেন। এ সময় বড় ভাই হৃদয় মিয়া মায়ের উপর হামলার প্রতিবাদ করেন। এরপর দুই ভাইয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়, যা পরে ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে হৃদয় মিয়া ছুরি দিয়ে গেন্দু মিয়ার বুকে আঘাত করেন। এতে গেন্দু গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত গেন্দু মিয়াকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে।
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বড় ভাই হৃদয় মিয়াকে আটক করা হয়।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান জানান, ঘটনার পরপরই মূল অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। নিহত গেন্দু মিয়া মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ