প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজধানীর মিরপুরে সাদা বস্তায় করে একজন ব্যক্তিকে টেনে নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর অপহরণের অভিযোগ নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে, পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় সেই ব্যক্তিকে জোর করে তুলে নেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সাদা বস্তায় করে একজনকে নিয়ে যাওয়ার যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে; সেটি নিয়ে আমরা অনুসন্ধান করেছি। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে অপহরণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম (৫০)। তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর থানার মো. শুকুর আলীর ছেলে। বর্তমানে পল্লবী ১১ নম্বর এলাকায় দি স্যালভেশন আর্মির যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ ক্লিনিকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে ওই প্রতিষ্ঠানে নাইট গার্ডের দায়িত্ব পালন করছেন। তার মাসিক বেতন ১৭ হাজার টাকা।
পুলিশের অনুসন্ধান এবং নজরুলের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরুল ইসলামকে প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে দাবি করা হলেও তিনি প্রকল্প ব্যবস্থাপক নন। তিনি আসলে প্রতিষ্ঠানটির একজন নিরাপত্তাকর্মী। তিনি রাতে গেটের পাশে থাকা ছোট একটি টেবিলে বসে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানেই ঘুমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে নাইট গার্ডের দায়িত্বে যোগদান করেন তিনি। পরদিন সকাল ৬টার দিকে বদলি গার্ড দানিয়েল সরকার এসে তাকে না পেয়ে বিষয়টি প্রকল্প ব্যবস্থাপক বোস এলভিন অথিকে জানান। পরে প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ১১ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটের দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় করে নজরুলকে প্রতিষ্ঠানের গেটের সামনে এনে রাখেন। পরে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে নজরুল নিজেই বস্তা থেকে বের হয়ে আসেন। কিছুক্ষণ পর তাকে গেটের সামনে বসে থাকতে দেখা যায়। পরে ওই অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে রিকশায় করে সেখান থেকে চলে যান তিনি।
এদিকে প্রাথমিক অনুসন্ধানে নজরুলের ছেলে মো. মেরাজ (২৬) পুলিশকে জানান, কিছুদিন আগে তার বাবা ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। তার দুই স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে বসবাস করেন। পারিবারিক কোনো কারণে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নজরুল আত্মগোপন করে থাকতে পারেন বলেও পুলিশকে জানানো হয়েছে।
তবে কী কারণে নজরুলকে বস্তায় করে ক্লিনিকের সামনে আনা হয়েছিল এবং পরে তিনি কোথায় গেছেন- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। এদিকে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
ডিসি মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে তাকে বস্তা থেকে বের হয়ে আসতে দেখা গেছে। এরপর তিনি গেটের সামনে বসেন এবং পরে রিকশায় করে চলে যান।’
এসময় ফুটেজে কোনো ধরনের জোরজবরদস্তির বিষয় দেখা যায়নি বলেও উল্লেখ করেছেন ডিসি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন