ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরিশালে শনিবার জামায়াতের বিভাগীয় সমাবেশ


বরিশালে শনিবার জামায়াতের বিভাগীয় সমাবেশ

দীর্ঘদিনের অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের সাথে সাথে জনদুর্ভোগ নিরসন ও গণভোেটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য আগামী শনিবার (১৮ জুলাই) বরিশালে এই সমাবেশটি করবে।

পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ২টায় বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে জোটের নেতা-কর্মীরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

জানা গেছে, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়াও বক্তব্য রাখবেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টি সহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

এদিকে সমাবেশকে সফল এবং সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় সমন্বয় কমিটি সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সমাবেশস্থল হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন করেন জোটের শীর্ষ নেতারা।

এই সময় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালকের পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, শনিবারের বিভাগীয় সমাবেশের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই সমাবেশ কেবল কোনো সাধারণ রাজনৈতিক জমায়েত নয়, এটি দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক কোটি অবহেলিত মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের বজ্রকণ্ঠ। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এই অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগ ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশা, অর্থনৈতিক বঞ্চনা এবং নানা জনদুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছে। আমাদের এই নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ও অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার চাবিকাঠি।’

এবং তিনি সমাবেশে অংশ নিতে আসা নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহবান জানান।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে: ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৬ পি.এম


শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে: ভারত

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের করা অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। শুক্রবার, ১৭ জুলাই, দিল্লিতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে একজন প্রশ্ন করেন যে, তারা জানতে পেরেছেন, বাংলাদেশ শেখ হাসিনা ও অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের জন্য আবারও ভারতকে অনুরোধ করেছে। এই বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না, সেই সম্পর্কেও জানতে চান।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জবাব দেন, ‘আমরা প্রত্যর্পণের জন্য একটি অনুরোধ পেয়েছি। আমরা আগেই বলেছি, এই অনুরোধটি বর্তমানে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি জটিলতা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আলোকে এই অনুরোধটি বিবেচনা করা হবে।’

এক সাংবাদিক বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আরেকটি প্রত্যর্পণের অনুরোধের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি জানান যে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তারা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে সব কাগজপত্র পাঠিয়েছেন, যাতে এক ব্যক্তির প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ওই ব্যক্তি বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে আছেন।

জয়সওয়াল জবাবে বলেন, ‘দেখুন, এই নির্দিষ্ট অনুরোধটি পাওয়া গেছে কি না তা আমি এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তবে আমি এটুকু বলতে পারি যে, যেকোনো প্রত্যর্পণের অনুরোধের ক্ষেত্রে আইনি দিক এবং সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।’

গত মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন যে, শেখ হাসিনাকে বন্দি বিনিময়ে চুক্তি অনুযায়ী দেশে ফেরানোর বিষয়ে বারবার তাগিদ দেয়া হয়েছে। যদি তিনি দেশে আসেন, তবে তাকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

একই বিষয়ে বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। তাকে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারকে তাগাদা দেয়া হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। বর্তমানে তিনি দিল্লির একটি গোপন স্থানে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ভারতে তাঁর অবস্থানের প্রায় দুই বছর পূর্ণ হতে চলেছে। বাংলাদেশ আদালতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গণহত্যার জন্য শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াতের বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে শনিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৫ পি.এম


জামায়াতের বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে শনিবার

দীর্ঘদিনের অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য শনিবার (১৮ জুলাই) বরিশালে বিভাগীয় সমাবেশ করবে।

পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে শনিবার দুপুর ২টায় বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে জোটের নেতা-কর্মীরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং বরিশাল অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল জানান, সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়াও সেখানে বক্তব্য রাখবেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টি সহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা।

এদিকে, সমাবেশকে সফল ও সুশৃঙ্খল করতে স্থানীয় সমন্বয় কমিটি সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সমাবেশস্থল হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন করেন জোটের শীর্ষ নেতারা।

এসময় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, শনিবারের বিভাগীয় সমাবেশ উপলক্ষে সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই সমাবেশ কেবল কোনো সাধারণ রাজনৈতিক জমায়েত নয়, এটি দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক কোটি অবহেলিত মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের বজ্রকণ্ঠ। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এই অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগ ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশা, অর্থনৈতিক বঞ্চনা ও নানা জনদুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছে। আমাদের এই নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ও অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার চাবিকাঠি।’ এর পাশাপাশি তিনি সমাবেশে অংশ নিতে আসা নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহবান জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমের মর্যাদা ও কৃষি, নবীজি ও সাহাবাদের জীবন দর্শন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪০ পি.এম


শ্রমের মর্যাদা ও কৃষি, নবীজি ও সাহাবাদের জীবন দর্শন

মানুষের সভ্যতার সূচনা হয়েছিল মাটির সঙ্গে এবং সেই সভ্যতার টিকে থাকার ভিত্তি আজও খাদ্য। খাওয়ার উৎপাদন, শ্রম এবং হালাল উপার্জনকে ইসলাম কখনো কেবল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখেনি; বরং এগুলোকে ইবাদতের মর্যাদায় উন্নীত করেছে।

যে হাত মাটি চাষ করে, যে হাত বীজ বপন করে, যে হাত ঘাম ঝরিয়ে মানুষের জন্য খাদ্য উৎপাদন করে, সেই হাতও আল্লাহর কাছে সম্মানিত, যদি তার উদ্দেশ্য হয় হালাল জীবিকা অর্জন এবং মানুষের উপকার করা।

দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সমাজে এখনো অনেক সময় মানুষের মর্যাদা তার পেশা দিয়ে বিচার করা হয়। অথচ ইসলামের শিক্ষা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে মর্যাদার ভিত্তি হলো তাকওয়া, সততা, আমানতদারি এবং সৎকর্ম; পেশার উচ্চতা-নিম্নতা নয়।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনই এ শিক্ষার সর্বোত্তম উদাহরণ। নবুওয়াত লাভের আগে তিনি ছিলেন একজন পরিশ্রমী কর্মজীবী মানুষ। তিনি হযরত খাদিজাতুল কুবরা (রা.)-এর বাণিজ্য কাফেলার দায়িত্ব নিয়ে সততা, দক্ষতা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ চরিত্র, ন্যায়পরায়ণতা এবং আমানতদারির কারণে মক্কার মানুষ তাঁকে আল-আমিন অর্থাৎ বিশ্বস্ত ব্যক্তি, উপাধিতে ভূষিত করেছিল।

এ ঘটনা আমাদের একটি গভীর শিক্ষা দেয়। মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষও নিজের জীবিকা অর্জনের জন্য শ্রমকে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি কখনো অলসতা, পরনির্ভরতা বা অন্যের ওপর বোঝা হয়ে থাকার শিক্ষা দেননি। বরং তিনি দেখিয়েছেন, হালাল উপার্জনের জন্য পরিশ্রম করা একজন মুমিনের মর্যাদার অংশ।

সাহাবায়ে কেরামের জীবনেও আমরা একই আদর্শের প্রতিফলন দেখি। ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পরও জীবিকা নির্বাহের জন্য বাজারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। পরে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের গুরুত্ব বিবেচনায় তাঁর জন্য বায়তুল মাল থেকে ভাতার ব্যবস্থা করা হয়।

হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) ছিলেন আরবের অন্যতম সফল ব্যবসায়ী। কিন্তু তাঁর সম্পদ ছিল না বিলাসিতার জন্য; বরং ইসলাম, মানবসেবা এবং সমাজকল্যাণে তিনি অকাতরে তা ব্যয় করেছেন। তাবুক অভিযানে তাঁর অবদান কিংবা মদিনাবাসীর জন্য কূপ ক্রয় করে ওয়াকফ করে দেওয়া ইতিহাসে তাঁর উদারতার উজ্জ্বল নিদর্শন।

অন্যদিকে, বিশাল ইসলামী সাম্রাজ্যের শাসক হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছেও নিজের শৈশবের শ্রমজীবী জীবনের কথা কখনো ভুলে যাননি। তিনি স্মরণ করতেন, একসময় এই প্রান্তরেই উট চরাতেন, ছেঁড়া কাপড় পরে কঠোর পরিশ্রম করতেন। সেই স্মৃতি তাঁকে অহংকার নয়, বিনয় এবং দায়িত্ববোধ শিখিয়েছিল।

হযরত আলী (রা.)-এর জীবনের একটি ঘটনা আমাদের হৃদয় স্পর্শ করে। মদিনায় একদিন ঘরে খাদ্য ছিল না। ক্ষুধার্ত পরিবারের জন্য আহারের ব্যবস্থা করতে তিনি কাজের সন্ধানে বের হন। একজন নারীর জন্য কূপ থেকে পানি তুলে দেন। প্রতিটি বালতির বিনিময়ে একটি করে খেজুর পান। ষোল বালতি পানি তোলার পর তাঁর হাতে ফোসকা পড়ে যায়। সেই ষোলটি খেজুর নিয়েই তিনি ফিরে আসেন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে। নবীজি (সা.) ঘটনাটি শুনে আবেগাপ্লুত হন এবং পরিবারের সবাই মিলে সেই খেজুর ভাগ করে আহার করেন।

এই ঘটনাগুলো শুধুমাত্র ইতিহাসের স্মৃতি নয়; এগুলো ইসলামের অর্থনৈতিক দর্শনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। এখানে শ্রম লজ্জার নয়, সম্মানের। উৎপাদন গৌরবের, পরনির্ভরতা নয়। আত্মসম্মান আসে নিজের ঘামের উপার্জনে।

এই শিক্ষা কৃষির সঙ্গে সবচেয়ে গভীরভাবে সম্পর্কিত। কারণ কৃষি এমন একটি পেশা, যেখানে শ্রম, ধৈর্য, পরিকল্পনা এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল সবকিছুর অপূর্ব সমন্বয় ঘটে। একজন কৃষক যখন বীজ বপন করেন, তখন তিনি জানেন না শেষ পর্যন্ত ফলন কেমন হবে। তবুও তিনি নিরলস পরিশ্রম করেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের দায়িত্ব চেষ্টা করা, আর ফল দেওয়ার মালিক আল্লাহ।

এ কারণেই ইসলাম কৃষিকে শুধু একটি পেশা হিসেবে দেখেনি; বরং একে মানবকল্যাণের অন্যতম মহান মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

কোনো মুসলিম যদি একটি গাছ রোপণ করে বা কোনো ফসল ফলায়, অতঃপর তা থেকে মানুষ, পাখি কিংবা কোনো প্রাণী আহার করে, তবে তা তার জন্য সদকাস্বরূপ গণ্য হয়। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

একটি হাদিসই কৃষির মর্যাদা বোঝাতে যথেষ্ট। একটি গাছ, একটি ফসল কিংবা একটি ফল যদি কারও উপকারে আসে, তবে সেই উপকারের সওয়াব উৎপাদনকারীর আমলনামায় লিখতে থাকে। পৃথিবীর খুব কম পেশাই এমন ধারাবাহিক সওয়াবের সুযোগ এনে দেয়।

আজ বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে কৃষির বিকল্প নেই। বিশেষ করে কওমী মাদরাসা, মসজিদ, ওয়াকফ সম্পদ এবং স্থানীয় সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি কৃষিভিত্তিক উৎপাদন, ফলের বাগান, মৎস্যচাষ, গবাদিপশু পালন, মৌচাষ কিংবা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের মতো উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে তা শুধু অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতাই সৃষ্টি করবে না; বরং নববী আদর্শের একটি বাস্তব ও কার্যকর প্রয়োগও হবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, ইসলামে ইবাদত শুধু মসজিদের ভেতর সীমাবদ্ধ নয়। হালাল উপার্জনের জন্য মাঠে ঘাম ঝরানো, জমিতে বীজ বোনা, মানুষের জন্য খাদ্য উৎপাদন করা, সততার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করা এসবও ইবাদতেরই অংশ, যদি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হয়।

আজ যখন আমাদের অনেক তরুণ কর্মসংস্থানের সংকটে হতাশ, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের শ্রমময় জীবন আমাদের নতুন করে সাহস জোগায়। তাঁরা শেখান, কোনো কাজ ছোট নয়, ছোট হতে পারে মানুষের মানসিকতা। হালাল উপার্জন কখনো তুচ্ছ নয়, আর নিজের শ্রমে অর্জিত রুটি-রুজিই একজন মুমিনের প্রকৃত সম্মান।

যে জাতি শ্রমকে সম্মান করে, কৃষিকে মর্যাদা দেয় এবং উৎপাদনকে ইবাদত মনে করে, সেই জাতি দীর্ঘদিন দারিদ্র্য, বেকারত্ব কিংবা পরনির্ভরতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকে না। ইসলামের ইতিহাস তার উজ্জ্বল সাক্ষ্য বহন করে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎও সেই পথেই আরও সমৃদ্ধ, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও কল্যাণময় হতে পারে ইনশাআল্লাহ।

লেখক: আলেম ও কৃষি উদ্যোক্তা, পরিচালক, কতকিছুর হাট

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী চীনের বিশ্ব এআই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৭ পি.এম


টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী চীনের বিশ্ব এআই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম চীনের সাংহাইয়ে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্স (ডব্লিউএআইসি)-২০২৬’-এ অংশগ্রহণ করেছেন।

এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি ১৭ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) চীনের সাংহাই শহরে একটি জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কনফারেন্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বনেতাদের মধ্যে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ (ইউএন) মহাসচিব বক্তব্য প্রদান করেছেন। তাঁরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির টেকসই ব্যবহার ও এর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান।

সম্মেলনের একটি অংশ হিসেবে, শনিবার (১৮ জুলাই) এআই শাসনের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সহযোগিতা বা ‘হাই-লেভেল মিটিং অন গ্লোবাল কো-অপারেশন ইন এআই গভর্ন্যান্স’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। সেখানে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরবেন।

এবারের সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধি, প্রযুক্তিবিদ ও গবেষকেরা অংশ নিচ্ছেন, যেখানে এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ও বৈশ্বিক নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%