ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শ্রমের মর্যাদা ও কৃষি, নবীজি ও সাহাবাদের জীবন দর্শন


শ্রমের মর্যাদা ও কৃষি, নবীজি ও সাহাবাদের জীবন দর্শন

মানুষের সভ্যতার সূচনা হয়েছিল মাটির সঙ্গে এবং সেই সভ্যতার টিকে থাকার ভিত্তি আজও খাদ্য। খাওয়ার উৎপাদন, শ্রম এবং হালাল উপার্জনকে ইসলাম কখনো কেবল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখেনি; বরং এগুলোকে ইবাদতের মর্যাদায় উন্নীত করেছে।

যে হাত মাটি চাষ করে, যে হাত বীজ বপন করে, যে হাত ঘাম ঝরিয়ে মানুষের জন্য খাদ্য উৎপাদন করে, সেই হাতও আল্লাহর কাছে সম্মানিত, যদি তার উদ্দেশ্য হয় হালাল জীবিকা অর্জন এবং মানুষের উপকার করা।

দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সমাজে এখনো অনেক সময় মানুষের মর্যাদা তার পেশা দিয়ে বিচার করা হয়। অথচ ইসলামের শিক্ষা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে মর্যাদার ভিত্তি হলো তাকওয়া, সততা, আমানতদারি এবং সৎকর্ম; পেশার উচ্চতা-নিম্নতা নয়।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনই এ শিক্ষার সর্বোত্তম উদাহরণ। নবুওয়াত লাভের আগে তিনি ছিলেন একজন পরিশ্রমী কর্মজীবী মানুষ। তিনি হযরত খাদিজাতুল কুবরা (রা.)-এর বাণিজ্য কাফেলার দায়িত্ব নিয়ে সততা, দক্ষতা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ চরিত্র, ন্যায়পরায়ণতা এবং আমানতদারির কারণে মক্কার মানুষ তাঁকে আল-আমিন অর্থাৎ বিশ্বস্ত ব্যক্তি, উপাধিতে ভূষিত করেছিল।

এ ঘটনা আমাদের একটি গভীর শিক্ষা দেয়। মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষও নিজের জীবিকা অর্জনের জন্য শ্রমকে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি কখনো অলসতা, পরনির্ভরতা বা অন্যের ওপর বোঝা হয়ে থাকার শিক্ষা দেননি। বরং তিনি দেখিয়েছেন, হালাল উপার্জনের জন্য পরিশ্রম করা একজন মুমিনের মর্যাদার অংশ।

সাহাবায়ে কেরামের জীবনেও আমরা একই আদর্শের প্রতিফলন দেখি। ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পরও জীবিকা নির্বাহের জন্য বাজারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। পরে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের গুরুত্ব বিবেচনায় তাঁর জন্য বায়তুল মাল থেকে ভাতার ব্যবস্থা করা হয়।

হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) ছিলেন আরবের অন্যতম সফল ব্যবসায়ী। কিন্তু তাঁর সম্পদ ছিল না বিলাসিতার জন্য; বরং ইসলাম, মানবসেবা এবং সমাজকল্যাণে তিনি অকাতরে তা ব্যয় করেছেন। তাবুক অভিযানে তাঁর অবদান কিংবা মদিনাবাসীর জন্য কূপ ক্রয় করে ওয়াকফ করে দেওয়া ইতিহাসে তাঁর উদারতার উজ্জ্বল নিদর্শন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

অন্যদিকে, বিশাল ইসলামী সাম্রাজ্যের শাসক হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছেও নিজের শৈশবের শ্রমজীবী জীবনের কথা কখনো ভুলে যাননি। তিনি স্মরণ করতেন, একসময় এই প্রান্তরেই উট চরাতেন, ছেঁড়া কাপড় পরে কঠোর পরিশ্রম করতেন। সেই স্মৃতি তাঁকে অহংকার নয়, বিনয় এবং দায়িত্ববোধ শিখিয়েছিল।

হযরত আলী (রা.)-এর জীবনের একটি ঘটনা আমাদের হৃদয় স্পর্শ করে। মদিনায় একদিন ঘরে খাদ্য ছিল না। ক্ষুধার্ত পরিবারের জন্য আহারের ব্যবস্থা করতে তিনি কাজের সন্ধানে বের হন। একজন নারীর জন্য কূপ থেকে পানি তুলে দেন। প্রতিটি বালতির বিনিময়ে একটি করে খেজুর পান। ষোল বালতি পানি তোলার পর তাঁর হাতে ফোসকা পড়ে যায়। সেই ষোলটি খেজুর নিয়েই তিনি ফিরে আসেন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে। নবীজি (সা.) ঘটনাটি শুনে আবেগাপ্লুত হন এবং পরিবারের সবাই মিলে সেই খেজুর ভাগ করে আহার করেন।

এই ঘটনাগুলো শুধুমাত্র ইতিহাসের স্মৃতি নয়; এগুলো ইসলামের অর্থনৈতিক দর্শনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। এখানে শ্রম লজ্জার নয়, সম্মানের। উৎপাদন গৌরবের, পরনির্ভরতা নয়। আত্মসম্মান আসে নিজের ঘামের উপার্জনে।

এই শিক্ষা কৃষির সঙ্গে সবচেয়ে গভীরভাবে সম্পর্কিত। কারণ কৃষি এমন একটি পেশা, যেখানে শ্রম, ধৈর্য, পরিকল্পনা এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল সবকিছুর অপূর্ব সমন্বয় ঘটে। একজন কৃষক যখন বীজ বপন করেন, তখন তিনি জানেন না শেষ পর্যন্ত ফলন কেমন হবে। তবুও তিনি নিরলস পরিশ্রম করেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের দায়িত্ব চেষ্টা করা, আর ফল দেওয়ার মালিক আল্লাহ।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

এ কারণেই ইসলাম কৃষিকে শুধু একটি পেশা হিসেবে দেখেনি; বরং একে মানবকল্যাণের অন্যতম মহান মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

কোনো মুসলিম যদি একটি গাছ রোপণ করে বা কোনো ফসল ফলায়, অতঃপর তা থেকে মানুষ, পাখি কিংবা কোনো প্রাণী আহার করে, তবে তা তার জন্য সদকাস্বরূপ গণ্য হয়। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

একটি হাদিসই কৃষির মর্যাদা বোঝাতে যথেষ্ট। একটি গাছ, একটি ফসল কিংবা একটি ফল যদি কারও উপকারে আসে, তবে সেই উপকারের সওয়াব উৎপাদনকারীর আমলনামায় লিখতে থাকে। পৃথিবীর খুব কম পেশাই এমন ধারাবাহিক সওয়াবের সুযোগ এনে দেয়।

আজ বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে কৃষির বিকল্প নেই। বিশেষ করে কওমী মাদরাসা, মসজিদ, ওয়াকফ সম্পদ এবং স্থানীয় সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি কৃষিভিত্তিক উৎপাদন, ফলের বাগান, মৎস্যচাষ, গবাদিপশু পালন, মৌচাষ কিংবা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের মতো উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে তা শুধু অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতাই সৃষ্টি করবে না; বরং নববী আদর্শের একটি বাস্তব ও কার্যকর প্রয়োগও হবে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

আমাদের মনে রাখতে হবে, ইসলামে ইবাদত শুধু মসজিদের ভেতর সীমাবদ্ধ নয়। হালাল উপার্জনের জন্য মাঠে ঘাম ঝরানো, জমিতে বীজ বোনা, মানুষের জন্য খাদ্য উৎপাদন করা, সততার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করা এসবও ইবাদতেরই অংশ, যদি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হয়।

আজ যখন আমাদের অনেক তরুণ কর্মসংস্থানের সংকটে হতাশ, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের শ্রমময় জীবন আমাদের নতুন করে সাহস জোগায়। তাঁরা শেখান, কোনো কাজ ছোট নয়, ছোট হতে পারে মানুষের মানসিকতা। হালাল উপার্জন কখনো তুচ্ছ নয়, আর নিজের শ্রমে অর্জিত রুটি-রুজিই একজন মুমিনের প্রকৃত সম্মান।

যে জাতি শ্রমকে সম্মান করে, কৃষিকে মর্যাদা দেয় এবং উৎপাদনকে ইবাদত মনে করে, সেই জাতি দীর্ঘদিন দারিদ্র্য, বেকারত্ব কিংবা পরনির্ভরতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকে না। ইসলামের ইতিহাস তার উজ্জ্বল সাক্ষ্য বহন করে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎও সেই পথেই আরও সমৃদ্ধ, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও কল্যাণময় হতে পারে ইনশাআল্লাহ।

লেখক: আলেম ও কৃষি উদ্যোক্তা, পরিচালক, কতকিছুর হাট

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী চীনের বিশ্ব এআই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৭ পি.এম


টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী চীনের বিশ্ব এআই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম চীনের সাংহাইয়ে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্স (ডব্লিউএআইসি)-২০২৬’-এ অংশগ্রহণ করেছেন।

এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি ১৭ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) চীনের সাংহাই শহরে একটি জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কনফারেন্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বনেতাদের মধ্যে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ (ইউএন) মহাসচিব বক্তব্য প্রদান করেছেন। তাঁরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির টেকসই ব্যবহার ও এর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান।

সম্মেলনের একটি অংশ হিসেবে, শনিবার (১৮ জুলাই) এআই শাসনের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সহযোগিতা বা ‘হাই-লেভেল মিটিং অন গ্লোবাল কো-অপারেশন ইন এআই গভর্ন্যান্স’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। সেখানে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরবেন।

এবারের সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধি, প্রযুক্তিবিদ ও গবেষকেরা অংশ নিচ্ছেন, যেখানে এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ও বৈশ্বিক নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিজিবির অভিযানে মিয়ানমারের দুই নাগরিকসহ তিনজন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫০ পি.এম


বিজিবির অভিযানে মিয়ানমারের দুই নাগরিকসহ তিনজন গ্রেপ্তার

বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নের বঙ্কুপাড়া বিজিবি বিওপির আওতাধীন সীমান্ত এলাকা থেকে তিনজনকে, যাদের মধ্যে দুই মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছে, গ্রেপ্তার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বিজিবির সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার তারা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। পরে শুক্রবার (১৭ জুলাই) বঙ্কুপাড়া বিওপির নায়েক সুবেদার মো. কামরুল ইসলামের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে থানচি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মিয়ানমারের মংডু উপজেলার বাসিন্দা মা তুন যং ম্রো (২০), মা তুন ইয়াং ম্রো (২১) এবং তাদের সহযোগী বান্দরবানের থানচি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ওয়াক চাক্কুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মুয়ই ম্রো (৪৬)। উল্লেখযোগ্য যে, মুয়ই ম্রো থানচি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অংপ্রু ম্রোর আপন ছোট ভাই।

এ বিষয়ে থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিজিবির দায়ের করা মামলায় বিদেশি আইনের ১৩/১৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে আজ বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লালমনিরহাটে পুশইন চেষ্টার ঘটনা, সতর্ক অবস্থানে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ পি.এম


লালমনিরহাটে পুশইন চেষ্টার ঘটনা, সতর্ক অবস্থানে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা

দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পরেও সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের চেষ্টা নিয়ে লালমনিরহাটের সীমান্ত অঞ্চলে আবারও উদ্বেগ এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে জেলার ৫টি উপজেলার সীমান্তে বিজিবি নজরদারি বাড়িয়েছে। পাশাপাশি, স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবির সাথে সমন্বয় করে বিভিন্ন সময় পাহারার কাজেও অংশ নিচ্ছেন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের লোহাকুচি সীমান্ত এবং আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, সীমান্তজুড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।

সীমান্তবাসীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পুশইনের চেষ্টা নিয়ে খবর প্রকাশ হওয়ার পর সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে যথেষ্ট উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা নিজেদের এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির সঙ্গে স্বেচ্ছায় সমন্বয় করে বিভিন্ন সময়ে পাহারায় অংশ নিচ্ছেন।

সীমান্তবাসীরা জানান, তাঁরা সতর্ক রয়েছেন যেন কেউ অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে। যেকোনো ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজন হলে, দুই দেশের প্রচলিত আইন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তা করা তাদের মত। রাতের অন্ধকারে অবৈধভাবে কাউকে দেশে পাঠানোর চেষ্টা করা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।

লোহাকুচি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা নাইম মিয়া জানান, পুশইনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাঝে মাঝে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যা সীমান্তবাসীর জন্য উদ্বেগের। তিনি বলেন, শুধু লালমনিরহাট নয়, সারা দেশের সীমান্তেও এই ধরনের ঘটনা বন্ধ করা উচিত।

নাম প্রকাশের শর্তে বিজিবির একজন কর্মকর্তা জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলার ৫টি উপজেলার সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। অন্যান্য সীমান্তের মতো এখানে পুশইনের চেষ্টা হয়েছিল। তবে বিজিবি, পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় লালমনিরহাট সীমান্ত দিয়ে কাউকে পুশইন করতে দেওয়া হয়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েল মরিয়া চেষ্টা করছে ইরানের সঙ্গে চুক্তি বানচাল করতে: ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৮ পি.এম


ইসরায়েল মরিয়া চেষ্টা করছে ইরানের সঙ্গে চুক্তি বানচাল করতে: ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন যে, ইসরায়েল সরকারের কিছু সদস্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি বানচাল করতে এবং মার্কিন জনমতকে সেই চুক্তির বিপক্ষে প্রভাবিত করতে সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তার এই সরাসরি ও তীব্র সমালোচনা আন্তর্জাতিক মহলে নজিরবিহীন শোরগোল ফেলেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) মার্কিন পডকাস্টার জো রোগানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, গত মাসে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হওয়া যুদ্ধ বিরতি চুক্তির পক্ষে জোরালো অবস্থানে আমি আসতে পারি, কারণ আমি কোনো সন্দেহের ঊর্ধ্বে উঠে নিশ্চিতভাবে জানি যে, ইসরায়েল সরকারের কিছু সদস্য আমাদের এই নীতি (চুক্তি) থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের উদ্দেশ্য হলো, সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া।

ভবিষ্যতের সম্ভাব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে বিবেচিত ভ্যান্স এর আগে একাধিকবার ইসরায়েলের সমালোচনা করেছেন। সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা প্রকাশ্য দূরত্বের মধ্যে তার এই নতুন বক্তব্য এসেছে।

রোগানের পডকাস্টে তিনি বলেন, আমি যে চুক্তির পেছনে ছুটছিলাম, সেটিকে ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য একেবারে একটি বিদেশি প্রভাব খাটানোর ক্যাম্পেইন অর্থায়ন করা হচ্ছে।

এই দাবির পক্ষে সোমবার (১৩ জুলাই) টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ইসরায়েলের পক্ষে মার্কিন নাগরিকদের চিন্তাভাবনা ও ইরান যুদ্ধ সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য একটি ডিজিটাল ক্যাম্পেইন পরিচালনার উদ্দেশ্যে ট্রাম্পের সাবেক এক নির্বাচনী প্রচারণাকারীকে নিয়োগ করা হয়েছিল।

ভ্যান্স বলেন, আলোচনা ও চুক্তিকে লাইনচ্যুত করতে বিশাল অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রচার অভিযান আপনারা দেখছেন। তাদের অধীনে কিছু লোক রয়েছে, যারা যুদ্ধকে অনির্দিষ্টকালের জন্য টিকিয়ে রাখতে মার্কিন জনমতকে ম্যানিপুলেট করে পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।

ওয়াশিংটনের সংবাদদাতা আল-জাজিরার প্যাটি কুলহানে জানান, ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট প্রভাব খাটানোর প্রচারণার মূল লক্ষ্য সম্ভবত ট্রাম্পের ‘মাগা’ (Make America Great Again) সমর্থক গোষ্ঠী, যারা বর্তমানে মার্কিন নীতির প্রতি বিভক্ত।

কুলহানে ব্যাখ্যা করেন, ভ্যান্স কেন জো রোগানের পডকাস্টে হাজির হয়েছেন, তা এখান থেকেই স্পষ্ট হয়। রোগান দেশটিতে অন্যতম জনপ্রিয় পডকাস্টার এবং তিনি মাগা ঘাঁটির তরুণদের চিন্তাভাবনা প্রভাবিত করছেন।

সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর কারণে এই ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পাইনটি তাকে ব্যক্তিগতভাবেও নিশানা করেছে। তিনি বললেন যে, প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত আলোচনার লক্ষ্য পূরণ করতে চেষ্টা করার অপরাধে মানুষ তাকে নির্মমভাবে আক্রমণ করছে।

ভ্যান্স স্বীকার করেছেন যে, মিত্র ও শত্রু নির্বিশেষে সবাই মার্কিন নীতিতে প্রভাবিত হওয়ার চেষ্টা করে এবং এটি নিয়ে তার আপত্তি নেই। তবে তিনি স্পষ্ট করে বললেন যে, ইসরায়েল যখন এটি করার চেষ্টা করে তখন তিনি কিছু মনে করেন না। কিন্তু যা তাকে সত্যিই বিরক্ত করে তা হলো—যখন এই অপারেশনগুলো আসলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও বিচারবুদ্ধিকে প্রভাবিত করে।

গত মাসে ইরান চুক্তির ইসরায়েলি সমালোচকদের কঠোর ভাষায় ধমক দিয়েছিলেন ভ্যান্স। তিনি বলেছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই ইসরায়েলের একমাত্র প্রকৃত বন্ধু।

সাবেক ইসরায়েলি কূটনীতিক অ্যালন পিঙ্কাস ভ্যান্সের এই সর্বশেষ মন্তব্যকে ‘নজিরবিহীন’ বলেছেন। তার মতে, এর মাধ্যমে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একসাথে নেই।

বর্তমানে ‘দ্য নিউ রিপাবলিক’-এর এক কলামিস্ট পিঙ্কাস আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষমতাসীন ভাইস প্রেসিডেন্ট আগে কখনো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মার্কিন নীতিকে ক্ষুণ্ণ করার জন্য প্রকাশ্যে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তোলেননি।

ভ্যান্সের মন্তব্যকে ‘অশ্রুতপূর্ব’ বলে উল্লেখ করেছেন আল জাজিরার সাংবাদিক কুলহান। তিনি বলেছেন যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপর্যায়ের এপস্টেইনের সুনির্দিষ্ট কিছু সংযোগ ছিল।

জেডি ভ্যান্সের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%