সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:০৯ পি.এম
পাবনার সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোস্তফা প্রামাণিক রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, মাগরিবের নামাজের পর শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় এবং এর প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে তাকে হত্যা করা হয়। পরে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার ঘটনাতেও মোস্তফা অংশ নেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই বেনু রায় জানিয়েছেন, রিমান্ডে মোস্তফা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার দাবি, দুজন মিলে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছেন। তবে অপর আসামি ইয়াসিন আলী ধর্ষণ ও হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। ইয়াসিনের দাবি, হত্যার পর মোস্তফা তার কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলেন এবং তিনি শুধু মরদেহ সরানোর কাজে সহযোগিতা করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কলি মোস্তফার মুদিদোকানের সামনে একটি বেঞ্চে বসেছিল। মাগরিবের নামাজ শেষে মোস্তফা তাকে দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে কয়েক দফা ধর্ষণের পর বালিশ চাপা দিয়ে শিশুটিকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার দিন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে কলি তার ভাইকে নিয়ে মোস্তফার দোকানে চিপস কিনতে যায়। এ সময় মোস্তফা তার মোবাইল ফোনে শিশুটির একাধিক আপত্তিকর ভঙ্গির ছবি তোলেন বলে পুলিশের দাবি। পরে মোস্তফার ফোন পরীক্ষা করে এসব ছবি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, মোস্তফার মোবাইল ফোনে দোকানে আসা বিভিন্ন বয়সী ছোট মেয়েদেরও আপত্তিকর ভঙ্গিতে তোলা আরও অনেক ছবি পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তার আগের কর্মকাণ্ড নিয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনার পর মোস্তফার আচরণে পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, কয়েক দিন ধরে তিনি নিহত শিশুর বাবার সঙ্গে মিশেছেন এবং গভীর রাতে মোবাইল ফোনে কলির নিখোঁজের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। এমনকি কলির সন্ধান ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ ও মানববন্ধনেও তিনি অংশ নেন। মরদেহ উদ্ধারের সময়ও সাংবাদিক ও পুলিশের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর রাত ১০টার দিকে মোস্তফা আবার তার মুদিদোকান খোলেন এবং রক্তমাখা শরীর নিয়ে গোসল করেন বলে রিমান্ডে জানিয়েছেন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আলীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, কলিকে ফুসলিয়ে মোস্তফার দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নেওয়া হয়। ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দী করে গোপন করার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়া এবং কুকুর তাড়া করায় সেটি বাইরে নিতে পারেননি তারা।
মরদেহ উদ্ধারের পর পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত ও ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। পুলিশের দাবি, পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। পরে দুজনকে হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলেও দ্রুত স্বীকারোক্তিমূলক তথ্য পাওয়ায় রিমান্ড আগেই শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা বেনু রায় বলেন, মামলার তদন্ত প্রায় ৯৯ শতাংশ শেষ হয়েছে। এখন ডিজিটাল ফরেনসিকসহ কয়েকটি পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া বাকি। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিহত শিশুর আলামত রাজশাহী সিআইডিতে পাঠানো হবে। ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর ধর্ষণের ঘটনায় একজন নাকি দুজন জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর দুই আসামিরও ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত তিনদিন ধরে মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে ভাঙচুর চালাচ্ছেন উৎসুক জনতা। স্থানীয়দের দাবি, বাড়িটির প্রায় ৮০ শতাংশ ভাঙচুর হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকেও অনেকে সেখানে আসছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, সাত দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দাবিতে রোববার দুপুরে পাবনা আদালত ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও করেন নিহতের স্বজন ও সাধারণ মানুষ। মামলার তদন্তে কালক্ষেপণ হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে ব্যক্তি পর্যায়ে মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক প্রকাশিত ‘আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহার জরিপ ২০২৫-২৬’-এর চতুর্থ প্রান্তিক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনটি রোববার প্রকাশিত হয় এবং এতে বলা হয়েছে, ৫ বছর ও তার বেশি বয়সী জনগণের মধ্যে বর্তমানে ৮৯ দশমিক ৬ শতাংশ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৮৮ দশমিক ২ শতাংশ।
এছাড়া, একই সময়ে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনের মালিকানার হার ৬৪ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের হারও ৫৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৯ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কম্পিউটার ব্যবহারের হার ১১ দশমিক ৮ শতাংশ রয়েছে।
খানা পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ খানায় অন্তত একটি মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। স্মার্টফোনের উপস্থিতি ৭৪ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৫ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে।
এছাড়া, ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ খানায় ইন্টারনেট সংযোগ, ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশ খানায় বিদ্যুৎ, ৬০ দশমিক ১ শতাংশ খানায় টেলিভিশন, ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ খানায় রেডিও এবং ৯ দশমিক ১ শতাংশ খানায় কম্পিউটার ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে।
বিবিএসের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীনে ‘ব্যক্তি ও খানা পর্যায়ে জেলাভিত্তিক আইসিটি ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োগ পরিমাপ’ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬৪ জেলায় এই জরিপ পরিচালিত হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের জন্য কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পার্সোনাল ইন্টারভিউয়িং (ক্যাপি) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
এপ্রিল থেকে জুন ২০২৬ সময়ের তথ্য নিয়ে তৈরি এই প্রতিবেদনে দেশের ২ হাজার ৫৬৮টি নির্বাচিত নমুনা এলাকার ৬১ হাজার ৬৩২টি খানার তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
বিবিএস জানিয়েছে, জরিপের এই তথ্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পর্যবেক্ষণ, জেলাভিত্তিক আইসিটি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) ২২টি সূচকের তথ্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের কর-জিডিপি অনুপাতকে বর্তমান ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার জন্য ব্যাপক সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য করের আওতা বৃদ্ধি, কর পরিপালন জোরদার, ডিজিটাল ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ এবং আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য ‘ওয়ান এনবিআর’ কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের পরিকল্পনার আওতায়, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিভাগগুলো আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তে সমন্বিতভাবে করদাতা ব্যবস্থাপনায় কাজ করবে। এর ফলে করদাতার তথ্য, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, কর পরিশোধ এবং বকেয়া রাজস্বের তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলোকে আরও বেশি সমন্বিত করা হবে।
গত মাসে অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এনবিআরের সংস্কার ও সংস্থাটির সক্ষমতা বৃদ্ধির রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে সরকারি ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে এনবিআরের সক্ষমতা, কর-জিডিপি অনুপাতের ঘাটতি কমাতে নেওয়া পদক্ষেপ, এনবিআরের সাংগঠনিক কাঠামো এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এনবিআর জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি করতে শুধুমাত্র করের হার বৃদ্ধি করলেই হবে না। বরং করের আওতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো, প্রযুক্তি ও তথ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং করদাতাদের কর পরিপালন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
এনবিআরের রূপরেখায় স্বল্পমেয়াদে কর-জিডিপি অনুপাত ৮ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মধ্যমেয়াদে ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজস্ব প্রশাসনে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সক্ষমতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং করদাতা সেবা বৃদ্ধি রাজস্ব বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে এনবিআর।
এনবিআরের উপস্থাপনায় বলা হয়েছে, সরকারের মোট রাজস্বের প্রায় ৮৬ শতাংশ বর্তমানে এনবিআর থেকে আসে।
এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাজস্ব আহরণের প্রাতিষ্ঠানিক ও পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ জোরদার করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এ সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ বছরে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বেশিরভাগ সময় ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে ছিল। ২০১১-১২ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের মধ্যে এটি প্রায় ১০ শতাংশে উঠলেও পরে আবার কমে যায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই অনুপাত ৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়ায়।
এনবিআর বলছে, দক্ষিণ এশিয়া ও প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের বর্তমান কর-জিডিপি অনুপাত এখনও সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এই অবস্থায় ২০৩৫ সালের মধ্যে অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সংসদীয় কমিটিতে দেওয়া উপস্থাপনায় জানানো হয়েছে, এনবিআর গত ২৫ বছরের জিডিপির আকার, সরকারি বাজেট, রাজস্ব ও উন্নয়ন ব্যয়, এনবিআরের রাজস্ব আহরণ ও প্রবৃদ্ধি, সরকারি ঋণ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর কর-জিডিপি অনুপাতের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
এতে দেখা যায়, পর্যালোচিত সময়ে সরকারি ব্যয় ৪ দশমিক ৪৭ গুণ বাড়লেও এনবিআরের রাজস্ব আহরণ বেড়েছে ৩ দশমিক ৪০ গুণ। ফলে সরকারি ব্যয় বাড়ার সাথে সামঞ্জস্য রেখে রাজস্ব আহরণের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে এনবিআর।
উপস্থাপনা অনুযায়ী, ২০০১-০২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত রাজস্ব প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকৃত রাজস্ব আয়ের তুলনায় রাজস্ব প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে।
রাজস্ব প্রশাসন শক্তিশালী করতে তাৎক্ষণিকভাবে করদাতা সেবা, সুশাসন, নীতি প্রণয়নের সক্ষমতা, তথ্য ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে এনবিআর।
প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনায় আইনি কাঠামো ও পরিবর্তনকালীন ব্যবস্থা পর্যালোচনা, সমন্বিত এন্টারপ্রাইজ আর্কিটেকচার তৈরি, প্রতিটি করদাতার জন্য স্বতন্ত্র মাস্টার ডেটাবেজ এবং অভিন্ন ডেটা ডিকশনারি ও সিস্টেম ইনভেন্টরি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া রাজস্ব নীতি সচিবালয় গঠন, কর-ব্যয়ের রেজিস্টার তৈরি এবং নীতির আর্থিক প্রভাব নির্ধারণে বাধ্যতামূলক টেমপ্লেট চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রথম তিন বছরে একটি সমন্বিত করদাতা অ্যাকাউন্ট, গ্রাহক ও মামলা ব্যবস্থাপনার সমন্বিত ব্যবস্থা, তৃতীয় পক্ষের তথ্যের সঙ্গে করদাতার তথ্য মিলিয়ে দেখা, বিভিন্ন করের ক্ষেত্রে পরিপালন ঝুঁকি শনাক্তের অভিন্ন ব্যবস্থা এবং কর পরিশোধ ও বকেয়া রাজস্বের সমন্বিত তথ্যভান্ডার চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
কাস্টমসের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত সীমান্ত কার্যক্রম বহাল রেখে আমদানি ও রপ্তানিকারকদের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে পণ্যের মূল্যায়ন, ভ্যাট ও আয়কর-সংক্রান্ত ঝুঁকির তথ্য সমন্বয় করার প্রস্তাব করেছে এনবিআর।
পরবর্তী তিন থেকে পাঁচ বছরে প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে কর পরিপালন বিশ্লেষণের ব্যবস্থা, আইনি সুযোগ থাকলে আগে থেকে পূরণ করা কর রিটার্নের পরিধি বাড়ানো, কম ঝুঁকির ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ ফেরত দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর নেটওয়ার্ক ও জালিয়াতি শনাক্তে উন্নত বিশ্লেষণ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
এনবিআর জানিয়েছে, রাজস্ব নীতির মাধ্যমে শিল্পোন্নয়ন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতেও সহায়তা প্রদান করা হবে। এর অংশ হিসেবে কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক কমানো, কৃষি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ভ্যাট অব্যাহতি, বিভিন্ন খাতে কম আয়কর হার ও কর অব্যাহতি, কাস্টমস অটোমেশন এবং সিঙ্গেল-উইন্ডো সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজস্ব নীতিতে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পাওয়া খাতের মধ্যে রয়েছে কৃষি, তৈরি পোশাক, রেফ্রিজারেটর ও এয়ার কন্ডিশনার, তথ্যপ্রযুক্তি, অটোমোবাইল ও বৈদ্যুতিক যানবাহন, মোবাইল ফোন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), পুঁজিবাজার, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা, ওষুধ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি।
সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চীনা বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের ১০ মিটার বা প্রায় ৩৩ ফুট গভীরতায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছেন। গবেষকদের মতে, পানির নিচে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন সম্ভাবনার সূচনা করেছে।
দক্ষিণ চীন সাগরে ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষকদল পেরোভস্কাইটভিত্তিক সোলার প্যানেল ব্যবহার করে এই পরীক্ষা সম্পন্ন করে। রোবটের সাহায্যে ১১৫ বর্গ সেন্টিমিটার আয়তনের প্যানেলটি সমুদ্রের দুই, ছয় ও ১০ মিটার গভীরে পরীক্ষা করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, দুই মিটার গভীরতায় প্যানেলটি ১ হাজার ৪১৬ মিলিওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। ছয় মিটার গভীরতায় উৎপাদন হয় ৭৫২ মিলিওয়াট-ঘণ্টা এবং ১০ মিটার গভীরতায় ৩২৪ মিলিওয়াট-ঘণ্টা। উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ করার পাশাপাশি এলইডি লাইটও জ্বালানো হয়।
গবেষকরা জানান, পানির গভীরতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের লাল আলোর একটি বড় অংশ শোষিত হয়ে যায়। ফলে ৫ থেকে ১০ মিটার গভীরতায় মূলত নীল ও সবুজ আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য তুলনামূলকভাবে বেশি পৌঁছায়। এই বিষয়টি মাথায় রেখে নতুন সোলার প্যানেলগুলো ৪০০ থেকে ৬০০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো কাজে লাগানোর উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।
প্যানেল তৈরিতে সীসা-হ্যালাইড পেরোভস্কাইট নামের একটি বিশেষ অর্ধপরিবাহী উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। এর সঙ্গে পলিহেক্সামেথিলিন গুয়ানিডিন হাইড্রোক্লোরাইড নামের একটি পলিমার যুক্ত করা হয়েছে। গবেষকদের দাবি, এতে সোলার প্যানেলের ইলেকট্রন ধরে রাখার সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
গবেষক ওয়েন-হুয়া ঝাং বলেন, "পানির নিচে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে আগের বেশিরভাগ গবেষণা দুই মিটার বা তার কম গভীরতায় সীমাবদ্ধ ছিল। এবার প্রায় ১০ মিটার গভীরতায় প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে।"
১১ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জুল’-এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, নতুন প্যানেলগুলো প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে।
গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে সমুদ্রের নিচে স্থির সেন্সর, শনাক্তকারী যন্ত্র ও অন্যান্য স্বয়ংক্রিয় ডিভাইসে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহে কাজে লাগতে পারে। পাশাপাশি সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগব্যবস্থা ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে স্বয়ংসম্পূর্ণ পানির নিচের শক্তিব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের এক নারীর কাছে রাস্তায় বের হলেই গাড়ির নম্বর প্লেটে কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যা বারবার দেখা যাচ্ছিল। যদিও বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল, তিনি তা এড়িয়ে যাননি; বরং মহাজাগতিক কোনো ‘বার্তা’ মনে করে সংখ্যাগুলো ডায়েরিতে লিখে রাখেন। শেষ পর্যন্ত সেই রহস্যময় সংখ্যাগুলোর ওপর ভরসা করে লটারির টিকিট কিনে তিনি এক লাখ মার্কিন ডলার জয় করেছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার সমান।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের নরফোক শহরে। সম্প্রতি বিজয়ী নারী ভার্জিনিয়া লটারি কর্তৃপক্ষের কাছে তার অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, কিছুদিন ধরে তিনি যেখানেই যাচ্ছিলেন, সেখানেই কোনো না কোনো গাড়ির নম্বর প্লেটে ‘০-৮-১-১-৬’ সংখ্যাটি তার নজরে আসছিল। ক্রমাগত একই সংখ্যা চোখের সামনে ভেসে ওঠায়, তিনি এটিকে নিজের ভাগ্য পরীক্ষার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর গত ১২ আগস্ট আয়োজিত ‘পিক ফাইভ’ লটারির ড্রয়ের জন্য ওই সংখ্যাগুলো ব্যবহার করে অনলাইনে দুটি টিকিট কেনেন। ড্রয়ের পর দেখা যায়, তার বেছে নেওয়া সংখ্যাগুলোর সঙ্গে বিজয়ী নম্বর হুবহু মিলে গেছে। প্রতিটি টিকিটে ৫০ হাজার ডলার করে, দুটি টিকিটে মোট ১ লাখ ডলারের বড় পুরস্কার পেয়ে যান তিনি।
লটারি জয়ের পর বিজয়ী নারী এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘লটারির ফলাফলে একের পর এক এতগুলো শূন্য দেখে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। ডলারের অঙ্কটা নিশ্চিত হওয়ার পরপরই আমি আনন্দে চিৎকার করে উঠি।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ