বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪৯ পি.এম
রাজধানীর যানজট হ্রাসের লক্ষ্যে সরকার অবৈধ অটোরিকশা চার্জিং পয়েন্ট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি, সড়ক উন্নয়নকাজ শুরুর পূর্বে ট্রাফিক বিভাগের অনুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে ঠিকাদারদের জরিমানা করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় বিদ্যুতের লাইনে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে পরিচালিত চার্জিং পয়েন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, বিদ্যুৎ বিভাগ, ডিএমপি এবং সিটি করপোরেশন একযোগে অবৈধ কারখানা ও প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
ঢাকার বিভিন্ন সড়কে উন্নয়নকাজের জন্য নতুন নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। কাজ শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের মতামত ও অনুমতি নিতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান, কাজের সময়সূচি এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে হবে। নির্মাণকাজ শুরু করার পূর্বে ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যৌথভাবে স্থান পরিদর্শনও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কর্মদিবসে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত নির্মাণকাজ পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্র ও শনিবার পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে ২৪ ঘণ্টা কাজ চালিয়ে দ্রুত প্রকল্প শেষ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ ও জরিমানা করা হবে। ভবিষ্যতে ঠিকাদার নিয়োগের সময় ডিএমপির প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশও রয়েছে।
এছাড়া, নির্মাণস্থলে প্রশিক্ষিত ট্রাফিক সিগন্যালম্যান নিয়োগ, চলাচলের লেন ও ফুটপাতে নির্মাণসামগ্রী না রাখা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যারিয়ার স্থাপন এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা বিমানবন্দর ফ্লাইওভারের আশপাশে সড়কের পাশে পড়ে থাকা মাটি ও নির্মাণসামগ্রী দ্রুত সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সড়কগুলো চিহ্নিত করে খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
রাজধানীর চলমান উন্নয়নকাজের অগ্রগতি ও জনদুর্ভোগ নিয়ে প্রতি মাসে যৌথ পর্যালোচনা সভা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্কুল-কলেজে পাবলিক পরীক্ষা ও হাসপাতাল এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর উন্নয়নকাজের সমন্বয় ও যানজট হ্রাসের জন্য ডিটিসিএকে আহ্বায়ক করে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।
আগামী ১ অক্টোবর বিকেল ৩টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়ার পর কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ১৭ কিশোর কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার ভেতর ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনা ঘটে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে।
দাউদকান্দি থানার ডিউটি কর্মকর্তা সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সাজ্জাদ হোসেন বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার পর কিশোরদের নাম ও ঠিকানা লিখে নিয়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, থানার পাশের একটি পার্ক থেকে ওই ১৭ কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছিল কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে। তবে পুলিশ যখন তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে, তখন কয়েকজন কিশোর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা ডিউটি অফিসারের কক্ষে চেয়ার ও টেবিল উল্টে ভাঙচুর চালায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ডিউটি অফিসারের কক্ষে চেয়ার ও টেবিল উল্টে পড়ে রয়েছে।
এছাড়া কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের গাড়ি দেখে একদল কিশোর দৌড়ে পালাচ্ছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম সম্প্রতি খুন হওয়ার পর কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।
সন্ধ্যার পর অপ্রাপ্তবয়স্ক কেউ বাইরে ঘোরাঘুরি করলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ডেকে বিষয়টি জানানো হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গতকালের অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বেশিরভাগকেই মুচলেকা দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে মাদকসংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা কয়েকজনের ব্যাপারে যাচাইবাছাই করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ি কিনতে গেলে বাড়ির দাম, ডাউন পেমেন্ট এবং মাসিক মর্টগেজের কিস্তি হিসাব করলেই যথেষ্ট নয়। বাড়ি কেনার পর নিয়মিত এবং হঠাৎ—দুই ধরনের অতিরিক্ত খরচের সম্মুখীন হতে হয়। এসব খরচের পূর্বাভাস না দিলে, বাড়ি কেনার পর মাসিক বাজেটে চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কনজ্যুমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো বা সিএফপিবি জানাচ্ছে, একটি বাড়ির প্রকৃত মাসিক খরচ নির্ধারণের জন্য মূলধন ও সুদ, সম্পত্তি কর, বাড়ির মালিকের বীমা এবং প্রযোজ্য মর্টগেজ বীমা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। অনেক মর্টগেজ ঋণের ক্ষেত্রে এই অর্থ প্রতি মাসের কিস্তির সঙ্গে এসক্রো হিসাবে জমা রাখা হয়।
সম্পত্তি কর
বাড়ি কেনার পর নিয়মিতভাবে সম্পত্তি কর দিতে হয়। কোন এলাকায় বাড়িটি অবস্থিত এবং স্থানীয় করের হার কেমন—তার ওপর এই খরচ নির্ভর করে। ঋণের ধরন অনুযায়ী এই অর্থ মর্টগেজের সঙ্গে এসক্রো হিসাবে জমা হতে পারে, অথবা সরাসরি কর কর্তৃপক্ষকেও প্রদান করতে হতে পারে।
বাড়ির মালিকের বীমা
বাড়ির ধরন, অবস্থান, বীমার আওতা এবং ওই এলাকার ঝুঁকির ওপর বাড়ির মালিকের বীমার খরচ নির্ভর করে। অনেক ক্ষেত্রে এই বীমার অর্থও মর্টগেজের সঙ্গে এসক্রো হিসাবে নেওয়া হয়।
মর্টগেজ বীমা
প্রচলিত মর্টগেজ ঋণের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশের কম ডাউন পেমেন্ট দিলে পিএমআই বা প্রাইভেট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স লাগতে পারে। তবে এফএইচএসহ বিভিন্ন ঋণ কর্মসূচিতে মর্টগেজ বীমার নিয়ম ভিন্ন।
এইচওএ ফি
কনডোমিনিয়াম, টাউনহোম বা বাড়ির মালিক সমিতির আওতাধীন এলাকায় বাড়ি কিনলে এইচওএ বা বাড়ির মালিক সমিতির ফি প্রদান করতে হতে পারে। সাধারণত এই খরচ মর্টগেজের মাসিক কিস্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে না।
বাড়ি কেনার সময়ের অতিরিক্ত খরচ
ডাউন পেমেন্টের বাইরে বাড়ি কেনার সময় বিভিন্ন খরচও হতে পারে। সিএফপিবির তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির দামের প্রায় ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্লোজিং কস্ট হতে পারে। তবে বাড়ির দাম, ডাউন পেমেন্ট, ঋণদাতার খরচ, ঋণের ধরন, বাড়ির ধরন ও অবস্থানের ওপর এই খরচের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।
ক্লোজিং কস্টের মধ্যে ঋণদাতার বিভিন্ন ফি, বাড়ির মূল্য নির্ধারণের খরচ, মালিকানা-সংক্রান্ত ফি, সরকারি ফি, অগ্রিম সুদ, বাড়ির মালিকের বীমার প্রাথমিক প্রিমিয়াম এবং এসক্রো হিসাবে জমা দেওয়ার প্রাথমিক অর্থ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। বাড়ি পরিদর্শনের খরচ অনেক সময় আলাদাভাবে দিতে হয়।
ঋণদাতা ক্লোজিং কস্ট কমানোর জন্য কিছু অর্থ দিতে পারে। তবে এটিকে সবসময় বিনা খরচের সুবিধা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এর বিনিময়ে সুদের হার বৃদ্ধি পেতে পারে, ফলে দীর্ঘ মেয়াদে ঋণের মোট খরচও বেড়ে যেতে পারে।
বাড়ি কেনার পরের নিয়মিত খরচ
বাড়ির মালিক হওয়ার পর বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, পয়োনিষ্কাশন, ময়লা অপসারণ এবং ইন্টারনেটের মতো নিয়মিত খরচ থাকবে। এসব সাধারণত মর্টগেজের কিস্তির মধ্যে থাকে না।
এছাড়া বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্যও অর্থ সংরক্ষণ করতে হবে। ছাদ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, পানির পাইপ, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, গরম পানির যন্ত্র বা বিভিন্ন গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে বড় অঙ্কের খরচ হতে পারে।
অতএব, বাড়ি কেনার বাজেটের মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত, স্থানান্তর, আসবাবপত্র এবং ভবিষ্যতের বাড়ির উন্নয়নকাজের জন্যও অর্থ রাখা অপরিহার্য।
আরও যেসব খরচ আসতে পারে
বন্যার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাড়ি হলে আলাদা বন্যা বীমার প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া বাড়ির বয়স, জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা এবং অবস্থানের ওপর বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সেবার খরচও কমবেশি হতে পারে।
মাসিক খরচ কীভাবে হিসাব করবেন
প্রথমবার বাড়ি কেনার আগে শুধুমাত্র মর্টগেজের কিস্তি কত হবে—এটি না দেখে মোট মাসিক আবাসন খরচ হিসাব করা উচিত। এর মধ্যে থাকতে পারে—
ঋণ নেওয়ার আগে লোন এস্টিমেট এবং বাড়ি কেনার সময় ক্লোজিং ডিসক্লোজার ভালোভাবে দেখা উচিত। ক্লোজিং ডিসক্লোজারের তথ্য লোন এস্টিমেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। সম্পত্তি কর, বীমা বা এইচওএ ফি এসক্রোর মধ্যে আছে কি না, সেটিও যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যাংক বা ঋণদাতা যে পরিমাণ ঋণের জন্য আপনাকে যোগ্য মনে করছে, সেটিই যে আপনার জন্য স্বস্তিদায়ক মাসিক খরচ হবে—এমন নয়। নিজের আয়, অন্যান্য ঋণ, সঞ্চয় ও দৈনন্দিন খরচ বিবেচনা করে বাড়ির মোট মাসিক ব্যয় নির্ধারণ করা উচিত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নড়াইলে ৮ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে, যার সঙ্গে জড়িত হাবিবুর রহমান (১৫) নামের এক কিশোর।
শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্তসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর শিশুটি ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখে। তবে মঙ্গলবার রাতে শারীরিক যন্ত্রণায় কষ্ট পেতে থাকলে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিস্তারিত জানায়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে বুধবার দুপুরে তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু জানান, বলাৎকারের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মূল অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানসহ দুজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাটির স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য বোঝার জন্য সুইজারল্যান্ডের গবেষকেরা অভিনব পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। দেশটির বিভিন্ন বাগান, তৃণভূমি, কৃষিজমি এবং লনে দুই হাজারের বেশি জোড়া তুলার অন্তর্বাস পুঁতে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, মাটির নিচে প্রায় ১২ হাজার টি-ব্যাগও দেওয়া হয়েছে। দুই মাস পর সেগুলো তুলে পরীক্ষা করে মাটির জৈবিক কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে গবেষকদের।
বিজ্ঞানবিষয়ক সংবাদমাধ্যম সায়েন্সঅ্যালার্টের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার ফল Plants, People, Planet জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকদের উদ্যোগের নাম ‘Proof by Underpants’ রাখা হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য ছিল মাটির জীববৈচিত্র্য ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
গবেষকেরা লক্ষ্য করেছেন, দুই মাস মাটির নিচে থাকার পর কিছু অন্তর্বাস প্রায় পুরোপুরি পচে গেছে। কোথাও শুধু সেলাইয়ের অংশ অবশিষ্ট ছিল। আবার কিছু জায়গায় অন্তর্বাসে মাত্র এক-দুটি ছিদ্র তৈরি হয়েছে।
গবেষকদের মতে, মাটিতে থাকা কেঁচো, ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীবের কর্মকাণ্ডের কারণে তুলার অন্তর্বাস দ্রুত পচে যায়। তাই অন্তর্বাসের পচন পরিমাণ মাটির জৈবিক কার্যক্রমের একটি সহজ সূচক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
এ থেকেই গবেষকেরা ‘আন্ডারপ্যান্টস ইনডেক্স’ বা ‘অন্তর্বাস সূচক’ ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন। সাধারণভাবে, অন্তর্বাস যত বেশি পচবে, মাটিতে জৈবিক কার্যক্রম তত বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, জমির ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা মাটির সক্রিয়তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। সুইজারল্যান্ডের লন, কৃষিজমি ও তৃণভূমিতে অন্তর্বাসের পচনের হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল। বিশেষ করে ভবন ও বাড়ির আশপাশের একজাতীয় ঘাসে আচ্ছাদিত জমিতে মাটির জৈবিক কার্যক্রমের মাত্রা কম পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, ব্যক্তিগত বাগানে অন্তর্বাস সবচেয়ে বেশি পচেছে। সেখানে কেঁচো, ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য মাটিতে বসবাসকারী জীব বেশি সক্রিয় ছিল। এসব বাগানের মাটিতে জৈব কার্বন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের পরিমাণও তুলনামূলকভাবে বেশি পাওয়া গেছে।
দুই মাস পর ব্যক্তিগত বাগানে পুঁতে রাখা তুলার অন্তর্বাসের গড়ে ৫৮ শতাংশ পচে যায়। বিপরীতে, লনে পচনের হার ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিজ্ঞানী ও গবেষণার সহ-প্রধান মার্সেল ভ্যান ডার হেইডেন বলেন, জমির ব্যবস্থাপনা মাটির জীবজগৎ ও গুণমানের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে তুলার স্ট্রিপ ও টি-ব্যাগ ব্যবহারের নজির আগে থেকেই রয়েছে। তবে গবেষকদের মতে, অন্তর্বাস ব্যবহার করে বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব।
প্রায় পাঁচ বছর আগে শুরু হওয়া এই নাগরিক বিজ্ঞান প্রকল্পে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকার প্রায় এক হাজার স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। তারা দেশের বিভিন্ন ধরনের ভূদৃশ্যে তুলার অন্তর্বাস ও টি-ব্যাগ মাটির নিচে পুঁতে দেন।
দুই মাস পর সেগুলো তুলে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। অন্তর্বাস ও টি-ব্যাগ দুই পরীক্ষাতেই প্রায় একই ধরনের ফল পাওয়া যায়। উভয় ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত বাগানে পচনের হার সবচেয়ে বেশি ছিল। হাঙ্গেরিতে পরিচালিত আরেকটি নাগরিক বিজ্ঞান গবেষণাতেও প্রায় একই ফল পাওয়া গেছে। সেখানে পরিচর্যা করা পারিবারিক সবজি-বাগানের মাটিতে অন্তর্বাস তুলনামূলক দ্রুত পচেছিল।
তবে গবেষকেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা দিয়েছেন। কোনো মাটিতে জৈবিক কার্যক্রম বেশি থাকা এবং সেটি সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর হওয়া দুটি বিষয় এক নয়। ব্যক্তিগত বাগানের মাটিতে ফসফরাস, নাইট্রোজেন ও পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি পাওয়া গেছে। গবেষকদের ধারণা, এর অন্যতম কারণ অতিরিক্ত সার ব্যবহার।
বিশেষ করে অনেক ব্যক্তিগত বাগানে ফসফরাসের মাত্রা মাটি ব্যবস্থাপনা ও ফসল উৎপাদনের জন্য নির্ধারিত সীমার চেয়েও বেশি ছিল। অতিরিক্ত ফসফরাস আশপাশের জলপথ ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
গবেষণার আরেক সহ-প্রধান ও জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিজ্ঞানী ফ্রাঞ্জ বেন্ডারের মতে, সব ধরনের বাস্তুতন্ত্রে সর্বোচ্চ মাত্রার পচন বা জৈবিক কার্যক্রম সবসময় কাম্য নয়। বনাঞ্চলের মতো প্রায়-প্রাকৃতিক পরিবেশে অতিরিক্ত পুষ্টি মাটির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।
গবেষকদের মতে, অন্তর্বাস কতটা পচেছে, তা দেখে কোনো মাটিতে জৈবিক কার্যক্রম ও পুষ্টির উপস্থিতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া সম্ভব। তবে শুধুমাত্র এই সূচক দিয়ে কোন মাটি সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর, তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যাবে না। এর জন্য মাটির রাসায়নিক ও জীববৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।
গবেষকেরা বলছেন, নাগরিকদের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই প্রকল্প সুইজারল্যান্ডের মাটির জীবজগৎ সম্পর্কে বড় একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করেছে। একই সঙ্গে অদ্ভুত ও সহজবোধ্য এই পদ্ধতির মাধ্যমে মাটির গুরুত্ব নিয়েও মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে।
গবেষকদের আশা, এই তথ্য ভবিষ্যতে কোন ধরনের মাটির বেশি যত্ন ও সংরক্ষণ প্রয়োজন, তা শনাক্ত করতে সহায়তা করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ