প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ি কিনতে গেলে বাড়ির দাম, ডাউন পেমেন্ট এবং মাসিক মর্টগেজের কিস্তি হিসাব করলেই যথেষ্ট নয়। বাড়ি কেনার পর নিয়মিত এবং হঠাৎ—দুই ধরনের অতিরিক্ত খরচের সম্মুখীন হতে হয়। এসব খরচের পূর্বাভাস না দিলে, বাড়ি কেনার পর মাসিক বাজেটে চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কনজ্যুমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো বা সিএফপিবি জানাচ্ছে, একটি বাড়ির প্রকৃত মাসিক খরচ নির্ধারণের জন্য মূলধন ও সুদ, সম্পত্তি কর, বাড়ির মালিকের বীমা এবং প্রযোজ্য মর্টগেজ বীমা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। অনেক মর্টগেজ ঋণের ক্ষেত্রে এই অর্থ প্রতি মাসের কিস্তির সঙ্গে এসক্রো হিসাবে জমা রাখা হয়।
সম্পত্তি কর
বাড়ি কেনার পর নিয়মিতভাবে সম্পত্তি কর দিতে হয়। কোন এলাকায় বাড়িটি অবস্থিত এবং স্থানীয় করের হার কেমন—তার ওপর এই খরচ নির্ভর করে। ঋণের ধরন অনুযায়ী এই অর্থ মর্টগেজের সঙ্গে এসক্রো হিসাবে জমা হতে পারে, অথবা সরাসরি কর কর্তৃপক্ষকেও প্রদান করতে হতে পারে।
বাড়ির মালিকের বীমা
বাড়ির ধরন, অবস্থান, বীমার আওতা এবং ওই এলাকার ঝুঁকির ওপর বাড়ির মালিকের বীমার খরচ নির্ভর করে। অনেক ক্ষেত্রে এই বীমার অর্থও মর্টগেজের সঙ্গে এসক্রো হিসাবে নেওয়া হয়।
মর্টগেজ বীমা
প্রচলিত মর্টগেজ ঋণের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশের কম ডাউন পেমেন্ট দিলে পিএমআই বা প্রাইভেট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স লাগতে পারে। তবে এফএইচএসহ বিভিন্ন ঋণ কর্মসূচিতে মর্টগেজ বীমার নিয়ম ভিন্ন।
এইচওএ ফি
কনডোমিনিয়াম, টাউনহোম বা বাড়ির মালিক সমিতির আওতাধীন এলাকায় বাড়ি কিনলে এইচওএ বা বাড়ির মালিক সমিতির ফি প্রদান করতে হতে পারে। সাধারণত এই খরচ মর্টগেজের মাসিক কিস্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে না।
বাড়ি কেনার সময়ের অতিরিক্ত খরচ
ডাউন পেমেন্টের বাইরে বাড়ি কেনার সময় বিভিন্ন খরচও হতে পারে। সিএফপিবির তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির দামের প্রায় ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্লোজিং কস্ট হতে পারে। তবে বাড়ির দাম, ডাউন পেমেন্ট, ঋণদাতার খরচ, ঋণের ধরন, বাড়ির ধরন ও অবস্থানের ওপর এই খরচের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।
ক্লোজিং কস্টের মধ্যে ঋণদাতার বিভিন্ন ফি, বাড়ির মূল্য নির্ধারণের খরচ, মালিকানা-সংক্রান্ত ফি, সরকারি ফি, অগ্রিম সুদ, বাড়ির মালিকের বীমার প্রাথমিক প্রিমিয়াম এবং এসক্রো হিসাবে জমা দেওয়ার প্রাথমিক অর্থ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। বাড়ি পরিদর্শনের খরচ অনেক সময় আলাদাভাবে দিতে হয়।
ঋণদাতা ক্লোজিং কস্ট কমানোর জন্য কিছু অর্থ দিতে পারে। তবে এটিকে সবসময় বিনা খরচের সুবিধা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এর বিনিময়ে সুদের হার বৃদ্ধি পেতে পারে, ফলে দীর্ঘ মেয়াদে ঋণের মোট খরচও বেড়ে যেতে পারে।
বাড়ি কেনার পরের নিয়মিত খরচ
বাড়ির মালিক হওয়ার পর বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, পয়োনিষ্কাশন, ময়লা অপসারণ এবং ইন্টারনেটের মতো নিয়মিত খরচ থাকবে। এসব সাধারণত মর্টগেজের কিস্তির মধ্যে থাকে না।
এছাড়া বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্যও অর্থ সংরক্ষণ করতে হবে। ছাদ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, পানির পাইপ, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, গরম পানির যন্ত্র বা বিভিন্ন গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে বড় অঙ্কের খরচ হতে পারে।
অতএব, বাড়ি কেনার বাজেটের মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত, স্থানান্তর, আসবাবপত্র এবং ভবিষ্যতের বাড়ির উন্নয়নকাজের জন্যও অর্থ রাখা অপরিহার্য।
আরও যেসব খরচ আসতে পারে
বন্যার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাড়ি হলে আলাদা বন্যা বীমার প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া বাড়ির বয়স, জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা এবং অবস্থানের ওপর বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সেবার খরচও কমবেশি হতে পারে।
মাসিক খরচ কীভাবে হিসাব করবেন
প্রথমবার বাড়ি কেনার আগে শুধুমাত্র মর্টগেজের কিস্তি কত হবে—এটি না দেখে মোট মাসিক আবাসন খরচ হিসাব করা উচিত। এর মধ্যে থাকতে পারে—
ঋণ নেওয়ার আগে লোন এস্টিমেট এবং বাড়ি কেনার সময় ক্লোজিং ডিসক্লোজার ভালোভাবে দেখা উচিত। ক্লোজিং ডিসক্লোজারের তথ্য লোন এস্টিমেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। সম্পত্তি কর, বীমা বা এইচওএ ফি এসক্রোর মধ্যে আছে কি না, সেটিও যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যাংক বা ঋণদাতা যে পরিমাণ ঋণের জন্য আপনাকে যোগ্য মনে করছে, সেটিই যে আপনার জন্য স্বস্তিদায়ক মাসিক খরচ হবে—এমন নয়। নিজের আয়, অন্যান্য ঋণ, সঞ্চয় ও দৈনন্দিন খরচ বিবেচনা করে বাড়ির মোট মাসিক ব্যয় নির্ধারণ করা উচিত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন