বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৫০ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ি কিনতে গেলে বাড়ির দাম, ডাউন পেমেন্ট এবং মাসিক মর্টগেজের কিস্তি হিসাব করলেই যথেষ্ট নয়। বাড়ি কেনার পর নিয়মিত এবং হঠাৎ—দুই ধরনের অতিরিক্ত খরচের সম্মুখীন হতে হয়। এসব খরচের পূর্বাভাস না দিলে, বাড়ি কেনার পর মাসিক বাজেটে চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কনজ্যুমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো বা সিএফপিবি জানাচ্ছে, একটি বাড়ির প্রকৃত মাসিক খরচ নির্ধারণের জন্য মূলধন ও সুদ, সম্পত্তি কর, বাড়ির মালিকের বীমা এবং প্রযোজ্য মর্টগেজ বীমা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। অনেক মর্টগেজ ঋণের ক্ষেত্রে এই অর্থ প্রতি মাসের কিস্তির সঙ্গে এসক্রো হিসাবে জমা রাখা হয়।
সম্পত্তি কর
বাড়ি কেনার পর নিয়মিতভাবে সম্পত্তি কর দিতে হয়। কোন এলাকায় বাড়িটি অবস্থিত এবং স্থানীয় করের হার কেমন—তার ওপর এই খরচ নির্ভর করে। ঋণের ধরন অনুযায়ী এই অর্থ মর্টগেজের সঙ্গে এসক্রো হিসাবে জমা হতে পারে, অথবা সরাসরি কর কর্তৃপক্ষকেও প্রদান করতে হতে পারে।
বাড়ির মালিকের বীমা
বাড়ির ধরন, অবস্থান, বীমার আওতা এবং ওই এলাকার ঝুঁকির ওপর বাড়ির মালিকের বীমার খরচ নির্ভর করে। অনেক ক্ষেত্রে এই বীমার অর্থও মর্টগেজের সঙ্গে এসক্রো হিসাবে নেওয়া হয়।
মর্টগেজ বীমা
প্রচলিত মর্টগেজ ঋণের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশের কম ডাউন পেমেন্ট দিলে পিএমআই বা প্রাইভেট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স লাগতে পারে। তবে এফএইচএসহ বিভিন্ন ঋণ কর্মসূচিতে মর্টগেজ বীমার নিয়ম ভিন্ন।
এইচওএ ফি
কনডোমিনিয়াম, টাউনহোম বা বাড়ির মালিক সমিতির আওতাধীন এলাকায় বাড়ি কিনলে এইচওএ বা বাড়ির মালিক সমিতির ফি প্রদান করতে হতে পারে। সাধারণত এই খরচ মর্টগেজের মাসিক কিস্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে না।
বাড়ি কেনার সময়ের অতিরিক্ত খরচ
ডাউন পেমেন্টের বাইরে বাড়ি কেনার সময় বিভিন্ন খরচও হতে পারে। সিএফপিবির তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির দামের প্রায় ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্লোজিং কস্ট হতে পারে। তবে বাড়ির দাম, ডাউন পেমেন্ট, ঋণদাতার খরচ, ঋণের ধরন, বাড়ির ধরন ও অবস্থানের ওপর এই খরচের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।
ক্লোজিং কস্টের মধ্যে ঋণদাতার বিভিন্ন ফি, বাড়ির মূল্য নির্ধারণের খরচ, মালিকানা-সংক্রান্ত ফি, সরকারি ফি, অগ্রিম সুদ, বাড়ির মালিকের বীমার প্রাথমিক প্রিমিয়াম এবং এসক্রো হিসাবে জমা দেওয়ার প্রাথমিক অর্থ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। বাড়ি পরিদর্শনের খরচ অনেক সময় আলাদাভাবে দিতে হয়।
ঋণদাতা ক্লোজিং কস্ট কমানোর জন্য কিছু অর্থ দিতে পারে। তবে এটিকে সবসময় বিনা খরচের সুবিধা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এর বিনিময়ে সুদের হার বৃদ্ধি পেতে পারে, ফলে দীর্ঘ মেয়াদে ঋণের মোট খরচও বেড়ে যেতে পারে।
বাড়ি কেনার পরের নিয়মিত খরচ
বাড়ির মালিক হওয়ার পর বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, পয়োনিষ্কাশন, ময়লা অপসারণ এবং ইন্টারনেটের মতো নিয়মিত খরচ থাকবে। এসব সাধারণত মর্টগেজের কিস্তির মধ্যে থাকে না।
এছাড়া বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্যও অর্থ সংরক্ষণ করতে হবে। ছাদ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, পানির পাইপ, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, গরম পানির যন্ত্র বা বিভিন্ন গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে বড় অঙ্কের খরচ হতে পারে।
অতএব, বাড়ি কেনার বাজেটের মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত, স্থানান্তর, আসবাবপত্র এবং ভবিষ্যতের বাড়ির উন্নয়নকাজের জন্যও অর্থ রাখা অপরিহার্য।
আরও যেসব খরচ আসতে পারে
বন্যার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাড়ি হলে আলাদা বন্যা বীমার প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া বাড়ির বয়স, জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা এবং অবস্থানের ওপর বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সেবার খরচও কমবেশি হতে পারে।
মাসিক খরচ কীভাবে হিসাব করবেন
প্রথমবার বাড়ি কেনার আগে শুধুমাত্র মর্টগেজের কিস্তি কত হবে—এটি না দেখে মোট মাসিক আবাসন খরচ হিসাব করা উচিত। এর মধ্যে থাকতে পারে—
ঋণ নেওয়ার আগে লোন এস্টিমেট এবং বাড়ি কেনার সময় ক্লোজিং ডিসক্লোজার ভালোভাবে দেখা উচিত। ক্লোজিং ডিসক্লোজারের তথ্য লোন এস্টিমেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। সম্পত্তি কর, বীমা বা এইচওএ ফি এসক্রোর মধ্যে আছে কি না, সেটিও যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যাংক বা ঋণদাতা যে পরিমাণ ঋণের জন্য আপনাকে যোগ্য মনে করছে, সেটিই যে আপনার জন্য স্বস্তিদায়ক মাসিক খরচ হবে—এমন নয়। নিজের আয়, অন্যান্য ঋণ, সঞ্চয় ও দৈনন্দিন খরচ বিবেচনা করে বাড়ির মোট মাসিক ব্যয় নির্ধারণ করা উচিত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নড়াইলে ৮ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে, যার সঙ্গে জড়িত হাবিবুর রহমান (১৫) নামের এক কিশোর।
শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্তসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর শিশুটি ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখে। তবে মঙ্গলবার রাতে শারীরিক যন্ত্রণায় কষ্ট পেতে থাকলে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিস্তারিত জানায়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে বুধবার দুপুরে তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু জানান, বলাৎকারের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মূল অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানসহ দুজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাটির স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য বোঝার জন্য সুইজারল্যান্ডের গবেষকেরা অভিনব পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। দেশটির বিভিন্ন বাগান, তৃণভূমি, কৃষিজমি এবং লনে দুই হাজারের বেশি জোড়া তুলার অন্তর্বাস পুঁতে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, মাটির নিচে প্রায় ১২ হাজার টি-ব্যাগও দেওয়া হয়েছে। দুই মাস পর সেগুলো তুলে পরীক্ষা করে মাটির জৈবিক কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে গবেষকদের।
বিজ্ঞানবিষয়ক সংবাদমাধ্যম সায়েন্সঅ্যালার্টের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার ফল Plants, People, Planet জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকদের উদ্যোগের নাম ‘Proof by Underpants’ রাখা হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য ছিল মাটির জীববৈচিত্র্য ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
গবেষকেরা লক্ষ্য করেছেন, দুই মাস মাটির নিচে থাকার পর কিছু অন্তর্বাস প্রায় পুরোপুরি পচে গেছে। কোথাও শুধু সেলাইয়ের অংশ অবশিষ্ট ছিল। আবার কিছু জায়গায় অন্তর্বাসে মাত্র এক-দুটি ছিদ্র তৈরি হয়েছে।
গবেষকদের মতে, মাটিতে থাকা কেঁচো, ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীবের কর্মকাণ্ডের কারণে তুলার অন্তর্বাস দ্রুত পচে যায়। তাই অন্তর্বাসের পচন পরিমাণ মাটির জৈবিক কার্যক্রমের একটি সহজ সূচক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
এ থেকেই গবেষকেরা ‘আন্ডারপ্যান্টস ইনডেক্স’ বা ‘অন্তর্বাস সূচক’ ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন। সাধারণভাবে, অন্তর্বাস যত বেশি পচবে, মাটিতে জৈবিক কার্যক্রম তত বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, জমির ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা মাটির সক্রিয়তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। সুইজারল্যান্ডের লন, কৃষিজমি ও তৃণভূমিতে অন্তর্বাসের পচনের হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল। বিশেষ করে ভবন ও বাড়ির আশপাশের একজাতীয় ঘাসে আচ্ছাদিত জমিতে মাটির জৈবিক কার্যক্রমের মাত্রা কম পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, ব্যক্তিগত বাগানে অন্তর্বাস সবচেয়ে বেশি পচেছে। সেখানে কেঁচো, ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য মাটিতে বসবাসকারী জীব বেশি সক্রিয় ছিল। এসব বাগানের মাটিতে জৈব কার্বন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের পরিমাণও তুলনামূলকভাবে বেশি পাওয়া গেছে।
দুই মাস পর ব্যক্তিগত বাগানে পুঁতে রাখা তুলার অন্তর্বাসের গড়ে ৫৮ শতাংশ পচে যায়। বিপরীতে, লনে পচনের হার ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিজ্ঞানী ও গবেষণার সহ-প্রধান মার্সেল ভ্যান ডার হেইডেন বলেন, জমির ব্যবস্থাপনা মাটির জীবজগৎ ও গুণমানের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে তুলার স্ট্রিপ ও টি-ব্যাগ ব্যবহারের নজির আগে থেকেই রয়েছে। তবে গবেষকদের মতে, অন্তর্বাস ব্যবহার করে বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব।
প্রায় পাঁচ বছর আগে শুরু হওয়া এই নাগরিক বিজ্ঞান প্রকল্পে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকার প্রায় এক হাজার স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। তারা দেশের বিভিন্ন ধরনের ভূদৃশ্যে তুলার অন্তর্বাস ও টি-ব্যাগ মাটির নিচে পুঁতে দেন।
দুই মাস পর সেগুলো তুলে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। অন্তর্বাস ও টি-ব্যাগ দুই পরীক্ষাতেই প্রায় একই ধরনের ফল পাওয়া যায়। উভয় ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত বাগানে পচনের হার সবচেয়ে বেশি ছিল। হাঙ্গেরিতে পরিচালিত আরেকটি নাগরিক বিজ্ঞান গবেষণাতেও প্রায় একই ফল পাওয়া গেছে। সেখানে পরিচর্যা করা পারিবারিক সবজি-বাগানের মাটিতে অন্তর্বাস তুলনামূলক দ্রুত পচেছিল।
তবে গবেষকেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা দিয়েছেন। কোনো মাটিতে জৈবিক কার্যক্রম বেশি থাকা এবং সেটি সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর হওয়া দুটি বিষয় এক নয়। ব্যক্তিগত বাগানের মাটিতে ফসফরাস, নাইট্রোজেন ও পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি পাওয়া গেছে। গবেষকদের ধারণা, এর অন্যতম কারণ অতিরিক্ত সার ব্যবহার।
বিশেষ করে অনেক ব্যক্তিগত বাগানে ফসফরাসের মাত্রা মাটি ব্যবস্থাপনা ও ফসল উৎপাদনের জন্য নির্ধারিত সীমার চেয়েও বেশি ছিল। অতিরিক্ত ফসফরাস আশপাশের জলপথ ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
গবেষণার আরেক সহ-প্রধান ও জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিজ্ঞানী ফ্রাঞ্জ বেন্ডারের মতে, সব ধরনের বাস্তুতন্ত্রে সর্বোচ্চ মাত্রার পচন বা জৈবিক কার্যক্রম সবসময় কাম্য নয়। বনাঞ্চলের মতো প্রায়-প্রাকৃতিক পরিবেশে অতিরিক্ত পুষ্টি মাটির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।
গবেষকদের মতে, অন্তর্বাস কতটা পচেছে, তা দেখে কোনো মাটিতে জৈবিক কার্যক্রম ও পুষ্টির উপস্থিতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া সম্ভব। তবে শুধুমাত্র এই সূচক দিয়ে কোন মাটি সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর, তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যাবে না। এর জন্য মাটির রাসায়নিক ও জীববৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।
গবেষকেরা বলছেন, নাগরিকদের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই প্রকল্প সুইজারল্যান্ডের মাটির জীবজগৎ সম্পর্কে বড় একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করেছে। একই সঙ্গে অদ্ভুত ও সহজবোধ্য এই পদ্ধতির মাধ্যমে মাটির গুরুত্ব নিয়েও মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে।
গবেষকদের আশা, এই তথ্য ভবিষ্যতে কোন ধরনের মাটির বেশি যত্ন ও সংরক্ষণ প্রয়োজন, তা শনাক্ত করতে সহায়তা করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করছেন। নিউইয়র্কে দায়িত্ব পালনকালে, নিউইয়র্ক পুলিশের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশমী রোজের সঙ্গে অপ্রত্যাশিতভাবে তার সাক্ষাৎ ঘটে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎটি হয়।
রুশমী রোজের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের খবর পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন তার সাবেক শিক্ষক মামুনুর রশিদ। প্রায় দুই দশক আগে বগুড়ায় রুশমীকে পড়িয়েছিলেন তিনি। নিউইয়র্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে দায়িত্বশীল পদে কাজ করতে এবং দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে দেখা করতে দেখে গর্বিত বোধ করছেন এই শিক্ষক।
রুশমী রোজ বগুড়া শহরের কাটনারপাড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবী প্রয়াত মাহফুজ আরা মিভার বড় মেয়ে। তিনি প্রায় ২২ থেকে ২৩ বছর আগে শিক্ষক মামুনুর রশিদের কাছে পড়াশোনা করেছেন। উল্লেখ্য, রুশমীর ছোট বোন রোশানা ও একই শিক্ষকের ছাত্রী ছিলেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে পৌঁছান। পরদিন থেকে শুরু হয় তার বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি। ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘকেন্দ্রিক ব্যস্ততার মধ্যে সদর দপ্তরের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রুশমীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথা হয়।
বগুড়ার মেয়ে রুশমী নিউইয়র্ক পুলিশে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন, এই খবর জানার পর প্রধানমন্ত্রী তার খোঁজখবর নেন। শিক্ষক মামুনুর রশিদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করা রুশমীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। নিউইয়র্কের মাটিতে সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় তিনি আবেগাপ্লুত হয়েছেন।
এই সাক্ষাৎকে প্রধানমন্ত্রীর কম আনুষ্ঠানিকতার নীতির একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। এর অংশ হিসেবে তার গাড়িবহর ১৩-১৪টি গাড়ি থেকে কমিয়ে চারটি করা হয়েছে। রাস্তায় চলাচলের সময় সাধারণ ট্রাফিক সংকেত মেনে চলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের মতো বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনের ব্যস্ততার মধ্যেও একজন প্রবাসী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই স্বাভাবিক কথোপকথন আলোচনায় এসেছে। একদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের বিভিন্ন কর্মসূচি, অন্যদিকে নিউইয়র্ক পুলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশমীর কাজ—দুটি বিষয়ই ওই সাক্ষাৎকে বিশেষ করে তুলেছে।
নিজের সাবেক ছাত্রীকে এমন অবস্থানে দেখে শিক্ষক মামুনুর রশিদও নিজের শিকড় ও শিক্ষাদানের গৌরব অনুভব করছেন। রুশমীর এই সাফল্য দেশ-বিদেশে থাকা বাঙালিদের জন্য অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে উঠেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের গুরুত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্ট মাসে এসব বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা এক মাসে এ খাতে সর্বোচ্চ রপ্তানি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
গত দুই বছরে অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি, তবে চলতি অর্থবছরে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে রপ্তানির রেকর্ড সত্ত্বেও এসব বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির মাসিক গড়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাসিক গড় রপ্তানি ছিল ৫৭৪ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলার, যা চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেড়ে ৬১১ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এসব বাজারের অংশও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ এসেছিল অপ্রচলিত বাজার থেকে, যা চলতি অর্থবছরে বেড়ে ১৬ দশমিক ৩২ শতাংশে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল মন্তব্য করেন, "অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এতদিন এসব বাজারে সেভাবে নজর দেওয়া হয়নি। এখন এসব বাজারকে গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সময় এসেছে।"
তিনি আরও বলেন, "অপ্রচলিত বাজার মানেই শুধু দামি পোশাকের বাজার নয়। এসব দেশে বিভিন্ন ধরনের তৈরি পোশাকের বড় চাহিদা রয়েছে। সব মিলিয়ে দেশগুলোতে শত শত বিলিয়ন ডলারের পোশাকের বাজার রয়েছে। তাই প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি আরও বাড়াতে অপ্রচলিত বাজারের দিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।"
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে জাপান ছিল বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় গন্তব্য। দেশটিতে ১১৮ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি হয়েছে ৭৫ দশমিক ১৪ মিলিয়ন, ভারতে ৭২ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন, তুরস্কে ৫৯ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন এবং কোরিয়া প্রজাতন্ত্রে ৪৫ দশমিক ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক।
এছাড়া, মেক্সিকোতে ৩২ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৮ দশমিক ৬২ মিলিয়ন, ব্রাজিলে ২৪ দশমিক ২৪ মিলিয়ন, চীনে ২০ দশমিক ৭০ মিলিয়ন এবং সৌদি আরবে ১৯ দশমিক ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে।
একই সময়ে মালয়েশিয়ায় ১৫ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন, চিলিতে ১৩ দশমিক ১৫ মিলিয়ন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৩ দশমিক ১০ মিলিয়ন, রাশিয়ায় ৯ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন এবং নিউজিল্যান্ডে ৮ দশমিক ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। অন্যান্য অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি হয়েছে আরও ৮৫ দশমিক ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ৬০৮ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে অপ্রচলিত বাজারে ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি নতুন বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
রপ্তানি গন্তব্যে বৈচিত্র্য আনার এই প্রবণতা প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি নতুন বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করছে। আগস্টের রেকর্ড রপ্তানি এবং চলতি অর্থবছরে অপ্রচলিত বাজারের বাড়তে থাকা অংশ বাজার বহুমুখীকরণের সম্ভাবনাকে আরও স্পষ্ট করেছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ