০৬:৪৫ পি.এম
সরকার ভারত থেকে চাল আমদানি করবে, এই ধরণের গুজব রটানোর ফলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মেঘনার তীরবর্তী অন্যতম বৃহৎ ধান-চালের বাজার অস্থিরতার অভিযোগ উঠেছে মিল মালিকদের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এই কারণে কৃষকসহ ব্যাপারিরা আশুগঞ্জ ধানচালের হাটে এসে ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। ফলে তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। তাই বাধ্য হয়ে অনেকেই কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গেল বোরো মৌসুমে সরকার ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান এবং ১৪৪০ টাকা দরে প্রতিমণ ধান সংগ্রহের জন্য মূল্য নির্ধারণ করেছেন। কিন্তু উজানে পাহাড়ি ঢল ও আগাম বন্যার কারণে হাওড়াঞ্চলের কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উজানে যারা ধান আবাদ করেছেন, তাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধানের ন্যায্য মূল্য তারা পান না।
বিজয়নগরের কৃষক ফুল মিয়া বলেন, ‘উজানে ধান হয়েছে কিন্তু দাম বললে কম। ৮৫০ থেকে ১০৫০ টাকার বেশি দামে ধান বিক্রি করা যায় না। অথচ সরকার ১৪৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। সরকার জানালেও তারা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করছে না।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
নাসিরনগরের কৃষক আবুলাল বলেন, দেনা করে জমি করেছি। শ্রমিকের মূল্য হিসাব করলেও স্থানীয় বাজারে ধানের দাম পাওয়া যায় না। সরকার যে মূল্যে ধান কিনছে, সেই মূল্য বাজারে নেই।
এদিকে সরকার ভারত থেকে দেড়লাখ টন চাল আমদানি করবে, এমন গুজব রটিয়ে দেশের পূর্বাঞ্চলের বৃহৎ ধান-চালের হাট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ বাজারকে অস্থির করে তুলেছে একটি চক্র। তারা বলছে, চালের মিলগুলোতে বিপুল পরিমাণ অবিক্রিত চাল রয়েছে এবং আমদানি হলে দাম আবারও কমে যাবে। এর ফলে হাওড়াঞ্চলের কৃষক ও ব্যাপারিরা ধান কিনছেন না বলেও অভিযোগ।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন থেকে ধান নিয়ে আসা সেলিম মিয়া জানান, তিনি নদী দেখতে গেলেই বাজার দর কমে যায়। ৪ দিন ধরে বসে আছেন এবং ১১০০ টাকা মণ ধান কিনে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এবার ১০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে, কিন্তু লাভ কিছুই হচ্ছে না।
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থেকে ধান নিয়ে আসা মিলন চন্দ্র দাস বলেন, ‘ধান কিনে আনছি ১১৫০ টাকা মণদরে, কিন্তু বাজারে ৭০০ টাকা মণ। আমরা লস দিয়েই বিক্রি করছি।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
মিল মালিকপক্ষের হোসেন মিয়া বলেন, এখন বাজারে বিভিন্ন ধরনের ধান বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু এই আতঙ্কে বিক্রি করতে পারছেন না। মিল প্রস্তুত থাকলেও বিক্রি নেই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সহকারী নিয়ন্ত্রক ভারপ্রাপ্ত নূর আলী জানান, আসলে একটি গুজব ছড়িয়েছে যে সরকার ইন্ডিয়া থেকে চাল আমদানি করছে। কিন্তু সেটি একটি নিছক গুজব। আমাদের খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে গত ২৩জুন একটি পরিপত্র জারি হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে সরকারের এরকম কোন পরিকল্পনা নেই।
এদিকে কৃষকদের ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আবু বকর বলেন, কৃষকেরা যেন ন্যায্য মূল্য পায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেয়া হবে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চল থেকে ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৭শ৯০ মেট্রিকটন চাল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন