মোঃ জাহিদ মিয়া নরসিংদী প্রতিনিধি
১২:৫৭ এম
নরসিংদীর মনোহরদীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে রাস্তার নারিকেল গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে চাচাত ভাইয়ের লাঠির আঘাতে মিজান মিয়া (৪৪) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে শনিবার দুপুরে উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের বড়চাপা পূর্বপাড়া গ্রামে।
নিহত মিজান মিয়া ছিলেন বড়চাপা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি। তাঁর পিতা ছিলেন সফুর উদ্দিন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বড়চাপা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড়চাপা পশ্চিমপাড়ায় মিজান ও তার চাচা শহীদুল্লাহর বাড়ির পাশে রাস্তার একটি গাছ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিষয়ে একাধিকবার সালিশ দরবার হলেও শহীদুল্লাহ, যিনি ‘পিংকির বাপ’ নামে পরিচিত, তা মেনে গ্রহণ করেননি। শনিবার দুপুরে রাস্তার উপর থাকা একটি গাছ মিজান কাটতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এরপর শহীদুল্লাহ ও তাঁর ছেলে জীবন মিয়ার লাঠির আঘাতে মিজান মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীর মনোহরদীতে দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এ মুহাইমিন আল জিহান ৪৭ লাখ ৬৫ হাজার ৯৯৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে। এই কার্যক্রমের অধীনে উদ্যোগটি স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে, কারণ এটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়ের পর অবশিষ্ট অর্থ ফেরত দেওয়ার একটি উদাহরণ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রের তথ্য মতে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মহিষাখালী ও গঙ্গাজলী খালের পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এতে মহিষাখালী খালের ১ দশমিক ৬২০ কিলোমিটার ও গঙ্গাজলী খালের ২ দশমিক ১০০ কিলোমিটারসহ মোট ৩ দশমিক ৭২০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।
এ প্রকল্পে মোট ৯৫ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। তবে, নির্ধারিত গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে কাজ সম্পন্ন করায় প্রাক্কলনের তুলনায় ব্যয় কম হওয়ায় ৪৭ লাখ ৬৫ হাজার ৯৯৬ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। পরবর্তীতে সরকারি বিধি অনুসরণ করে পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা যায়, খাল পুনখনন কাজটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের তত্বাবধানে ও পরামর্শে পরিচালিত হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে নিবিড় তদারকি এবং ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে কাজের পরিমাপ নিশ্চিত করায় অপ্রয়োজনীয় ব্যয়, ভুয়া শ্রমিকের বিল ও আর্থিক অপচয় রোধ করতে সক্ষম হয়েছে।
এছাড়া, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। খননকৃত মাটি স্থানীয় সড়ক সংস্কারে ব্যবহার করা হয়েছে এবং খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণও করা হয়েছে।
মনোহরদী সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক হুমায়ুন কবীর জানান, “সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ অপচয় বা অনিয়মের অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। সেখানে কাজ শেষ করে অবশিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা ব্যতিক্রমী। এটি সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।”
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মুহাইমিন আল জিহান বলেন, “মনোহরদীর ঐতিহ্যবাহী মহিষাখালী ও গঙ্গাজলী খাল দীর্ঘদিন ভরাট হয়ে প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছিল। সরকারের উদ্যোগে খাল দুটি পুনঃখনন করা হয়েছে। কাজ শুরুর আগে ও শেষে ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে পরিমাপ নিশ্চিত করা হয় এবং পুরো প্রকল্পজুড়ে নিবিড় তদারকি করা হয়েছে। ফলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ছাড়াই কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে। সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাশ্রয়ের পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপর রাষ্ট্রপতি মনোনায়নের দায়িত্ব ন্যস্ত করেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি।
শনিবার (১ আগস্ট) দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে এই তথ্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এদিন বিকেলে গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও যোগ দেন।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পরে যদি সিঙ্গেল প্রার্থী হয়, তবে সংসদের বিশেষ অধিবেশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে।
স্থানীয় নির্বাচনের জন্য সরকার প্রস্তুত, চলতি বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুতে ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি আরব গত এক সপ্তাহে ১৪ হাজারেরও বেশি প্রবাসীকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে ১২ হাজার ৬০০ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। খবর গালফ নিউজের।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া এই প্রবাসীদের মধ্যে ৭ হাজার ১০৩ জন আবাসন আইন, ৩ হাজার ৬৫৪ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ৩ হাজার ৩৯৭ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হয়েছেন।
এছাড়াও, অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় ১ হাজার ৪১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে বেআইনিভাবে দেশ ত্যাগের চেষ্টা করার অভিযোগে আরও ২৩ জনকে আটক করা হয়। পাশাপাশি, আবাসন ও কর্মবিধি লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন এবং আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে সৌদি আরবে বসবাসরত ১৭ ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ৩০ হাজার ৬৭৯ জন আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭ হাজার ৯০৩ জনকে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, ৫ হাজার ৪২৪ জনকে দেশে ফেরার আগে ভ্রমণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশে পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহনকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুষ্কৃতকারীরা পুলিশের জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের ওপর হামলা চালাতে পারে, গোয়েন্দা সংস্থার এমন তথ্যের ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটকে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের এক জরুরি বার্তা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জরুরি এই বার্তায় বলা হয়েছে, পুলিশের যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের শিথিলতা বা অবহেলার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ডিউটির সময় এবং ডিউটি শেষে পার্কিং করা যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, ডিউটিরত কোনো যানবাহন সাময়িকভাবে থামানোর প্রয়োজন হলে সেটি অবশ্যই নিরাপদ স্থানে পার্ক করতে হবে এবং পুলিশের সদস্যদের সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই চালক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য ছাড়া যানবাহন ফেলে রাখা যাবে না। অর্থাৎ আনঅ্যাটেন্ডেড অবস্থায় কোনো পুলিশি যানবাহন রাখার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়া ডিউটি শেষে থানা, পুলিশলাইনস, অফিস কম্পাউন্ড কিংবা অন্যান্য নির্ধারিত স্থানে রাখা সব সরকারি যানবাহনের নিরাপত্তাও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে নিয়মিত টহল, প্রয়োজনীয় নজরদারি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বার্তায় বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের সব মহানগর, রেঞ্জ, জেলা ও ইউনিটের কর্মকর্তাদের নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ