প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নরসিংদীর মনোহরদীতে দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এ মুহাইমিন আল জিহান ৪৭ লাখ ৬৫ হাজার ৯৯৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে। এই কার্যক্রমের অধীনে উদ্যোগটি স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে, কারণ এটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়ের পর অবশিষ্ট অর্থ ফেরত দেওয়ার একটি উদাহরণ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রের তথ্য মতে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মহিষাখালী ও গঙ্গাজলী খালের পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এতে মহিষাখালী খালের ১ দশমিক ৬২০ কিলোমিটার ও গঙ্গাজলী খালের ২ দশমিক ১০০ কিলোমিটারসহ মোট ৩ দশমিক ৭২০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।
এ প্রকল্পে মোট ৯৫ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। তবে, নির্ধারিত গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে কাজ সম্পন্ন করায় প্রাক্কলনের তুলনায় ব্যয় কম হওয়ায় ৪৭ লাখ ৬৫ হাজার ৯৯৬ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। পরবর্তীতে সরকারি বিধি অনুসরণ করে পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা যায়, খাল পুনখনন কাজটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের তত্বাবধানে ও পরামর্শে পরিচালিত হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে নিবিড় তদারকি এবং ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে কাজের পরিমাপ নিশ্চিত করায় অপ্রয়োজনীয় ব্যয়, ভুয়া শ্রমিকের বিল ও আর্থিক অপচয় রোধ করতে সক্ষম হয়েছে।
এছাড়া, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। খননকৃত মাটি স্থানীয় সড়ক সংস্কারে ব্যবহার করা হয়েছে এবং খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণও করা হয়েছে।
মনোহরদী সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক হুমায়ুন কবীর জানান, “সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ অপচয় বা অনিয়মের অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। সেখানে কাজ শেষ করে অবশিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা ব্যতিক্রমী। এটি সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।”
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মুহাইমিন আল জিহান বলেন, “মনোহরদীর ঐতিহ্যবাহী মহিষাখালী ও গঙ্গাজলী খাল দীর্ঘদিন ভরাট হয়ে প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছিল। সরকারের উদ্যোগে খাল দুটি পুনঃখনন করা হয়েছে। কাজ শুরুর আগে ও শেষে ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে পরিমাপ নিশ্চিত করা হয় এবং পুরো প্রকল্পজুড়ে নিবিড় তদারকি করা হয়েছে। ফলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ছাড়াই কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে। সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাশ্রয়ের পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন