বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:০৫ পি.এম
সামান্য বৃষ্টির কারণে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়। বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরও মাঠজুড়ে কয়েক মাস ধরে পানি জমে থাকে। বছরের প্রায় ছয় মাস মাঠটি পানির নিচে থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও শরীরচর্চার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে যাতায়াত ও স্বাভাবিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।
এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের ১২৫ নম্বর চন্দ্রপাড়া সর্দার ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
বিদ্যালয়ের মোট জমির পরিমাণ ৩৩ শতাংশ বলে জানা গেছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ জমি মাটি বা বালু দিয়ে ভরাট করা প্রয়োজন। মাঠটি নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন অংশে পানি জমে যায়। বর্ষা মৌসুমে এবং মৌসুম শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন পানি আটকে থাকায় মাঠটি কার্যত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চার সুযোগ ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে।
দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকার কারণে মাঠে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ে যাতায়াতেও ভোগান্তি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সমস্যার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে। একসময় বিদ্যালয়ে প্রায় ১৮০ জন শিক্ষার্থী ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা ১১৫ জনে নেমে এসেছে।
বিদ্যালয়ের মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করে উঁচু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল, খেলাধুলা ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমের পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তাহিদা বেগম বলেন, "মাঠটি নিচু হওয়ায় হালকা বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘ সময় মাঠ পানির নিচে থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া, খেলাধুলা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক উপকার হবে।"
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন তাকে আশ্বস্ত করেছে। শিগগিরই বিদ্যালয়ের মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, "জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে— বিষয়টি আমি অবগত আছি। সামর্থ্যের মধ্যে থেকে শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে চেষ্টা করা হবে।"
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকলেও এর স্থায়ী সমাধান হয়নি। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় মাটি দিয়ে মাঠটি উঁচু করা হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল ও খেলাধুলার পরিবেশ ফিরে আসবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমও বাড়বে বলে আশা তাদের।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দেশে যৌথ অভিযানের জন্য আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত এখনো গৃহীত হয়নি।
পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি এবং আনসার বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে, যা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদক নিরসনে প্রতিনিয়ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে এবং ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় আনসার ও ভিডিপির নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন করার পর আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির একটি সুপরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে নিজস্ব সদর দপ্তর স্থাপন করতে যাচ্ছে, যা দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনসার বাহিনীর সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য ৩.৪২৮ একর (প্রায় ১১ বিঘা) জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে খিলগাঁও থেকে পরিচালিত আনসার সদর দপ্তরের অপরিসর জায়গায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করতে এখানে একটি আধুনিক ও বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার এবং ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার রয়েছে। এছাড়া ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এটি দেশের সর্ববৃহৎ ফোর্স হিসেবে পরিচিত।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের আবাসন সংকট নিরসনে এখানে ডরমেটরি এবং ব্যারাকে স্থান সংকুলানের জন্য ঢাকার আশুলিয়া এবং শেরেবাংলা নগরে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার বাহিনীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাদের আর্থিক ও অন্যান্য পর্যায়ক্রমিক দাবি-দাওয়া পূরণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদি কারো দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে কেবল প্রত্যাহার নয়, বরং যথাযথ বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা এবং ক্রিমিনাল অফেন্স মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস; এই মাসে কোনো অপশক্তি দেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারবে না।
ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে অটোমেশন ও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে, যার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে এবং রাস্তায় যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে। এছাড়া রাস্তা খনন ও নির্মাণ কাজের ফলে যেন যানজট না হয়, সেজন্য পুরো রাস্তা একসঙ্গে না কেটে খণ্ড খণ্ডভাবে কাজ শেষ করে অবিলম্বে পুনর্নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পানিতে ডুবে মারা গেছে আনিসা আক্তার (১৩) নামে এক কিশোরী।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার চালা ইউনিয়নের সট্টি গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আনিসা আনোয়ার হোসেনের কন্যা। তার বাবা কক্সবাজারে একটি হোটেলে কর্মরত আছেন। আনিসা কক্সবাজারের একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করত, এই তথ্য জানিয়েছেন তার ফুপু পারভীন আক্তার।
পারভীন আক্তার জানিয়েছেন, তার মা অসুস্থ থাকায়, তিনি কক্সবাজার থেকে দুই দিন আগে তার ভাবির সঙ্গে হরিরামপুরের সট্টিতে আসেন। আজ সকালে আনিসা হাঁটতে হাঁটতে সট্টি নতুন ব্রিজ কুমপাড়ে পৌঁছালে অজানা কারণে পানিতে পড়ে যায়। তার সঙ্গে থাকা ছোট শিশু বাড়িতে গিয়ে জানায় যে আনিসা পানিতে ডুবে গেছে। তবে পানিতে পড়ে যাওয়ার কারণ বা কীভাবে এটি ঘটেছে, সে সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে পারেননি।
নিহতের চাচা জাহিদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে আনিসাকে পানিতে ডুবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাকে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা প্রীতম দে জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আনিসার মৃত্যু ঘটে।
এ বিষয়ে হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জে.ও.এম. তৌফিক আজম বলেন, উপজেলা হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে।
গত বৃহস্পতিবার, রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) ভাঙার ঘটনার পর মিষ্টির পদত্যাগের সম্ভাবনা সামনে আসে।
ওই রাতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া, মিষ্টির অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক ও অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারণে তার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সৌভিক দত্ত নামে এক যুবক হেলমেট পরে একাই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। কিন্তু পরদিন তার স্ত্রীর মোবাইলে ৫০০ রুপির ট্রাফিক চালানের এসএমএস আসে। অভিযোগ ছিল—মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা যাত্রী হেলমেট পরেননি। সৌভিক চালানের ছবি দেখে অবাক হন। কারণ, পেছনে কোনো যাত্রী ছিলেন না; সেখানে ছিল একটি গিটার।
ঘটনাটি বেঙ্গালুরুর। গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে সৌভিক তার স্ত্রীর ই-স্কুটার নিয়ে হেব্বাল থেকে টিন ফ্যাক্টরির দিকে যাচ্ছিলেন। মাথায় হেলমেট থাকলেও, পিঠে বাঁধা ছিল একটি গিটার। তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন।
পরদিন, ১৬ সেপ্টেম্বর স্ত্রীর মোবাইলে আসা ই-চালানে ‘হেলমেট ছাড়া পিলিয়ন রাইডিং’ অভিযোগে ৫০০ রুপি জরিমানা করা হয়। চালানের ছবিতে দেখা যায়, স্কুটারের পেছনে কোনো ব্যক্তি নেই। ধারণা করা হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর ট্র্যাফিক নজরদারি ব্যবস্থা পিঠে থাকা গিটারটিকেই পেছনের যাত্রী হিসেবে শনাক্ত করেছে।
এই বিষয়ে সৌভিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট করেন। বেঙ্গালুরু ট্র্যাফিক পুলিশকে ট্যাগ করে তিনি জানান, তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন এবং পিঠে ছিল গিটার। একই সঙ্গে চালানটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। পোস্টে চালানের নোটিশ নম্বর ৮৬২০২৫৪১ উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টটি নজরে আসার পর বেঙ্গালুরু ট্র্যাফিক পুলিশ তাকে বিষয়টি সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে বলে। পাশাপাশি ই-মেইলে অভিযোগ জানানোর ও নির্দিষ্ট ফোন নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়।
এই ঘটনার মাধ্যমে এআই-নির্ভর ট্র্যাফিক নজরদারি ব্যবস্থার ভুল শনাক্তকরণের বিষয়টি সামনে এসেছে। বিপুলসংখ্যক যানবাহন ও ট্র্যাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা সহায়ক হলেও, এ ধরনের ভুল ঠেকাতে মানবিক যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ