বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:০৬ পি.এম
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পানিতে ডুবে মারা গেছে আনিসা আক্তার (১৩) নামে এক কিশোরী।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার চালা ইউনিয়নের সট্টি গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আনিসা আনোয়ার হোসেনের কন্যা। তার বাবা কক্সবাজারে একটি হোটেলে কর্মরত আছেন। আনিসা কক্সবাজারের একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করত, এই তথ্য জানিয়েছেন তার ফুপু পারভীন আক্তার।
পারভীন আক্তার জানিয়েছেন, তার মা অসুস্থ থাকায়, তিনি কক্সবাজার থেকে দুই দিন আগে তার ভাবির সঙ্গে হরিরামপুরের সট্টিতে আসেন। আজ সকালে আনিসা হাঁটতে হাঁটতে সট্টি নতুন ব্রিজ কুমপাড়ে পৌঁছালে অজানা কারণে পানিতে পড়ে যায়। তার সঙ্গে থাকা ছোট শিশু বাড়িতে গিয়ে জানায় যে আনিসা পানিতে ডুবে গেছে। তবে পানিতে পড়ে যাওয়ার কারণ বা কীভাবে এটি ঘটেছে, সে সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে পারেননি।
নিহতের চাচা জাহিদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে আনিসাকে পানিতে ডুবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাকে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা প্রীতম দে জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আনিসার মৃত্যু ঘটে।
এ বিষয়ে হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জে.ও.এম. তৌফিক আজম বলেন, উপজেলা হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে।
গত বৃহস্পতিবার, রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) ভাঙার ঘটনার পর মিষ্টির পদত্যাগের সম্ভাবনা সামনে আসে।
ওই রাতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া, মিষ্টির অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক ও অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারণে তার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সৌভিক দত্ত নামে এক যুবক হেলমেট পরে একাই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। কিন্তু পরদিন তার স্ত্রীর মোবাইলে ৫০০ রুপির ট্রাফিক চালানের এসএমএস আসে। অভিযোগ ছিল—মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা যাত্রী হেলমেট পরেননি। সৌভিক চালানের ছবি দেখে অবাক হন। কারণ, পেছনে কোনো যাত্রী ছিলেন না; সেখানে ছিল একটি গিটার।
ঘটনাটি বেঙ্গালুরুর। গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে সৌভিক তার স্ত্রীর ই-স্কুটার নিয়ে হেব্বাল থেকে টিন ফ্যাক্টরির দিকে যাচ্ছিলেন। মাথায় হেলমেট থাকলেও, পিঠে বাঁধা ছিল একটি গিটার। তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন।
পরদিন, ১৬ সেপ্টেম্বর স্ত্রীর মোবাইলে আসা ই-চালানে ‘হেলমেট ছাড়া পিলিয়ন রাইডিং’ অভিযোগে ৫০০ রুপি জরিমানা করা হয়। চালানের ছবিতে দেখা যায়, স্কুটারের পেছনে কোনো ব্যক্তি নেই। ধারণা করা হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর ট্র্যাফিক নজরদারি ব্যবস্থা পিঠে থাকা গিটারটিকেই পেছনের যাত্রী হিসেবে শনাক্ত করেছে।
এই বিষয়ে সৌভিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট করেন। বেঙ্গালুরু ট্র্যাফিক পুলিশকে ট্যাগ করে তিনি জানান, তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন এবং পিঠে ছিল গিটার। একই সঙ্গে চালানটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। পোস্টে চালানের নোটিশ নম্বর ৮৬২০২৫৪১ উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টটি নজরে আসার পর বেঙ্গালুরু ট্র্যাফিক পুলিশ তাকে বিষয়টি সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে বলে। পাশাপাশি ই-মেইলে অভিযোগ জানানোর ও নির্দিষ্ট ফোন নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়।
এই ঘটনার মাধ্যমে এআই-নির্ভর ট্র্যাফিক নজরদারি ব্যবস্থার ভুল শনাক্তকরণের বিষয়টি সামনে এসেছে। বিপুলসংখ্যক যানবাহন ও ট্র্যাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা সহায়ক হলেও, এ ধরনের ভুল ঠেকাতে মানবিক যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফেনীর পরশুরামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম ফেনী সফর।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় তার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তাকে স্বাগত জানাতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত হয়েছেন।
ঘাটঘর এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের দুই পাশে এবং নির্ধারিত এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন অনেকে। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ এসেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মির্জানগরের বাসিন্দা আবদুর শুকুর বলেন, "জীবনে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি দেখার সুযোগ হবে আজ। তাকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই এখানে অপেক্ষা করছি।"
কোলাপাড়ার বাসিন্দা শাকিল বলেন, "প্রধানমন্ত্রী আমাদের এলাকায় আসছেন— এটি আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়। তাকে স্বাগত জানাতে এলাকার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এখানে এসেছেন।"
আকাশ নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "আমরা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে এসেছি। এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তিনি তুলে ধরবেন এমন প্রত্যাশা করছি।"
ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় প্রধানমন্ত্রী ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এ সময় তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও জনসভায় বক্তব্য দেবেন।
পরশুরামের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে যাবেন। সেখানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। এছাড়া ফুলগাজীতে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি এবং জীবনযাত্রার মানের উন্নয়নের কারণে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাচ্ছে, এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তিনি এক বাণীতে এই আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতি এবং জীবনমানের উন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে, পৃথিবীর সব দেশেই প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। দীর্ঘায়ুর এই যুগ প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর বিষয়ে চিন্তার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।’
এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘দ্য এইজ অব লংজিবিটি: রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস’ বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
১ অক্টোবর ২০২৬ এ দেশের মতো বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ পালিত হচ্ছে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল প্রবীণ নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, এবারের দিবসের প্রতিপাদ্যটি সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষের স্বাভাবিক জীবনচক্রের অংশ হিসেবে বার্ধক্যে উপনীত হওয়া অনিবার্য। তাই প্রত্যেক মানুষের বার্ধক্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদে ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা খাতে ৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও ভাতা প্রদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে।
তিনি জানান, প্রবীণদের কল্যাণ ও উন্নয়নে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগ প্রবীণদের কল্যাণ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
রাষ্ট্রপতি প্রবীণদের অবদান উল্লেখ করে বলেন, তারা কেবল অতীতের গল্প নন; তারা বর্তমানের শিকড় এবং ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। তাদের শ্রম, ঘাম, মেধা, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রবীণদের একটি বড় অংশ অবনতিশীল স্বাস্থ্য, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও জনহিতৈষী সংগঠন, বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ এবং প্রতিটি পরিবার প্রবীণদের কল্যাণে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসবে।
তিনি বলেন, প্রবীণদের প্রতি ভালোবাসা, তাদের হাসিমুখ ও নিরাপদ বার্ধক্য নিশ্চিত করা সবার অঙ্গীকার হওয়া উচিত।
সবশেষে বাণীতে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ও বিশ্বের সকল প্রবীণ ব্যক্তির সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় জীবন কামনা করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ