মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪০ পি.এম
সেমিফাইনালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী সেঞ্চুরি করার পর, ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আবারও ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছেন ভারতের ওপেনার শেফালি ভার্মা। যদিও তিনি এবার ফিফটির দেখা পাননি, তবে ২৯ বলে ৪৮ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংসে তিনি এক পঞ্জিকাবর্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ড নিজের নামে করেছেন।
জাপানের নিশিনে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৩ উইকেটে ২১৬ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়েছে ভারত। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এবং নারী আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয় লাভের রেকর্ডও নেই। ফলে শ্রীলঙ্কাকে স্বর্ণপদক জিততে নতুন ইতিহাস গড়তে হবে।
ভারতের বিশাল সংগ্রহ গড়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন শেফালি ভার্মা, স্মৃতি মান্ধানা এবং রিচা ঘোষ। এই তিনজনই লঙ্কান বোলারদের বিপক্ষে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েছেন।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামার পর থেকেই ঝড় তোলেন শেফালি ও মান্ধানা। উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ১০ ওভারে তারা ৯৯ রান যোগ করেন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম উদ্বোধনী জুটি হিসেবে ৪ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তারা।
ফাইনাল শেষে শেফালি-মান্ধানা জুটির মোট রান দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮০। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইশা ওঝা এবং তীর্থ সতীশের জুটি, যাদের সংগ্রহ ২ হাজার ৯৪৯ রান। পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার অ্যালিসা হিলি এবং বেথ মুনির জুটির সংগ্রহ ২ হাজার ৭২০ রান।
দশম ওভারে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে আউট হন শেফালি। তার আগে ৩টি চার এবং ৩টি ছক্কায় ২৯ বলে ৪৮ রান করেন। এই ইনিংসটি তাকে এনে দিয়েছে চলতি পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ড।
২০২৬ সালের মধ্যে শেফালির সংগ্রহ ৮৬৩ রান। ২২ বছর বয়সী এই ওপেনার এ সময়ে সাতটি ফিফটি এবং একটি সেঞ্চুরি করেছেন। এর ফলে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক লরা উলভার্টকে পিছনে ফেলেছেন, যিনি চলতি বছরে ৮২৪ রান করেছেন।
এই তালিকার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছেন হংকংয়ের নাতাশা মাইলস, যার ২০২৬ সালে রান ৮০০। চলতি বছরের আগে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইশা ওঝার দখলে, যিনি ২০২৫ সালে ৭৭৯ রান করেছিলেন। একই সংখ্যক রান করেছেন ২০২৬ সালে হংকংয়ের ইয়াসমিন দাসওয়ানিও।
শেফালি ফিরে যাওয়ার পরও ভারতের রানের গতি কমেনি মান্ধানার ব্যাটিংয়ে। ৫টি চার এবং ৭টি ছক্কায় ৪৫ বলে ৭৯ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন বাঁহাতি এই ওপেনার। তার ইনিংসের মধ্য দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন, যা ইতিহাসে প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে।
শেষ দিকে ভারতের ইনিংসে ঝড় তোলেন রিচা ঘোষ। ভারতি ফুলমালির সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে মাত্র ১৯ বলে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন উইকেটকিপার-ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ৬টি চার এবং ৩টি ছক্কায় মাত্র ২২ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন রিচা।
তাদের দাপুটে ব্যাটিংয়ে ভারত ৩ উইকেটে ২১৬ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে। এখন শ্রীলঙ্কাকে এই লক্ষ্য পেরিয়ে স্বর্ণপদক জিততে হবে, যা নারী টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে অন্যতম কঠিন রানতাড়াগুলোর একটি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ধানমন্ডি লেক থেকে মো. জাবেদ আহমেদ (৫১) নামের একজন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি পানিতে ভাসমান অবস্থায় ছিলেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ধানমন্ডি আবেশ হোটেলের পেছনে একটি ব্রিজের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
জাবেদের বাবার নাম সালাউদ্দিন আহমেদ এবং তিনি বর্তমানে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন।
ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল গফুর জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ধানমন্ডি ১০নং রোডের আবেশ হোটেলের পেছনে ব্রিজের নিচে পানিতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহত ব্যক্তির স্বজনদের মুখে জানা গেছে যে, জাবেদ একজন মার্কেটিং কনসালটেন্ট ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে বেকার থাকার কারণে এবং আর্থিক অভাবের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। এ কারণে আত্মহত্যা করেছেন কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
তিস্তা নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে পড়া একটি হাতিশাবককে উদ্ধার করতে দুই জেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দৌড়েছেন। এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের মালবাজার মহকুমার তিস্তা নদীতে ঘটেছে। উদ্ধার হওয়া হাতিশাবকটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুই জেলে তিস্তা নদীর ১২ নম্বর স্পার সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরছিলেন। এ সময় তারা লক্ষ্য করেন, একটি হাতির শাবক প্রবল স্রোতে ভেসে যাচ্ছে।
হাতিশাবকটিকে বিপদে দেখে নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে তারা দ্রুত নৌকা ঘুরিয়ে শাবকটির পিছু নেন। তীব্র স্রোতের মধ্য দিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তারা শাবকটির কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
পরে তারা শাবকটিকে পানি থেকে তুলে নৌকায় নিরাপদে নিয়ে আসেন। এরপর শাবকটিকে নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে খবর দেন।
বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর হাতিশাবকটির দায়িত্ব গ্রহণ করে। পরে বনকর্মীদের সহায়তায় শাবকটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
জেলেদের সাহসিকতার কারণে তিস্তার স্রোতে ভেসে যাওয়া ছোট্ট হাতিশাবকটি প্রাণে বেঁচে যায়। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের এই উদ্যোগের জন্য অনেকেই প্রশংসা করছেন।
সূত্র: এনডিটিভি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে একটি ধানক্ষেতের পাশে রাস্তা থেকে মো. নাঈম (১৪) নামে এক মাদরাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে মনে করছে। তবে তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য বাগ্যা গ্রামের এবায়েদ উল্যার বাড়ির কাছে ধানক্ষেতের পাশে রাস্তা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত নাঈম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ইব্রাহীম খলিলের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে সুবর্ণচরে নানার বাড়িতে বসবাস করে চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদরাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাঈমের মা-বাবার বিচ্ছেদ প্রায় তিন বছর আগে ঘটে। এরপর থেকে সে নানার বাড়িতে থাকত এবং মাদরাসায় পড়াশোনা করত। স্থানীয়দের মতে, সে বুলু নেতা সমাজের এবায়েদ উল্যার মেয়ের সন্তান।
নিহতের নানা এবায়েদ উল্যাহ জানান, শনিবার নাঈম মাদরাসা থেকে চলে আসে। পরে তার বাবা ফোন করে তাদের ছেলের অবস্থান জানায়। এরপর তার নানি আমেনা খাতুন ওই স্থান থেকে নাতিকে বাড়িতে নিয়ে আসে। সোমবার রাতে নাঈম রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে ফজরের নামাজের সময় নামাজ পড়তে উঠলে ঘরের দরজা খোলা দেখে সে শোবার ঘরে নেই।
পরে সকাল ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে সার আনতে যাওয়ার সময় ধানক্ষেতের পাশে রাস্তার ওপর নাঈমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এবায়েদ উল্যাহ অভিযোগ করেন, "২০-২৫ দিন আগে আমার মেয়ের নতুন করে বিয়ে হয়। এরপর নাঈমের বাবা ইব্রাহীম খলিল ও তার মা সুমি আক্তার নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেয়। তারা বলে কীভাবে ছেলের আয়-রোজগার খায় দেখে নেবে।" নিহতের মা তার বাবাকে সন্দেহ করছেন। সকালে ছেলের মৃত্যুর খবর দেওয়ার জন্য তাকে অনেকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে নিজে ফোন করলে তাকে ছেলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। এরপর দুপুর ১টা পর্যন্ত ছেলের মরদেহ দেখতে আসেননি বাবা।
অভিযোগের বিষয়ে নিহতের বাবা ইব্রাহীম খলিলের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার বলেন, "খবর পেয়ে আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নিহতের থুতনির নিচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে এটি কীভাবে হয়েছে এবং মৃত্যুর সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।"
তিনি আরও জানান, নিহতের বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম অথবা ফেনীতে রয়েছেন এবং ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রতিদিন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের সকাল কফির গাঢ় সুবাসে শুরু হয়। কর্মব্যস্ত জীবনে এক কাপ কফি যেমন সতেজতা এনে দেয়, তেমনি আধুনিক নগরজীবনের সামাজিকতা ও আড্ডার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে এই পানীয়টি। তবে কফির এই জনপ্রিয়তার ইতিহাস ইউরোপের ক্যাফে থেকে নয়, বরং এর শিকড় ইয়েমেনের সুফি সাধনা, ইসলামী জ্ঞানচর্চা এবং অটোমান সাম্রাজ্যের সামাজিক সংস্কৃতিতে বিস্তৃত।
কফির ইতিহাস নিয়ে প্রচলিত একটি কাহিনিতে ইথিওপিয়ার ছাগলপালক কালদির উল্লেখ রয়েছে। বলা হয়, বুনো লাল ফল খাওয়ার পর তার ছাগলগুলো অস্বাভাবিকভাবে চঞ্চল হয়ে ওঠে। তবে কফির বীজকে ভেজে গরম পানীয় তৈরির প্রচলন গড়ে ওঠে লোহিত সাগরের ওপারে ইয়েমেনের উচ্চভূমিতে।
পঞ্চদশ শতাব্দীতে ইয়েমেনের জাবিদসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক শহর ও মোক্কার আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় সুফি সাধকেরা কফির বীজ ভেজে ও ফুটিয়ে পান করতে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় রাত জেগে ইবাদত, জিকির ও কোরআন তিলাওয়াতের সময় সজাগ থাকতে কফি তাদের কাছে একটি সহায়ক পানীয় হয়ে ওঠে।
সুফি সাধকদের কাছে কাহওয়া নামে পরিচিত এই পানীয় বিশেষ করে তাহাজ্জুদ ও ফজরের আগের আধ্যাত্মিক সাধনায় ব্যবহৃত হতো। ইবাদতের আগে বা মাঝে তারা একসঙ্গে বসে কফি পান করতেন। কফির বীজের প্রচলনের আগে ইয়েমেনে কফি ফলের শুকনো খোসা দিয়ে ‘কিশর’ নামে এক ধরনের পানীয় তৈরির চল ছিল, যাতে আদা ও দারুচিনি মেশানো হতো।
ধীরে ধীরে কফির জনপ্রিয়তা আরব উপদ্বীপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের আল-মোক্কা বন্দর কফি বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। আধুনিক ‘মোচা’ শব্দটির উৎপত্তিও এই বন্দরনগরীর নাম থেকে হয়েছে।
দীর্ঘ সময় ইয়েমেন কফি বাণিজ্যে প্রায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। মূল্যবান ফসলটির গুরুত্ব বিবেচনায় জীবন্ত কফি গাছ বা অঙ্কুরোদ্গমে সক্ষম বীজ বিদেশে নেওয়া কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হতো। কফি বিন বিদেশে পাঠানোর আগে সেগুলো সেদ্ধ, ঝলসে বা পুড়িয়ে দেওয়া হতো, যাতে অন্যত্র সহজে নতুন গাছ জন্মাতে না পারে।
বাণিজ্যপথ ও হজযাত্রার মাধ্যমে কফি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মক্কা-মদিনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে। ষোড়শ শতাব্দীর শুরুতে পানীয়টি কায়রোতেও পৌঁছে যায়। আল-আজহারকে ঘিরে থাকা শিক্ষার্থীদের আবাসিক এলাকায় কফি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ইয়েমেনি শিক্ষার্থীরা রাত জেগে ইসলামী আইন ও কোরআন অধ্যয়নের সময় কাহওয়া পান করতেন।
তবে কফির জনপ্রিয়তার সঙ্গে বিতর্কও শুরু হয়। কফি শরীরের জন্য ক্ষতিকর কি না এবং ধর্মীয়ভাবে এটি বৈধ কি না, এ নিয়ে আলেম ও ফকিহদের মধ্যে আলোচনা হয়। পরবর্তী সময়ে ধর্মীয় ও চিকিৎসাবিষয়ক পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে কফি মুসলিম সমাজে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে।
ষোড়শ শতাব্দীতে অটোমান সাম্রাজ্যের প্রভাব আরব ভূখণ্ডে বিস্তৃত হলে কফি পৌঁছে যায় ইস্তাম্বুলের রাজদরবারে। সুলতান সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্টের সময় কফি প্রস্তুত করা এক ধরনের আনুষ্ঠানিক শিল্পে পরিণত হয়। দক্ষ কফি প্রস্তুতকারীরা কফি বিন ভেজে গুঁড়া করে তামার লম্বা হাতলযুক্ত পাত্র ‘সেজভে’তে ফুটিয়ে পরিবেশন করতেন।
তবে কফির ইতিহাসে অটোমানদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল ‘কাহভেহানে’ বা গণকফিঘরের বিকাশ। এসব জায়গা কেবল কফি পান করার স্থান ছিল না, বরং সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক যোগাযোগের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। সেখানে দাবা খেলা, কবিতা আবৃত্তি, দর্শন ও রাজনীতি নিয়ে আলোচনা চলত। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একই জায়গায় মিলিত হওয়ার সুযোগ পেতেন।
পরবর্তীতে অটোমান সাম্রাজ্যের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের সূত্রে ভেনিসের ব্যবসায়ীরা কফির সঙ্গে পরিচিত হন। সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুতে ভাজা কফি বিন ইতালিতে আমদানি শুরু হয়। ভেনিস থেকে দ্রুত ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে কফি ও কফিঘরের সংস্কৃতি।
১৬৫২ সালে গ্রিক ও অটোমান বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী পাসকোয়া রোজি লন্ডনে একটি কফিঘর চালু করেন। এরপর প্যারিস, ভিয়েনা ও আমস্টারডামেও কফিঘর গড়ে ওঠে।
ইউরোপে এসব কফিঘরও ধীরে ধীরে সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। লন্ডনে মাত্র এক পেনিতে এক কাপ কফি কিনে দীর্ঘ সময় আলোচনা করার সুযোগ থাকায় এসব স্থান ‘পেনি ইউনিভার্সিটি’ নামেও পরিচিতি পায়। বাণিজ্য, বিজ্ঞান, সাহিত্য ও রাজনৈতিক চিন্তাচর্চার বিকাশেও ইউরোপের কফিঘরগুলোর ভূমিকার কথা ইতিহাসে উল্লেখ করা হয়।
সুফি সাধকদের রাতের ইবাদত থেকে অটোমান দরবার, সেখান থেকে ইউরোপের কফিঘর পর্যন্ত দীর্ঘ এই যাত্রায় কফি শুধুমাত্র একটি পানীয় হিসেবে নয়, বরং সামাজিকতা, জ্ঞানচর্চা ও সংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে উঠেছে।
সূত্র : হালাল ট্রিপ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ