ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্রে একটি রেস্তোরাঁয় গোলাগুলি, নি হ ত ৩


যুক্তরাষ্ট্রে একটি রেস্তোরাঁয় গোলাগুলি, নি হ ত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় আইডাহো অঙ্গরাজ্যে একটি রেস্তোরাঁয় গোলাগুলির একটি ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে এই ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। টুইন ফলস শহরের জনসংযোগ কর্মকর্তা জশ পামার জানান, ইন-অ্যান্ড-আউট বার্গার নামে ওই রেস্তোরাঁয় হামলার ঘটনায় হামলাকারীও মারা গেছে। এ ঘটনার পর জারি করা ‘শেল্টার-ইন-প্লেস’ নির্দেশনা তুলে নেয়া হয়েছে।

টুইন ফলস পুলিশের প্রধান ম্যাথিউ হিকস সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন আর সম্প্রদায়ের জন্য কোনো হুমকি নেই।’ প্রতিবেশী জেরোম পুলিশের প্রধান ডুয়েন রুবিঙ্ক সিএনএনকে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হামলাকারী একজনই ছিল এবং সে নিজের গুলিতে নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে তদন্ত চলছে এবং তা রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

এক সপ্তাহ আগে টুইন ফলসে যাত্রা শুরু করেছিল জনপ্রিয় বার্গার চেইনটির নতুন শাখা। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি স্থানীয়দের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গুলির শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে লাল অ্যাপ্রোন ও ব্র্যান্ডেড কাগজের টুপি পরা কর্মী এবং ক্রেতারা আতঙ্কে দৌড়ে পার্কিং লটে বেরিয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন হামলাকারীর পরিচয় এবং হামলার উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা চলছে। টুইন ফলস শহরের উত্তরাংশের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হোটেল, জাতীয় পর্যায়ের খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় ঘেরা এলাকাটি স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্রমণকারীদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়।

কর্তৃপক্ষ এখনও নিহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি। তবে এর আগে সিএনএনকে অন্তত তিনজন নিহতের তথ্য দেয়া হয়েছিল। ওই সংখ্যার মধ্যে হামলাকারী অন্তর্ভুক্ত কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
পিপিপি মডেলে যুক্ত হবে দক্ষিণাঞ্চল

৩.৪ বিলিয়ন ডলারের সেতু নির্মাণের প্রস্তাব জাপানি প্রতিষ্ঠানের ভোলা-বরিশাল ও শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু নির্মাণে আগ্রহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩৯ পি.এম


৩.৪ বিলিয়ন ডলারের সেতু নির্মাণের প্রস্তাব জাপানি প্রতিষ্ঠানের ভোলা-বরিশাল ও শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু নির্মাণে আগ্রহ

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের আওতায় ভোলা-বরিশাল ও শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে জাপানের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান মিয়াগাওয়া কেনসেটসু কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

এই দুই সেতু প্রকল্পে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা (৩.৪৪ বিলিয়ন ডলার)। আশা করা হচ্ছে, এই সেতু প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক সংযোগে আমূল পরিবর্তন আসবে, অর্থনীতিতেও হবে উল্লেখযোগ্য গতি সঞ্চার। ২০৩৩ সালের মধ্যে সেতু দুটি নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে পিপিপি পদ্ধতির নিয়ম অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বাংলাদেশ সরকার বহন করবে।

সম্প্রতি রাজধানীর এক হোটেলে অনুষ্ঠিত অষ্টম বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্ম সভায় জাপানি কোম্পানিটি এই দুটি সেতু নির্মাণে আগ্রহরে কথা জানায় বলে বাংলাদেশ সেতু বিভাগ ও পিপিপি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে। সভায় শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু ও বরিশাল-ভোলা সেতুকে বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের আওতায় নতুন প্রকল্প হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। এটি পিপিপির মাধ্যমে বড় অবকাঠামোগত উদ্যোগ এগিয়ে নিতে উভয় সরকারের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।

দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সভায় উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, পিপিপি কর্তৃপক্ষের সিইওআশিক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিুরুল ইসলাম খান।

জাপানি প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা; বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি; জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের (এমএলআইটি) সহকারী উপমন্ত্রী ফুজিতা মাসাকুনি ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বিষয়ক সহকারী উপমন্ত্রী নাকায়ামা রেইকো।

এর আগে প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল সেতু প্রকল্পের জন্য মিয়াগাওয়া কেনসেটসু কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে নির্বাচন করেছিল জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

সেতু বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু প্রকল্প নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেও আলোচনা করেছিল সরকার। সেতু বিভাগ ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, মিয়াগাওয়া এককভাবে অথবা আরও কয়েকটি জাপানি প্রতিষ্ঠান নিয়ে যৌথভাবে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে।  

তারা আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত করার আগে ট্রানজিশন পরামর্শক নিয়োগ নিয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হবে। এরপর সরকার রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) ইস্যু করা হবে। এটি একটি আনুষ্ঠানিক নথি, যা কোনো সংস্থা বা সরকার নির্দিষ্ট প্রকল্প বা সেবার জন্য যোগ্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করতে ব্যবহার করে। আরএফপি জমা হওয়ার পর মূল্যায়ন শেষে জাপানি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিতে যাবে সরকার। 

বাংলাদেশে মিয়াগাওয়ার স্থানীয় অংশীদার হিসেবে কাজ করছে স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড। তারা প্রকল্পের বিনিয়োগ পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বাস্তবায়নে সহায়তা দিচ্ছে। স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালের চেয়ারম্যান সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ বলেন, 'বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য আমরা অনেক বছর ধরে কাজ করছি। ভোলা-বরিশাল সেতু কেবল একটি পরিবহন প্রকল্প নয়; এটি সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, শিল্প ও কর্মসংস্থানের জন্য নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।'

ভোলা-বরিশাল সেতু :  এ দুটির মধ্যে বড় প্রকল্প ভোলা-বরিশাল সেতু। এর নির্মাণে ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রস্তাবিত ১০.৮৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সেতু। এটি দ্বীপজেলা ভোলা ও মূল ভূখণ্ড বরিশালের মধ্যে স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করবে। ২০২৪ সালের এক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সেতু বিনিয়োগ আকর্ষণ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি আগামী ৩০ বছরে সেতুটি দেশের জিডিপিতে ০.৮৬ শতাংশ অবদান রাখবে। এছাড়া ভোলা থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের কাজও এই সেতুর মাধ্যমে সহজ হবে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, ২০৩৩ সালের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।

শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু :  দ্বিতীয় প্রকল্পটি শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু। মেঘনা নদীর ওপর নির্মিতব্য ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অবকাঠামোর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। সেতুটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১১ জেলাকে সরাসরি যুক্ত করবে। এর ফলে বর্তমান ফেরি ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্য বিকল্প তৈরি হবে। আশা করা হচ্ছে, সেতুটি চালু হলে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যকার দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার কমে যাবে। এতে ঢাকার ওপর দিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহনের চাপও কমবে।  চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাট ও শরীয়তপুরের সখিপুরের মধ্যে এই সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০৩২ সালের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ২০২১ সালে এই প্রকল্পের জন্য একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে। গত বছর জরিপ প্রতিবেদন সম্পন্ন হয়েছে।

ভোলা-লক্ষ্মীপুর সেতু নিয়েও জাপানের আগ্রহ :  পিপিপি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ভোলা-লক্ষ্মীপুর সেতু প্রকল্পও আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। জাপানি প্রতিনিধি দল প্রকল্পটির ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা একে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, বাণিজ্য বৃদ্ধি ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে দেখছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদীর ওপর ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে সেতু নির্মাণ হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।  ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরিঘাট খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১২টি এবং চট্টগ্রাম বিভাগের ৯টিসহ মোট ২১ জেলার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃজেলা রুট।   

পিপিপি কর্তৃপক্ষের সিইও আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ-জাপান পিপিপি প্ল্যাটফর্ম বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মানসম্মত বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভা শেষ হয়। তিনি এই প্ল্যাটফর্ম ও এর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর প্রতি বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনরায় নিশ্চিত করেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তার লক্ষ্যে উভয় দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা আরও নিবিড় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। সেইসাথে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উদ্যোগগুলো দ্রুততর করা এবং টেকসই উন্নয়নের প্রসার ঘটানোর বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।

অন্যান্য প্রস্তাব :  কর্মকর্তারা জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি এবং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগর উন্নয়নের প্রসারে জাপানি প্রতিনিধি দলটি যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের আওতায় চট্টগ্রাম শহরে একটি ওয়েস্ট-টু-এনার্জি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করারও প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া জাপানি কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশের পুরোনো রেলসেতুগুলোর আধুনিকায়নের প্রস্তাব নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়, যা ভবিষ্যতে পিপিপি সহযোগিতার আরও সুযোগ তৈরি করবে।

বৈঠকের পর প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মে চলমান বেশ কয়েকটি মেগাপ্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে কমলাপুর মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, আউটার রিং রোড প্রকল্প এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন স্থানীয় সেতু উন্নয়ন প্রকল্প।

সৌজন্যে : দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে অর্থ পেতে কীভাবে জেনে নিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৫ পি.এম


অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে অর্থ পেতে কীভাবে জেনে নিন

খাদ্যে ভেজাল মেশানো, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, ওজনে কারচুপি বা অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের মতো অপরাধ প্রতিরোধে আইনি ভিত্তি প্রদান করে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’। এই আইন কেবল অপরাধীদের শাস্তির বিধানেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং অনিয়ম ধরে দেওয়া সচেতন ভোক্তাদের জন্য রাখা হয়েছে আর্থিক সহায়তার সুনির্দিষ্ট বিধান। আইনের বিধান অনুযায়ী, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আদায়কৃত জরিমানার ২৫ শতাংশ অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগকারী পাবেন।

আইনের ৭৬(৪) ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো ভোক্তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষে প্রমাণ সাপেক্ষে অভিযুক্তের ওপর যে অর্থদণ্ড ধার্য ও আদায় করা হবে, তার চার ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ২৫ শতাংশ অর্থ অভিযোগকারী ব্যক্তি পাবেন। আদালত বা বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ফৌজদারি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছ থেকে জরিমানা আদায় হলেও সমান হারে এই অর্থ অভিযোগকারী পাবেন।

২০০৯ সালের এই আইনে ভেজাল ও প্রবঞ্চনার বিরুদ্ধে কঠোর দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আইনের ৪১ ও ৪২ ধারা অনুযায়ী, খাদ্যে ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ রাসায়নিক মেশানো বা জ্ঞাতসারে ভেজাল পণ্য বিক্রি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ড দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

একইভাবে মোড়কজাত পণ্যে তথ্য গোপন করা বা তথ্য না রাখা (৩৭ ধারা), পণ্যের মূল্যতালিকা ঝুলিয়ে না রাখা (৩৮ ধারা) এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করার (৪০ ধারা) অপরাধে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বা পণ্য বিক্রির দায়ে ৫১ ধারায় এবং নকল পণ্য উৎপাদনের অপরাধে ৫০ ধারায় সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের কথা বলা হয়েছে।

আবার একই অপরাধ বারবার করলে ৫৫ ধারা অনুযায়ী অপরাধীকে সর্বোচ্চ শাস্তির দ্বিগুণ দণ্ড দেওয়া যাবে। ওজনে কারচুপি ও বাটখারায় ফাঁকি দেওয়ার অপরাধেও এক বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার নিয়ম রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, আইনটির অপব্যবহার রোধে ৫৪ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেল বা হেয় করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বা হয়রানিমূলক অভিযোগ বা মামলা করা হলে অভিযোগকারীকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।

পণ্য কিনে ঠকলে বা বাজারে যেকোনো অনিয়ম চোখে পড়লে আপনি সহজেই অভিযোগ জানাতে পারেন। যেভাবে পাবেন এই সুবিধা:

কারা অভিযোগ করতে পারবেন: যেকোনো সাধারণ ভোক্তা এই সুযোগ পাবেন। তবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা অভিযোগ করলে এই ২৫ শতাংশ অর্থ পাবেন না।

অভিযোগের সময়সীমা: পণ্য বা সেবা কেনার এবং কারণ উদ্ভব হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অধিদপ্তরে লিখিত আবেদন জমা দিতে হবে।

যা যা প্রয়োজন: কেনার আসল রসিদ (ক্যাশ মেমো), পণ্যের ছবি, মূল্যমানের প্রমাণ কিংবা ভিডিওর মতো তথ্যপ্রমাণ অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

অভিযোগ দেওয়ার উপায়: জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ে সরাসরি, ডাকযোগে কিংবা তাদের অফিসিয়াল ই-মেইল ও স্মার্ট অ্যাপের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া যায়।

অভিযোগ যাচাই-বাছাই ও শুনানির পর অপরাধ প্রমাণিত হলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জরিমানা ধার্য করে। সেই অর্থ আদায় হওয়ার পরপরই ২৫ শতাংশ টাকা অভিযোগকারী ভোক্তার হাতে বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডানা মেলতে শুরু করেছে ‘ঢাকা-সিলেট ৬ লেন’ প্রকল্পের সড়ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৫৩ পি.এম


ডানা মেলতে শুরু করেছে ‘ঢাকা-সিলেট ৬ লেন’ প্রকল্পের  সড়ক

সর্বোচ্চ ব্যয়ের মধ্যে বাস্তবায়নাধীন স্বপ্নের 'ঢাকা-সিলেট ৬ লেন' প্রকল্প ইতোমধ্যে ডানা মেলতে শুরু করেছে।

নির্মাণাধীন ২০৯ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ককে আন্তর্জাতিক মানের পথে উন্নীত করার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্টরা বিশ্বাস করছেন, বিদ্যমান জটিলতা কাটিয়ে আগামী আড়াই বছরের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

২০২২ সালে ১২টি প্যাকেজে শুরু হয়েছিল ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট-ঢাকা জাতীয় মহাসড়ক আন্তর্জাতিক মানের সড়কে রূপ নেবে। জাতীয় যোগাযোগের দিক থেকেও প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।

ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান ও চীনের সাথে যুক্ত থাকায় বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগানোর জন্য এই প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মহাসড়কের বিভিন্ন বাঁকগুলিকে সরলীকৃত করা হবে এবং অধিক যান চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।

সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জজুড়ে ২০৯ কিলোমিটার মহাসড়ককে আন্তর্জাতিক মানের ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ এখন দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে।

জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতাও ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে। সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন জানিয়েছে, ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হলে অবশিষ্ট ছয় লেনের নির্মাণকাজ দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্পে মূল চার লেনের পাশাপাশি ধীরগতির যানবাহনের জন্য দুটি সার্ভিস লেনও থাকবে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ঋণ দিচ্ছে ১৩ হাজার ২৪৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

তবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও তা আর সম্ভব হচ্ছে না। জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা এবং অন্যান্য জটিলতার কারণে কাজ পিছিয়ে গেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার পথে সড়কপথে সময় লাগছে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পর্যটন খাত।

সিলেট হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্ট হাউস ওনার্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ বলেছেন, পাঁচ তারকা হোটেলসহ বিভিন্ন মানের আবাসন খাতে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ যানজট ও সড়কের ধীরগতির কারণে এসব বিনিয়োগ প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছে না।

অন্যদিকে শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আশা প্রকাশ করেছেন যে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ এখন দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। আগামী আড়াই বছরের মধ্যেই ছয় লেন প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে ৬৬টি সেতু, ৩০৫টি কালভার্ট, ৭টি ফ্লাইওভার ও ওভারপাস এবং ৬টি রেলওয়ে ওভারপাস। এর মধ্যে ৬৬টি সেতুর ৬০টির কাজ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এছাড়া ২০০টির বেশি কালভার্টের নির্মাণকাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নরসিংদীতে৩৫০ পিস ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার,

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ জাহিদ মিয়া নরসিংদী প্রতিনিধি

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০৮ পি.এম


নরসিংদীতে৩৫০ পিস ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার,

নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৩৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০০ গ্রাম গাঁজা এবং একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে বেলাবো থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জিডি নং-৩৪, তারিখ ০১ আগস্ট ২০২৬-এর ভিত্তিতে বেলাবো থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. ফজলুল হক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে জুলু-৬ ডিউটিরত অবস্থায় ০২ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাত ১টা ১০ মিনিটে বেলাবো থানাধীন চর কাশিমনগর পূর্বপাড়া এলাকায় জনৈক সাঈদ উকিলের বাড়ির সামনে পাকা সড়কে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে মো. হানিফ মিয়া (৩৭), পিতা: মো. মধু মিয়া, সাং- চর কাশিমনগর পূর্বপাড়া, থানা- বেলাবো, জেলা- নরসিংদীকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ৩৫০ পিস অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেট (আনুমানিক মূল্য ১,০৫,০০০ টাকা), ১০০ গ্রাম গাঁজা (আনুমানিক মূল্য ৩,০০০ টাকা) এবং একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন কালো রঙের সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, পলাতক আসামি আলতাফ হোসেন ওরফে আলতা (৪০), মো. আমির হোসেন (৩৮) এবং উজ্জ্বল মিয়া (২৫)-এর সহায়তায় মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ওই স্থানে মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন গ্রেফতারকৃত হানিফ মিয়া। পলাতক তিনজনের বাড়ি চর বাঘবের ঝালকান্দা, থানা- বেলাবো, জেলা- নরসিংদী।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে বেলাবো থানা অফিসার ইনচার্জ এসএম আমানুল্লাহ জানিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%