প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সর্বোচ্চ ব্যয়ের মধ্যে বাস্তবায়নাধীন স্বপ্নের 'ঢাকা-সিলেট ৬ লেন' প্রকল্প ইতোমধ্যে ডানা মেলতে শুরু করেছে।
নির্মাণাধীন ২০৯ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ককে আন্তর্জাতিক মানের পথে উন্নীত করার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্টরা বিশ্বাস করছেন, বিদ্যমান জটিলতা কাটিয়ে আগামী আড়াই বছরের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
২০২২ সালে ১২টি প্যাকেজে শুরু হয়েছিল ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট-ঢাকা জাতীয় মহাসড়ক আন্তর্জাতিক মানের সড়কে রূপ নেবে। জাতীয় যোগাযোগের দিক থেকেও প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।
ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান ও চীনের সাথে যুক্ত থাকায় বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগানোর জন্য এই প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মহাসড়কের বিভিন্ন বাঁকগুলিকে সরলীকৃত করা হবে এবং অধিক যান চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।
সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জজুড়ে ২০৯ কিলোমিটার মহাসড়ককে আন্তর্জাতিক মানের ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ এখন দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে।
জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতাও ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে। সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন জানিয়েছে, ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হলে অবশিষ্ট ছয় লেনের নির্মাণকাজ দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্পে মূল চার লেনের পাশাপাশি ধীরগতির যানবাহনের জন্য দুটি সার্ভিস লেনও থাকবে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ঋণ দিচ্ছে ১৩ হাজার ২৪৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
তবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও তা আর সম্ভব হচ্ছে না। জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা এবং অন্যান্য জটিলতার কারণে কাজ পিছিয়ে গেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার পথে সড়কপথে সময় লাগছে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পর্যটন খাত।
সিলেট হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্ট হাউস ওনার্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ বলেছেন, পাঁচ তারকা হোটেলসহ বিভিন্ন মানের আবাসন খাতে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ যানজট ও সড়কের ধীরগতির কারণে এসব বিনিয়োগ প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছে না।
অন্যদিকে শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আশা প্রকাশ করেছেন যে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ এখন দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। আগামী আড়াই বছরের মধ্যেই ছয় লেন প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।
প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে ৬৬টি সেতু, ৩০৫টি কালভার্ট, ৭টি ফ্লাইওভার ও ওভারপাস এবং ৬টি রেলওয়ে ওভারপাস। এর মধ্যে ৬৬টি সেতুর ৬০টির কাজ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এছাড়া ২০০টির বেশি কালভার্টের নির্মাণকাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন