০৩:০০ পি.এম
লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পশ্চিমে জাওয়িয়ায় একটি বড় তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ আগুন লেগে গেছে। ১০ আগস্ট সোমবার রাতে, আগুনের কারণে ট্যাংকটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। তবে হামলাটি কারা পরিচালনা করেছে, তা এখনো জানা যায়নি বলেই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
লিবিয়ার ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশন (এনওসি) জানিয়েছে, হামলার শিকার হওয়া ট্যাংকটিতে প্রায় ৪৫ লাখ লিটার পেট্রোল সংরক্ষিত ছিল।
জাওয়িয়া শহরে অবস্থিত ট্যাংকটি শহরের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল শোধনাগারে অবস্থিত। শোধনাগারটির দৈনিক তেল পরিশোধনের সক্ষমতা ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এনওসি এক বিবৃতিতে জানায়, ব্রেগা অয়েল কোম্পানির মালিকানাধীন পেট্রোল সংরক্ষণ ট্যাংকটি সরাসরি হামলার লক্ষ্য হয়। হামলার পরে, ট্যাংকটিতে ভয়াবহ আগুন লাগার ফলে এক পর্যায়ে সেটি পুরোপুরি ধসে পড়ে।
ব্রেগা অয়েল কোম্পানি জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে দমকলকর্মীরা কাজ করছেন, একই সাথে পাশের ট্যাংকগুলোতে পানি দিয়ে ঠান্ডা করা হচ্ছে, যাতে আগুন অন্য ট্যাংকে ছড়িয়ে পড়তে না পারে।
এনওসি জানায়, গত কয়েকদিন ধরে জাওয়িয়ার তেল স্থাপনাগুলোর ওপর এই ধরনের হামলা চলছে। সপ্তাহান্তে, একটি ন্যাফথা সংরক্ষণ ট্যাংক ও একটি পানি লবণমুক্তকরণ প্ল্যান্টে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
লিবিয়ার জরুরি সেবা সংস্থা ফেসবুকে জানিয়েছে, হামলায় এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এ ঘটনায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এনওসি। একসঙ্গে তদন্তের আহ্বান জানিয়ে হামলার কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে চাওয়া হয়েছে।
লিবিয়ার পার্লামেন্টের একটি কমিটিও হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদারের দাবি করছে।
হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক কমিটি এক বিবৃতিতে বলছে, জাতীয় অর্থনীতির একটি ভিত্তি এবং তেল-গ্যাস খাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জাওয়িয়া শোধনাগারে এই ‘অপরাধমূলক হামলার’ তারা তীব্র নিন্দা জানায়।
লিবিয়ায় আফ্রিকার সবচেয়ে বড় তেল মজুত রয়েছে। কিন্তু ২০১১ সালের পর, সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দেশটি রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
বর্তমানে, লিবিয়ায় দুটি সরকার ক্ষমতার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। রাজধানী ত্রিপোলিভিত্তিক সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন জাতিসংঘ-স্বীকৃত প্রধানমন্ত্রী আবদুলহামিদ দবেইবাহ। অন্যদিকে, পূর্বাঞ্চলে সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতার দ্বারা সমর্থিত একটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসন রয়েছে।
ত্রিপোলিভিত্তিক সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে প্রধানমন্ত্রী দবেইবাহ সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রাজধানীর কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন