প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
তিন মাস ১৫ দিন বন্ধ থাকার পর দেশের সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলরাশি রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে আবারও মাছ শিকারে নেমেছেন হাজারো জেলে।
মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির সুযোগ দিতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে হ্রদে মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়। জাল-নৌকা নিয়ে কাপ্তাই হ্রদে জেলেরা দীর্ঘ অপেক্ষার পর জীবিকার গতি ফিরে পেয়েছেন। এতে দীর্ঘদিন পর কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে হ্রদপাড়ে, যাতে স্বস্তি ফিরেছে জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে। তবে কাঙ্ক্ষিত মাছ পাওয়ার ওপর নির্ভর করছে তাদের এই স্বস্তির স্থায়িত্ব কতটা দীর্ঘ হবে।
নিষেধাজ্ঞার দীর্ঘ অপেক্ষার পর কাপ্তাই হ্রদ আবারও ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। ভোরের আলো উঠতেই নৌকা নিয়ে হ্রদের বিভিন্ন এলাকায় ছুটছেন জেলেরা। কারও হাতে জাল, কেউ নৌকায় মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে আবারও জীবিকার সন্ধানে হ্রদের বুকে ছুটছেন। তবে মাছের উৎপাদন ও প্রজনন ধরে রাখতে নিয়ম মেনে মাছ আহরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের এক আদেশে গত ২৪ এপ্রিল দিবাগত মধ্যরাত থেকে মাছ শিকার নিষিদ্ধ করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার মধ্যরাত থেকে আবারও মাছ শিকার উন্মুক্ত করা হয়। দীর্ঘ সময় মাছ শিকার বন্ধ থাকার কারণে জেলেরা আয়-রোজগার নিয়ে অনেকটাই অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। এখন মাছ ধরার সুযোগ পাওয়ায় তাদের চোখে-মুখে স্বস্তির ছাপ।
ব্যবসায়ী আবদুল হালিম ভোলা ও আবদুস শুক্কুর জানিয়েছেন, প্রায় সাড়ে তিন মাস পর মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়াতে আমরা খুশি। তবে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে মাছের সুষ্ঠু প্রজননে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে। আজকে যে মাছ ধরা পড়েছে তা আকারে কিছুটা ছোট।
আর ১৫ দিন পর হলে মাছের সাইজ আরও বড় হতে পারত। রাঙামাটি বিএফডিসি ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম জানিয়েছেন, কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ শুরু হওয়ায় রাঙামাটির বিএফডিসির অবতরণ ঘাটে প্রথম দিনে প্রচুর পরিমাণ মাছ এসেছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাছের আকার কিছুটা ছোট। তবুও রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদে মাছের সুষ্ঠু প্রাকৃতিক প্রজনন এবং বংশ বিস্তারের কারণে আগামী দিনে মাছের উৎপাদন সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
হ্রদের বিশাল জলরাশি রাঙামাটির অর্থনীতি এবং বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। আর দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার পর কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার শুরু হওয়ায় একদিকে যেমন জেলেদের জীবিকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে, অন্যদিকে মাছের উৎপাদন ও প্রজনন ধরে রাখতে এবার প্রয়োজন নিয়ম মেনে মাছ আহরণ এবং কার্যকর নজরদারি। তাহলেই কাপ্তাই হ্রদ হতে পারে জেলেদের টেকসই জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস।
স্থানীয়রা মনে করেন, কাপ্তাই হ্রদ রাঙামাটির অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস নয়, এটি পাহাড়ের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গেও জড়িত। সুতরাং হ্রদকে বাঁচিয়ে রেখে মাছের উৎপাদন বাড়ানো এবং জেলেদের স্থায়ী জীবিকার সুযোগ তৈরি করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে তাদের প্রত্যাশা হচ্ছে সরকারী নজরদারি, জেলেদের সচেতনতা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে কাপ্তাই হ্রদ হয়ে উঠবে আরো সমৃদ্ধ মৎস্যভাণ্ডার। আর এর সুফল পৌঁছাবে হ্রদপাড়ের হাজারো জেলে পরিবারের ঘরে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন