০৩:০৭ পি.এম
জেলার উজিরপুর উপজেলায় খাল খনন শেষে অব্যয়িত ৬০ লাখ ৮২ হাজার ৪০৩ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন দৃষ্টান্তমূলক কাজের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও।
জানা গেছে, বরিশালের উজিরপুর উপজেলার দাসেরহাট বাজার থেকে গুঠিয়া বায়তুল আমান জামে মসজিদ কমপ্লেক্স হয়ে পঞ্চগ্রাম বাজার ভায়া গুঠিয়া বাজার অভিমুখে খাল পুনঃখনন প্রকল্পে মোট ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ এপ্রিল মাসে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় চলতি বছরের ৩০ জুন। প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত ৬০ লাখ ৮২ হাজার ৪০৩ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে খালটির নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে নানা সমস্যা দেখা দিত। এসব সমস্যা নিরসনে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে। খাল পুনঃখননের ফলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, সেচ ব্যবস্থা ও পরিবেশের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
গুঠিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কামরুল বলেন, খালটি পুনঃখননের ফলে পানি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। কৃষকরা সহজে সেচের সুবিধা পাবেন এবং আগের তুলনায় আরও ভালোভাবে ফসল উৎপাদন করতে পারবেন।
রবিউল নামে একজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এলাকার এই খালটির খুব খারাপ অবস্থা ছিল। নতুন করে খালটি খনন হওয়ায় এলাকাবাসী বেশ উপকৃত হবে। এ খাল খননের পর যে টাকা ফেরত এসেছে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে বিষয়টি আমাদের কাছে খুবই ভালো মনে হয়েছে। আমরা চাই প্রতিটি কাজের শেষে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে।
বরিশাল জেলা কৃষকদলের সভাপতি শফিউল আলম শফ্রু বলেন, সরকারি টাকা অপচয় হয়নি এটি একটি ভালো বিষয়। তবে খাল খনন থেকে বেঁচে যাওয়া অর্থ সামাজিক কাজে ব্যবহার করলে আরো ভালো হতো। অবশ্যই তিনি যে কাজটি করেছেন সেটি একটি ভাল উদ্যোগ।
উজিরপুর উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। কাজের মান বজায় রেখে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেয়ার এই দৃষ্টান্ত নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়, যা অতীতে কখনও এ উপজেলায় এমন কোন ঘটনা ঘটেনি।
আরও পড়ুন: ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করলেন
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসাইন বাসস’কে বলেন, সরকারি নির্দেশনা ও প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। খালটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হয়েছে। এর সুফল স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ভোগ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।
এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলায় ঐতিহ্যবাহী খালটিতে স্থানীয় মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসন, পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সরকারের উদ্যোগে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খাল খনন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ জনগণের করের টাকা। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে জনগণের এ অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার পর যে অর্থ উদ্বৃত্ত ছিল, তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকার এ অর্থ দেশের অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করতে পারবে।
তিনি বলেন, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাশ্রয় হওয়া প্রতিটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া উচিত। উপজেলা প্রশাসন সবসময় সরকারি অর্থের জবাবদিহিমূলক ব্যবহারে অঙ্গীকারবদ্ধ। যে কারণে সঠিক নিয়মে কাজ শেষে অবশিষ্ট টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগেরে জমা দেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: চিরিরবন্দরে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার, দেয়ালে আবেগঘন বার্তা
তিনি আরো বলেন, খালটি অতিরিক্ত আরো তিন কিলোমিটার বেশি খনন করা হয়েছে। সরকারি এক বরাদ্দের অর্থ অন্য কোন উন্নয়ন কাজে ব্যয় করার নিয়ম নেই। সরকার উন্নয়নের জন্য যে বরাদ্দ দবেন সেটি সেই কাজেই ব্যয় করা হবে।
উল্লেখ্য, খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ সচল রাখা, জলাবদ্ধতা কমানো, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন